ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

দুইদিন আগেই আমি কাজ থেকে বাড়ী ফিরেছি, আমার ছোট মেয়ে আমাকে জানালো যে তার পাপা বাইরে গিয়েছিল, বাড়ী ফেরার সময় অনেকগুলো কলা কিনে নিয়ে এসেছে। কলাগুলো দেখতে নাকি ‘চম্পা কলা’র মত। মেয়ের বাবাও দেখি খুব গর্বের সাথে বলে চলেছে, আমেরিকাতে বসে চিনি চাঁপা কলা ( আমি বলি চম্পা কলা) খাওয়া, এতো আর চাট্টিখানি কথা নয়! তর সইতে না পেরে মেয়ে দৌড়ে কলার কাঁদি আমার কাছে নিয়ে আসলো। আমি দেখলাম দেখতে চিনিচাঁপা কলার সাইজ, তবে ওগুলো চিনিচাঁপা কলা নয়। কারণ আমি চিনিচাঁপা কলা খুব ভালো চিনি, কলার গন্ধে সারা বাড়ী ম ম করার কথা। অথচ কলাগুলোতে কোন গন্ধই নেই। এই কলাগুলো মেক্সিকো থেকে আসে, মেক্সিকো থেকে আরও আসে আম, কাঁচাকলা। আমগুলোও দেখতে বেশ বড় বড়, দেখতে অনেকটাই আমাদের দেশের সিঁদুরে আমের মত রঙ, অথচ আমেও কোন গন্ধ নেই। কাঁচা আম কিনে এনে আমের চাটনী রান্না করি, চাটনি খেতে যতই ভালো হোক না কেনো, বুঝার কোন উপায় থাকেনা, চাটনীটা কিসের, আমের নাকি অন্য কিছুর! মেক্সিকো থেকে আরেক জাতের আম আসে এখানে, হলুদ টকটকে দেখতে, অনেকটাই আমাদের দেশের চোষা আমের মত। গন্ধহীন আমগুলো কিনে নিয়ে আসি, ভাবি তবুওতো আম। মেয়েটাকে দেশের আবহের সাথে একটু সড়গড় করে রাখা আর কি!

আসলে একেবারে ছোট্ট অবস্থাতেই মেয়েটা আমার আমেরিকাতে চলে এসেছে। আমেরিকাতে এসে যেখানেই গিয়েছি, ওকে সাথে করে নিয়ে যেতে হয়েছে। বাজারে, হাটে , ঘাটে মাঠে সর্বত্র। সে শুধু আমেরিকার বিশালতার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে শিখেছে। ফলে আমেরিকার মিসিসিপির মত জায়গায় চাঁপাকলা দেখে সে সত্যিকারের অবাক হয়েছে। আসলে এদেশটা যেমন বিশাল বড়, দেশের মানুষজন থেকে শুরু করে গাছপালা , মাঠ প্রান্তর, গরু ঘোড়া, কুকুর বিড়াল, হাঁস মুরগী সবই বিরাট সাইজের। এমনকি হাটে বাজারে গেলে আলু পেঁয়াজ, মাছ, কাঁচামরিচ, ফলমূল সব বড় বড়। দেশের বিশালতা টের পাওয়া যায় গাড়ি করে কোথাও বেড়াতে গেলে। হাইওয়ের দুই পাশে খোলা প্রান্তরের শেষ মাথা দেখা যায়না। প্রান্তর জুড়ে হয় ফসল ফলে আছে নাহয় আবাদী জমি এমনি পড়ে আছে।

