ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ণের বাংলাদেশ সমিতির ব্যানারে ১৯৯৬ সালের বিজয় দিবসে ‘ষড়ঋতুর দেশ’ অনুষ্ঠানটি ছিল সকল বাংলাদেশীদের জন্য এক বিরাট অর্জন। আগেই বলেছি, আর তা হয়েছিল তুহীন’দা ও সুনন্দা’দির আন্তরিকতা এবং সকলের পরিশ্রমের ফলে। এমন একটি সফল অনুষ্ঠান করার পরে সুনন্দা’দি পড়ে গেলেন ভালোবাসার মহাফাঁপড়ে। বাংলাদেশীদের সমুদ্রসম ভালোবাসা বা কূপসম মানসিক সংকীর্ণতা, কোনটার সাথেই সুনন্দা’দির পরিচয় ছিলনা। কারন সুনন্দা’দি কলকাতাতে বড় হয়েই উচ্চশিক্ষার্থে জার্মানীতে চলে গিয়েছিল এবং সেখান থেকেই অস্ট্রেলিয়াতে চলে আসে। সুনন্দা চৌধুরীদের পরিবারেই সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চ্চা হতো। পুরো ‘গীতাঞ্জলী’ সুনন্দা চৌধুরীর নখদর্পনে ছিল। যাই হোক, এবার সুনন্দা’দি পরিচয় পেতে শুরু করলো বাংলাদেশীদের আবেগ আর ভালোবাসা কত প্রকার ও কি কি!

সবার বাড়ীতে সুনন্দা’দি কে নেমন্তন্ন করা শুরু হয়ে গেলো। একা মানুষ সুনন্দা চৌধুরী, কতকাল ধরে প্রবাসী জীবন কাটাচ্ছে, মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই, হঠাৎ করেই যেনো আদর-ভালোবাসার বন্যায় ভাসতে লাগলো মানুষটা। এবার সুনন্দা’দি আমাদের জন্য ২৬শে মার্চের অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিলো। তার জন্য খুবই কঠিন সময় এগিয়ে এলো। কারন ফেব্রুয়ারীতে ছিলো বাচ্চাদের নিয়ে সরস্বতী পূজোর অনুষ্ঠান, তারপরেই বাংলাদেশী আনকোরা আর্টিস্ট দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান, নিজের চাকুরী বজায় রাখা সব মিলিয়ে একেবারে টাইট সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন উনি। উনাকে সাহায্য করতে এগিয়ে গেলাম আমি আর তুহীন’দা। আমরা দু’জনে মিলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের যাবতীয় রসদ গুছাতে শুরু করলাম যেনো বাচ্চাদের অনুষ্ঠান শেষ করেই সুনন্দা’দি আমাদের অনুষ্ঠানের রিহার্স্যালে হাত দিতে পারেন। আমরা এবারেও সফল হয়েছি। আমার স্বামী তৈরী করে দিয়েছিলেন স্ক্রীপ্ট, ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ বা বাংলার ইতিহাস নামেই বোধহয় তৈরী হয়েছিল অনুষ্ঠানটি। এবারেও সার্থক সার্থক সার্থক হয়েছে অনুষ্ঠান। বলা বাহুল্য, এরপর থেকে সুনন্দা’দি আমাকে তার পি,এ বানিয়ে ফেললেন, আর তুহীন’দা হয়ে গেলো বাংলাদেশ সমিতির প্রধান কর্ণধার।

