ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারী, অনলাইনে দৈনিক ‘আমাদের সময়’ পত্রিকায় প্রকাশিত, পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ বোরহান কবীরের লেখা “ জিয়াকে লেখা কর্ণেল বেগের চিঠি” নামের মূল্যবান নিবন্ধ পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেছি। তথ্য প্রযুক্তির এমন উন্নতি হয়েছে যে, কোন কিছুই আর গোপন থাকে না। সম্পাদক সাহেবের লেখা নিবন্ধটির মাধ্যমে প্রায় বিয়াল্লিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা জাতির সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। কারো কারো কাছে নিবন্ধটি বিশ্বাসযোগ্য মনে নাও হতে পারে। তবে অবিশ্বাস করারও কিছু নেই।

পত্রিকায় লেখালেখি করার জন্য লেখক এবং প্রকাশক, দুই তরফকেই বিধিনিষেধের বেড়াজাল সম্পর্কে অবহিত থাকতে হয়। একজন লেখক মনে যা-ই আসে তা-ই লিখতে পারেন, তবে সেটা নিজের খাতাপত্রে, পত্রিকায় নয়। পত্রিকায় প্রকাশ করতে হলে, লেখার সপক্ষে অনেক যুক্তি প্রমান থাকতে হবে। নাহলে লেখাভর্তি স্ক্রিপ্ট সম্পাদকের ময়লার ঝুড়িতে গিয়ে পড়বে। তথ্য-প্রমান ছাড়া কোন লেখা পত্রিকায় ছাপা হয় না। কারণ যে কোন লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হলে, সেই লেখার ভাল-মন্দের জন্য পত্রিকা সম্পাদক দায়ী থাকেন। অনেক সময় দেখা যায়, মিথ্যে সংবাদ প্রচারিত হলে, বাদীপক্ষ সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। কেউ কেউ সম্পাদকের উপর ক্রুদ্ধ হয়ে ‘মানহানি’র মামলাও ঠুকে দেন। এখন পর্যন্ত কোন সম্পাদক সাহেবকে জেলে পাঠানো হয়নি ঠিকই, কিন্তু আইনী লড়াই করার জন্য সম্পাদককে কোর্টে হাজিরা দিতে হয়, এটাও তো কম ঝামেলার কাজ নয়! এমনই ভয়ংকর ত্রাসের মধ্যে থেকে একজন সম্পাদককে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। অবশ্য যিনি সৎ সাংবাদিকতা করেন, তিনি এই সকল হুমকী ধামকীতে বিচলিত হন না।

তবে, আমরা পাঠককূল ঠিকই বুঝতে পারি, প্রকাশিত সংবাদগুলোর মধ্যে কোনটার ভিত্তি আছে, কোনটার ভিত্তি নেই। সচেতন পাঠককূল সম্পর্কে অবহিত আছেন বলেই ‘আমাদের সময়’ পত্রিকার ৪ঠা ফেব্রুয়ারী সংখ্যায় নির্বাহী সম্পাদক সাহেব নিজের নাম ব্যবহার করেই নিবন্ধটি লিখেছেন। পাঠকের মনে যেনো কোন রকম প্রশ্ন না উঠতে পারে, সেই দিক বিবেচনা করেই উনি উনার তথ্যের সপক্ষে একখানি দালিলিক চিঠি ছবিসহ পোস্ট করেছেন।

চিঠিখানি ১৯৭১ সালের ২৯শে মে লেখা হয়েছিল। ‘চিঠিখানি’ কোন প্রেমপত্র নয়, ওটা ছিল গোপন আঁতাতের চলমান প্রক্রিয়া। ইংলিশ বয়ানে হাতে লেখা চিঠিখানির মূলকপি ফটোস্ট্যাট করে নিবন্ধের সাথে প্রকাশ করা হলেও, পাঠকের পড়ার সুবিধার্থে বোরহান কবীর সাহেব পাঁচ ছয় লাইনে লিখিত চিঠিটি ইংলিশে হুবহু টাইপ করে, তার বাংলা তর্জমাসহ উনার নিবন্ধে গেঁথে দিয়েছেন। নিবন্ধটি যাঁদের গোচরে এখনও আসেনি, তাঁদের সুবিধার্থে লেখকের মূল লেখা থেকে চিঠির অংশটুকু তুলে দিচ্ছিঃ

