ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

আর মাত্র দুইদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে একুশে বইমেলা। সুদূর প্রবাসে বসেও যেনো বইমেলায় আসা মানুষের গুঞ্জণ শুনতে পাচ্ছি। হাত-পা বাঁধা পড়েছে বাস্তবতার জালে, সূতো কেটে বের হওয়ার কৌশল জানা নেই। তবে বুদ্ধি করে মনটাকে জালের সূতোয় বাঁধা পড়তে দেইনি। পোড়ামনকে সব বন্ধনের বাইরে রেখেছি, তাই মন শুধুই ছুটে বেড়ায়। এই মুহূর্তে মন ছুটেছে একুশের বইমেলার পানে। ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে আমিও থাকবো আর সকলের সাথে, একুশের মেলা প্রাঙ্গনে।

ঘুরে বেড়াবে আমার মন এ স্টল থেকে সে স্টলে, খুঁজে বেড়াবে বিডিনিউজ২৪ ব্লগ থেকে প্রকাশিত ‘নগরনাব্য’ পুস্তকটিকে। যে কোন পাঠকের হাতে খোলা নগরনাব্যের সূচীপত্রে চোখ বুলাবো, নিজের নাম খুঁজে ফিরবো। শুনেছি, এবারের নগরনাব্যে আমার নাম নেই। শুনেছিই মাত্র, দেখিতো নি। নিজ চোখে না দেখে, শুধু শোনা কথায় বিশ্বাস করতে চাই না। যখন নিজ চোখে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ‘রীতা রায় মিঠু’ কে পাব না, মনে খুব জোর ধাক্কা খাব। আবার আরেক স্টলে ঢুকবো। এবার অন্য পাঠকের হাতে ধরে রাখা ‘নগরনাব্য’ খোলার অপেক্ষায় কিছুক্ষণ দাঁড়াবো, বই খুলতে দেরী হবে বুঝলে দুরন্ত মন আবার ছুট লাগাবো। এভাবেই এবারের বইমেলায় ‘রীতা রায় মিঠু’র মন ঘুরে বেড়াবে।

যখন নিশ্চিত হবো, এবছরের নগরনাব্যে সত্যিই আমি নেই, তখন নগরনাব্যের অন্যান্য লেখকদের নামগুলো বার বার পড়বো, জলভরা চোখে তাদের লেখাগুলো পড়বো। মেলায় আগত সবাইকে ডেকে ডেকে বলবো, “তোমরা সকলেই একটি করে ‘নগরনাব্য’ কেনো, এখানে আমারই সতীর্থরা লিখেছে, এদের সকলের সাথে আমার আত্মার বন্ধন, এরা সকলেই খুব ভালো লিখে। না, এবারের ‘নগরনাব্যে’ আমার লেখা ঠাঁই পায়নি, তাতে কী হয়েছে! আমার লেখা ঠাঁই পায়নি বলেতো আর ‘নগরনাব্যের উপর অভিমান করতে পারবো না। নগরনাব্য আমার কাছে এক ভালোবাসার নাম, নগরনাব্য আমার প্রথম ঠিকানা। হ্যাঁ, গত বছর প্রকাশিত প্রথম নগরনাব্যে আমার লেখা ” একমাত্র মায়ের কাছেই ঋনী থাকতে চাই” স্থান পেয়েছিল। এ বছর আমার লেখার মান হয়তো ভালো ছিল না, বেশ কয়েকটি লেখা লিখে সমালোচিতও হয়েছিলাম, তাই হয়তো বা আমার লেখা নগরনাব্যের ঠিকানা হারিয়ে ফেলেছে।

নগরনাব্য’ এর সাফল্য কামনা করছি। নগরনাব্যে স্থান পাওয়া প্রতিটি লেখক বন্ধুকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।