সত্যি কথা বলতে কি, যখন আমেরিকা এসেছি, নিউইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে নেমেই আমার দুইচোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। আমি ছিলাম কুয়ার ব্যাং, পড়েছি অথৈ সমুদ্রে। বাংলা নাটকে আগে দেখতাম, নায়িকা বা নায়ক গ্রাম থেকে শহরে এসে খাবি খায়, আমিও তেমনি করেই খাবি খাচ্ছিলাম। আমার আশে পাশে সাদা সাহেব, কালো সাহেব (কালোদের কেন জানি সাহেব বলতে ইচ্ছে করেনা, কেনো করেনা জানিনা)দের বিশাল শরীর দেখে ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম। একেকটা আ্মেরিকানের পাশে আমার প্রায় ছয় ফিট লম্বা স্বামীকেও আর লম্বা মনে হচ্ছিলো না। আমার কথাতো বাদ দিলাম, এই প্রথম নিজেকে লিলিপুট মনে হচ্ছিলো। আর এয়ারপোর্টের বিশাল এরিয়ার কথা কি বলবো, এক টার্মিনাল থেকে আরেক টার্মিনালে যেতে ট্রেনে চাপতে হয়। অবশ্য এয়ারপোর্টের এক টার্মিনাল থেকে আরেক টার্মিনালে যেতে ট্রেন লাগে, এটা আমার প্রথম অভিজ্ঞতা ছিলো। টার্মিনালের গেইট দিয়ে বের হওয়ার পথে গেইটের পাশেই দাঁড়িয়েছিল এক কালো লোক, এমন লম্বা লোকও আমি এই প্রথম দেখলাম, সাত ফিটের কম হবেনা। গত দশ বছরে আমেরিকার অনেক জায়গাতে ঘুরেছি, কিনতু সাধারণ বাঙ্গালীর হাইটওয়ালা ছেলে বা মেয়ে (আমেরিকান) যে কয়জন দেখেছি, হাতে গোনা যায়। এবার বলি এদের দেহের আয়তনের কথা। ‘ওবিস’ শব্দটির সাথে আমি পরিচিত হয়েছি আমেরিকার দক্ষিনী রাজ্য মিসিসিপিতে এসে। এর আগে নানা জায়গায় ঘুরেছি, দুই চারজন বিশালদেহী মানুষ দেখেছি, বিশাল বলতে আমি দেহের স্থূলতা (সোজা বাংলায় মোটা)কে বুঝাতে চেয়েছি। মানুষ এমন মোটা হতে পারে তা আমেরিকাতে আসার আগে আমার ধারণা ছিলনা। আর মিসিসিপিতো ‘ওবিসিটি’ (মোটা মানুষ) র‌্যাঙ্কিং-এ সবার উপরে, এখানে প্রতিদিন আমি দেখি মোটা মানুষের বাহার। একেক মহিলা বা পুরুষ এমনই মোটা হয় যে তারা ঠিকমত হাঁটতেও পারেনা।

আবার খেলার মাঠে যাও, দেখবে একেকজন খেলোয়ারের চেহারা। টিভি স্ক্রীণেই এদের এত বিশাল লম্বা দেখা যায়, সামনা সামনি হলে আমার মত লিলিপুটকে মই বেয়ে উঠতে হবে, তাদের সাথে কথা বলতে হলে। টিভির কথা বলতেই টিভি স্ক্রীন সাইজের কথা মনে পড়লো। পঞ্চান্ন ইঞ্চি স্ক্রীণের টিভি, টিভির সাইজ দেখবো নাকি টিভি দেখবো! টিভি বিশাল সাইজের, রাস্তায় গাড়ী বিশাল সাইজের, আর ট্রাকের কথা যদি ধরা যায়, আঠারো চাকার উপরে চলা ট্রাকের সাইজ কি হতে পারে, তা না দেখে শুধু অনুমানের উপর বলা যাবেনা।