এর মধ্যেই সুনন্দা চৌধুরী ইন্ডিয়ান বেঙ্গলী এসোসিয়েশানের জন্য ‘চিত্রাঙ্গদা’ গীতিনাট্য তৈরী করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে ফেলেছেন। তুহীন’দা আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো। সুনন্দা’দি ততদিনে আমাদের বাংলাদেশীদের দিদি হয়ে গেছে। দিদিকে সবাই ভালোবাসতো। ভালোবাসার ঋণেই সুনন্দা’দি আবার আমাদের জন্য কিছু করতে চাইলো। এবার তুহীন’দা বললো আমাদের জন্য একটা ‘গীতিনাট্য’ তৈরী করে দিতে। কিনতু কি ধরনের নাটক করা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করেই ঠিক হলো বাংলার লোককাহিণী নিয়ে একটি গীতিনাট্য তৈরী করবো। ঠিক হলো জসীমউদ্দীনের ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ করা হবে। তবে সুনন্দা’দির জন্য এটা ছিল একটা অসম্ভব আবদার। তুহীন’দা গোঁ ধরে রইলো ‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ করবে বলে। সুনন্দা’দি বাঙ্গাল কথাই তেমন বুঝেনা, তার মধ্যে নক্সীকাঁথার মাঠের আঞ্চলিক কথা কিভাবে বুঝবে প্রশ্ন করতেই তুহীন’দা আমার উপর দায়িত্ব দিয়ে দিল সুনন্দা চৌধুরীকে সব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য (আমাকে সুনন্দার ‘পি,এ বলে মজা করতেও ছাড়লোনা)।

সুনন্দা’দি কে প্রথমেই ধরলাম আমাদের জন্য গীতিনাট্য করে দেয়ার জন্য। কি মনে করে সুনন্দা’দি রাজী হয়ে গেল, পরে ‘নক্সীকাঁথার মাঠের’ স্ক্রীপ্ট যখন তার কাছে দেয়া হলো, দুইদিন বাদেই আমাকে সে ফোন করলো, জানালো অনেক কথার মানে সে বুঝেনা।আমার স্বামী আমাকে বললেন যে সুনন্দা’দিকে বাড়ীতে নেমন্তন্ন করে কয়েক ঘন্টা সময় লাগিয়ে বসে বসে কথার মানে বুঝিয়ে দিতে। সুনন্দা’দিকে বাড়ীতে ডেকে আনলাম, আমাদের বাড়ীতে সুনন্দা’দি এই প্রথম আসলো এত লম্বা সময়ের জন্য। তার গাড়ীর ভেতরে দেখি তার পুরো বাদ্যযন্ত্রের সংসার। যাই হোক আমি যতটুকু সম্ভব কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বুঝিয়ে দিলাম কঠিন অচেনা শব্দগুলো। সব শেষে সুনন্দা চৌধুরীর মুখ বেশ গম্ভীর হয়ে গেলো, ‘রবীন্দ্র সাহিত্য’ নিয়ে যে বিভোর, তার কাছে ‘পল্লীগীতি’তো কঠিন ও অচেনা মনে হবেই। দুইদিন খুব ভাবলেন, তারপর আমাকে আবার ফোন করে জানালেন যে উনি করবেন। এরপর এক শনিবারে আমরা বাংলাদেশ সমিতির একটা মিটিং ডাকলাম, মিটিং এ সিদ্ধান্ত হলো যে তিনমাস ধরে রিহার্স্যাল চলবে (ঊইকএন্ডে)।

সুনন্দা চৌধুরী নিজে ‘সোনাই’ চরিত্র নিয়েছে, ‘রুপাই’ হয়েছে ময়না, ‘সোনাইয়ের মা’ মনোরমা পালিত, ‘রূপাইয়ের মা’ ডঃ নাহার, ডিনা মাহবুব হয়েছিল ‘কুটনী বুড়ী’ আর আমি নিজে খুব ভেবে চিন্তে নিয়েছি ‘দুখাই ঘটক’ চরিত্র। এখানে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে পুরুষ চরিত্রগুলো কেন মেয়েরা করেছে! প্রথমকথা, আমরা বাইরে থেকে শিল্পী ভাড়া করবোনা, ইন্ডিয়ান বেঙ্গলী এসোসিয়েশানের সাথে কম্পটিশানের একটা গোপন ইচ্ছে এবং সবচেয়ে সত্যি কথা ছিল বাংলাদেশের কোন ছেলেই এই সমস্ত চরিত্র চিত্রনের জন্য কোনভাবেই যোগ্য ছিলনা। হ্যাঁ, তবে ছেলেদের ঠিক করা হয়েছিল গ্রামের পথচারী বা ধানকাটার গানের সময় অথবা সোনাই-রূপাইয়ের বিয়ের আসরে নীরব মুরুব্বী টাইপ চরিত্র করার জন্য এবং তারা তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছিল।

