ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

দেশে থাকতে কখনও গাড়ী চালাতে হয়নি, দেশের রীতি অনুযায়ী ড্রাইভার থাকে গাড়ী চালানোর জন্য। কিনতু আমেরিকা এসেতো আর ড্রাইভারের ব্যাপার নেই। যা কিছু নিজে নিজে। আমরা আমেরিকা এসে প্রথম উঠেছিলাম ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া নামের পাহাড়ী রাজ্যে। আমেরিকা এসে প্রথম পাহাড়ী রাস্তাতে গাড়ী চালাব, এমন চিন্তা মাথাতেও আনিনি। আমার স্বামী নিজেও গাড়ী চালানোর ব্যাপারে একেবারেই নার্ভাস। কানাডাতে পিএইচডি করার সময় নাকি তার গাড়ী ছিল, নিজে একবার একসিডেন্ট করেছে, তারপর তার বন্ধু একদিন তার গাড়ীটা চেয়ে নিয়ে গেছিল কোথাও কোন কাজে, সেও একসিডেন্ট করেছে এবং ঐ যাত্রায় গাড়ী একেবারে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। এই হলো আমার স্বামীর গাড়ী চালানোর অভিজ্ঞতা। তার নিজেরই গাড়ী চালাতে ভয়, সে আবার আমাকে গাড়ি চালাতে দেবে, এমনটা আশা করাও বৃথা। এরপর আমরা ঐ পাহাড়ী রাজ্য থেকে সমতলের রাজ্য মিসিসিপিতে চলে এসেছি। এর আগে অস্ট্রেলিয়াতে মেলবোর্ণে থেকেছি, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের এত সুবিধা ছিল যে গাড়ী না থেকেও আমাদের কোন অসুবিধা হয়নি। কিনতু আমেরিকার এই মিসিসিপি রাজ্যে এসে দেখি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের কোন ব্যাপারই নেই এখানে। পায়ে হাঁটবো, তারও উপায় নেই। গাড়ীই একমাত্র ভরসা। বরের সাথে পার্কিং লটেই একটু আধটু প্র্যাকটিস করি, কিনতু দেখি ভদ্রলোক কেমিস্ট্রি যত ভালোই শেখাকনা কেনো, ভালো ড্রাইভিং শেখাতে পারেননা। মনের ভয়টা যে আগে দূর করতে হবে, তাই জানেননা। আমার কাজিন সুমন এসে আমাকে গাড়ী চালানোর ভয়টা আগে কাটিয়ে দিল। তারপর আমি প্র্যাকটিস করে করে সাত দিনের মধ্যেই লাইসেন্স পরীক্ষা দিয়ে দিলাম এবং পাস করে গেলাম। আমি লাইসেন্স হাতে নিয়ে দেখি আমার বরের চোখে সন্দেহের ছায়া। তার নাকি বিশ্বাস হয়নি যে আমি পাস করেছি।

প্রথম দিকে কাজে যাওয়ার সময় আমি আমার স্বামীকে পাশে বসিয়ে ড্রাইভ করতাম, দুই তিন দিন এমন করার পর টের পেলাম সে রীতিমত ভয় পাচ্ছে আমার পাশে বসে থেকে। একরাতে কাজ থেকে ফেরার পথে আমি খুব ছোট্ট কিছু ভুল করেছিলাম বলে আমার বর একেবারে ‘ এইরে! সেরেছে সেরেছে’ বলে এমন হায় হুতাশ শুরু করেছে যে আমি আরও বড় ভুল করে ফেলতে পারতাম। কিনতু আমি কিছুই না বলে বাড়ী এসে পরদিন তার হাতেই গাড়ীর চাবি দিয়ে বলেছি যে আমি আর গাড়ী চালাবোনা। যাই হোক আমি বুঝে নিয়েছি, পাশে আমার বরের মত নার্ভাস মানুষকে নিয়ে গাড়ী চালানোর চেয়ে নিজে নিজে চালানো অনেক বেশী স্বস্তিদায়ক। শুরু করলাম নিজে নিজেই কাজে যেতে।

