ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

অ-মাননীয় খোকা সাহেব, আপনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন!! আপনি আজকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে একজন ব্লগারের নৃশংস হত্যাকান্ডকে শুধু সমর্থণই করেননি, আরও আগেই তার মৃত্যু হওয়া উচিৎ ছিল, এমন কথা মিডিয়াতে বলেছেন, ধিক দেই আপনাকে, থুঃ দেই আপনার সেই তথাকথিত ‘মুক্তিযোদ্ধার’ সার্টিফিকেটে।

আপনাদের চেহারা ফুটে উঠছে, আপনার সতীর্থ সাংসদ , নারী জাতির কলংক ‘মনি’ তৃতীয় মাত্রায় বলে এসেছে, মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লক্ষ’ বাংগালী শহিদ হয়নি, ‘তিন লক্ষ(!!) শহীদ হয়েছে, আপনাদের মত কলংকিত মানুষদের বিচার চেয়েছিল ব্লগার রাজীব, আপনাদের ভাড়া করা খুনীর হাতে তাকে অকালে জীবন দিতে হয়েছে। তার সতীর্থ তরুণ প্রজন্ম আজ জেগেছে, আপনাদের খবর আছে।

দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রথম দিকের সদস্য ডঃ আসিফ নজরুল টকশো তৃতীয় মাত্রায় বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নাকি কোন রকম সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমান পাওয়া যায় নি! মাই গড! উনার মত এমন একজন বুদ্ধিজীবি এমন মন্তব্য কী করে করতে পারলেন!

মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত যোদ্ধা, ‘ বঙ্গবীর, টাইগার’ খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা পর্যন্ত কুখ্যাত ‘উত্তরা ষড়যন্ত্রের নায়ককে’ জাতীয় বীর আখ্যা দিয়েছেন, তাকে ‘নোবেল প্রাইজ’ দিতে চেয়েছেন! আমরা কোথায় আছি! যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বুকে নিয়ে উনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, জাতির পিতার মত অসাম্প্রদায়িক নেতার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন, সেই মুক্তিযোদ্ধা আজ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকে কটাক্ষ করে বলছেন, তারা নাকি ইসলাম বিরোধী আন্দোলন করছে, দেশ থেকে নাকি ইসলাম চলে যাবে, শুধু হিন্দু, বৌদ্ধ আর খৃষ্টান থাকবে! একে ‘নব্য রাজাকার’ বলাতে অন্যান্য বুদ্ধিজীবিদের গায়ে বিছুটি পাতার জ্বলুনী শুরু হয়েছে!

আপনার আরেক সতীর্থ ফখরুল, নির্লজ্জভাবে ‘মাহমুদুর’ নামের ক্যান্সারের পক্ষে সাফাই গাইছে, ফখরুলকে অনেকেই এখন ‘ফকু’ নামে ডাকতে শুরু করেছে। হিসেব করে দেখলাম,

ফকু নামের সাথে ‘৭১ এর ‘ফকা’ নামের খুব মিল, আবার ‘ফকা’র সাথে ‘খোকা’ নামের খুব মিল, ‘খোকা ‘ খুব দম্ভ নিয়ে ব্লগার রাজীবের নৃশংস হত্যাকান্ডকে সমর্থণ করেছে। ‘ফকা’, ‘সাকা’ রা তো এভাবেই নিরীহ বাঙালীকে হত্যা করেছিল! কাজেই ‘ফকা’, ‘সাকা’ ‘খোকা’ আর ‘ফকু’—সবগুলি এক সূতায় বাঁধা।

প্রজন্ম চত্বর গঠিত হয়েছিল ‘কাদের মোল্লা’ র মামলার রায় হওয়ার পরে।
দেশবাসী দেখছে, এই তরুণ প্রজন্মের হিম্মত, সাহস, সততা, এবং শক্তি।

তরুণ প্রজন্মের জন্যই গান রচিত হয়েছিল,

” মাগো, ভাবনা কেনো, আমরা আকাশ থেকে বজ্র হয়ে ঝরতে জানি,
তোমার ভয় নেই মা, আমরা প্রতিবাদ করতে জানি। ”

মেশিনম্যান, কসাই হুজুরের বিচারের রায়ে যদি কোন ‘অ্যাটের-ব্যাটের’ লক্ষ্য করা যায়, তাহলে ‘দুই নৌকায় পা রাখা’ মানুষের খবর আছে।
ক্যাটেগরি:
যুদ্ধাপরাধ ও ট্রাইব্যুনাল