ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ছাত্রলীগের কর্মকান্ড আবার খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে এসেছে। না, ভালো বা মহৎ কোন কাজ নয়, গেল সপ্তাহে ছিলো জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কর্তৃক এক নৃত্যশিল্পীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ, আর এই সপ্তাহের খবর হলো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের ছাত্র ‘জুবায়ের’কে ছাত্রলীগ নামধারী কিছু সন্ত্রাসীর পিটিয়ে মেরে ফেলার খবর! জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও এমন অনেক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এমন ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে, সব সরকারের আমলেই ঘটে, কিনতু আমার গায়ে এর আঁচড় লেগেছে, কারন আমি নিজে একজন প্রাক্তন ছাত্রী এই সুন্দর শান্ত শান্তি নিকেতনী স্টাইলের বিশ্ববিদ্যালয়টির। যদিও আমি প্রত্যক্ষ রাজনীতি কোনদিনই করিনি, তারপরেও আওয়ামী রাজনীতির প্রতি বরাবর দূর্বলতা ছিল, তাই যখনই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নামের সাথে সেঞ্চুরিয়ান মানিকের নাম আসে, অথবা এখন থেকে জুবায়ের হত্যার সাথে ছাত্রলীগ নামধারীদের নাম আসবে এটা ভাবতেই আমার কষ্ট মেশানো লজ্জা লাগছে।

আমার অনেক কাছের এক বন্ধু বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ্কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক। আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছি। যে কয়জন মিলে একটা বন্ধু সার্কেল ছিল আমাদের, এই বন্ধুটি সেই সার্কেলের একজন ছিল। সে এমনিতে সবসময় পড়াশুনা নিয়েই থাকত, শান্ত-শিষ্ট, খুবই ভদ্র বন্ধুটি রাজনীতির সাথে কখনও নিজেকে জড়ায়নি। সেই বন্ধুটিই হঠাৎ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে বেশ বিদ্রূপাত্মক ভাষাতে, যার মূলকথা হচ্ছে, আওয়ামীলীগ দেশে মৃত্যুর রাজত্ব কায়েম করেছে, মরতে যখন একদিন হবেই তখন কোন প্রতিবাদ না করে আওয়ামীলীগের হাতেই নিজের জীবন সঁপে দেওয়া ভাল। আমি তখনও জুবায়ের হত্যা সংবাদটি পাইনি, তাই আমার বন্ধুর এহেন স্ট্যটাস দেখে আওয়ামীলীগারদের মতই মনে মনে ভেবেছি, গৎবাঁধা আওয়ামীবিরোধী কথা বলছে আমার বন্ধু। কিনতু দুপুরেই অনলাইনে জুবায়ের হত্যার খবরটি পড়ে আমার নিজের বোধবুদ্ধি কিছুক্ষনের জন্য লোপ পেয়েছিল। মাত্র দুইদিন আগেই ৩৭তম ব্যাচের পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশান ডিপার্টমেন্টের এক ছাত্রের সাথে অনলাইনে কথা হচ্ছিল, মুরাদ নামের আরেকটি ছেলের মৃত্যু নিয়ে। (মুরাদের মৃত্যু নিয়েও নানারকম কথা চলছিলো, তখন তারই আরেক বন্ধু ব্লগে সবাইকে জানিয়েছে যে মুরাদের মৃত্যু সম্পূর্ণ দূর্ঘটনাজনিত, পা ফসকে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে।) তখনই জানলাম জাহাঙ্গীরনগরে এই পর্যন্ত ১০/১২ জন স্টুডেন্টের মৃত্যু হয়েছে, নানাভাবে। রাজনৈতিক, অসুখ, আত্মহত্যা, ড্রাগ অথবা পা ফস্কে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে (মুরাদ এই সেদিন এভাবেই মারা গেলো) মৃত্যু।

