ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

হাঁটি হাঁটি পা পা করে এই ব্লগে ৫০ টি লেখা পোস্ট করে ফেলেছি! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিনা। কখন লিখলাম এত কিছু হাবিজাবি! আগে কোনদিন লিখিনি, তাই বুঝতেও পারিনি যে কোন লেখকের কাছে তার লেখাটি সন্তানতুল্য। আর আমার লেখা আমার কাছে ‘কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন’ তুল্য। ব্লগ কি, ব্লগে কিভাবে নাম রেজিষ্ট্রেশান করতে হয়, তার কিছুই জানতামনা। আমি তারুণ্যকে ভালোবাসি, তাই আমার তরুণ বন্ধুদের সহযোগীতায় এক সময় ব্লগে ঢুকার পথ খুঁজে পেলাম। কিনতু আমি পথে নেমেই দিশেহারা হয়ে গেছিলাম। পথের সঠিক নিশানা না বুঝেই কতবার উলটাপালটা করে ফেলেছি। এই ব্লগে যে গল্প ছাপা হয়না , সেটাও বুঝতে পারিনি। না বুঝেই একবার একটি গল্প পোস্ট করতে চেষ্টা করেছি, ব্লগ টিম আমাকে আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। বেশ অনেকদিন আমার মনে ছিল এই ব্যাপারটা, কিনতু চোরা না শুনে ধর্মের কাহিণী’র মতই হয়েছে আমার অবস্থা। আমি আবারও আরেকটি লেখা তৈরী করেছিলাম, তবে লেখার ধরনটি ছিল গল্পের স্টাইলে। লেখাটি খুবই দ্রুত পোস্ট হতে দেখে খুব খুশী হয়েছিলাম। কিনতু পোস্ট হওয়ার দুই ঘন্টার মধ্যেই লেখাটি আবার ডিলিট করে দেয়া হলো ব্লগ থেকে। খুব একটা মানসিক ধাক্কা খেয়েছিলাম। মনে পড়ছে, খুব কেঁদেছিলাম সেদিন। আর ঠিক তখনই আবিষ্কার করলাম, হাবিজাবি হোক অথবা খুব উঁচুমানের হোক, আমার লেখা আমার কাছে সন্তান তুল্য। সন্তানের কষ্ট যেমন মায়ের বুকে বাজে, তেমনি করেই সেদিন আমার বুকে খুব বেজেছিল যেদিন ‘গল্পাকারে” হওয়াতে এত সুন্দর একটি লেখার অপমৃত্যু হয়েছিল।

দুইদিন থম ধরে ছিলাম, তারপরেই মনে হলো আমার লেখা যদি হয় আমার সন্তান, তাহলে এই বাংলা ব্লগ হচ্ছে আমার সন্তানের জন্য পাঠশালা। এই পাঠশালাতে থাকতে থাকতেই আমার পরবর্তী আদরের লেখা গুলো নিশ্চয়ই আরও সুগঠিত হবে, আরও সুখপাঠ্য হবে। তাই পাঠশালা থেকে মুখ না ফিরিয়ে রেখে ফিরে এলাম পাঠকের পাঠশালে, আর এভাবেই করে ফেললাম লেখার ‘হাফ সেঞ্চুরী’!!!!!!!!
আমার লেখার হাফ সেঞ্চুরীতে এই ব্লগের প্রতিটি সদস্য ও প্রতিটি পাঠক বন্ধুকে জানাই আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। সকলের মঙ্গল কামনা করছি।