ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

মৌটুসী আমেরিকার মেডিক্যাল স্কুল থেকে এই বছরের মে মাসেই তার চার বছরের পড়া শেষ করে রেসিডেন্সি শুরু করবে। মৌটুসী আমাদের বড় মেয়ে। যখন আমেরিকাতে এসেছিলাম, মৌটুসীর বয়স ছিলো চৌদ্দ বছর। আমেরিকাতে এসে সে হাই স্কুলে ক্লাস টেনে ভর্তি হয়েছিল। এদেশে হাই স্কুল শেষ হয় বার ক্লাস শেষ করার পর। আমাদের দেশের মত করে এখানে এস,এস সি বা এইচ এস সি পরীক্ষা দিতে হয়না। সাধারনতঃ স্কুলের সব ছেলে মেয়েই বিনা বাধায় স্কুল গ্র্যাজুয়েশন করতে পারে। আসল বাধাটা আসে কলেজে ঢুকার সময়। কলেজে প্রবেশ করতে গেলে প্রত্যেকটি ছাত্র ছাত্রীকে ‘এসিটি’ বা ‘স্যাট’ নামের স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষা সাধারনতঃ ইংলিশ, অংক, রিডিং ও সায়েন্স এই চারটি বিষয়ের উপর হয়ে থাকে। এসিটি (আমেরিকান কলেজ টেস্ট)র স্কোর ১-৩৬ স্কেলে নির্ধারিত হয়। কলেজ বা ভার্সিটিতে ভর্তি হতে গেলে এসিটির স্কোর, স্কুলে নবম শ্রেণী থেকে বার ক্লাস পর্যন্ত প্রাপ্ত গ্রেড, এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভিটিসহ সব কিছুর মিলিত স্কোর লাগে। স্বাভাবিকভাবেই খুব ভালো কলেজে ভর্তি হতে গেলে অথবা স্কলারশীপ পেতে গেলে ওভারঅল স্কোর খুব হাই হতে হয়। আমাদের এশিয়ান ছেলেমেয়েরা সাধারনতঃ হাই স্কোর করে থাকে। আমাদের মৌটুসীও এর ব্যতিক্রম ছিলনা। ও মেয়ে আগাগোড়া ফুল স্কলারশীপ নিয়েই পড়ে এসেছে।

আমাদের পরিবারে শিক্ষক পেশার আধিপত্য খুব বেশী। আমার মা, মাসী, দাদা, ভাই, স্বামী সকলেই শিক্ষক এবং আমি নিজেও এই পেশায় ছিলাম। দেশের বাবা মায়েরা সাধারনতঃ সন্তানকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দেখতে চায়, বিয়ের যুগ্যি মেয়ের বাবা-মা মেয়েকে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে পাত্রস্থ করতে চায়। এটাই যুগ যুগ ধরে চলে এসেছে। আমাদের তিনটি মেয়েকে নিয়ে আমরা কিছুই ভাবিনি। আমেরিকা আসার বছরখানেক আগে আমাকে যেতে হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আমার হাতের বুড়ো আঙ্গুলে ছোট্ট টিউমার মত হয়েছিল, তা অপসারণ করা জরুরী হয়ে পড়েছিল। ক্লিনিকে যাইনি অনেক টাকা লেগে যাবে বলে, নিজেই মাতব্বরি করে গিয়েছিলাম বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সাত সকালে গিয়ে আঙ্গুলের সেই ছোট্ট টিউমার অপারেশান করে বাসায় ফিরেছিলাম সন্ধ্যা সাতটায়। আমি কিনতু সাধারণ রুগী হিসেবে যাইনি, গিয়েছিলাম দেশের নামকরা ঔষধ কোম্পানীর ডাক্তারের রেফারেন্স নিয়ে। তাতেই আমার লেগেছিলো বারো ঘন্টা। আর সাধারণ রুগীদের মত গেলে কি হতো কে জানে! হয়তো আবার পরের দিন যেতে হতো। তা সারাদিন হাসপাতালে অপেক্ষা করার এক পর্যায়ে আমার স্বামী কথা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “আমাদের তিন মেয়ের মধ্যে একজনও যদি ডাক্তার হতে পারে, তাহলে আমাদের পরিবারের জন্য অনেক ভালো হবে। ফ্যামিলিতে একজন ডাক্তার থাকা খুব দরকার”। আমার মেয়েরা তখন অনেক ছোট। তবু তাদের বাবার করা মন্তব্যটি আমি তাদের কাছে পেশ করেছিলাম। একমাত্র মৌটুসী এটা মনে রেখেছে এবং সেভাবেই নিজেকে তৈরী করতে চেয়েছে।

