ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

গত কয়েকদিন থেকেই খুব অসুস্থ বোধ করছিলাম। প্রচন্ড ব্যাক পেইন, বিশেষ করে ডানপাশে যেখান কিডনীর অবস্থান ঠিক সেখানটায়, দাঁড়িয়ে থেকে শান্তি নেই, বসে থেকে শান্তি নেই, কিনতু আর দশজন সাধারন বাঙ্গালী রমনীর মতই সব যন্ত্রনা দেহের সাথেই মানিয়ে নিচ্ছিলাম। কাজে যাই, বাড়ী ফিরি, কিনতু আগের মত শান্তি পাচ্ছিলামনা। ছুটির দিনটির জন্য অপেক্ষা করতাম, বাড়ীতে থেকে একটু আরামে থাকবো বলে।

এদেশে রিটেল স্টোরগুলোতে একমাত্র টি-ব্রেক বা লাঞ্চ ব্রেক ছাড়া বাকী কাজের সময়টুকু হাঁটা বা দাঁড়ানোর উপর থাকতে হয়, সবাইকে। আমি এতে খুশী, আমাকে আলাদা করে এক্সারসাইজ করতে হয়না। গত কয়েকদিন অনেক কষ্টই হচ্ছিল, আমাকে সবাই সর্বদা খুব হাসি-খুশী মুডে দেখে অভ্যস্ত, সেই তারাই যখন আমার মুখে মলিন ছায়া দেখল, আমাকে তারা আন্তরিকভাবে জিজ্ঞেস করলো আমার কোন কষ্ট হচ্ছে কিনা! আমি তাদের জানালাম আমার ব্যাক পেইন সম্পর্কে, তারা আমাকে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিল।

তাদের পরামর্শ তারা দিয়েছে, তারা একটু হাঁচি-কাশি হলেই ডাক্তারের কাছে যায়। রোগ সম্পর্কে তাদের খুব ভালো ধারনা আছে, কোন রোগে কি ওষুধ, সেটাও তাদের মুখস্থ। আমি যখনই টি-ব্রেক রুমে যাই, একটু মাঝবয়সীদের সবাইকেই দেখি, খাবার দাবারের বাক্সের সাথে ওষুধের এক বিরাট ব্যাগ নিয়ে বসে। কেউ কেউ আবার ব্লাড সুগার মাপার যন্ত্রপাতি নিয়েও বসে। ইনস্যুলিন নেওয়ার জন্য সিরিঞ্জ পর্যন্ত রেডী থাকে, নিজে নিজেই কি সুন্দর করে ইনস্যুলিন নিয়ে নেয়! সবাই খাওয়ার আগে বা পরে নিয়মমত ওষুধ খায়, আবার মন যা খেতে চায়, সেই খাবারটাই দিব্যি আরাম করে খায়। আমি দেখি আর অবাক হই, কত স্বাভাবিকভাবে এরা জীবনকে দেখে!

আমি অনেক কম বয়স থেকেই রোগ বা রোগের লক্ষ্মন সম্পর্কে যেখানে যত তথ্য দেখতাম, খুব মন দিয়ে পড়তাম। আমার ভালো লাগতো পড়তে, এক সময় আমার প্রতিবেশী ছিলেন এক ডাক্তার ভাবী। উনি ছিলেন চিকিৎসাশাস্ত্রের এক বিরাট জ্ঞান ভান্ডার। উনার কাছাকাছি থেকে আমার অনেক উপকার হয়েছে। উনি সবচেয়ে নিরাপদ চিকিৎসা পদ্ধতিতে বিশ্বাস করতেন। কথায় কথায় এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করাকে সমর্থন করতেননা। আমার এক সময় ইউরিন্যারী ট্র্যাক ইনফেকশান হয়েছিল এবং এটা ছিল আমার দ্বিতীয় প্রেগন্যান্সীর সময়। আরও বড় সমস্যা যেটা ছিল আমার জন্য, আমি পেনিসিলিন ও সালফার ড্রাগে এলার্জিক ছিলাম (এই রোগের ওষুধ)। ভাবীর কাছে যেতে উনি বললেন যে ‘ইউরিন্যারী ট্র্যাক ইনফেকশান’ হচ্ছে মেয়েদের জন্য খুবই কমন একটা শারীরিক সমস্যা। এটা বারবার হতে দিলে পরবর্তীতে কিডনীও আক্রান্ত হতে পারে। ঐ সময় উনি যা ওষুধ দেয়ার দিয়েছিলেন এবং বার বার এর আক্রমন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে কি কি করনীয় তা ভালভাবে বলে দিয়েছিলেন। আমি আজ পর্যন্ত উনার বিধি-নিষেধগুলো মেনে চলছি।