আমার বর হচ্ছে আমার ট্রেইনার। ট্রেইনার আমাকে শুধু সোজা রাস্তায় গাড়ী চালাতে শিখিয়েছে, আর কিছু শেখায়নি। কিভাবে লেইন পাল্টাতে হয়, কিভাবে গাড়ীতে গ্যাস নিতে হয়, কিভাবে রাস্তা ভুল করলে আবার ঠিকপথে ফিরে আসতে হয়, কিছুই শেখায়নি। আসলে আমিতো শুধু কাজে যাতায়াত করার জন্য ড্রাইভিং শিখতে চেয়েছি, আমার ট্রেইনারও তাই অতটুকুই শিখিয়েছে। আমি বিপদে পড়লাম একদিন।

এক দুপুরে কাজে যাচ্ছিলাম (আমি ওয়াল-মার্টে চাকুরী করি), ওয়াল-মার্টের একজিট এর কাছে আসতেই দেখি পুলিশের গাড়ীতে রাস্তা ভর্তি। একসিডেন্ট হয়েছে, গাড়ি সব ডিটোর (অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়া) করে দিচ্ছে। আমি চোখে মুখে সর্ষেফুল দেখতে শুরু করলাম। আমিতো লেইন পাল্টাতে জানিনা, কোথায় যাব তা-ও জানিনা, কিভাবে ফিরে আসতে হয় তা-ও শিখিনি। এদিকে আমার কাজের সময় হয়ে যাচ্ছিল। আমার আগের গাড়ীগুলো ঠিক চলে গেল অন্য পথে, এবার আমার পালা। পুলিশ আমাকে ইশারা দিচ্ছে লেইন বদলে যাওয়ার জন্য। আমি তখন জানালার কাঁচ নামিয়ে এক পুলিশ অফিসারকে ডেকে বললাম যে আমি নতুন গাড়ী চালাই, জানিনা কিভাবে লেইন পাল্টাতে হয়। পুলিশ অফিসার তখন পেছনের সব গাড়ীকে থামিয়ে আমার জন্য এক চিলতে রাস্তা বের করে দিয়ে বললো চলে যেতে। আমার গাড়ীটা ছিল সাত সীটের বড় ভ্যান। এই সরু ফাঁক দিয়ে কোনমতে বের হয়ে গিয়ে পড়ে গেলাম আরেক ফাঁপরে। আমি কতদুর যাব, কিভাবে ফিরে আসব, কিছুই বুঝতে পারছিলামনা। হঠাৎ করে বাম পাশে একটা ফাঁকা যায়গা দেখে গাড়ী ঢুকিয়ে দিয়ে থেমে গেছি। তারপর ব্যাক করতে গিয়ে দেখি আমার পেছনে গাড়ীর ভীড় জমে গেছে। কিভাবে কি করেছি জানিনা, উল্টাপথে গিয়ে ওয়াল-মার্টে পৌঁছে গাড়ী পার্ক করে আমি অন্ততঃ মিনিট দশেক গাড়ীতে বসেই অনেক কেঁদেছি। এমন ভয় পেয়েছিলাম যে আমি গাড়ী থেকে নামতে পারছিলামনা।