সুনন্দা’দি রীতিমত ঘোষনা দিলো যে এই নাটক সবাইকে টিকিট কেটে এসে দেখতে হবে, কাজেই তেমন স্ট্যান্ডার্ডের নাটক বানাতে গেলে যখন যা প্রয়োজন হবে তার সবটাই যেনো হাতের কাছে রেডী থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে। তখন মেলবোর্ণের কামরুল চৌধুরীর খুবই নামডাক একজন প্রতিষ্ঠিত ধনী হিসেবে। উনি রাজী হলেন যতটুকু সম্ভব সহযোগীতা করার ব্যাপারে। মরাল সাপোর্ট দিতেন জামান ভাই, ডঃ লুৎফর ভাই এবং ভাবী, হাবীব ভাইসহ আরও বেশ কিছু সিনিয়র ভাই( সবার নাম মনে আসছেনা)।রিহার্স্যালের সময় সকলের খুব আগ্রহ ছিল এক মহিলা কিভাবে সোনাই করছে, আরেক মহিলা কিভাবে দুখাই ঘটক করছে। যে দুই মহিলা এই দুই পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছিল, তাদের এগুলো নিয়ে কোন ভাবান্তর দেখা যায়নি। উইকএন্ডে সকলেই কতদূর থেকে ড্রাইভ করে আসতো শুধু একটু রিহার্স্যাল দেখার জন্য, কি উত্তেজনা সকলের চোখে মুখে, আমরাও টিকিট কেটে দেখার মত অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছি, আবার ভয় যে টিকিট কেটে কেউ দেখবে কিনা নাটক!

নাটক যখন প্রায় তৈরী হয়ে গেছে, তখনই আমার স্বামীকে দেশে চলে যেতে হয়েছে নতুন এক চাকুরীতে জয়েন করার জন্য। আমি রয়ে গেছি দুই মেয়ে নিয়ে মেলবোর্ণে, রিহার্স্যাল শেষ হলে সব সময় সুনন্দা’দি আমাদের মা-মেয়েকে বাড়ীতে নামিয়ে দিয়ে যেতো, কিনতু সুনন্দা’দি এক উইকএন্ডে আমাদের বাড়ীতে থেকে যেতে চাইল। আমি অবাক হয়ে গেছি দেখে বললো যে “দুটো কারনে আমি থাকছি, তোর বর দেশে গেছে, তোদের দেখা আমার দায়িত্ব আর তুই ভূতের ভয় পাস বলে সারারাত লাইট জ্বালিয়ে নাকি বসে থাকিস, ঘুমাসনা, আমার নাটকে দুখাই ঘটকের রোলটা হবে সবচেয়ে দূর্দান্ত, সেই দুখাই ঘটক যদি ভূতের ভয়ে না ঘুমিয়ে শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে যায়, নাটকের বারোটা বেজে যাবে। তোদের বাংলাদেশের ছেলেগুলো শুধু আতিথেয়তাই জানে, আর কিছুই জানেনা, একজন অসুস্থ হলে প্রক্সী দেয়ার মত আর কেউ নেই” বলে সত্যি থেকে গেল আমাদের সাথে। এবং এরপরে নাটক মঞ্চস্থ না হওয়া পর্যন্ত সুনন্দা’দি প্রতি রাতে আমাদের বাড়ী চলে আসতো। আসলে সুনন্দা’দি আমার ছোট মেয়ে মিশাকে পাগলের মত ভালোবাসতো, সে তার নিজের ছোটবেলাকে মনে হয় দেখতে পেত ওর মাঝে। কারন মিশা ঐ পাঁচ-ছয় বছর বয়সেই এমন সুন্দর নাচ করতো, কবিতা আবৃত্তি করতো যে সবাই ওকে খুব ভালোবাসতো।