এখানে মানুষই শুধু বিশাল আকৃতির নয়, মানুষের পোষাক-আশাকের সাইজগুলোও এক্সট্রা লার্জ, ডাবল এক্সট্রা লার্জ মাপের হয়ে থাকে, সাথে জুতার সাইজ দেখলেতো মনে হয় রূপকথার রাক্ষস-ক্ষোক্কস, দৈত্য দানোদের জন্য বানানো জুতা।। আগেই বলেছি, আমার স্বামী প্রায় ছয় ফিট লম্বা, সে এখানের লার্জ সাইজের শার্ট পড়ে, আর যারা এক্সেল অথবা ‘ডাবল এক্সেল’ সাইজের শার্ট পড়ে, বা ডাবল সাইজের প্যান্ট পড়ে, তাদের আয়তন কেমন হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখানে পশু পাখী, ফলমূল, সব্জীগুলোও বিশাল সাইজের হয়ে থাকে। এইজন্যই মনে হয় গ্রোসারী শপগুলো অনেকটা জায়গা নিয়ে বানানো হয়ে থাকে। শপের ভেতরে অনেকগুলো ‘আইল’ থাকে, একেক ক্যাটাগরী আইটেমের জন্য একেকটা আইল নির্দিষ্ট করা থাকে। যেমন ফ্রোজেন ফুড, ফ্রোজেন মাছ, মাংস, প্রতিটি জিনিস সুন্দর করে সাজানো থাকে ফ্রোজেন আইলে। প্রোডিউস আইলে থাকে সব্জী, ফলমূল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ নানা যাবতীয় রান্নার উপকরণ।

আমি প্রথমবার রীতিমত থতমত খেয়েছিলাম ফ্রোজেন মুরগীর আইলে গিয়ে। মুরগী নানাভাবে প্যাকেট করা আছে। গোটা মুরগী, মুরগীর থাই, মুরগীর ঠ্যাং, বোনলেস চিকেন ব্রেস্ট, মুরগীর গিলা-কলিজা থেকে শুরু করে আরও নানা স্টাইলে মুরগী প্যাকেট করা হয়। একটা প্যাকেট পাওয়া যায় দশ পাউন্ডের ‘লেগ কোয়ার্টার’ নামে। লেগ কোয়ার্টার হচ্ছে মুরগীর সম্পূর্ণ পা (থাই+ ঠ্যাং) । এই পাগুলো দেখতে একটা মানুষের বাচ্চার পায়ের সাইজ হয়ে থাকে। আর মুরগীর চেয়েও বড় যে পাখী টার্কী, সেই টার্কীর শুধু ঠ্যাংটাই মানুষের বাচ্চার পা এর চেয়েও বড় হয়ে থাকে।

সব্জীর আইলে গেলে দেখা যায়, কালচে কালো চকচকে বেগুন, ইয়া বড় বড় বেগুনগুলোকে দেখলে ‘গফরগাঁও এর বেগুনের’ কথা মনে পড়ে। গফরগাঁওএর বেগুনকে আমরা সবচেয়ে বড় ও উৎকৃষ্ট মানের বেগুন বলেই জানতাম। কিনতু আমেরিকার বেগুনের কাছে আমাদের গফরগাঁওয়ের বেগুন ফেল। বেগুনের সাইজ গফরগাঁও এর বেগুনের চেয়েও তিনগুন বড় হবে। এইজন্যই মনে হয় বেগুনকে এখানে ‘এগপ্ল্যান্ট’ বলে ( মানে কি দাঁড়ায়, ডিমের গাছ!!)। ডেইকন নামে যা পাওয়া যায়, তা আসলে আমাদের দেশের সাদা মূলা। এই মূলাগুলো বাচ্চাদের ক্রিকেট খেলার ব্যাটের চেয়েও লম্বা হয়ে থাকে। মিষ্টি কুমড়া কত বড় হতে পারে! আমাদের দেশে চাল রাখতে বা কখনও কখনও জল ধরে রাখতে ‘মাটির জালা বা মটকা’ ব্যবহার করা হয়। সেই মটকাগুলোর সাইজ সম্পর্কে যাদের ধারণা আছে, তারাই শুধু বুঝতে পারবে ‘মটকা’ সাইজের কুমড়া দেখতে কেমন হতে পারে। এবার বলি বাঁধাকপির কথা, বাঁধাকপিগুলো হয়ে থাকে ভাত রান্নার হাঁড়ির সাইজ, ফুলকপিও তথৈবচ। টমেটো নানা সাইজের হয়, তবে সবচেয়ে বড় সাইজের টমেটো দেখতে ছয়মাস বয়সী বাচ্চার মাথার সমান বললে অত্যুক্তি হবেনা। শসা কিনবে সালাদ করার জন্যে, দুই থেকে তিনটি শসাই যথেষ্ট জনা কুড়ি মানুষের জন্য সালাদ বানাতে হলে। আলুরতো হরেক রকম আছে। সবচেয়ে বড় আলুটির দৈর্ঘ্য এক বিঘতের চেয়েও বড়। ‘রাসেট পটেটো’ নামের আলুর একটা দিয়েই তিনজন মানুষের জন্য ‘আলুভর্তা’ বানানো যাবে।

