ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

আমরা যখন আমেরিকাতে প্রথম আসি, আমাদের ছোট মেয়ে মিথীলার বয়স ছিল দুই বছর। ওর জীবনের প্রথম বিদেশে আগমন। ওতো বাইরের জগত সম্পর্কে কিছুই জানতোনা, আমিও প্রথমদিকে ঘরে থাকতাম বলেই আমারও আমেরিকানদের সাথে মেলামেশার সুযোগ হয়নি। তাই বড় দুই মেয়ে তাদের স্কুল থেকে যা কিছু নতুন শিখে আসতো, ঘরে এসে আমাকে, মিথীলাকে নতুন করে শেখাতো। সেই শেখানোর মধ্যে কিভাবে আমেরিকান স্টাইলে ইংলিশ বলতে হয়, সেটাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মেজো মেয়ে এক ডিসেম্বারে ঘরে এসে মিথীলাকে বললো যে ক্রিসমাস ডে’র খুব সকালের যে কোন সময় স্যান্টা ক্লজ আসবে আমাদের বাড়ীতে। সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকবে তখনই স্যান্টা আসবে।ছোট্ট মিথীলা বিশ্বাস করেছিল দিদিদের কথা। কারন খুবই ছোট ছিল বলে দেশে সে ক্রিসমাস ডে সম্পর্কে কিছু জানতোনা, আমার বাকী দুই মেয়ে অবশ্য ক্রিসমাস ডে-তে ওদের জ্যেঠুর বাড়িতে সারাদিন কাটাতো আমাদের সাথে।

মিথীলাকে এর আগেই ছবির বই থেকে স্যান্টার ছবি দেখানো হয়ে গেছিল। মিথীলা দিদিকে প্রশ্ন করেছিল,’ আমরা ঘুমালে স্যান্টা কিভাবে ঢুকবে ঘরে’! উত্তরে দিদি বলেছিল, ‘ আমাদের বাড়ির চিমনী দিয়ে স্যান্টা ঢুকে যাবে বাড়ীর ভেতর। স্যান্টা আসবে আমাদের জন্য উপহার নিয়ে, তাই আমাদেরও উচিত স্যান্টাকে কিছু খেতে দেয়া। স্যান্টা দুধ আর কুকী ছাড়া কিছু খায়না, তাই আমরা স্যান্টার জন্য দুধ আর কুকী রেখে দেবো”। ক্রিসমাসের আগের সন্ধ্যায় যথারীতি মিথীলার অপেক্ষা শুরু হয়ে গেলো, কখন স্যান্টা আসে, কখন স্যান্টা আসে! স্যান্টার জন্য দুধ আর কুকী সাজিয়ে রেখে মিথীলা ঘুমিয়ে পড়ে, ঘুম থেকে উঠে দেখে স্যান্টা গ্লাসের সবটুকু দুধ শেষ করেছে, প্লেটে সাজিয়ে রাখা সব কুকী শেষ করেছে, আর মিথীলার জন্যতো অনেক উপহার রেখে গেছে ক্রিসমাস ট্রীর নীচে। পাছে দিদিদের মন খারাপ হয়, তাই স্যান্টা ক্লজ দিদিদের জন্যও উপহার রেখে গেছে। মিথীলাতো খুব খুশী এমন এক বন্ধু পেয়ে। এই স্যান্টাকে ভালো না বেসে কি পারা যায়!

মিথীলার বয়স এখন বারো বছর, তিন বছর আগেও মিথীলা বিশ্বাস করতো যে স্যান্টা সত্যি সত্যি আসে। যদিও নয় বছরের কোন বাচ্চাই বিশ্বাস করেনা স্যান্টার অস্তিত্ব, তারপরেও আমি চেয়েছি যতদিন সম্ভব স্যান্টা ক্লজের মত এমন উদার বুড়ো বেঁচে থাকুক মিথীলার মনে। মিথীলাও স্কুল থেকে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করতো, কার কথা ঠিক, মায়ের কথা নাকি বন্ধুদের কথা। আমি বলতাম, “ কারো কথা ভাবতে হবেনা, তোমার যদি মনে হয় এমন এক বন্ধু পৃথিবীতে আছে, যিনি বছরে একবার তোমার জন্য উপহার নিয়ে আসবেই, তাহলে সেটাই সত্যি। কে জানে, হয়ত ঠিকই স্যান্টা আসে, তবে আসে আমাদের যে কারো রূপ ধরে। ভালো মানুষ যারা তারা সব সময় কারো না কারো রূপ ধরে আসে, তাদেরকে মিথ্যে ভাবতে নেই।“ এর পর থেকে মিথীলা এটা নিয়ে আর খোঁচাখুঁচি করেনা। প্রতি ক্রিসমাস ইভ এ নিয়মিত একগ্লাস দুধ ও প্লেট ভর্তি করে কুকী সাজিয়ে রেখে ঘুমাতে যায়, আর ও ঘুম থেকে জেগে উঠার আগেই স্যান্টা যথারীতি পরিবারের যেকোন একজনের রূপ ধরে সব খেয়ে সাবাড় করে দিয়ে ওর জন্য উপহার রেখে দিয়ে যায়।

