ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা

আপাততঃ পৃথিবী ধ্বংস হচ্ছেনা!

২১শে ডিসেম্বার কী পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে? কঠিন পাথরের চাঁই ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়বে? ভূমি ফেটে চৌচির হয়ে যাবে? ধরণী দুই ভাগ হয়ে যাবে? সমুদ্রের জল ডাঙ্গায় উঠে আসবে? সম্ভবত এগুলোর কোনটাই হচ্ছে না। মায়ান ক্যালেন্ডারে কী বলা আছে? মায়ান ক্যালেন্ডারে কী উল্লেখ করা হয়েছে যে ২১শে ডিসেম্বার পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে! না, মায়ান ক্যালেন্ডারে আক্ষরিক অর্থে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার কথা কোথাও উল্লেখ করা হয় নি। যদিও মায়ান ক্যালেন্ডারের গ্রহণযোগ্যতা অনেক, কারন খৃষ্টপূর্ব ২০০০ বছর আগে ‘মায়া’ সভ্যতার শুরু। মায়া সভ্যতার সময়কালীন মায়ান জনগন গণিতবিশারদ ছিলেন। তাঁদের নির্ভুল হিসেব ও গননা অনুযায়ী মায়ান ক্যালেন্ডার তৈরী হয়েছিল। ৫,২০০ বছরের আগাম গণনা করা আছে এই ক্যালেন্ডারে, যা শেষ হতে চলেছে ২০১২ সালের ২১শে ডিসেম্বার। অর্থাৎ মায়ান ক্যালেন্ডারের পাতা ফুরিয়ে গেছে, ২১ ডিসেম্বার মায়ান ক্যালেন্ডার শেষ হয়ে যাচ্ছে, অথচ মায়ান ক্যালেন্ডার বিশ্বাসীগন এটাকেই পৃথিবী ধ্বংসের দিন অথবা ‘ডুম ডে’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রকৃতপক্ষে ক্যালেন্ডারের পাতা শেষ হওয়ার সাথে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।

তবুও এবং তারপরেও অনেকের মনে এখনও সন্দেহ এবং ভয় বাসা বেঁধেছে। তারা বাস করছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে। পৃথিবী জুড়ে এমনিতেই নানা অশান্তি, চারিদিকে যুদ্ধ বিগ্রহের হুমকী ধামকী শোনা যায়, আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তণ, ক্রমান্বয়ে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে উঠেছে, বৃষ্টির অভাব, অকালে বন্যা, সুনামী, ভুমিকম্পতো লেগেই আছে। এই সকল দূর্যোগের পরিনতিও ভয়াবহই। মায়ান ক্যালেন্ডারের হিসেব অনুযায়ী ২১শে ডিসেম্বার না হলেও অচিরেই সারা পৃথিবীব্যাপী হাহাকার শুরু হবে। মানব সভ্যতার অতি আধুনিক ক্রমবিকাশের সাথে সাথে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিউ ইয়র্কের আকাশরেখা অনেক কালো হয়ে এসেছে, হারিকেন স্যান্ডির দাপটে নিউইয়র্কের মত বিশাল সিটির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে, হ্যালুইনের সন্ধ্যায় নিউইয়র্কসহ আশেপাশের আরও শহরে নেমে আসে ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। বৈজ্ঞানিকগন আশংকা করছেন, বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা যে আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা মানব সভ্যতার হুমকীস্বরূপ। তাহলেই কী পৃথিবী হঠাৎ করে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে? নাসা বিজ্ঞানীদের মতে, এখনই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে না। তাঁরা মায়ান ক্যালেন্ডার এবং ক্যালেন্ডারে বর্ণিত পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারটিকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
তারা তাঁদের বক্তব্য মায়ান অনুসারীদের ‘পৃথিবী ধ্বংস’ তত্ত্বের বিপক্ষে নিজেদের নানা যুক্তি, তত্ত্ব ও তথ্যসহ পরিবেশনের মাধ্যমে আমাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে দুই চারটি যুক্তি পড়লেই সকলের চিন্তা চেতনা থেকে অমূলক ভয় কেটে যাবে।

প্ল্যানেট নিবিরু

মায়ান বিশ্বাসীদের ধারণা, অতি খারাপ প্ল্যানেট ‘নিবিরু’ নেমে আসবে পৃথিবীর বুকে, এবং পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ বাঁধবে। এই সংঘর্ষ ২০০৩ সালে হওয়ার কথা ছিল, হয়নি, তা বলাই বাহুল্য। প্রকৃতপক্ষে নাসা বিজ্ঞাণীরা ‘নিবিরু’র অস্ত্বিত্ব অস্বীকার করেছেন। কাল্পনিক ‘নিবিরু’ প্ল্যানেটের কোন অস্তিত্ব মহাকাশ বিজ্ঞাণীরা এখনও পান নি।

কসমিক এলাইনমেন্ট
অনেকের ধারণা, ২১শে ডিসেম্বারেই সৌর মন্ডলীর সকল গ্রহ, উপগ্রহ হঠাত করে এক লাইনে চলে আসবে, যার প্রভাবে পৃথিবীতে আমূল পরিবর্তণ হবে। কারো কারো মতে, এই দিনে সূর্য্য সৌরমন্ডলীর সমতলে চলে আসবে। কিন্তু বিজ্ঞাণীরা বলেছেন, সূর্য্য অবশ্যই গ্যালাক্সীকে অতিক্রম করবে, তবে তা করতে ৬৭ আলোক বর্ষ লেগে যাবে, যা কিনা কয়েক মিলিয়ন বছরের সমতুল্য।

সৌর ঝড়
ডুম’ডে বিশ্বাসীদের মতে, ২১শে ডিসেম্বার সৌর ঝড় হতে পারে। সৌর ঝড়ে সূর্য্য সাধারণত তেজষ্ক্রীয় কনা বিকিরণ করে, যা পৃথিবীর সাথে সংঘর্ষ ঘটলে রাতের আকাশে আলোর ফুলকী সৃষ্টি করে এবং এই সংঘর্ষের ফলে স্যাটেলাইটের ক্ষতি হতে পারে, বৈদুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। ১৮৫৯ সালে একবার সৌর ঝড় হয়েছিল, এর পরে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের চোখে সৌর ঝড়ের সম্ভাবনা নেই।

মেরু পরিবর্তন

মায়ান ক্যালেন্ডারে বিশ্বাসীদের মতে, ২১শে ডিসেম্বার পৃথিবীর দুই মেরুর মধ্যে স্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা আছে, এবং তা হলে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীগন দুই মেরুর মধ্যেকার ‘ফ্লিপ-ফ্লপের’ কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন না। প্রতি ৫০০,০০০ বছরে প্ল্যানেটে পোল ফ্লিপ-ফ্লপ হইয়ে থাকে। আপাতত সে সম্ভাবনা নেই।
সুতরাং পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার হাস্যকর ভীতি থেকে সকলকে মুক্ত থাকার আহবান জানিয়েছে নাসার বিজ্ঞানীগন।