কাঁচাকলাও পাওয়া যায় এখানে। কাঁচাগুলোর রঙ সবুজ না হয়ে কিছুটা বাদামী হয়, অনেক বড় বড় কাঁচকলাগুলোর একটাই দোষ, সেদ্ধ হয়না। বাঙ্গালী রান্নায় কাঁচকলার কত সমাদর, অথচ এই কাঁচকলাগুলো আসলেই বাঙ্গালদেরকে ‘কাঁচকলা’ দেখিয়েই চলেছে। আরও অনেক সব্জীই আছে, তবে আমি শুধু আমার প্রিয় সব্জীগুলোর কথাই লিখলাম। বাকী যেগুলো আছে, সেগুলির সাথেও বড় ঘরানার কাহিণী জড়িত। তবে আসল কথা হচ্ছে, একমাত্র বেগুন ছাড়া আর একটা সব্জীও খেতে দেশী সব্জীর মতো অত সুস্বাদু না। বাঁধাকপি ফুলকপিতো আমি খুব ভালোবাসি বলে খাই, নাহলে সত্যি কথা বলতে গেলে এগুলো সবগুলো মাকাল ফল, দেখতেই সুন্দর, আসলে একেবারেই স্বাদ-গন্ধহীন।
এবার পেঁয়াজ রসুনের কথা বলে ফেলি। পেঁয়াজ সাদা হয়, বাদামী হয়, গাঢ় বেগুনী রঙের হয়, বিরাট বড় আকৃতির পেঁয়াজে কিনতু কোন ঝাঁঝ নেই। রসুন দেখতে অনেক বড়, তবে দেশের এককোয়া রসুন অথবা হাজার কোয়া রসুনের মত দেখতে নয়। বড় বড় রসুনের গন্ধ আমাদের দেশের রসুনের মত অত তীব্র নয়। শুঁটকী রান্না করতে যে আসল উপকরণ রসুন আর পেঁয়াজ, যেগুলোর ঝাঁঝে শুটকী খেতে ভালো হবে, সেই রসুন পেঁয়াজে যদি ঝাঁঝ না থাকে, তাহলে বাঙ্গালের কেমন লাগে! আদাগুলো দেখার মত। এই জিনিসটা আসলেই আমাদের দেশের আদার তুলনায় অনেক বেশী ভালো। দেখতেও অনেক সতেজ ও বড়। দেশী আদার মত শুটকা বা ছোট না। আদায় ঝাঁঝও আছে। কাঁচামরিচ নানা নামে পাওয়া যায়, পটলের সাইজের মরিচ ‘হ্যালাপিনো’ নামে পাওয়া যায়, আরও পাওয়া যায়, সেরিনো,(ইয়া লম্বা) দুটোই ঝাল , তবে আমাদের ধানী লঙ্কার মত ঝাল নয়। বেনানা পেপার নামে আরেক জাতের মরিচ পাওয়া যায়, যার সাইজ কলার মত (এই জন্যই নাম বেনানা পেপার)।