আমরা যখন ৮৩-৮৪র দিকে জাহাঙ্গীরনগরে প্রথম-দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলাম, তখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল প্রাকৃতিক শোভাতে সমৃদ্ধ। এরশাদ সরকার ছিল ক্ষমতায়, ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল নামে কারো অস্তিত্ব ছিল কিনা তা টের পাওয়া যেতোনা, এতটাই দূর্বল ছিল সবাই অথবা সরকারী দলের ছত্রচ্ছায়ায় ‘নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ’এর দাপটে চুপসে থাকতো। এডমিশান টেস্টের সময় দেখা যেতো, ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েরা ‘গাইড বুক’ বের করতো অথবা ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ছেলেমেয়েদের সাহায্য করাতেই সীমাবদ্ধ রাখতো তাদের কাজ। আমি নিজেও পেয়েছিলাম তাদের সাহায্য, ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে। আসলে সেনা শাসনের দাপটে ছাত্র রাজনীতি তখন তেমন জোরালোভাবে শুরু হওয়ার সুযোগ পায়নি। (এখন মনে হয়, সেটাই কি ভালো ছিলো!) যেইমাত্র নতুনবাংলা ছাত্রসমাজ তাদের গুটিকয়েক সদস্য নিয়ে ভার্সিটি ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে শুরু করলো, তখন থেকে ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্রইউনিয়নের ছেলেমেয়রা একটু আধটু করে নড়াচড়া শুরু করতে লাগলো। তা তেমন জো্রালো করবেই বা কি করে, মাঝে মাঝেইতো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করে ‘এরশাদ ভ্যাকেশান’ চালু হয়ে যেত। তবে যেটা লক্ষনীয়, জাহাঙ্গীরনগরে সরকারী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলের কারো মধ্যেই বর্তমানের হিংস্রতা ছিলনা। ‘নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ’ এর কিছু ছেলে হাতে ‘হকিস্টীক’ নিয়ে মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই টহল দিয়ে বেড়াতো। কোন একদিন শুনেছিলাম, কার হাতে নাকি ‘পিস্তল’ও দেখা গেছে। প্রথমদিকে ঐ পর্যন্তই। তখন এইসব গুন্ডামী পান্ডামীর বদলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বেশী চলতো। প্রতি বছর নবীনবরন অনুষ্ঠান, প্রতি হলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা, বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান লেগেই থাকত। থিয়েটার হতো, আর সাথে চলতো পড়ালেখা! তখন আমরা অধ্যাপকদেরকে খুবই ভয়ও পেতাম, সমীহও করতাম। এখনতো শুনি অধ্যাপকদের নাকের ডগা দিয়েই কত সহজেই কাটাকাটি, মারামারি, ধর্ষন, ছিনতাই এর মত ঘটনা ঘটছে।

আমি কি খুব বেশীদিন আগের কথা বলছি! মনে হয় যেনো এইতো সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো গেলেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রলীগে তখন যারাই ছিল,তারা ছিল খুবই মেধাবী, সংস্কৃতিমনা। প্রান্তিক’ নামে যে আড্ডা দেওয়ার জায়গা আছে, ঢাকা-আরিচা হাইওয়ের পাশে, তার কাছাকাছি জায়গাতেই ছোট্ট করে প্যান্ডেল খাটিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছিল প্রিয় নেত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য। যেহেতু আমার দূর্বলতা ছিল ছাত্রলীগের রাজনীতির প্রতি, তাই অনেক উৎসাহ নিয়ে গেছিলাম সেদিন নেত্রীকে দেখবো বলে। খুব সাধারনভাবে, সুন্দর রুচীসম্মতভাবেই করা হয়েছিল আয়োজন। নেত্রীও এসেছিলেন এমনভাবে, মনে হচ্ছিলো উনি নেত্রী নন, আমাদের বড়বোন। সেদিন নতুন বাংলার ছাত্ররাও ক্যাম্পাসেই ছিল, কোন অরাজকতা হয়নি। যতদিনে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হতে থাকে, ততদিনে আমি পাশ করে বেরিয়ে এসেছি।

তারপরতো নব্বই’এর অভ্যুত্থানের পরে এরশাদ সরকারের পতন ঘটলো, ছাত্র রাজনীতি চালু হয়ে গেলো বেশ জোরেশোরে। তখন থেকেই কি আসলে ছাত্রদের নৈতিক অবক্ষয়ের শুরু! পালা করে করে আওয়ামী লীগ বা বি এন পি ক্ষমতায় আসে, সাথে সাথে ক্ষমতা পেয়ে যায় তাদের নিজ দলের অংসংগঠনের নেতা পেতারা, নেতাদের গদি ঠিক রাখার জন্য টাকা পয়সা দেদারসে ছড়ানো হয়, ভাত ছড়ালে কাকের অভাব হয়না, তাই এই পয়সা লুফে নেওয়ার জন্য মানুষেরও অভাব হয়না। এভাবেই লোভ দেখিয়ে কোমলমতি ছেলেমেয়েদের মাথা নষ্ট করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে এত সহজে উপার্জনের পথ পেয়ে গিয়ে ছাত্রদের মাথাটাই এলোমেলো হয়ে যায়! নাহলে নিজের সহপাঠী বন্ধুকে কিভাবে খুন করতে পারে অথবা একা পেয়ে কিভাবেই বা একজন ছাত্রীকে ধর্ষন করতে পারে! শুধুই কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতার রাজনীতি অফিস-কাচারী, হাইকোর্ট, সুপ্রীমকোর্টেও ঢুকতে শুরু করে। মানুষ থেতলানোর জন্য নানা উপলক্ষ বের হয়ে যায়। তারমধ্যে হরতাল একটি। হরতাল একসময় ‘ভয়তাল’ হয়ে যায়। সেই যে শুরু হয়েছে , সেই থেকেই শুরু, এর শেষ হচ্ছেনা!

