ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

গত ১৫ই ডিসেম্বারের সকল দৈনিক পত্রিকাতে জুঁইয়ের মর্মন্তুদ কাহিণী পড়ে কে কতখানি শিউড়ে উঠেছে জানিনা, আমি দুইদিন একধরনের মানসিক অবসাদের ভেতর দিয়ে পার করেছি আমার সময়গুলো। কি বাচ্চা একটা মেয়ে, শুধুমাত্র পড়ালেখা করার অপরাধে তার ‘স্বামী’ নামক অভিভাবকের হাতে নির্যাতিত! নির্যাতনের ধরনটাও বলতে হবে! বলি, অভিভাবক স্বামী চায়নি জুঁই কলেজে পড়ুক, কিনতু বেয়ারা জুঁই ঠিক করেছে, সে পড়বেই কলেজে। এতে করে পঞ্চম শ্রেণী পাশ অভিভাবক স্বামীর পৌরুষে কঠিন আঘাত লেগেছে! সেই আঘাত সইতে না পেরে সে জুঁইয়ের ডান হাতের কব্জী কেটে ফেলেছে। তাও আবার একেবারে সরাসরি কিছু করেনি, যেহেতু দুইদিন আগেই সে আরব দেশ থেকে ফিরেছে, এতদিন পরে বউকে দেখে সরাসরিতো আর হাত কেটে ফেলা যায়না, আরব দেশে হলেও একটা কথা ছিল, বাংলাদেশে বসে সে আরেকটু রোমান্টিকভাবে শাস্তি দিতে চেয়েছে বউকে। ভুলিয়ে ভালিয়ে জুঁইয়ের দুই চোখ বেঁধেছে, দুই হাত বেঁধেছে (জুঁই হয়তো ভাবছিলো তার সোয়ামী তার জন্য আরব দেশ থেকে সাত লহরা সোনার হার নিয়ে এসেছে, তাই এত ভূমিকা করছে), মুখ বেঁধেছে, তারপর তার ডান হাতের কব্জীটা এককোপে কেটে ফেলেছে।

জুঁইয়ের খবর পত্র পত্রিকাতে এসেছে, ফারজানার খবর পত্রিকাতে এসেছিল, রুমানা মঞ্জুরের কথাও পত্রিকায় এসেছে। তবে রুমানা অথবা ফারজানা অনেক সাপোর্ট পেয়েছে বা এখনও পাচ্ছে, জুঁইয়ের ভাগ্যে কি আছে জানিনা, কারন আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ জুঁই ঘরে ঘরে আছে, কতজনকে মানুষ সাপোর্ট করবে, মানুষের ধর্ম হলো তেলা মাথায় তেল দেয়া। তেমন নামী-দামী কেউ হলে তা-ও মানুষ প্রতিবাদ করতো, এইসব ছাপোষা ঘরের মেয়েদের নিয়ে কেউ মাথা ঘামাতে চায়না! যেমন কেউ মাথা ঘামায়নি বেলীর দূর্দিনে।

আমি যদি জুঁইকে কাছে পেতাম, তাহলে জুঁইকে আমি বেলীর গল্প শুনাতাম। বেলীর অবস্থা জুঁইয়ের থেকে স্থান, কাল ও পাত্রে তফাৎ ছাড়া পরিনতিতে কোন তফাৎ ছিলোনা।। জুঁইতো তবু ভালোবেসে বিয়ে করেছিল আর বেলীকে পরিবার থেকে বিয়ে দেয়া হয়েছিল। জুঁইয়ের পারিবারিক অবস্থা কেমন তা আমি জানিনা, কিনতু বেলীর পরিবারের নাড়ি-নক্ষত্র আমি সব জানি। বেলীরা একভাই একবোন, বাবা-মা ও দাদু মিলিয়ে ছিল সংসার। বেলীর বাবা ছিল বোহেমিয়ান টাইপের মানুষ, দাদু ছিলেন শহরের নামকরা উকিল, খুবই সজ্জন মানুষ। বেলীর মা বাবা দুজনেই দেখতে খুব সুন্দর বলেই বেলীও দারুন সুন্দরী ছিল। বেলী পড়াশুনাতেও ছিল খুবই ভালো। সে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে মাত্র কলেজে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে, আর ওর দাদা এম এ পাশ করে মাত্র চাকুরীতে ঢুকেছে। বেলীর দাদুর অনেক বয়স হয়েছিল, বেলীর বাবা উপার্জন করতোনা, ক্ষ্যাপাটে মানুষ ছিল বলে বেলীর খুব কাছের আত্মীয়-স্বজনেরা চিন্তা করলো যে দাদু বেঁচে থাকতে থাকতে বেলীর বিয়েটা হয়ে গেলে বেলীর মায়ের জন্য খুব ভালো হয়।