এরপর আরেক রাতের ঘটনা। আমি কাজ থেকে ফিরছিলাম রাত ৮ টার দিকে। হঠাৎ দেখি রাস্তা বন্ধ করে গাড়ী ঘুরিয়ে দিচ্ছে, কারন তখন ক্রিসমাস প্যারেড হচ্ছিল। আমি অন্য গাড়ীর পেছন পেছন যাচ্ছি আর ভাবছি শেষ পর্যন্ত কোথায় যাব। তখন আমার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ছিলনা, তার উপর ছোটবেলা থেকেই আমার পথ হারানোর ভয় ছিল। আমিতো যাচ্ছি আর যাচ্ছি, হঠাৎ করেই আমার গাড়ী আমি একটা সাইড ধরে পার্ক করে দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে পড়ে চারদিকে তাকাচ্ছিলাম, কাউকে দেখা যায় কিনা। দেখি রাস্তার উল্টাপাশে এক গাড়ী থেকে দুইটা বাচ্চা নিয়ে এক মা নেমেছে। আমি দৌড়ে রাস্তার ঐপাড়ে গিয়ে ওদের কাছে জানতে চাইলাম কিভাবে আমি আমার বাড়ীতে পৌঁছাতে পারব। সেই মাতো আমাকে কত রকম ভাবেই বলল, ডাইনে বাঁয়ে গিয়ে হাইওয়ে ধরে কিভাবে যেতে হবে। আমি বললাম যে আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা, তাদের মোবাইল ফোনটা একটু ব্যবহার করতে চাইলাম। ওরা এত ভাল যে আমাকে ওদের ফোনটা দিল যাতে করে আমি বাড়ীতে কল করতে পারি। আমি আমার বরকে ফোন করে বললাম যে আমি আসতে পারছিনা, আমাকে যেন এসে নিয়ে যায় সে। আমার রোড নাম্বার জানতে চাইতেই আমি ঐ মহিলাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিলাম আমার সঠিক অবস্থান। তারপর দৌড়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে রাস্তার সাইন থেকে রোড নাম্বার পড়ে তাকে বললতেই সে বললো যে আমি একেবারে বাড়ীর কাছাকাছি আছি। আমি তাদের ফোন তাদের ফিরিয়ে দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই অপেক্ষা করতে লাগলাম। দেশে থাকলে এভাবে অন্ধকারে অপেক্ষা করার কথা ভাবতে পেরেছি কখনও! মনে হচ্ছিল যেন সময় থেমে আছে, তাদের দেখা নেই। মনে মনে ঐ প্যারেডের উপর রাগ উঠছিল। শেষ পর্যন্ত ছোট মেয়ের হাত ধরে দেখলাম আমার বর এসে উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়েই এমন এক হাসি দিল আমার দিকে যা দিয়ে বুঝিয়ে দিল যে এযুগে আমি একেবারেই অচল।

তৃতীয় ঘটনা ঘটলো আরেক বৃষ্টির রাতে। আমি যাচ্ছিলাম বাড়ীর দিকে, গ্রীন সিগন্যাল ছিল বলে আমি এগিয়ে যাচ্ছিলাম, হঠাত করেই রাস্তার ডানদিক থেকে এক গাড়ী আমার ঠিক সামনে এসে গেলো। আমি যত জোরে পারা যায় ব্রেকে পা চেপে ধরলাম। হলে হবে কি, আমার ভ্যান গিয়ে মারলো এক ধাক্কা সামনের গাড়ীকে। ব্যস! আমার হয়ে গেল। সামনের গাড়ী একটা সাইডে দাঁড় করিয়েছে, তাই আমার গাড়ীও দাঁড় করালাম। আমারতো ফোন নেই, রাত ১০টা বেজে গেছে, অঝোরে বৃষ্টি হচ্ছে, মহিলা নেমে এসেছে সামনের গাড়ী থেকে। আমিও নেমেছি, তাকে বললাম তার ফোনটা দিতে, বাসায় ফোন করবো বলে। শুনি গাড়ীটা তার মেয়ের গাড়ী, তার উপর আবার কালো জনতা, আমার ভয় হচ্ছিলো খুব। গাড়ী নিয়ে কালোদের খুব দূর্বলতা আছে। মহিলা ভালো করে দেখে বললো যে তার গাড়ীর যেহেতু কিছুই হয়নি তাই সে পুলিশ ডাকতে চায়না। আমারতো এই মুহূর্তে ছাড়া পেলে বাঁচি অবস্থা। বাড়ী ফিরে গিয়ে স্বামীকে বললাম যে আমার কোন দোষ ছিলওনা, কিনতু যাকে বললাম সে কতটুকু বিশ্বাস করেছে তা আমার জানার কথা নয়।