“ মেজর জিয়াউর রহমান, পাক আর্মি, ঢাকা তোমার কাজে আমরা সবাই খুশী। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে তুমি ভালো কাজ করছ। খুব শিগগিরই তুমি নতুন কাজ পাবে। তোমার পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। তোমার স্ত্রী ও বাচ্চারা ভালো আছে। তোমাকে মেজর জলিল সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকতে হবে। কর্নেল বেগ, পাক আর্মী মে ২৯ ১৯৭১)

বর্তমান অস্থির সময়ে এমন একখানি দলিল পত্রিকায় প্রকাশ করে সম্পাদক সাহেব আমাদের চোখের সামনে ঝুলতে থাকা কুয়াশার চাদর সরিয়ে দিলেন। মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নানা রকম গল্প প্রচলিত আছে। কেউ কেউ উনাকে ‘হিরো’ মনে করে, ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ মনে করে, ‘’সৎ’ নির্ভীক সাহসী নেতা মনে করে, বহুদলীয় গনতন্ত্রের সফল উদ্যোক্তা মনে করে। এটা হচ্ছে মুদ্রার এক পিঠ। মুদ্রার অপর পিঠে দেখা যায়,

কালো চশমায় দুই চোখ ঢেকে রেখে জিয়াউর রহমান নিষ্ঠুর কাজগুলো করেছেন, নিজে বীরোত্তম’ খেতাব গায়ে ধারণ করে বিনা বিচারে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসীর দড়িতে ঝুলিয়েছেন, বিপদের বন্ধু কর্ণেল তাহেরকে ফাঁসীর দড়িতে ঝুলিয়েছেন, বহুদলীয় গনতন্ত্র চর্চার আড়ালে জামায়াতে ইসলামী সহ সকল প্রকার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী দলগুলোকে দেশীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। গোলাম আযমকে দেশে প্রবেশ করতে দিয়েছেন, রাজাকার শাহ আজিজুর রহমানসহ আরও কয়েক রাজাকারকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করে, ছেঁড়া গেঞ্জী গায়ে পড়ে থেকে তিনি ‘সৎ’ সাজার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, উনার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে উনার স্ত্রী এবং দুই পুত্র যেভাবে রাতারাতি ধন কুবেরে পরিনত হয়েছে, এই উত্থানে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, একজন অতি সৎ মানুষের ( যিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েও দশ টাকা দামের গেঞ্জী কেনার ক্ষমতা ছিল না, বগল ছেঁড়া গেঞ্জী পড়তেন, যাঁর চোখে দামী গগলস আঁটা থাকলেও স্ত্রীর শাড়ী রাখার জন্য একখানা ভালো স্যুটকেস ছিল না, ভাঙ্গা ট্রাঙ্কে ছেঁড়া কাপড়-চোপর থাকতো) সন্তানরা কী করে এত দ্রুত হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়!

উনি অবশ্য নিজেকে কখনও স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবী করেন নি, তবে উনার দলীয় নেতা কর্মীরা জানে যে ২৭শে মার্চ, ’৭১ এ স্বাধীনতা ঘোষণা পত্র পাঠ করেছিলেন, ঘোষণা করেন নি, তারপরেও স্বাধীনতার ঘোষক প্রশ্নে দুই মতানুসারীদের মধ্যে বাদানুবাদ থামে না। আওয়ামীলীগ থেকে দাবী করা হয়, মেজর জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে থাকলেও মন থেকে যুদ্ধ করেননি। উনি সব সময়ই পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন, এমন দাবীর সপক্ষে কেউ কখনও দলিল হাজির করতে পেরেছে বলে আমার জানা নেই, অন্তঃতপক্ষে জনসমক্ষে তো কোন দালিলিক প্রমান কেউ হাজির করেছেন বলে শুনিনি। হয়ত দালিলিক প্রমান আছে অনেক গবেষণামূলক গ্রন্থে, এভাবে একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকে এর আগে কোন দালিলিক প্রমান প্রকাশিত হতে দেখিনি বা আমার নজরে পড়েনি।