এই ব্যাপারে বেলীর এক দিদি খুব অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। দিদিকে বেলী ও বেলীর দাদা জান প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো। দিদি সব সময় বলতো যে কত হেঁদি ক্ষেদির বিয়ে হয়ে বিদেশে থাকে আর বেলীর মত এমন পরীর মত সুন্দর মেয়ের দেশে বিয়ে হয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরাবে টাইপ কপাল হবে, তা ঠিক না। তাই দিদি তার এক আত্মীয়াকে বলেছিল যেনো ভালো কোন পাত্রের সন্ধান দেয়। কিছুদিন পরেই সেই আত্মীয়া আমেরিকা থেকে ফোন করে দিদির বরের কাছেই বেলীর বিয়ের প্রস্তাব দিলো, পাত্র সেই আত্মীয়ারই ছোট ছেলে। আমেরিকাতে থাকে, ইঞ্জিনীয়ার, সবার ছোট ছেলে, দেশে নামকরা বড়লোক, ওষুধের বিজনেস, বিরাট একান্নবর্তী ফ্যামিলি, মানে মেঘ না চাইতে বৃষ্টি অবস্থা।এদিকে দিদিতো তখন লটারী পেয়ে যাওয়ার মত উত্তেজিত, বেলীর বয়স মাত্র ২০ বছর ছিল, যতই ক্ষ্যাপাটে বাবা হোক, এত কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার কথাতো চিন্তায় ছিলোনা। কিনতু দিদি বেলীর মা-কে বুঝালো যে বিয়ের পরেও বেলী পড়াশুনা করতে পারবে, আমেরিকা গেলে আর ভাবনা কি, ইঞ্জিনীয়ার ছেলে যখন সে নিজেই আগ্রহী হয়ে বউকে পড়াবে।

ধরে নেই পাত্রের নাম ধীমান। ধীমান নাকি কোন একটা ভিডিওতে বেলীকে দেখেছে, সে খুবই পছন্দ করে ফেলেছে বেলীকে, আগেই বলেছি বেলী খুব সুন্দরী, আর ধীমানদের বাড়ীতে ছেলের বউ আনে সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবারের রূপসী ও কম বয়সী দেখে, পড়ালেখা তেমন না জানলেও চলে। তবে যতগুলো মেয়ে বউ হয়ে এসেছে এই বাড়ীতে, তারা সকলেই কম বয়সী ছিল, কলেজ পড়ুয়া ছিল, তবে মেয়েগুলো শ্বশুরবাড়ীতে এসে সবাই সাজগোজের পাল্লায় পড়ে পড়ালেখাকে বিসর্জন দিয়ে দিয়েছে। বেলী একটু ভয় পেয়ে যায় এগুলো শুনে। ওর অসীম আগ্রহ ছিল অনার্স মাস্টার্স করে চাকরী করার। কিনতু দিদি ওকে বুঝিয়েছে এই বলে যে যেহেতু তার বাবা রোজগার করেনা, দাদু যদি চোখ বন্ধ করে তাহলেতো কঠিন অবস্থায় পড়তে হবে পুরো পরিবারকে। তারচেয়ে বিয়ে হয়ে গিয়ে আমেরিকায় পড়াশুনা করতে পারলে বেলী আরও অনেক উন্নতি করবে। ধীমানও দিদির বাড়ীতে ফোন করতো আর বেলীর সাথে ঘন্টা ব্যাপী আমেরিকার ‘ফাস্ট লাইফ’এর গল্প শুনাতো, হাজারবার বেলীকে বলেছে শুধু বিয়ে হয়ে আমেরিকা আসার অপেক্ষা, আমেরিকাতে আসতে পারলেই বেলী আর বেলী থাকবেনা, হিলারী ক্লিন্টন বানিয়ে ফেলবে ওকে, বেলীর দাদু আগেই ধীমানকে বলেছে যেহেতু উনার নাতনীর পড়ালেখা করার খুব ইচ্ছা, ওকে যেনো সেই সুযোগ দেয়া হয়। ধীমান আমেরিকা থেকে ফোনেই দাদুকে কথা দিয়েছে বেলীকে আমেরিকাতে এনে সর্বোচ্চ ডিগ্রী নেওয়াবে। দুই পরিবারে কথা হয়ে বিয়ে হয়ে যায় বেলীর সাথে ধীমানের।

