ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

নিজের গল্প দিয়ে শুরু করি। আমার ছোটবেলা কেটেছে গোমড়া মুখে, কারো সাথেই নাকি কথা বলতে চাইতাম না। এই নিয়ে আমার বিরুদ্ধে আমার মায়ের একটু অভিযোগ সব সময়ই ছিল। সেই গোমড়ামুখো আমি ক্লাস নাইন এ প্রমোশন পাওয়ার সাথে সাথে মুখে খই ফুটাতে শুরু করেছিলাম। পরিচিত-অপরিচিত সকলের সাথে যেচে যেচে কথা বলতাম। এমন কি পরীক্ষার হলে পর্যন্ত পটর পটর করতাম। পেছন থেকে কেউ কোন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে ইশারা ইঙ্গিতে উত্তর বলে দিতাম। ফলে বন্ধুদের মাঝে আমি খুব প্রিয়তা অর্জন করে ফেলি। এই বদ অভ্যাসের কারণে ম্যাট্রিক পরীক্ষার সময়, আমি বহিষ্কৃত হওয়ার সম্মুখীন হয়েছিলাম। ঘটনা ঘটেছিল কেমিস্ট্রি পরীক্ষার দিন। অন্য স্কুলে সীট পড়েছে, ইনভিজিলেটার স্যারকে চিনি না, আমার আশেপাশে যাদের সীট পড়েছে, তাদের কাউকেই চিনি না, সব অপরিচিতের মাঝে বসে ভালো লাগছিল না, কিন্তু কেমিস্ট্রি প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই আমি খুশী। সব কমন পড়েছে, দুই ঘন্টায় পরীক্ষা শেষ, ইতি উতি তাকিয়ে দেখি, অনেকের মুখ শুকনো, হয়তো কমন পড়েনি। মনটা খারাপ হয়ে গেলো, আমার দুই সীট পেছনে বসা এক পরীক্ষার্থী স্যারকে ডেকে কাঁদো কাঁদো গলায় একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইছিল। স্যার ছিলেন বাংলার শিক্ষক, উনার তো কেমিস্ট্রি জানার কথা নয়, কিন্তু মেয়েটির মুখের চেহারা দেখে আমার মায়া লেগে যায়, স্থান-কাল ভুলে আমি বলে ফেলি, ” এইটা পারো না? আমি বলে দেই” বলেই জোরে জোরে প্রশ্নের উত্তর বলতে শুরু করি। সাথে সাথে সেই অপরিচিত স্যার এসে খপ করে আমার খাতা ধরে ফেলেন। আমি থতমত খেয়ে যাই। চিবিয়ে চিবিয়ে স্যার বলতে থাকেন, ” খুব বেশী বিজ্ঞ হইয়া গেছো? মাতব্বরী করতেছো? এখন যদি তোমারে এক্সপেল কইরা দেই! দিমু এক্সপেল কইরা”? হলভর্তি পরীক্ষার্থীর সামনে আমার এহেন হেনস্থাতে আমি খুব বিব্রত বোধ করছিলাম। ফার্স্ট গার্ল বা ফার্স্ট বয়দের মনে সব সময় কিছু অহংকার কাজ করে, সেই অহংকারেই চরম আঘাত লেগেছে আমার, তখনও মাথায় আসেনি, ওটা ম্যাট্রিক পরীক্ষার হল, নিজেদের স্কুলের পরীক্ষা নয়। মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে ছিলাম, হঠাৎ স্যার বললেন, ” তুমি শংকরীদি’র মেয়ে না”? প্রশ্ন শুনে কেঁদে ফেলার যোগার হয়েছে। কেমিস্ট্রি পরীক্ষায় ৯৫ পাওয়ার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হওয়ার আগ মুহূর্তে শুধুমাত্র ‘ শংকরী’দির মেয়ে হিসেবে ছাড়া পেয়ে গেলাম। খাতা জমা দিয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে গেলাম। এই ঘটনা বাসায় বলার প্রশ্নই উঠেনা, আজ পর্যন্ত কেউ জানতে পারেনি সেদিনের ঘটনা।