ভাবীর দেয়া বিধি মেনে ভালই ছিলাম, কিনতু হঠাৎ করেই আবার আক্রান্ত হলাম এই ব্যাধিতে। প্রথমদিকে কোমড় ব্যথা বা পিঠ ব্যথাকে পাত্তা না দেয়াতে আমার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখে আমার সহকর্মীরা আমাকে ক্র্যানবেরী জুস, ক্র্যানবেরী পিল (ক্র্যানবেরী হচ্ছে একটু তেতো ধরনের টক ফল, যাতে এন্টি অক্সিডেন্ট প্রচুর আছে) আর প্রচুর পরিমানে জল খেতে বললো। আমি তাদের কথা মেনে সব করতে লাগলাম আর প্রতিদিন প্ল্যান করতে লাগলাম ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে। আমার সকর্মীরাও অবাক হচ্ছিল ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে আমার গড়িমসি দেখে। আসলে আমি তাদের বুঝাতে পারছিলামনা ডাক্তারের কাছে আমি কেন যেতে চাইনা।

আমি আমার কাজের জায়গা থেকে হেলথ ইন্স্যুরেন্স পলিসি নিয়েছি। খুব কম করে যেনো প্রিমিয়াম কাটে তার জন্য আমি হাই ডিডাক্টেবল পলিসি নিয়েছি। আমি ডাক্তারের কাছে গেলে আমার যে বিল হবে তা সহজে ঐ ডিডাক্টেবল পলিসি পর্যন্ত পৌঁছাবেনা, তাই আমাকে পুরো টাকাটাই দিতে হবে, তার পরিমানও ৪০০ ডলারের কাছাকাছি চলে যাবে। আমার জন্য তা অনেক বড় পরিমানের টাকা। এখানে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ, তাদের অনেক সুবিধা আছে। তারা সরকার থেকে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ পায়, যা দিয়ে খাবার কেনে, বাচ্চার জন্য আলাদা এলাউন্স পায়, তারপর মেডিকেইড, মেডিকেয়ার নামে সরকারী সাহায্য পায় চিকিৎসার জন্যে। তাই তারা একটু হাঁচি হলেও ডাক্তারের কাছে দৌড়ায়। কিনতু আমার মত ‘না ঘরকা না ঘাটকা’ টাইপ মধ্যবিত্তের জন্য নিজের তল্পিটাই ভরসা। তাই আমি গায়ে মাখছিলামনা দেহের যন্ত্রনাকে, কিনতু ক্র্যানবেরী জুস আর জল, সমানে খেয়ে যাচ্ছিলাম, একসময় এমন হলো যে জল বা জুস যেটার দিকেই তাকাই, অনেকটা ‘জলাতঙ্কের’ মত হয়ে গেল। এর মধ্যেই আমি ডিসেম্বারের ৩১ তারিখ আমার স্বামীর জন্মদিনকে উপলক্ষ করে কিছু ছেলেমেয়েকে নিমন্ত্রন করেছিলাম, ওদের সাথে খুব ভালো সময় কাটালাম।

কিনতু আজ সকালে আমি ঘুম ভেঙ্গে বিছানা ছেড়ে উঠতেই পারছিলামনা, আমেরিকা থাকতে থাকতে আমেরিকানদের মতই মনে হয় একটু শক্তিশালী হয়ে উঠেছি, নাহলে যেখানে এম্বুল্যান্স ডাকতে পারলে ভালো হতো, সেখানে গাড়িতে করেই চলে গেলাম ‘ফ্যামিলি মেডিক্যাল সেন্টারে’। কিছুদিন আগেই আমার স্বামী এখানে এসে বাৎসরিক চেক-আপ করিয়ে গেছিলেন, বেশীক্ষন সময় লাগেনি, দুই ঘন্টার মধ্যে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়ে গেছিল। তাই আমিও সকাল ৯টায় এসে পৌঁছে দেখি আমার আগে চার-পাঁচজন রোগী অপেক্ষা করছে। এখানে তিনজন ডাক্তার আছেন। দুই বছর আগে আমি একবার এসেছিলাম একটা মেডিক্যাল চেক-আপের জন্য, যে ডাক্তারের কাছে, আজকেও তার কাছে এসেছি। আমার কোমড় ও তলপেটে এমন প্রচন্ড ব্যথা হচ্ছিল যে আমি চোখে মুখে অন্ধকার দেখছিলাম। রিসেপশনিস্ট মেয়েকে বললাম যে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, আমাকে জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে নেয়ার ব্যবস্থা করো, মেয়েটি বললো, ‘ আমরা সিরিয়াস বলতে একেবারে ট্রমাটাইজড( মুমূর্ষ অবস্থা) অবস্থাকে বুঝি, তোমাকে বসতে হবে’। হায় হায়! আমি কি ওখানে চিৎকার করতে পারি, কান্না করার শক্তিও ছিলনা। আমার স্বামী আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলেন, আমি নড়তে সাহস পাচ্ছিলামনা। সাথে করে জলের বোতল আনিনি, উঠে গিয়ে ওয়াটার ফাউন্টেন থেকে একটু একটু করে বরফ ঠান্ডা জল খাচ্ছিলাম। দুই একবার গিয়ে রিসেপশনিস্টকে তাড়া দিচ্ছিলাম, মেয়েটি শুরুতেই যদি আমাকে বলতো যে আজকে আসলে ছিল আগে থেকে এপয়েন্টমেন্ট করা রুগীদের জন্য নির্ধারিত, তাহলে হয়তো আমরা হাসপাতালেই যেতাম। দুই ঘন্টা পরে আমি যখন জানতে চাইলাম সমস্যা কোথায় হচ্ছে, তখন সে জানালো আজকে আগে দেখবে এপয়েন্টমেন্ট পাওয়া রুগী, তারপর আমার পালা।