আমি খুবই সাধারণ মাপের মানুষ, খুব সহজে যা পাওয়া যায়, ততটুকুই আমার গোচরে আসে। খুব উচ্চশ্রেণীর মানুষের সাথে আমার যোগাযোগ নেই বিধায় রাজনীতির অনেক কিছুই আমি বুঝিনা। আমার নিজস্ব হিসেবেই আমি পথ চলি। ’৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব যখন মারা যান ( উনাকে নির্মনভাবে হত্যা করা হয়েছিল), আমি তখন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছি। আমার পরীক্ষার সীট পড়েছিল ঢাকা কলেজে। সকালের সেশানে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম, পরীক্ষার হলের ইনভিজিলেটারকে দেখলাম সহকর্মীর আহবানে রুমের বাইরে গেলেন, কিছুক্ষণ কানাকানি করলেন, চেহারায় ফুটে উঠেছিল শংকা। নিজের পরীক্ষার কঠিন প্রশ্নপত্র হাতে আমার নিজেরই মাথা আউলা ছিল, আমার সামনে যে বসেছিল, সেই বন্ধু মাথা ঘুরিয়ে বলেছিল,

“ অ্যাই রীতা, সর্বনাশ হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নাকি মেরে ফেলেছে”!

সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, দ্রুত লিখে শেষ করতে হবে, ঠিক ঐ মুহূর্তে সংবাদটি শুনে আমার মনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসহ উনি হত্যা করেছিলেন, তাই একই পরিনতি উনার জীবনেও ঘটেছে। আমাদের পরের বেলার পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। বাসায় ফিরে রাতের টিভি সংবাদে দেখি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হো মো এরশাদ সাহেব জাতির ঊদ্দেশ্যে অভয় বানী শোনাচ্ছেন। তখনও আমার মনের মধ্যে কোন রকম ভিন্ন প্রতিক্রিয়া হয়নি, একই কথাই মনে হচ্ছিল, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার ফল এটা। আমাকে কেউ বলেনি বা শিখিয়েও দেয় নি যে বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জিয়াউর রহমান সাহেব জড়িত ছিলেন। কী করে যেনো আমার মনের গভীরে এই বিশ্বাস প্রোথিত হয়েছিল, আমি জানিনা। কী জানি, হিসেব মিলাতে পারি না। এ সবটুকুই আমার মস্তিষ্কের কোষে জমা ছিল। ছোট্ট একটি ঘটনার কথা মনে পড়ে,