১৯৮৩ সালের ঘটনা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিস্ট্রি অনার্স, প্রথম বর্ষের ছাত্রী আমি। একটিমাত্র ছাত্রী হোস্টেল (নুয়াব ফয়জুন্নেসা হল) থেকে কেমিস্ট্রি বিল্ডিং এর দূরত্ব এক মাইল বা তার কিছু বেশী হতে পারে, সঠিক জানা ছিল না। টাইমের বাসে চড়ে যাতায়াত করতাম। বেশী কথা বলার স্বভাব তখনও পুরোপুরি কাটেনি। চলার পথে অপরিচিত কারো সাথে যেচে দুটো কথা বলতে ভালো লাগতো। একদিন জাহাঙ্গীরনগরের বাসে চড়ে ঢাকা যাচ্ছিলাম। বাস ‘বিশ মাইল’ ঘোরার সময় লম্বামত এক মেয়ে বাসে উঠে আমার পাশেই বসে। মেয়েটিকে আমাদের হোস্টেলে কখনও দেখিনি। ভেবেছি আমার মতই ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট। আমার পাশে বসেছে বলেই যেচে জিজ্ঞেস করলাম, ” তুমি কোন ডিপার্টমেন্টে আছো”? উত্তর দিল গোমড়া মুখে, ” বাংলা”। ভেবেছিলাম মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞেস করবে, আমি কোন ডিপার্টমেন্টে আছি। ১৫ মিনিটেও মেয়েটি আমার সাথে একটিও কথা বললো না দেখে আমি একটু লজ্জা পেলাম। সাভার বাসস্ট্যান্ডে মেয়েটি নেমে যায়, কিনতু নেমে যাওয়ার সময় আশেপাশের সকলকে শুনিয়ে বলে, ” এই মেয়ে, তুমি কোন সাহসে আমাকে ‘তুমি’ তুমি’ করে কথা বলছিলে? আমি মাস্টার্সের ছাত্রী, বেয়াদবী করার জায়গা পাও না” বলেই আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাস থেকে নেমে গেল। এতগুলো স্টুডেন্টের সামনে আমাকে ‘বেয়াদব’ ডেকেছে বলে আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছিল। কিনতু পেছনের সীট থেকে আরেকটি মেয়ে আমাকে জানালো, ” এই মেয়ে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের হেডমাস্টারের মেয়ে, সব সময় খ্যাঁক খ্যাঁক করে কথা বলে। তুমি মন খারাপ করোনা”। মন না হয় খারাপ করলাম না, কিনতু মাস্টার্সে পড়ে মেয়েকে কী হিসেবে আমি ফার্স্ট ইয়ারের মেয়ে ভাবলাম, সেটা বোধগম্য হলো না। এই ঘটনার কথা অবশ্য মা’কে বলেছিলাম। মা তখন বলেছিলেন,” অপরিচিতকে শুরুতে ‘আপনি’ সম্বোধণ করাই উচিত, এই ঘটনা থেকে একটা শিক্ষা পেয়ে গেলি”।