বিয়ের ১৫ দিনের মাথাতেই বেলী ওর বরের সাথে আমেরিকা চলে আসে। আমেরিকাতে ধীমানের সাথেই থাকতো ধীমানের মেজোবোন, ছোট একটা বাচ্চাসহ, স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর। বেলীকে পরিবার থেকেই শিখিয়ে দেয়া হয়েছিলো যেনো আমেরিকা গিয়ে বড় ননদকে যত্ন করে, ননদের পাশে ছায়া হয়ে থাকে, ননদ যা বলবে তাই যেনো মেনে নেয়, সব তোতা পাখীর মত মুখস্থ করিয়ে দেয়া হয়েছিল। কয়েকমাস পরেই বেলীর দিদিও আমেরিকা চলে যায়। গিয়ে বেলীর সাথে ফোনে গল্প করে, কিনতু গল্প করতে গিয়েই দিদি টের পায় বেলীর কন্ঠে সেই চনমনে ভাব নেই, কোথায় যেনো ছন্দ পতন হয়েছে। দিদি জানতে পারে ধীমান আর ধীমানের বোন আছে শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, ছোট্ট একটা মেয়ে এতদূর থেকে এসেছে, এই ব্যাপারটা তারা ভেবে দেখেনি কোনদিন। বোন ডিভোর্সী ছিল বলেই হয়তো আরেকটি নতুন কাপলের সুখ বা আনন্দ সইতে পারতনা, ফলে শুরু থেকেই অশান্তি শুরু সেই সংসারে।

এদিকে বেলীতো দিদির কাছে আফসোস করে এই বলে যে কত মাস পার হয়ে গেলো ধীমান পড়াশুনার কথা কানেই তুলেনা, বলে যে বউ মানুষের পড়ালেখা করে কি হবে! দিদিরতো মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে, সে নিজে উদ্যোগী হয়ে মেয়েটার বিয়ে দিয়ে এই অবস্থা হতে দেখবে, তা ভাবতে পারেনি। দিদি তখন আরেকজনের মাধ্যমে বেলীর কাছে টোফেল এর সিডি পাঠিয়ে দিয়ে টফেল পরীক্ষা দেওয়ায়। টফেলে সে ভালো স্কোর তুলেও বসে থেকেছে, কারন তার স্বামী, ননদ, শ্বশুর বাড়ীর কেউ চাইছিলোনা যে বেলী পড়াশুনা করুক। বেলীর ছিল প্রচন্ড গল্পের বই পড়ার নেশা, সে সাথে করে গল্পের বই দুই একটা নিয়ে এসেছিলো, কিনতু বেলী খুব স্মার্ট ছিল বলে ঘরে বসে থেকে কম্পিউটারে অনলাইনে গল্পের বই পড়ে সময় কাটাতো। কিনতু এটাও ওদের সহ্য হয়নি, ওরা এটাও বন্ধ করে দেয়। ধীমানের হাতে পায়ে ধরে একটা কলেজে ভর্তি হয়, কয়েকদিনের মধ্যেই বেলীর চোখ মুখ ফুটতে শুরু করে, আমেরিকার সব সিস্টেম সে বুঝে ফেলতে শুরু করে খুব তাড়াতাড়ি। ধীমান হয়তো অতটা খারাপ হতোনা যদি ওর দিদিগুলি দেশ থেকে, ঘরে থেকে, কানাডা থেকে সব সময় বউ শায়েস্তা করার মন্ত্র না দিত। কারন বেলী মাঝে মাঝে ধীমানকে পটিয়ে পাটিয়ে পড়া চালিয়ে যাওয়ার পথ করে নিত।