স্যান্টা ক্লস সম্পর্কে সকলের মোটামুটি ধারনা হচ্ছে যে স্যান্টা ক্লস হচ্ছে খুবই মোটা-সোটা এক বুড়ো, মুখ ভর্তি সাদা দাড়ি-গোঁফ, যে কিনা টকটকে লাল রংযের কোট, লাল রংযের প্যান্ট, সাথে কোমরে চওড়া কালো বেল্ট, কালো বুটজুতা, মাথায় লাল টুপি পড়ে, পিঠে থাকে বিরাট এক ঝোলা যার মধ্যে থাকে বাচ্চাদের জন্য উপহার। স্যান্টা খুব কাইন্ড, বাচ্চাদের ভালোবাসে, তার কাছে গুড এন্ড নটি ছেলেমেয়েদের লিস্ট থাকে। ক্রিসমাস ইভ এ নর্থ পোল থেকে স্যান্টা ক্লস তার আটটি রেইন ডিয়ার নিয়ে আকাশে উড়ে উড়ে ভালো বাচ্চাদের বাড়ীর চিমনী দিয়ে ঘরে ঢুকে গিফট রেখে যায়। আর সব বাড়ীতেই দুধ আর কুকী খায় বলে স্যান্টা দেখতে এত মোটা। মিথীলার কাছেই শুনলাম যে স্যান্টা ম্যাজিক জানে বলেই এত মোটা শরীর নিয়েও চিমনী দিয়ে কিচেনে ঢুকতে পারে, তাছাড়া প্রচন্ড শীতে সকলের ঘরের দরজা জানালা বন্ধ থাকে বলেই স্যান্টাকে এভাবে মুখ খোলা চিমনী দিয়ে ঢুকতে হয়। আমার কাছে কি যে ভালো লাগে এমন সব গল্প শুনতে। তবে অনেকের সাথেই কথা বলে দেখেছি, ছোট বড় সকলেই স্যান্টা সম্পর্কে এর চেয়ে বেশী কিছু জানেওনা বা জানার আগ্রহও দেখায়না।

স্যান্টা ক্লজ সম্পর্কে ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, কয়েকশ বছর আগে সেইন্ট নিকোলাস নামের এক প্রিস্ট ছিলেন। শোনা যায় উনি খুবই দয়ালু ছিলেন। তাঁর জন্ম হয়েছিলো আধুনিক তুরস্কের নিকটবর্তী ‘পাতারা’ নামক কোন এক গ্রামে। কথিত আছে, সেইন্ট নিকোলাস উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্ত সম্পত্তি গরীব দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সেইন্ট নিকোলাস এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা, এক দেশ থেকে আরেক দেশ চষে বেড়াতেন, যেখানেই কাউকে দুঃস্থ দেখতেন অথবা কাউকে বিপদগ্রস্ত দেখতেন, তিনি সাহায্য করতেন। এক সময় সারা ইউরোপে তাঁর নামে জয় জয়কার শুরু হতে থাকে। সেইন্ট নিকোলাস পরিচিতি পেতে থাকেন বাচ্চাদের পরম বন্ধু ও সকলের দূর্দিনের সাথী হিসেবে। এভাবেই এক সময় সেইন্ট নিকোলাস সারা ইউরোপে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেইন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পান এবং তাঁর মৃত্যুর পরে ৬ই ডিসেম্বার তাঁর মৃত্যুদিনটি একটি শুভদিন হিসেবে পালিত হতে থাকে। তাঁর অনুসারীরা এই দিনটিকে সেইন্ট নিকোলাসের স্মরণে উদযাপন করতে শুরু করে।