বিব্রত আরেকবারঃ
অনার্স প্রথম বর্ষে আমার রুমমেট ছিল অরুণা। অরুণা ফরিদপুরের মেয়ে, স্বভাবে আমার বিপরীত। আমি হই হুল্লোড় করতে ভালোবাসতাম, আর অরুণা কেমিস্ট্রি বই নিয়ে নাড়াচাড়া করতে ভালোবাসতো। ও একটু রাগী স্বভাবের ছিল বলে আমি ওকে একটু ভয়ও পেতাম। একরাতে ডাইনিং হলে গেছি দুজনে একসাথে। হলের কিচেনে নেট লাগানো দুটি মিটসেফ ছিল। সেই মিটসেফে বাটিতে বাটিতে মাছ অথবা মাংস সাজানো থাকতো। ডাইনিং টেবিলে বড় বড় গামলা ভর্তি ভাত, আর গামলা ভরে পাতলা ডাল সাজিয়ে রাখা হতো। প্রথম দিকে হোস্টেলের ‘আও বাও’ কিছুই বুঝতাম না। জানতামই না, দুই মিটসেফের একটিতে থাকতো গরুর মাংসের বাটি, আরেকটিতে থাকতো খাসীর মাংসের বাটি। আমি অরুণাকে নিয়ে প্রথম মিটসেফের ভেতর থেকে দুটি মাংসের বাটি বের করে ডাইনিং টেবিলে চলে এসেছিলাম। ছোটবেলা থেকে আমার স্বভাব হচ্ছে ডিমের কুসুম, মাংসের টুকরা বা মাছের টুকরা প্লেটের পাশে জমিয়ে রাখা, ঝোল মেখে ভাত খেয়ে সবার শেষে আরাম করে মাংস বা মাছ খেতাম। সেদিনও আলু আর ঝোল দিয়ে ভাত মেখে মুখের কাছে নিতেই অন্যরকম একটা গন্ধ লাগলো। অবশ্য অরুণা মাংস খায় না, কিন্তু নতুন বলে জানতেও পারিনি, মাংস না খেলে ডিম রেঁধে দেয়া হয়। ততক্ষণে অরুণা মাংস ছাড়াই দুই গ্রাস ভাত খেয়ে ফেলেছে। যাই হোক, আমার কেমন যেন সন্দেহ হলো, ভাত মুখে না দিয়ে আমি প্লেটের কোণায় জমিয়ে রাখা মাংসের টুকরা ভাঙ্গতে গিয়ে দেখি, মোটা মোটা আঁশ। এক দৌড়ে বেসিনে গিয়ে হাতের ভাত ফেলে দিয়ে কল ছেড়ে কুলকুচি করতে শুরু করেছি। আমার দেখাদেখি অরুণাও উঠে এসেছে, আমি শুধু বলেছি, ” অরুণা, খাবার ফেলে দাও, এটা মনে হয় গরুর মাংস”। অরুণার মুখ রাগে লাল হয়ে গেছে। ও সেখান থেকেই দৌড়ে চলে এসেছে রুমে। আমাদের দিকে তাকিয়ে অনেকেই আঁচ করেছে, সামথিং রং! আমি খুব শক্ত মনের মেয়ে, কাউকেই কিছু বুঝতে না দিয়ে বাইরে চলে এসেছি। নিজের বুদ্ধিতেই বুঝেছি, ওটা একটা দূর্ঘটনা মাত্র, পৃথিবী উলটে যাওয়ার মত কিছু না। কিন্তু আমাদের তিন বছরের সিনিয়র স্মৃতি’দি, ইংলিশ অনার্সের ছাত্রী, আমার কাছে এসে বললো, ” রীতা, কী হয়েছে, আমাকে বলো”। বললাম, ” কিছুই হয় নি, ভুল মিটসেফ থেকে মাংসের বাটি তুলেছি। উনি বললেন, ” তোমরা ফার্স্ট ইয়ার, তোমাদের কিছুই জানার কথা নয়, খালারা কেন বলে দেয় নি, দাঁড়াও, আমি গিয়ে এখনই খালাদের ধরছি”। স্মৃতি’দি খালাদের গিয়ে বকবে, ভাবতেই আমি খুব বিব্রত বোধ করছিলাম। আমি ঘুরে বললাম, না , মাত্র ভাতের দলা মুখের কাছে নিয়েছিলাম, খাইনি, ফেলে দিয়েছি। দিদি, খালাদের কোন দোষ নেই। এখন এগুলো নিয়ে কথা বললে সুপার আপার কানে যাবে, সুপার আপা খালাদের বকবে”। স্মৃতি’দি অবশ্য খালাদের বকেনি, বুঝিয়ে বলেছে, নতুন মেয়েদের সব কিছু বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব ছিল খালাদের। রাশিদা খালা আমাদের রুমে এসে খুব লজ্জিত ভঙ্গীতে বার বার মাফ চাইছিল। আমি আর অরুণা পড়ে গেছিলাম বিব্রতকর অবস্থায়। খালাকে বললাম, “খালা শুনেন, আমরা ভাত খাইনি, মুখ থেকে ফেলে দিয়েছি। আপনার কোনই দোষ নেই, পাঁচ দিন পর মাংসের ঝোল দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। খপ করে হাতের সামনে যেটা পেয়েছি, সেটাই নিয়েছি। বলে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ি! আমার হাসি দেখে অরুণার সে কী রাগ! বাড়ি এসে প্রথমেই মা’কে বলেছি ঘটনা। মা শুধু বলেছে, ‘বেশী হতর বতর করলে এমনই হয়। একটু ধীর স্থির হইয়া চলতে পারছ না”?