আসলে হচ্ছেটা কি দেশে! ক্রাইম এত বেশী বেড়ে গেছে যে প্রবাসে থেকেও দেশের জন্য দুশ্চিন্তা কমেনা। ইদানীং খারাপ খবর বেড়েই চলেছে। এ সমস্তই আওয়ামীলীগের জন্য মোটেও সুখবর নয়। গুপ্ত হত্যা, ছাত্রলীগে কোন্দল, আজ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ তো কাল আরেকটা, এছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ভারতের সাথে বাঁধ নিয়ে, ট্র্যানজিট চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিবাদের ফলে বর্তমান শাসকের জনপ্রিয়তা কমছে। নারায়নগঞ্জ, চিটাগাং, কুমিল্লা মেয়র নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। কিনতু এই ব্যাপারগুলো আমি বা আমরা বুঝলেও লাভ নেই, যাদের বুঝার তারাই বুঝতে পারছেনা।

অতি সম্প্রতি নরসিংদীর অত্যন্ত জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেন খুব হলেন, জনমনে ধারনা নিজের দলের লোকের হাতেই খুন হয়েছেন। যদিও তদন্তকাজ চলছে, তারপরেও লোকের কথা লোকে বলবেই, তারা সবকিছুতো আর না জেনে না বুঝে বলেনা। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মত এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক মিলে চেষ্টা করেছে তাদের আমন্ত্রনে আসা এক নৃত্যশিল্পীর শ্লীলতাহানীর! এদের মত কাপুরুষ, বিকৃত রুচীর পুরুষদের কারনেই এখনও বাংলাদেশে মেয়েরা স্বাধীনভাবে চলতে পারেনা! শুধুমাত্র এই জন্তুগুলোর ভয়ে অস্থির হয়ে বাবা মায়েরা তাদের বাচ্চা বাচ্চা মেয়েদের বাইরের পৃথিবী দেখার সুযোগ দিতে না পেরে বিমর্ষ বোধ করে। মনে প্রশ্ন জাগে, এইসব ‘বীরপুরুষেরা’ নিজেদের মা-বোনকে কি শ্রদ্ধা করে? যদি করেই, তাহলে অন্য মেয়েদের দেখলেই কেনো জিভে জল আসে, কেন মনে হয়না যে এরাও আমার মত আরেকজনের ঘরের মা বা বোন! মাননীয় সংসদ সদস্য( প্রাক্তন?) অপর্না সিংহ নামের এক সাংবাদিকের গায়ে হাত তুলেছে! সবাই কি একসাথে পাগল হয়ে গেলো!!

ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল বড় কথা নয়, এই সব ছেলেপেলে হচ্ছে ঘরে-বাইরে, সমাজে, যে কোন গোষ্ঠিতে উপদ্রবস্বরূপ, এরা দশের জন্য, দেশের জন্য কলঙ্ক, পাপ। এদের কোন দল নেই, এরা যে কোন সময় বিষফোঁড়ার মত বের হয়ে আসে। আজকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আছে বলে ছাত্রলীগের বর্ম গায়ে এঁটেছে, আবার যখন সরকার বদল হবে, এই গোষ্ঠীটাই দলে দলে ছাত্রলীগ ছেড়ে ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে গিয়ে ছাত্রদলে ঢুকবে বা জাতীয় পার্টিতে ঢুকবে। আওয়ামীলীগ যখন ক্ষমতায় এসেছে, একইরকমভাবে তখন আওয়ামীলীগে, ছাত্রলীগে যোগদানের হিড়িক পড়ে গেছিল। আমাদের দেশের রাজনীতি বা রাজনৈতিক নেতাদেরও বলিহারী যাই! জানা খেলা সব সময় খেলবে! আরে বাবা, যে লোকটা এই দুইদিন আগেও শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার গুষ্ঠী উদ্ধার করেছে, সেই এত তাড়াতাড়ি যখন ভোল পালটে ফেলতে পারে, তখন তাকে কোন বিশ্বাসে দলে ঠাঁই দেয়া হয়, তাদের মত মানুষ দলে না নিলে কি এমন ক্ষতি হয়ে যায় দলের! বরং প্রতিপক্ষকে দেখিয়ে দেখিয়ে দলে দলে লোক নিজদলে টেনে নিলে, বানের স্রোতের সাথে কত যে আবর্জনাও এসে ঢুকে পড়ে, তার হিসাব তখন তখন টের না পাওয়া গেলেও , তাদের অপকর্ম যখন শুরু হয়, তখন বুঝা যায় এভাবে দল ভারী করা মানেই খাল কেটে কুমীর নিয়ে আসার মত। এখন ঠেলা সামলাও! সারা দেশের মানুষ দেখছে যে ছাত্রলীগের ছেলেরা অরাজকতা সৃষ্টি করছে! দেশের মানুষের কি দায় পড়েছে ঘটনার গভীরে গিয়ে চিন্তা করার! তারা কেনো বিশ্বাস করতে যাবে যে ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে অন্য কেউ এগুলো করছে! নিজের জীবনের সমস্যা মিটাতে গিয়েই মাথার ঘায়ে কুত্তা পাগল অবস্থা যেখানে, সেখানে অত ভাবাভাবির মধ্যে না গিয়ে সরল চোখে যা দেখা যায় তাই মেনে নিচ্ছে সবাই। আর কোনভাবে প্রতিবাদ করার রাস্তা নেই বলে নির্বাচনের সময় দেখা যাবে ভোটের বাক্স শূন্য পড়ে আছে।

রাশ টেনে ধরতে হবে, এখনই। কাগজেই পড়লাম, জোবায়েরকে যারা হত্যা করলো, তাদেরকে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এক বছর আবার কি, এদেরকে সারা জীবনের জন্য বহিষ্কার করে দেওয়া উচিৎ এবং তা এখনই। আর কোথাও না হোক, অন্তঃত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কার্যক্রম বন্ধ করা হোক, অনেক হয়েছে রাজনীতি। আমাদের সময় আমরা রাজনীতি করার সুযোগ পাইনি, তাতে কি হয়েছে, যখন প্রয়োজন হয়েছে বন্যা, দূর্যোগ মোকাবেলা থেকে শুরু করে নব্বইয়ের আন্দোলন সফল করা পর্যন্ত, সব সময় ছাত্রদেরকে পাশে পাওয়া গেছে। তাই এখন সরকারের উচিৎ হবে, যেখানেই ছাত্র নামধারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যাবে, সেখানেই ছাত্র সঙ্গঠনের কার্যক্রম স্থগিত করে দিতে হবে।

দেশের মানুষের প্রয়োজন হবে আর দুই বছর পরেই, পরবর্তী নির্বাচনের সময়। যদিও প্রতিটি বিষয় নিয়ে মাথা ঘামানো সরকারের পক্ষে সম্ভব না, তারপরেও বিশ্বস্ত কারো উপর দায়িত্ব দেয়া হোক , যাতে করে যেখানেই ক্যাঁচাল দেখবে, অন্ততঃ সেখানেই যেনো ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়া হয়। আরেকটি কথা, ছাত্রলীগের নামে কোন অভিযোগ উঠলেই যেন দল থেকে সাফাই গাওয়া না হয়। ছাত্রদল অতীতে ভুল করেছে বলে ছাত্রলীগকেও অপকর্ম করতে হবে এমন খোঁড়া যুক্তি দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ছাত্রলীগের সোনালী অতীত আছে, গর্ব করার মত ঐতিহ্য আছে, অতীতের ডাকসাইটে নেতাদের মধ্যে অনেকেই বেঁচে আছেন। হাতে সময় নেই, সঠিক মানুষের হাতে দায়িত্ব এখনই অর্পন করতে হবে, ছাত্র রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে, তাহলেই দেশের মানুষ দেখবে, সরকার তার সাধ্যমত যতটুকু করার তা করতে চেষ্টা করেছে। কথায় বলে, “দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল”। তাই হোক না কেন, কয়েকটা অপোগন্ডের জন্য কেনো পুরো দলের গায়ে কালিমা লাগাতে হবে! বিষফোঁড়া কেটে বাদ দিয়ে দেয়াই ভালো। এতে করে হবে নিজের কল্যান, দশের কল্যান, সামগ্রিকভাবে দেশের কল্যান!