এই একই গাড়ীতে শেষ ঘটনা ঘটেছিল এক রবিবারের সকালে। আমি সকালে কাজে যাচ্ছিলাম, লাল সিগন্যাল এ গাড়ী থামিয়ে বসে আছি। সিগন্যাল সবুজ হতে গাড়ী স্টার্ট করতেই দেখি গাড়ী সামনে না গিয়ে পেছনে যাচ্ছে। বুঝতে পারিনি, ভালো করে চেক করে দেখলাম গিয়ার ড্রাইভ-এ আছে। আবার চেষ্টা করতে দেখি একইরকম তখনও। গাড়ীর হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে গেলাম, দেখি আমার পেছনেই আরেক গাড়ী দাঁড়িয়ে আছে। ঐ গাড়ীর কাছে গিয়ে চালককে ডাকতে লাগলাম, চালক এক আধাবয়সী কালো লোক। জানি কালোদের গাড়ী পম্পর্কে খুব ভালো ধারনা থাকে।তাকে অনুরোধ করলেম গাড়ীটা একটু দেখে দিতে। এই ফাঁকে তার কাছ থেকে ফোন নিয়ে বাসায় ফোন করলাম যেনো আমার স্বামী এসে আমাকে উদ্ধার করে। এক পুলিশের গাড়ী এসে থেমে জানতে চাইছিলো কোন হেল্প লাগবে কিনা। আমি পুলিশ থেকে সব সময় দূরে থাকতে চাই। না করে দিলাম, এবং তখনই আমার স্বামীও চলে এলেন। পরে ট্রিপল এ কে ডেকে গাড়ী টো করিয়ে তবে এই গাড়ীর যবনিকাপাত হলো।

এরপর আমার স্বামীর বড় গাড়ীটা চালাতে শুরু করি। গত দুই বছর ধরে ভালোই চালাচ্ছিলাম, তবে আমি গাড়ী চালাই বাসা টু ওয়াল-মার্ট, ওয়াল-মার্ট টু বাসা।এরমাঝে আমি অনেকদিন আমার ট্রেইনার কে বলেছিলাম আমাকে নিয়ে একটু হাইওয়েতে উঠতে। কিনতু ট্রেইনার আবার আমার পাশে বসে কোথাও যেতে মনে হয় ভয় পায়। শুধু বলেছে যখন সময় হবে তখন এমনিই নাকি পেরে যাব। তো সেই সময় একদিন চলে এল। আমার ছোট মেয়ের একটা সামার প্রোগ্রাম এর ব্যবস্থা যেখানে হলো তা আমাদের বাড়ী থেকে ১০/১২ মাইল দূরে। হাইওয়ে দিয়ে যেতে হয়। ট্রেইনারের নিজের খুব ব্যস্ততা ছিল বলে আমাকে বললো মেয়েকে সেখানে যেনো পৌঁছে দিয়ে আসি।