সবচেয়ে মজার ঘটনাঃ

আজ মাঝবয়সী এক ভদ্রমহিলা আমাদের কাউন্টারে এসে দাঁড়িয়েছে। গায়ের রঙ কালো, বেশ সম্ভ্রান্ত চেহারা, পোশাকও দামী। আমি তখন ফোনে কথা বলছিলাম ( আমার কাজিনের সাথে)। ভদ্রমহিলাকে দেখে ফোনালাপ সমাপ্ত করে বললাম, ” তোমাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি!” মহিলা হাতে ধরা ‘ব্ল্যাকবেরী’ ফোন দেখিয়ে বললো, ” তোমাদের কাছে মিডিয়া কার্ড আছে? পিকচার সেভ করবো”। বললাম, ” তুমি বোধ হয় মেমরী কার্ডের কথা বলছো, মাইক্রো এস ডি কার্ড আছে। কোনটা চাও বলো”।

উনি বললেন, ” যেইটা বেশী ভাল, সেইটা দাও।
-এখানে ভালো মন্দের কিছু নেই। বেশী মেমরী চাইলে দাম একটু বেশী, কম মেমরীর দাম একটু কম।

তুমি কী আমার পিকচার গুলো ট্র্যান্সফার করে দিতে পারবে?

আজ্ঞে না, আমি তোমার ফোনে মেমরী কার্ড ইনসার্ট করে দিতে পারবো, কিনতু পিকচার ট্র্যান্সফার করবো না। পিকচার তোমাদের পারসোন্যাল সম্পদ, আমরা কারো পারসোন্যাল কিছু নিয়ে কাজ করি না।

আচ্ছা, তুমি ছাড়া আর কেউ নেই, যে এই কাজটা করে দেবে?

এই কথা শুনে একটু বিরক্ত হলাম, কিন্তু বিরক্তি চাপিয়ে বললাম, সরি, আমাকেই বলতে হবে। আমি ছাড়া এই মুহূর্তে আর কেউ নেই। বলে মেমরী কার্ড তার ফোনের ভেতর ইনসার্ট করছিলাম। মহিলা জিজ্ঞেস করলো,

তুমি কতদিন ধরে এই ডিপার্টমেন্টে আছো?

ছয় বছর-

বলো কি? তোমাকে কখনও দেখিনি কেন?

তুমি যেদিন এসেছো, সেদিন হয়তো আমার অফ ছিল।

এক ফাঁকে আমার সহকর্মী রেজিনা টি ব্রেক থেকে ফিরে আসতেই ভদ্রমহিলা আমাকে ডিঙ্গিয়ে রেজিনাকে বললো,

দেখো তো আমার পিকচারগুলো মিডিয়া কার্ডে ট্র্যান্সফার করতে পারো কিনা? ওই মেয়ে তো করবেনা বলে দিল।

আমার আবার রাগ হলো, আমি তাকে বললাম পার্সোন্যাল জিনিস নিয়ে আমরা কাজ করিনা। যাই হোক, রেজিনা বললো,
ব্ল্যাকবেরী ফোন আমি লাইক করিনা। খুব ভেজাল ছবি ট্র্যান্সফার করা।

