ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

আমার মাথায় আগুন জ্বলছে। এতবড় সাহস কুলাঙ্গারদের, নোংরা -পাপীষ্ঠ হাতে আমার দেশের পতাকা ছুঁয়েছে, নোংরা হাতে মায়ের পতাকা ছিঁড়েছে, ভাষার মাসে আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো শহীদ মিনার ভেঙ্গেছে, আমরা কোটি কোটি পুণ্যাত্মা প্রাণ, তোদের অভিশাপ দিচ্ছি, কুষ্ঠ হবে তোদের দুই হাতে, কুষ্ঠ হবে তোদের দুই পায়ে, কুষ্ঠ হবে তোদের নেতা পাপী, চরম সাম্প্রদায়িক, কুলাঙ্গার, পত্রিকা সম্পাদকের সারা দেহে! এই বলে রাখছি, জ্বলন্ত হৃদয় নিয়ে ফুঁসছে বাংলাদেশ। ঐ পাপীষ্ঠ কুলাঙ্গারের সরাসরি উস্কানীতে আজ বাংলা মায়ের এমন অপমান।

যে সম্পাদকের সরাসরি উস্কানীতে আজ এই অবস্থা, সে একা নয়, তার স্ত্রীও যোগ হয়েছে একই কর্মকান্ডে। সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর ফোনালাপের যে অডিও বিভিন্ন মাধ্যকে প্রকাশিত হয়েছে, তা শুনলে যে কোন বাঙ্গালীর মাথায় আগুন জ্বলবে। কুলাঙ্গার সম্পাদকের কুলাঙ্গার বউ, ফোনালাপের সময় তার ‘অতি মরদ’ সোয়ামীকে রিপোর্ট করেছে, শাহবাগ চত্বরে যত মানুষ, সব নাকি ফটোশপ করা, সব নাকি নকল। এই ধারাভাষ্যকারীণি নাকি সারারাত বমি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে! স্বামী জনগণের ‘মাইরের’ ভয়ে পত্রিকা অফিসে স্বেচ্ছাবন্দী, আর স্ত্রী রাতভর বমি করে ক্লান্ত, উফ! ফোনালাপ নাটকের পাত্র-পাত্রীর কী অবস্থা!! এদের বমির আলাপ শুনলে সুস্থ মানুষের বমি হয়ে যাওয়ার কথা। বমি যে কতভাবে করা যায়, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ পাওয়া যায় ঐ ‘মহিলার’ ফোনালাপ থেকে। অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমি কখনও নাক গলাইনা। এক সম্পাদক বন্ধু আমাকে একটি অডিও সংলাপের লিঙ্ক ই-মেইল করে পাঠিয়েছেন, সাথে বিশেষ অনুরোধ করেছেন, যেন লিঙ্কটি ফেসবুকে শেয়ার করে দেই। আমার ফেসবুকে ফ্রেন্ডরা বেশীর ভাগ তরুণ বয়সী। ওদের অনেকের কাছেই আমার ইমেজ বড় বোন বা মায়ের মত। কাজেই তাদের সাথে লিঙ্ক শেয়ার করার আগে আমি দেখে নেই, কীসের লিঙ্ক এটা। সম্পাদক বন্ধুর অনুরোধ সেদিন ‘লুইচ্চা’ সম্পাদকের অডিও টেপ শুনেছি।