দুই ঘন্টা বসে থাকার পর আমার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হলো, এবার আমি সরাসরি মেয়েটিকে গিয়ে বললাম, ‘আমাকে এখন রেস্টরুমে যেতেই হবে, কিনতু ডাক্তার যখন ডাকবে, তখন যদি ইউরিন এর স্যাম্পল চাও, আমি হয়ত দিতে পারবোনা।‘ মেয়েটা এবার খুব নরম হয়ে গেলো, সে সাথে সাথে ভেতরে গিয়ে নার্সকে ডেকে নিয়ে এলো, নার্স তখনি ইউরিন স্যাম্পল নিয়ে আবার আমাকে অপেক্ষায় রেখে চলে গেলো। মোট সাড়ে তিন ঘন্টা বসে থেকে ডাক্তারের ডাক পেলাম।

নার্স আগে আমার ওজন নিলো, উচ্চতা মাপলো এবং আমার মুখের চেহারাতে যন্ত্রনার ছাপ দেখেই আমাকে জানিয়ে দিলো যে ইউরিন টেস্টের রেজাল্টে প্রচুর ব্লাডসেল পাওয়া গেছে। আমি সাথে সাথে জানতে চাইলাম, তার মানে কি, কিডনী এফেক্টেড? তার উত্তরঃ খুব সম্ভবতঃ খুব সিভিয়ার ইনফেকশান। অপেক্ষা করতে থাকলাম ডাক্তারের জন্য, সুদর্শন ডাক্তার রুমে ঢুকেই বললো, ‘ কি করতে পারি তোমার জন্য’। আমি বললাম, ‘ তা তো আমি জানিনা তুমি কি করতে পারবে, তবে আমাকে বর্তমান যন্ত্রনা থেকে মুক্তির উপায় বলে দাও’। আমি সবসময় ডাক্তারের কাছে রোগের ডিটেইলস জানতে চাই, প্রতিরোধের পদ্ধতিগুলো জানতে চাই। দুই বছর আগে যখন এসেছিলাম, তখনও এই ডাক্তারকে মাথা খারাপ করে দিয়েছিলাম প্রশ্ন করে করে। সে ঠাট্টা করেই বলেছিল,’ তোমার মত সবাই যদি এত সচেতন হতো, তাহলেতো আমাদের রোজগার কমে যেত’। এবার আমি কিছুই বলিনি, কিনতু সে নিজের থেকে আমাকে সব বলে গেলো, কিভাবে হয়, কেনো হয়, কিভাবে এই ক্রনিক রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়, সবকিছু। পরে আবার যোগ করলো,’ সব বলে দিলাম, তুমি জিজ্ঞেস না করতেই। এবার বলো যদি আর কোন প্রশ্ন থাকে’। আমি হেসে বললাম, ‘ ডাক্তার, তোমার স্মরনশক্তি এত ভাল, তুমি দুই বছর আগে মাত্র একদিন আমাকে দেখেছিলে, আমাকে মনে রেখেছো, আমি সেবার এত প্যাঁচাল পেরেছি, এটাও ভুলোনি, আমার খুব ভালো লাগছে’।