মহিলা এতক্ষণে বলল, এইটা আমার ছেলের ফোন। আমি স্মার্ট ফোনের কিছুই বুঝি না। ছেলে আমাকে তার ফোন দিয়ে দিয়েছে। এখানে আমার ভাইপো’র ছবি আছে, সেই ছবিটা বের করতে হবে। ওটা এই মিডিয়া কার্ডে সেইভ করতে হবে।
রেজিনা এই ধরণের উটকো ঝামেলা পছন্দ করেনা, তারপরেও কাস্টমারের সন্তুষ্টির জন্য মাঝে মাঝে অপছন্দের কাজ করতে হয়। মুখ কালো করে রেজিনা ফোনের ‘পিকচার’ অপশনে গিয়ে সিলেক্ট টিপতেই ফটো গ্যালারী বের হয়ে আসলো। ফটো গ্যালারী মেয়েদের ন্যুড ছবিতে ভর্তি। রেজিনা অন্য সময় খুবই ভদ্র, আজ হঠাৎ করেই ওর মাথা গরম হয়ে গেছে। ফোন মহিলার সামনে মেলে ধরে জানতে চেয়েছে, কোন ছবি উনি কপি করতে চায়? মহিলা তো ছবির দিকে তাকিয়ে বলে উঠেছে, ” ও মাই গড!! এগুলো কী সমস্ত ছবি! বন্ধ করে দাও, বন্ধ করে দাও। থাক , আমার ছেলেকেই বলবো, ছবি কপি করে দিতে।

রেজিনা আমার দিকে আড়চোখে একবার তাকিয়ে নির্লিপ্তমুখে বললো, দাঁড়াও দেখি, তোমার ভাইপো’র ছবি বের করা যায় কিনা। আমি স্ক্রল ডাউন করে যাই, ভাইপো’র ছবি দেখলেই আমাকে থামতে বলো, বলে স্ক্রল ডাউন করছে আর একটা একটা করে অত্যন্ত আপত্তিকর ছবি বেরিয়ে আসছে। আমার তো মনটা খুশীতে নেচে উঠেছে। মনে মনে বলি, “এখন বুঝো ঠ্যালা, না করেছিলাম তখন, বুড়ীর মন উঠেনি, আমার চেয়েও বেশী কে জানে খোঁজ করেছিলা, এখন দেখো ছবি ভাল করে”।
এবার মহিলা আরও জোরে বলে উঠলো, ” প্লীজ বন্ধ করো, উঠতি বয়সের ছেলে, দেখো কী কান্ড করে রেখেছে। ফোন দিয়ে দাও, আমার ছেলের কাছেই নিয়ে যাব, ওর জিনিস ওই ভালো বুঝবে। ছেলেপেলের কান্ড”।

আমি বললাম, ফোনটা দিয়েছে তোমাকে ব্যবহার করার জন্য, দেয়ার আগে তোমার ছেলের উচিৎ ছিল সব ছবি ডিলিট করে দেয়া, তাহলেই তোমাকে এমন বিব্রত হতে হতো না।

এবার রেজিনা ফোনটা মহিলার হাতে দিয়ে বললো, আমার কলিগ বলেছিল, আমরা এই সকল পারসোন্যাল জিনিসে হস্তক্ষেপ করি না, অথচ তুমি আমার সহকর্মীর কথা বিশ্বাস করোনি।

মহিলা তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে গেলো, তবে যাওয়ার আগে আমাকে ‘সরি’ বলে গেলো না। মহিলা চলে যাওয়ার সাথে সাথে রেজিনা ইলেকট্রনিক ডিপার্টমেন্টের বন্ধুদের ডেকে এই ঘটনা বলতে শুরু করে দিল। ঘটনা যে শুনে, সে-ই হাসে। তবে সবচেয়ে বেশী হেসেছি আমি।