’৮০ সালের ঘটনা। আমি তখন নারায়ণগঞ্জ মহিলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী। আমার কলেজ জীবনটা মোটেও সুখের ছিল না। স্কুলে ছিলাম আমি অনেকটাই রাণীর মত, স্কুলের প্রধান শিক্ষয়িত্রী মিসেস হেনা দাসের স্নেহধন্য ছাত্রী ছিলাম। কলেজে ঢুকেই আমার মন খারাপ হতে শুরু করে। কলেজের তৎকালীণ প্রিন্সিপ্যাল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন। উনি সব সময় নিজের ক্যারিয়ার গোছাতেই ব্যস্ত ছিলেন। ভিকারুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপ্যাল পদ পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতেন। কলেজে উনাকে খুব কম সময়ই পাওয়া যেতো। ফলে আদর্শিক বৈপরীত্যের কারণেই উনার কাছাকাছি যাওয়ার ইচ্ছে হতো না। আমার কলেজ জীবনটাই বিষবৎ মনে হতো। প্রেসিডেন্টকে খুশী করার বাসনা নিয়েই এক সকালে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম প্রত্যেক রুমে নোটিশ পাঠালেন, আধ ঘন্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গাড়ী বহর নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়েই ঢাকা চলে যাবে। তাই কলেজের সকল ছাত্রীকে রাস্তার উপর লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে প্রেসিডেন্টের যাত্রাবহরকে স্বাগত জানাতে হবে। নোটিশ শুনেই আমার মন বিদ্রোহ করলো। বেঞ্চের উপর মাথা নীচু করে বসেছিলাম, ক্লাসের সকল ছাত্রী হই হই করে রুম থেকে বের হয়ে গেলো, রাস্তার উপর এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে প্রেসিডেন্টকে এক নজর দেখে নয়ন সার্থক করে ফিরে এসে আমাকে ‘দেবদর্শণের গল্প’ শুনিয়েছিল। আমি একটু অস্বস্তিতে ছিলাম, কখন আবার প্রিন্সিপ্যালের রুম থেকে ডাক আসে, নোটিশের অবাধ্যতা করার শাস্তি না জানি কী হয়। না, আমার মতো পিঁপড়াসম ছাত্রীর এহেন আচরণে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডামের কোন ক্ষতি-বৃদ্ধি হয় নি, তবে নিজের কাছে আমি সেদিন খুব পরিষ্কার থেকেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছিল ’৭৫ সালে, সেই মানুষটিকে যারা হত্যা করেছিল অথবা হত্যাকান্ডের সাথে কোন না কোনভাবে জড়িত ছিল, তাদের কারো মুখদর্শন করার কোন অভিপ্রায় আমার ছিল না। সেদিনের ছোট্ট এক টুকরো প্রতিবাদ ১৬ বছরের তরুণীর মনে আত্মস্মমানবোধ জাগিয়ে তুলেছিল।

তারপরেও আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন হত্যাকান্ডই সমর্থণ করিনা। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতি সমর্থণ করিনা ঠিকই, উনার হত্যাকান্ডকেও সমর্থণ করিনা। যেমন সমর্থণ করিনি, ’৭৫ এর ১৫ই আগস্ট অথবা ৩রা নভেম্বার তারিখের হত্যাকান্ড। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেই যে বংগবন্ধু হত্যাকান্ডের সাথে জিয়াউর রহমান সাহেবের কোন যোগসূত্র ছিল না, তারপরেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার না করে উনি বিচার বন্ধের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেটাও তো অন্যায় এবং মহাপাপ। উনার ঘরেও তখন শেখ রাসেলের কাছাকাছি বয়সী সন্তান ছিল, সেই পুত্রের মুখের দিকে তাকিয়েও উনার মনের কোথাও শেখ রাসেলের জন্য হাহাকার করেনি। আর তাই উনি দ্বিধাহীন চিত্তে ইনডেমনিটি বিল পাশ করেছিলেন।

কথায় বলে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আজ যখন দেশব্যাপী যুদ্ধাপরাধী বিচারের শোর উঠেছে, সেই মুহূর্তে ‘বীরোত্তম’ পদকপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মরহুম জিয়াউর রহমান সাহেবের দল থেকে আসামীদের পক্ষে সমর্থণ দেয়া হচ্ছে, হরতালের পর হরতাল ডাকা হচ্ছে, নিরীহ মানুষের উপর, গাড়ী ঘোড়ার উপর অতর্কিত আক্রমণ হচ্ছে, জেলায় জেলায় পুলিশের উপর আক্রমণ হচ্ছে। ফলে দেশের জনগণের একটি বিরাট অংশ, যারা বিএনপির রাজনীতি করেন, তাঁরা কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, তাঁদের নেতা ‘স্বাধীনতার ঘোষক’, তাঁদের অনেকেই দলের বর্তমান নীতির সাথে নিজেদের বিশ্বাসের মিল দেখতে পাচ্ছেন না। এমতাবস্থায় তাঁদের বিভ্রান্ত বিশ্বাসের মূলে কুঠারাঘাত করেছে সৈয়দ বোরহান কবীরের লেখা “ জিয়াকে লেখা কর্ণেল বেগের চিঠি” ।

ধন্যবাদ সাহসী লেখক বোরহান কবীরকে! সাধু! সাধু!