আমরা সত্যিকারের অবাক হয়েছি যখন শুনলাম যে নাটকের গান, ডায়ালগ সব কিছুই আগে থেকে রেকর্ডিং করা হবে একেবারে প্রফেশন্যাল রেকর্ডিং স্টুডিয়োতে গিয়ে। ইন্ডিয়ান বেঙ্গলী এসোসিয়েশানের সব কলা কুশলীকে সুনন্দা’দি একদিন সারাদিনের জন্য স্টুডিয়োতে নিয়ে গেছিলেন। আমরাতো গেছিলামই কারন গানগুলো সব আমরাই গেয়েছিলাম। আর সঞ্জয় (?) বোস এর ছিল ভরাট কন্ঠস্বর, উনি গলার স্বর বদলাতে পারতেন, সেই উনিই নানারকম ভঙ্গীতে, নানা সুরে ছেলেদের ভয়েসগুলো দিয়েছে, আমরা গান করেছি, আমার দুখাই ঘটকের কন্ঠস্বরে এমন বৈচিত্র্য এনে দিয়েছিল বোস’দা যে আমার নিজের মনে হয়েছিল আমাকে এই রোলটা যে করে হোক সার্থক করতেই হবে। কামরুল চৌধুরী বাংলাদেশ যাওয়া-আসা করতেন সবসময়, উনি নিয়ে এসেছিলেন গ্রাম-বাংলার জিনিস সুনন্দা’দির অর্ডার মত। অভিষেক গুপ্তা পেশাতে ফার্মাসিস্ট হলেও বাদ্যযন্ত্র বাজাতো অপূর্ব, আর তারও চেয়ে অপূর্ব ছিল তার মঞ্চসজ্জার কারিগরী। অভিষেক খুব শান্ত ও বিনয়ী টাইপের ছেলে, কি যত্ন নিয়ে যে তৈরী করে দিয়েছিল আমাদের ‘নক্সী কাঁথার মাঠের’ মঞ্চ, দেখে কেউ বলতে পারবেনা যে এই ছেলে বোম্বেতে মানুষ হয়েছে, বাঙ্গালীও নয়, অথচ মঞ্চে একেবারে বাংলাদেশকে তুলে এনে বসিয়েছে। আর এগুলো সমস্তই হয়েছে সুনন্দা চৌধুরীর নির্দেশে। সবার কস্ট্যুম সে ঠিক করে দিয়েছে, আমাকে আগেই বলেছিল যে আমার জন্য সে শুধু একটা ‘ছাগলা দাড়ি’ কিনে আনবে, আর বাকী যা কিছু আমারটা আমাকেই যোগাড় করতে বলেছে। আমি আমার বরের বিয়ের সময়ের একটা পাঞ্জাবী আর লুঙ্গী, হাবীব ভাইয়ের নামাজী টুপী, কার যেনো একটা পায়জামা যোগার করেছিলাম। একজোড়া পাম্পশু কিনেছি আর এই ১৫-১৬ মিনিটের রোল করার জন্য মাথার চুল কেটে একেবারে ছোট করে ফেলেছি। আমাকে দেখে সুনন্দা’দি থ’ মেরে গেছিল আর বলেছিল যে আমাদের আবেগ দেখেই সে এত পরিশ্রম করছে।

টিকিটের দাম রাখা হয়েছিল ৩০ ডলার, আমরা ভয়ে বাঁচিনা যে দর্শক না হলেতো লজ্জায় মরে যাব, নাটক শুরু হওয়ার আগেই দেখলাম যে সব টিকিট বিক্রী হয়ে গেছে। ড্রেসিংরুমে সকলে মেকাপ নিতে ব্যস্ত, আমার ব্যস্ততা তখন চরমে, নিজের দুই মেয়েকে সাজাব, নিজে একটা ‘ফানি ঘটকের’ মেকাপ নিতে হবে, সুনন্দা’দিকে ‘সোনাই’ সাজাতে হবে, অবশ্য ওখানে ডিনা ভাবি আর মনোরমা’দিও ছিল মেয়েদের সাজানোর জন্য। সুনন্দা’দি কে আমার কাছে দেখতে কেমন যেনো একটু ‘যাত্রা শিল্পী’র মত লাগছিল, কিনতু ঐ মুহূর্তে আর সেটা বলিনি। নাচ করেছিল নূপুর, লিয়া, পিয়া, জুমানা, মৌটুসী, স্মিতা, বনি, মিশা। নায়িকা ছিল ময়না নামের খুব সুন্দরী এক মেয়ে, আর সুনন্দা’দি সোনাই।