প্রথমদিন সে আমাকে নিয়ে গেল জায়গাটা চিনিয়ে দিতে। পরের সকালে আমি তাকে বললাম, আমার পাশে থাকতে আমি যেহেতু প্রথমবার হাইওয়েতে উঠছি। আমি টের পেলাম ডাউন-টাউন আর হাইওয়েতে চালানোর তফাৎ। চার বছর চালিয়েছি ৩৫ মাইল/ঘন্টা বেগে আর এখন চালাচ্ছি ৭০ মাইল/ঘন্টা বেগে। দ্বিতীয় দিনে মেয়েকে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এক্সিট গোলমাল করে ফেলেছি। হায় হায় অবস্থা তখন আমার মনে। গাড়ীতে কিনতু জি পি এস অন করা ছিল। তারপরেও আমি দিশেহারা হয়ে গিয়ে রাস্তার একপাশে গাড়ী দাঁড় করিয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলাম। পেছন থেকে হর্ণ দিচ্ছিল সবাই, আমি একবার ভাবছিলাম গাড়ী থেকে নেমে যাব কিনা (এটা আমার এক মুদ্রাদোষ, গাড়ী থেকে নেমে যাওয়া)। এমন সময় দেখি পাশে একটি ট্রাক থেকে ড্রাইভার চিৎকার করে দেখিয়ে দিচ্ছে রাস্তা, তার কথামত রাস্তা ধরে এগিয়ে গিয়ে ঠিক এক্সিট নিয়ে বাড়ী ফিরেছি। এই ঘটনা অবশ্য কাউকে বলি নাই। ৭ দিনের প্রোগ্রামের শেষ দিনে মেয়েকে নামিয়ে দিয়ে ফিরছি, হঠাত দেখি গাড়ীর স্ক্রীণ এ দেখাচ্ছে ট্যাঙ্ক খালি, গ্যাস লাগবে। উপরে রিডিং এর দিকে তাকিয়ে দেখি মাত্র দুই মাইল যাওয়া যাবে। আর আমার পথ বাকী ৮ মাইল। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না, পাশেই একটা গ্যাস স্টেশান, কিনতু আমি গ্যাস নিতে জানিনা। এই প্রথম আমার স্বামীর উপর ভয়ানক রাগ উঠে গেল, কারন এর আগেও আমি তাকে বলেছিলাম আমাকে একটু শিখিয়ে দিতে কিভাবে গ্যাস নিতে হয়। সেটা শেখানোর সুযোগ বা আগ্রহ আমাদের দুই পক্ষের কারোই ছিলোনা, কিনতু রাগের বেলা আমার নিজের দোষের কথা মনে রইলোনা। অগতির গতি ভগবানকে ডাকতে শুরু করলাম আর এগিয়ে যেতে থাকলাম। স্বামীকে ফোন করতেই সে ফোন ধরে জানালো যে সে এখন ক্লাসে। আমি শুধু রাগ দেখিয়ে ফোন রেখে দিয়ে মিটার এর দিকে তাকিয়ে দেখি শূন্য মাইল দেখাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো, আমার কাজিন সুমন বলেছিল যে সেফটি ট্যাঙ্কে সব সময় কিছু গ্যাস মজুত থাকে যা মিটার রিডার এ দেখা যায়না।

এরপর গাড়ী পাড়ার কাছে এসে এক গ্যাস স্টেশানে থামিয়ে আবার আমার বরকে ফোন দিয়ে বললাম আসতে, গ্যাস নেয়ার জন্য। সে উত্তরে বললো স্টেশানে ঢুকে কাউকে বললেই ভরে দেবে। স্টেশানে ঢুকে এক বুড়ীকে পেলাম, বুড়ী বলল যে এটা তার মেয়ের দোকান, সে কখনও অন্যের গাড়ীতে গ্যাস ভরেনি, আমি তাকে বললাম যে তুমি নিজের গাড়ীতে গ্যাস ভরেছো, আমি তাও জানিনা। কাজেই আসো আমরা দুজনে মিলে দেখি কিছু করা যায় কিনা। তারপর মধুরেন সমাপয়েৎ!

এখনও আমি আগে যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি। একটু পরিবর্তন হয়েছে, এখন লেইন পাল্টাতে শিখেছি নিজে নিজে, ডিটোর হয়ে গেলে জি পি এস চালিয়ে পথ বের করে আসতে পারি, প্রয়োজনে সামনের ধীরগতির গাড়ীকে ওভারটেক করতে পারি, কিনতু এখনও নিজে হাতে গ্যাস নেইনি, যদিও জানি কিভাবে নিতে হয়। আর আমার স্বামী? সে এখনও আমাকে আমার পরিচিত গন্ডীর বাইরে যেতে উৎসাহ দেয়না, আমার পাশে বসে কোথাও যেতে হলে শক্ত হয়ে বসে থাকে যেন তাকে এখনই আমি মেরে ফেলবো! কতভাবে বুঝাই যেনো আমাকে একটু দূরে কোথাও চালাতে দেয়, কখন কি প্রয়োজন হয় কে জানে। তার একটাই কথা, কি দরকার, অপ্রয়োজনে রিস্ক নেয়া! যদি তেমন দরকার হয়, যেহেতু আমি গাড়ী চালাতে জানি, আর বাকীটুকু নাকি আমি বুদ্ধি চালিয়ে ঠিক বের করে নেব উপায়!