মেয়েটা বাপের বাড়ীতে থাকতে কোন কাজ করেনি, শুধু গান-বাজনা, পড়াশুনা, আনন্দ ফূর্তি নিয়েই ছিলো, সে হঠাৎ এক দমকা হাওয়ায় কোথায় ছিটকে পড়ে গেলো, তা ভাবারও ফুরসত পেতোনা। আমেরিকার রিসেশানের সময় ধীমানের চাকুরী চলে যায়। সে এক অবর্ননীয় অবস্থা। বেলীর দিদি বলেছিল বেলীকে তার কাছে পাঠিয়ে দিতে কয়েক মাসের জন্য, তারা সেটা না করে ডিভোর্সী দিদির আরেকটা বিয়ের আয়োজন করে এবং সেটা করার জন্য দিদি যেখানে থাকবে, ভাইও সেই স্টেটে চলে যায়। ফলে বেলীর স্কুল বন্ধ হয়ে গেলো। নতুন স্টেটে গিয়েও কোন উন্নতি হয়নি, ধীমান চাকরী না পেয়ে উগ্র মেজাজ ধারন করে, এক রাতে বেলীকে প্রচন্ড মারধর করে। সেই রাতে বেলী দুই একবার ফোন করার চেষ্টা করে তার দিদিকে, কিনতু দিদি ফোন রিসিভ করার আগেই ধীমান ফোন লাইন কেটে দেয়। পরের দিন সকালে বেলী কোনমতে একটা কল দেয় দিদিকে আর জানায় তারা এখন সেই ডিভোর্সী ননদের নতুন সংসারে আছে, কারন আগের রাতে ধীমান তাকে প্রায় মেরেই ফেলছিলো, তাকে মাটিতে ফেলে তার উপর সে চেপে বসেছিলো (বেলি খুব পাতলা ছিপছিপে, ধীমান তেমনই নাদুস নুদুস), পুলিশ যাতে কল দিতে না পারে তাই এই ব্যবস্থা।

এরপরেও ধীমান বেলীকে প্রায়ই মারধোর করত, দিদির সাথে সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হলো, কারন তারা কেউ বেলীকে স্কুলে পাঠানোর পক্ষে ছিলোনা, তারা সরাসরি নাকি বলতো যে এই মেয়ে আমেরিকার স্কুলে পড়লে একদিন পাখা গজাবে, পাখা গজিয়ে সে উড়াল দিবে। এরপরে নদীতে অনেক জল গড়িয়েছে, বেলীর অসম্ভব জেদ আর দিদির অসম্ভব মনোবলই বেলীর পড়ার সুযোগ তৈরী করিয়ে দেয়। দিদি দেশে গিয়ে এক হুলুস্থূল কান্ড বাঁধিয়ে দেয়। ধীমানদের পরিবারের ওরা আবার দেশে নিজেদের ইজ্জত বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে গিয়ে বেলীর নামে আর বেলীর দিদির নামে নানা কুৎসা রটাতে থাকে। কিনতু দিদি এসে দাদুর কাছে কেঁদে পড়ে এই বলে যে তার কারনেই তার এই বোনটার এমন দূর্গতি। দাদুকে সেই পরামর্শ দেয় যেন ধীমানের মাকে বলে ব্যবস্থা করতে, যে কথা ধীমান দাদুকে দিয়েছিল বেলীকে পড়াবে বলে, তা যেনো রক্ষা করা হয়।