নাটক শুরু হয়েছে, নাটক চলছে, আমারতো মনে খুব টেনশান, দুইবার আমার ড্রেস পাল্টাতে হবে, দাড়ি লাগিয়েছি, আঠা খুলে গেলেই চিত্তির, হাত-পা নাড়ার সময় যদি গোঁফ-দাড়ির যে কোন একটা খুলে যায়, সুনন্দা’দি মেরেই ফেলবে। প্রথম দুই রাউন্ডে খুব ভালো করেছি, পরের রাউন্ডে নাচের সময় মাথা থেকে হাবীব ভাইয়ের নামাজী টুপী মঞ্চে পড়ে গেছে! আমি চোখের সামনে দেখছি শুধু মানুষের মাথা, আর আমার মাথায় তখন সুনন্দা’দির চেহারা ভাসছে, ৫/৬ সেকেন্ডের মধ্যেই আমি আয়ত্বে এনে ফেলেছিলাম সবকিছু, টুপীটা নিয়ে এমন এক হাস্যকর ক্যারিকেচার করেছি যে সকলে ভেবেছিল যে এটা এই ‘ছাগলা ঘটকের’ একটা ছাগলামী। আমি শুধু শুনতে পাচ্ছিলাম হলভর্তি মানুষের হাসির আওয়াজ। পার্ট শেষ করে মঞ্চের আড়ালে চলে যেতেই সুনন্দা’দি আমাকে জড়িয়ে ধরে শুধু একটা কথাই বলেছিল, ‘ তুই জাত শিল্পী’। আর সুনন্দা’দিতো মন-প্রান ঢেলে সোনাই চরিত্র করেছিল, তার নাচের কি মুদ্রা, দেখে সকলে মুগ্ধ, তবে রূপাই এর ভূমিকাতে ময়না অভিনয় করতে না পারলেও সে খুব সুন্দরী বলেই উৎরে গেছিল।

সার্থক গীতিনাট্য হয়েছিল ‘নক্সীকাঁথার মাঠ’। পরদিন পত্রিকাতে নিউজ হয়েছিল। আমরা সকলেই তখন এক আনন্দের বন্যায় ভাসছিলাম। তুহীন’দার জেদ, আমাদের ভালোবাসার কাছে সুনন্দা’দির এমন আত্মসমর্পন, আমাদের বাংলাদেশ সমিতির সকলের সুনন্দা’দির প্রতি অবিচল আস্থা আর ইন্ডিয়ান বেঙ্গলি এসোসিয়েশানের সকল গুনীজনের বন্ধু সুনন্দা’র প্রতি এমন উদারতা, সব রং এর সূতাতেই বোনা হয়েছিল ‘নকশী কাঁথার মাঠ’। এই প্রথম ও এই শেষ আমি অভিনয় করেছিলাম মঞ্চে, অথচ আমার আপনজনেরা কেউ উপস্থিত ছিলনা সেখানে, আমাদের ভিডিও ক্যামেরা ছিলনা, পরে একজন একটা ভিডিওর ক্যাসেট আমাকে দিয়েছিল, এতদিনে কোথায় পড়ে আছে জানিওনা, তবে তুহীন’দা আমার ছবি তুলেছিল, আমাকে দিয়েছিল দুইটা ছবি, ছবিগুলো এখনও সাক্ষী হয়ে আছে সেই অভূতপূর্ব এক ঘটনার। এরপরে আমরা আর মাত্র দুইমাস ছিলাম মেলবোর্ণে। এরপর চলে আসি বাংলাদেশে।