তবে এখানের ফলমূল খুব সুস্বাদের হয় সাধারণতঃ। তবে একমাত্র যে ফলটির কথা দিয়ে আমার লেখাটি শুরু করেছিলাম, সেই ‘কলা’ এবং আম হচ্ছে ব্যতিক্রম। আমাদের দেশে কলার কত রকম আছে। সাগরকলা, সবরী কলা, কবরী কলা, চিনিচাঁপা কলা, মর্তমান কলা, বীচিকলাসহ আরও কত ধরনের নাম হয়ে থাকে। আর এখানে কলা পাওয়া যায় একজাতের, সাগর কলার চেয়েও অনেক বড়, গন্ধবাসহীন, তেমন মিষ্টিওনা খেতে। ব্যস, প্রতিদিন স্কুলের টিফিনে এই ফালতু স্বাদের একটা ফল খেতেই ময় আমার মেয়েকে, তাই চাঁপা কলার মত কলা দেখে সে খুশী হয়েছিল। দেশে গেলে আমার মেয়ে প্রতিদিন সবরী কলা খায়, কারন সবরী কলা নাকি খেতে ওর কাছে খুবই ভালো লাগে।

আমের কথা আর কি বলবো! ফলের রাজা আম, দেশে আমের কত নাম। নাম কি একটা দুইটা যে বলে কুলাতে পারবো এখানে! হিমসাগর, ক্ষীরভোগ, ফজলী, গোপালভোগ আরো কত নাম যে আছে! আর এখানে দেশী ফজলী আমের সাইজের আম পাওয়া ্গেলেও সেগুলোর কোনটিতে আঁশ থাকে, কোনটি পানসে হয়, আবার দুই একটা মিষ্টিও হয়, তবে এত বড় বড় আম এখন আর আমাকে টানেনা। তবে তরমুজ খেতে খুব ভালো হয়। যেমন বড় তেমনই মিষ্টি। তরমুজ একটা কিনে নিয়ে আসলে এক অর্ধেক খাওয়া হয়, বাকী অর্ধেক ফেলা যায়। এতো বড় তরমুজ দুই হাতে তুলেই ধরা যায়না, এটাকে কাটা যেমন কঠিন, খেয়ে শেষ করা তার চেয়েও কঠিন। পেঁপের কথা বলি, ক্যারাবিয়ান পেঁপে বলে যে পেঁপে পাওয়া যায় তার ভেতরটা গাঢ় কমলা রঙের হয়, খেতে খুব মিষ্টি হয়ে থাকে। কিনতু পেঁপেও বিরাট বড় হয়। আপেল, কমলা, বাতাবীলেবু(জাম্বুরা), বেদানা পাওয়া যায় অঢেল, তবে আমাদের দেশী ফলের সাইজের তুলনায় অনেক বেশী বড়।

এতো বড় দেশ, এতো বিশালদেহী মানুষজন চারিদিকে, এতো বিশাল সাইজের বাড়ীঘর, মাঠ প্রান্তরে, আমি মানুষটা একেবারেই ছোট্ট, যেনো গালিভারের সেই লিলিপুট আমি। তবে গালিভার কি লিলিপুটদের হৃদয় কত বড় ছিলো, তা জানতে পেরেছিলো? অনেক আগে পড়েছিলাম, এখন আমার আর সেইসব মনে নেই। কিনতু আমি লিলিপুট সাইজের হলেও এই বিশালের দেশে নিজের একটা বিশালত্ব ঠিক টের পাই, হৃদয়ের বিশালতা। আগে আমার হৃদয় কতটা প্রসারিত ছিল জানিনা, তবে এই বিশালের দেশের অনেক মানুষের হৃদয়টাও বিশাল। তাঁদের সংস্পর্শে এসে আমার হৃদয়টাতেও বিশালতার ছোঁয়া লেগেছে, অনুভব করতে পারি।