ডাক্তার বললো যে আমার ইউরিনারী ট্র্যাক ইনফেকশান শুধু ট্র্যাকে না থেকে ডানপাশের কিডনীকে ঘায়েল করেছে, তাই ব্লাডেও ব্যাক্টেরিয়া পাওয়া গেছে, ইউরিনে ব্লাড পাওয়া গেছে, তবে ভালো লক্ষন হলো যে আমার গায়ে জ্বর ছিলোনা, তাই আমাকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে এখানেই একটা তাৎক্ষনিক ইনজেকশান দেওয়া হবে, হাই ডোজে এন্টিবায়োটিক দেয়া হবে, আর প্রচুর পরিমানে জল খাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে। ক্র্যানবেরী জুস বা কফি, এই অবস্থায় নিষিদ্ধ। ক্র্যানবেরী জুস ইনফেকশানের আগে খেলে ইনফেকশান হয়না, কিনতু একবার ইনফেকশান হলে ক্র্যানবেরী জুসে আরও ক্ষতি হয়।(কতকিছু যে শেখার আছে এই পৃথিবীতে)।আমার ব্লাড টেস্ট করার জন্য ব্লাড ড্র করার জন্য নার্স এলো, বামহাতে রাবারের ব্যান্ড বাঁধলো, তারপর থেকে ভেইন পাওয়ার জন্য কত রকমভাবে চেষ্টা করলো, ভেইন না পেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো যে আমি প্রায়ই ব্লাড দেই কিনা। আমি হেসে দিলাম, বললাম যে আমার শরীরে রক্ত কম, তাই রক্ত আসছেনা। আমার এই অবস্থাতেও কৌতুক করার চেষ্টা দেখে বাচ্চা সুন্দরী নার্স মেয়েটা একটু সহজ হলো। আমি তাকে বললাম যে, ‘আমার বাম হাতে ভেইন পেতে কষ্ট হয়, তুমি ডানহাতে দেখো। মেয়েটি বললো যে সে আগে চেষ্টা করে দেখবে। সে চেষ্টা শুরু করলো, সুঁই একবার এদিকে ঘুরায়, আরেকবার ওদিকে ঘুরায়, কখনও দেখি আরও গভীরে ঢুকিয়ে দেখছে ভেইন পাওয়া যায় কিনা। আমি বললাম,’ আমাকে কষ্ট দিওনা, তুমি আমার ডানহাতে দেখো’। সে এবার ডানহাতে ব্যান্ড বাঁধতেই আমি নিজে হাত চেপে ধরলাম (আমি নার্সিং পড়ার সময় এগুলো খুব ভালো শিখেছিলাম), এবার সে পারলো ব্লাড টানতে।

একটু পরেই আরেক নার্স এলো আরেক সিরিঞ্জ নিয়ে। সেই ইমিডিয়েট ইনজেকশান যা কিনা আমাকে এই মুহূর্তে নিতেই হবে। ব্যাক হিপে দিবে, আমি জানি যে সমস্ত ইঞ্জেকশান হিপে দেয়, সে সমস্ত ইঞ্জেকশানে অনেক যন্ত্রনা। আমি চুপ করে যন্ত্রনা সহ্য করলাম, ইনজেকশানের সাথে সাথে মনে হলো যেনো আমার সারা দেহে বিষ ঢুকছে। এবার আমাকে বলা হলো ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে, কোন রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় কিনা তা দেখার জন্য। কি ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে জিজ্ঞেস করতেই সে জানালো, শ্বাসকষ্টসহ আরও অনেকরকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে। ১৫ মিনিট পরে আমাকে বাড়ী যাওয়ার অনুমতি দেয়া হলো। বাড়ী এসেই আমি দিলাম এক ঘুম, ঘুম ভাঙ্গলো সন্ধ্যায়, ব্যথা টের পাচ্ছিলাম, তবে অনেক কম, এর মধ্যেই কোন একফাঁকে আমার বর ফার্মেসী থেকে এন্টিবায়োটিক কিনে এনে রেখেছে। তাও খেলাম, আগামী সাতদিন খেতে হবে, ইউরিন কালচারের রিপোর্ট আসবে, রিপোর্ট দেখে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তীতে কি করবে।

আমার কি যে অসহায় লাগছিল নিজেকে, সময়মত ডাক্তারের কাছে যাইনি বলে আজ আমার কি অবস্থা! দেশে থাকলে ওষুধের দোকানে গিয়ে ওষুধের নাম বলে ওষুধ কিনে আনতাম, সাতদিন খেতাম, ভালো হয়ে যেতাম। দেশেওতো মানুষ ডাক্তারের কাছে সহজে যেতে চায়না, প্রথম কথা, ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পায়না, দ্বিতীয়ত অনেক ভিজিট, তৃতীয়ত প্যাথলজিতে অনেক খরচ, চতুর্থত ওষুধের দাম এবং সর্বশেষে ভুল চিকিৎসার সম্ভাবনা। এটুকুই পার্থক্য দুই দেশের চিকিৎসাতে, এখানে চিকিৎসা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, চিকিৎসা ভুল হলে পরে রুগীর নিকটজনেরা ডাক্তার বা হাসপাতালের বিরূদ্ধে মামলা ঠুকে দেয়, ডাক্তার বা হাসপাতাল এই ভুলের জন্য জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মোটা টাকা আক্কেল সেলামী দিতে হয় বলেই ডাক্তারেরাও অনেক বেশী সচেতন থাকে।