ইতিমধ্যে বেলী ম্যাগডোনাল্ডস এ কাজ করে, সেই টাকায় সংসার খরচ দেয় আর অপেক্ষা করে কবে স্কুলে ভর্তি হতে পারবে। আর দিদি নানাভাবে চেষ্টা করে কিভাবে বেলীর সাথে একটু যোগাযোগ করা যায়। এর মাধ্যমে তার মাধ্যমে খবর পাঠানোর চেষ্টা করে, কিনতু পারেনা। যাই হোক দেশের মাধ্যমে বেলির কাছে দিদির বার্তা পৌঁছে যেত। একসময় বেলী নিজে নিজেই স্কুলে ভর্তি হয়, অসম্ভব পরিশ্রম করে রোজগার করতে থাকে, স্কলারশীপের ব্যবস্থা করে ফেলে, এক সময় বেলী বিয়ের ৫ বছর পরে একটা ডিগ্রী অর্জন করে, এসোসিয়েট ডিগ্রী। ইন্টারনশিপ করতে গিয়েছিল যে কোম্পাণিতে, সেখানেই ওর চাকুরী হয়ে যায়।

এরপরে কত জনের চাকুরি চলে গেলো, ওর বরের চাকুরী গেলো আরো কতবার, কিনতু বেলী এখনও ঐ কোম্পাণিতে আরও ভালো পজিশনে কাজ করছে। ওর মা-কে এনে রেখে দিয়েছে, এখন ও আবার স্কুলে ভর্তি হয়েছে বিএসসি ডিগ্রীটা কম্পলীট করার জন্য। চাকুরী আর পড়াশুনা, দুই নিয়েই সে ব্যস্ত। ধীমান প্রায়ই বেলীর মাকে হুমকী দেয় এই বলে, বেলীর এইসব বেয়াদবী অনেক সহ্য করেছে, এরপর আর সহ্য করবেনা, মাইয়া মানুষ এত পড়ালেখা দিয়ে করবেটা কি! এই হলো ধীমানের বক্তব্য, আর বেলীর বক্তব্য, তার জীবনে আর কোন আনন্দ নেই, সুখও নেই, তাই পড়ার মধ্যে থাকলে কোন নীচতাই তাকে স্পর্শ করতে পারেনা। তার আরেকটা ভয় আছে, ধীমানের যখন চাকুরী ছিলনা, ধীমান বেলীকে নিয়ে তার অন্য ভাইদের সংসারে উঠেছিল, তখন বেলীর মত বুদ্ধিমতি মেয়ে যা বুঝার বুঝে নিয়েছে বলেই আপোসের সুখ না খুঁজে পায়ের তলায় মাটি খুঁজছে।

ধীমান নানাভাবে বেলীর মাকে অপমান করার চেষ্টা করে যাতে করে বেলীর মা দেশে ফিরে যায়। কিনতু বেলীর মাকে দেশ থেকে বেলীর পিসীরা অনেক সাহস দেয়, ধৈর্য্য ধরতে বলে, কানে তুলা গুজে রেখে মেয়ের ডিগ্রীটা শেষ করা পর্যন্ত থাকতে বলে। ধীমানের দিদিরা, ধীমানের বাবা-মা নানাভাবে বেলীর মাকে অপমান করে, মাঝে মাঝে বেলীর মা বেলীর দিদির কাছে তার কষ্টের কথাগুলো বলে, অসহায় দিদি সব মন দিয়ে শুনে আর ভাবে সত্যের জয় হবেই একদিন।