আমেরিকান কালচারে সেইন্ট নিকোলাসের অন্তর্ভুক্তি হয় আঠার’শ শতকের শেষের দিকে, ১৭৭৩-১৭৭৪ এর দিকে। নিউ ইয়র্ক পত্রিকাতেই প্রথম প্রকাশিত হয় একদল ডাচ ফ্যামিলি সেইন্ট নিকোলাসের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে সমবেত হওয়ার কথা। প্রকাশিত হয় ‘স্যান্টা ক্লস’ নামকরনের ইতিহাস। স্যান্টা ক্লস নামটা এসেছে নিকোলাস এর ডাচ নাম সিন্টার ক্লাস থেকে। ১৮০৪ সনে নিউইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির সদস্য জন পিনটারড, সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলণীতে সেইন্ট নিকোলাসের ইমেজ সম্বলিত কাঠের তৈরী স্যুভেনীর সভায় উপস্থিত সকলকেই দিয়েছিলেন। আধুনিক স্যান্টার ফিচারের সাথে সেইন্ট নিকোলাসের সেই ইমেজের খুবই মিল ছিলো। ধীরে ধীরে সেইন্ট নিকোলাস থেকে স্যান্টা ক্লস নামেই সেই সেইন্ট আমেরিকান সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করেন। ১৮০৯ সালে বিখ্যাত লেখক ওয়াশিংটন আরভিং তাঁর লেখা বই ‘ নিউইয়র্কের ইতিহাস’-এ সিন্টার ক্লাসকে নিয়ে গল্প লেখেন, যা পরবর্তীতে ‘স্যান্টা ক্লস’ কে আমেরিকাতে পপুলার হতে সাহায্য করে।

১৮২২ সালে বিশপ ক্লিমেন্ট ক্লার্ক মুর তাঁর তিন কন্যার ঊদ্দেশ্যে একটি কবিতা লিখেন, ‘এ ভিসিট ফ্রম সেইন্ট নিকোলাস’ যেটাতে উনি বলতে চেয়েছেন যে প্রতি ক্রিসমাস ইভনিং-এ নর্থ পোল থেকে খুবই আমুদে এক বামন বুড়ো আসে লক্ষ্মী বাচ্চাদের জন্য ঝোলা ভর্তি উপহার নিয়ে। তার পরনে থাকে লাল ওভারকোট, লাল প্যান্ট, কালো বুট জুতা, কালো চওড়া বেল্ট থাকে কোমড়ে বাঁধা, মাথায় থাকে লাল টুপি, মুখভর্তি সাদা দাঁড়ি-গোঁফ, সাথে থাকে আটটি রেইন ডিয়ার, তাদের পিঠে চড়ে বুড়ো এসে বাড়ীর ছাদের চিমনী দিয়ে ঘরে ঢুকে বাচ্চাদের জন্য গিফট রেখে যায়। বুড়ো সব সময় হো হো হো করে হাসতেই থাকে। বুড়ো এতদূর থেকে আসে বলে তার ক্ষিদেও পেয়ে যায়, তাই তার জন্য দুধ আর কুকী রেখে দিতে হয়।