অডিও লিঙ্কটি শুনেই আমার সারা গায়ে কাঁটা দিয়েছে, কী গভীর ষড়যন্ত্র চলে দেশটাকে নিয়ে! এতদিন ভাবতাম, এই ‘উত্তরা ষড়যন্ত্রী’ সম্পাদক বোধ হয় ব্যক্তি হিসেবে খারাপ, এখন দেখি সে এবং তার ‘বমিওয়ালী’ বউ, দুজনেই কুচক্রী টাইপের মানুষ! একেবারে সোনায় সোহাগা, যোগ্য স্বামীর যোগ্য বউ। স্বামীও কুলাঙ্গার, বউও কুলাঙ্গার একটা। কুলাঙ্গার বউয়ের কাছ থেকে মন্তব্য শুনে বদ সম্পাদক ফোনের মধ্যেই প্রজন্ম চত্বরে উপস্থিত দেশপ্রেমিক ছেলেমেয়েদেরকে ‘শুয়রের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়! কত বড় সাহস! প্রবাদে আছে, “অতি বাড় বেড়ো নাকো, ঝড়ে ভেঙ্গে যাবে”। তোদের স্বামী-স্ত্রীর কপালে দুঃখ আছে। আমাদের অভিশাপে, শহীদ আত্মাদের অভিশাপে তোরা জ্বলবি। কুলাঙ্গার সম্পাদক ক্রমাগত, ক্রমাগতভাবে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের বিরুদ্ধে কুৎসা ছড়িয়ে গেছে। যার নিজের ঈমানের জোর নেই, সে কিনা ‘শহীদ রাজীবের’ ব্যক্তিগত ব্লগ একাউন্ট হ্যাক করে! যার গায়ে লেগে আছে ‘উত্তরা ষড়যন্ত্রের’ কালিমা, সে কিনা ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের স্কাইপি সংলাপ হ্যাক করে!! যার নিজের নীতির বালাই নেই, সে কিনা তরুণ প্রজন্মকে গালিগালাজ করে!

একজন মেধাবী তরুণ (রাজিব)কে কী নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেই নৃশংসতার বিরুদ্ধে একটি টুঁ শব্দ বের হলো না সম্পাদকের মুখ থেকে, আর সেই কিনা সারাদেশে উস্কাণীমূলক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে, “নাস্তিকের আবার জানাজা কি” বলে? নাস্তিকের জন্য যদি জানাজা কবুল না হয়, তাহলে এই নাস্তিককে নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন? নাস্তিকের জানাজায় যাদের উপস্থিত থাকতে ইচ্ছে করেছে, তারা থেকেছে। কেউ তো জোরপূর্ব্বক এত লাখ লাখ মানুষকে শাহবাগ চত্বরে টেনে নেয় নি! যার কাছে মনে হয়েছে, ধর্মীয় রীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে, সে সেখানে যায় নি। ব্যস! হয়ে গেল। এই মেধাবী তরুণটিকে উপলক্ষ্য করে যে লোক ধ্বংসের মুখে দেশের ভবিষ্যতকে ঠেলে দিয়েছে, সে কতটা পূণ্যবান? যার কারণে আজ দেশের জাতীয় পতাকার এমন অবমাননা হলো, সে কত বড় ধার্মিক? যার কুচক্রীপণার কারণে আজ শহীদ মিনার ভাঙ্গা হলো, সে কেমন আস্তিক? যার অনবরত উস্কানীর ফলে আজ দেশে এতগুলো প্রাণ ঝরে গেল, যার নির্লজ্জ অপপ্রচারের কারণেই আজ দেশের মানুষের মধ্যে স্পষ্ট দুটি ধারা তৈরী হয়েছে, এর দায় কে নেবে? এতগুলো সাংবাদিকের আহত হওয়ার দায় কে নিবে? দেশে যে চরম অস্থিরতা তৈরী হয়েছে, ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ হওয়ার পথে, সিলেটে এক কিশোর এই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে, এ সকল পাপের দায় কে নেবে? তরুণ পুলিশ কনেস্টেবল হত্যার দায় কে নেবে? দুই তিনজন বিক্ষোভকারীর এমন আকস্মিক মৃত্যুর দায় কে নেবে? সিলেটের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রটির মায়ের বুকভাঙ্গা কান্নার দায় কে নেবে? পুলিশের তরুণী বিধবা স্ত্রী আর সন্তানের দূর্ভাগ্যের দায় কে নেবে?

কুলাঙ্গার সম্পাদককেই নিতে হবে এ সমস্ত পাপের দায়। সে ঊদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তার পত্রিকায় অপপ্রচার চালিয়ে ধর্মভীরু মুসলমান জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে। যে ক’টি তাজা প্রাণ আজ ঝরে গেল, তার সবকটির দায় বর্তাবে উক্ত সম্পাদকের উপর। ব্লগার ‘রাজীব’ তার চোখে ‘নাস্তিক’ হয়েও তার জানাজায় স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল নেমেছিল, তা দেখেই যাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে, যা দেখে ‘একদা বাঘ’ পর্যন্ত পত্র পত্রিকায় ‘গেল গেল, ইসলাম গেল’ বলে ধুয়া তুলে সরলপ্রাণ জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে, আল্লাহ বা উপরওয়ালা তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।