এভাবেই ঊনিশ শতকের গোড়ার দিকে ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে উপহার বিনিময় এক ধরনের সামাজিক প্রথাতে রূপান্তরিত হতে থাকে, বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য উপহার কেনা হয়ে উঠে একধরনের নির্মল আনন্দের রীতি বিশেষ। আর এই উপহার বিনিময় কালচারকে আমেরিকান সমাজে প্রতিষ্ঠা দিতে অবশ্যই ব্যবসায়ী শ্রেণীর ভূমিকাই ছিল প্রধান। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোন থেকেই স্যান্টা ক্লসকে একটা সিমবল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। স্যান্টা ক্লস মিথ সেই থেকেই শুরু। নানা রকম সম্ভব অসম্ভব স্টোরী তৈরী হতে থাকে। তখন থেকেই দোকানে দোকানে পুতুল স্যান্টা ক্লস সাজিয়ে রাখা হতো, পত্রিকাগুলোতে নানা বাহারী রঙ্গে এডভার্টাইজ করা হতো ক্রিসমাস শপিং এর জন্য। আর বর্তমানেতো কথাই নেই, নভেম্বারের থ্যাঙ্কস গিভিং ডে পার হওয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় ক্রিসমাসের সিজন। শপিং মলে, যে কোন স্টোরে বিশাল সাইজের ক্রিসমাস ট্রি, স্যান্টা ক্লস, রেইন ডিয়ার, নানা ডিজাইনের টুনি বাল্ব দিয়ে সাজানো থাকে এমনভাবে যে সকলের মনেই উৎসবের আমেজ চলে আসে। মানুষ নিজের বাড়ীঘরের সামনের আঙ্গিনায়, বাগানের ভেতরে- বাহিরে সর্বত্র আলোকোজ্জ্বল স্যান্টা ক্লসের পাপেট, রেইন ডিয়ার, স্লেজ গাড়ী, স্যান্টার ব্যবহারের লাঠি পর্যন্ত আলোকমালায় সাজিয়ে তোলে। দোকানে দোকানে বিক্রী হতে থাকে নানা ডিজাইনের কুকী, স্যান্টা ক্লসের লাল মোজা, স্যান্টার লাঠির আদলে তৈরী হয় ক্যান্ডি কেইন, চকোলেটের কত বাহার। আর থাকে নানা রকমের গিফট সামগ্রী। এমনও হয় যে হাসপাতালে বা বাড়ীতে কোন রুগী দেখতে গেলে তাদের জন্যও যেনো উপযুক্ত উপহার নেয়া যায়, তাই সুন্দর করে ফলের বাস্কেট সাজিয়েও বিক্রী করা হয়। বেশীর ভাগ উপহার সামগ্রীর রঙ লাল ও সবুজ মিশিয়ে করা থাকে (আমাদের বাংলাদেশের বিজয় দিবসের লাল সবুজের কথা মনে করিয়ে দেয়), আর থাকে স্যান্টার প্রতিকৃতি, উপহারগুলো একেবারেই সিজনাল করা হয়, যেনো এক উপলক্ষ্যে তৈরী জিনিস অন্য উপলক্ষ্যে ব্যবহার না করা যায়। একেই বলে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গী। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই আরেকটি গল্প চালু করে দেয়া হয়েছে বাচ্চাদের মাঝে, যেনো বাচ্চারা তাদের পছন্দের জিনিসের একটা লিস্ট তৈরী করে রেখে দেয় যাতে করে স্যান্টা ক্লসের বুঝতে সুবিধা হয়, কার কি প্রয়োজন, ওভাবেই তাহলে স্যান্টা উপহার নিয়ে আসতে পারবে। বাচ্চারাও কম যায়না, তাদের লিস্ট বড় হতেই থাকে, স্যান্টাই যখন দেবে তখন দামী দামী উপহার চাওয়াই ভালো। টিভিতে কত কিছুরই বিজ্ঞাপন দেখায়, তার থেকেই পছন্দমত জিনিস বাছাই করে লিস্টটা তৈরী করে রাখে। বাবা-মায়েরাও দেখি আহ্লাদে গদগদ হয়ে লিস্ট অনুযায়ী জিনিস কিনে ফেলে, খেয়ালও করেনা, আদৌ বাচ্চাদের জিনিসগুলো প্রয়োজন আছে কিনা।

২৫শে ডিসেম্বার ক্রিসমাস ডে হলেও ২৪শে ডিসেম্বার সন্ধ্যা থেকেই উৎসব শুরু হয়ে যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্রিসমাসের ছুটি শুরু হয় ১৫ দিন আগে থেকেই, অফিস ছুটি থাকে ২৪শে থেকে নিউ ইয়ার পর্যন্ত (কিছু ব্যতিক্রম আছে), সকল দোকান, শপিং সেন্টার, শপিং মল থেকে শুরু করে এমনকি ওয়ালমার্ট রিটেল স্টোর( বছরের ৩৬৪ দিন ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে) পর্যন্ত ২৪ তারিখ সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ২৫ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ থাকে। সারা আমেরিকা জুড়েই থাকে উৎসবের আমেজ। বাচ্চারা ২৪ তারিখ সন্ধ্যা থেকেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কখন স্যান্টা আসবে ‘হো হো হো’ করে হাসতে হাসতে। বাচ্চারা স্যান্টার জন্য দুধের গ্লাস, প্লেট ভর্তি কুকী সাজিয়ে রেখে অপেক্ষা করতে করতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, পরদিন সকালে উঠেই দৌড়ে ক্রিসমাস ট্রির নীচে যায়, গিয়ে দেখে স্যান্টা কখন যেনো এসে তাদের জন্য উপহার রেখে গেছে। বাচ্চারা তারপরে কিচেনে চলে যায় খোঁজ করতে, তাদের রেখে দেওয়া দুধ আর কুকী স্যান্টা খেয়েছে কিনা। তারা খুশীতে আটখানা হয়ে যায় যখন দেখে স্যান্টা ক্লজ তাদের রেখে দেওয়া দুধ ও কুকী সবটুকু খেয়েছে। তারা তখন আরেকবার মাথা নাড়িয়ে সিদ্ধান্ত দেয় যে পৃথিবীতে স্যান্টা ক্লজই হচ্ছে তাদের পরম বন্ধু।