আমেরিকাতে ডাক্তারী পড়া খুবই কষ্টের এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। আমাদের দেশে এইচএসসি পাশ করেই মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হয় ছেলেমেয়েরা। কিনতু এখানে বার ক্লাসে স্কুল গ্র্যাজুয়েশান শেষ করে চার বছরের জন্য কলেজে আন্ডারগ্র্যাড করতে হয়। এই চার বছর শেষ করার পরে যার মাস্টার্স বা পিএইচডি করার ইচ্ছা সে ইউনিভারসিটিতে (গ্র্যাড স্কুল) ভর্তি হয়, আর যার ডাক্তারী পড়ার ইচ্ছে, তাকে কলেজে চার বছর প্রিমেড পড়ে ‘এমক্যাট’ নামের ডাক্তারীর স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষায় ১-৪৫ স্কেলে স্কোর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষার স্কোর হাতে আসলে পরে, চার বছরের আন্ডারগ্র্যাড (প্রিমেড) স্কোর, ‘এমক্যাট স্কোর’ ও এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটির সনদসহ মেডিক্যাল স্কুলগুলোতে এপ্লাই করতে হয়। মেডিক্যাল স্কুল থেকে যাচাই বাছাইকৃত আবেদনকারীদেরকেই শুধু ইন্টারভিউতে ডাকা হয়। ইন্টারভিউতে যারা ভালো করে, তাদের থেকেই মেডিক্যাল স্কুলের নির্ধারিত আসনের ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়।

মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরবর্তী চার বছর কঠিন চাপে থেকে পড়তে পড়তে ছাত্রছাত্রীদেরকে দিশেহারা হয়ে যেতে হয়। চার বছরে প্রায় প্রতি মাসে সবাইকে রেগুলার পরীক্ষা দিতে হয়, বাৎসরিক পরীক্ষা দিতে হয়। পাশ ও ফেলের ব্যাপারও থাকে। তারপর এই চার বছরের তৃতীয় বছরে ‘ইউএসএমএলই’ নামের ডাক্তারী সার্টিফিকেট পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষা দুই পার্ট হয়ে থাকে। থার্ড ইয়ারে এক পার্ট, ফাইনাল ইয়ারে আরেক পার্ট দিতে হয়। ইউএসএমএলই পরীক্ষা হয়ে থাকে একটানা আটঘন্টা ব্যাপী। এক পার্ট পাশ করার পরে ফাইনাল ইয়ারে এসে আরেক পার্ট পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয় সবাইকে। চার বছর শেষ করে ইন্টার্নশীপ করতে হয় তিন বছর। ইন্টার্ণশীপ পাওয়ার জন্যও এপ্লাই করতে হয় নানা মেডিক্যাল স্কুলে। যে সকল স্কুল থেকে ইন্টারভিউ এর জন্য ডাক আসে, সেখানে গিয়ে ইন্টারভিউ দিয়ে আসতে হয় নিজ খরচে গিয়ে। প্রত্যেককে একটা প্রেফারেন্স লিস্ট বানাতে হয় (তাকে বলে ম্যাচিং লিস্ট) এবং তা সংশ্লিস্ট স্থানে জমা দিতে হয়। ইন্টারভিউ শেষে সকলেই কিছুদিন অপেক্ষা করে ম্যাচিং রেজাল্টের জন্য। একজন ছাত্র যেভাবে তার ম্যাচিং লিস্ট সাজাবে, যে স্কুলগুলোকে সে লিস্টে রাখবে, সেই স্কুল থেকেও একটি লিস্ট পাঠানো হয়ে থাকে। যদি ছাত্রের পছন্দের স্কুলের সাথে, সেই স্কুলের পছন্দের ক্যান্ডিডেটটি মিলে যায়, তাহলে সেই ছাত্রটিকে ঐ স্কুলেই তিন বছরের জন্য রেসিডেন্সী করতে হবে। রেসিডেন্সী করার সুযোগও অনেকে সময়মত পায়না, যদি কোন কারণে ‘ম্যাচিং’ না হয়। একবার না পেলে আবার চেষ্টা করতে হয়। মোটকথা রেসিডেন্সীতে ‘ম্যাচিং’ হচ্ছে এক বিরাট ব্যাপার। তাছাড়া রেসিডেন্সীতে চান্স পেয়েও অনেকে তা হারায়। আমাদের পরিচিত এক তরুন বাংলাদেশী ডাক্তার রেসিডেন্সী করাকালীন তার মিসবিহেভিয়ারের জন্য রেসিডেন্সী বাতিল হয়ে গেছিল। আরেক বাংলাদেশী ডাক্তারের কথা শুনেছি, গত দশ বছর ধরে চেষ্টা করার পরেও এখনও কোথাও রেসিডেন্সী করার সুযোগ পায়নি। তিন বছর রেসিডেন্সী করা মানেই একজন নবীন ডাক্তার হিসেবে চাকুরী করা। আমাদের মৌটুসী সবগুলো ধাপ পেরিয়ে এসে এখন রেসিডেন্সী ধাপে এসে থেমেছে। আগামী তিন বছর রেসিডেন্সী করার পরে মৌটুসী প্র্যাকটিস করতে পারবে, মানে প্রেসক্রীপশান লেখার অধিকার অর্জন করবে। এখানেই শেষ নয়, এরপর থেকে প্রত্যেককে প্রতি বছর ডাক্তারী লাইসেন্স নবায়ন পরীক্ষা দিতে হয়।

এত কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে পাশ করার পরেও এদেশে ডাক্তার হয়েও শান্তি নেই। ডাক্তারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হয়। এখানে ডাক্তারদের বার্ষিক রোজগার যেমন অনেক বেশী, আবার চিকিৎসা বিভ্রাট ঘটলে রোগীরা আইনের আশ্রয় নিলে (স্যু করে দেয়া), ডাক্তারের বারোটা বেজে যায়। রোগী বা তার পরিবারকে অনেক সময় কয়েক লাখ ডলার ভর্তুকী দিতে হয়। ফলে প্রতিটি ডাক্তারকেই এখানে সব সময় তটস্থ থাকতে হয়। এখানে রোগীদের ক্ষমতা বেশী, স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষমতা শিক্ষকের চেয়েও বেশী। এখানে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র শিক্ষকেরা তটস্থ থাকে, কারন যে কোন সময় ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের বিরূদ্ধে নালিশ ঠুকে দেয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের বরাবর। যাই হোক, এত কঠিন পরীক্ষার ভেতর দিয়ে আসতে গিয়ে একজন ডাক্তার অনেক কিছুই শিখে ফেলে। প্রতি বছর তাকে লাইসেন্স নবায়ন পরীক্ষা দিতে হয় বলে, তাকে রেগুলার পড়াশুনা করতে হয়। কোন রকম দায়সারা গোছের চিকিৎসা দিয়ে যদি রোগীর ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে তাকে যে মোটা অংকের ডলার মাশুল গুনতে হয়, সেই ভয়েও কেউ দায়সারা গোছের চিকিৎসা করার সাহস পায়না।

আমেরিকার ডাক্তারী পড়া সম্পর্কে বলতে গেলে আরও অনেক কিছুই বলা যায়, কিনতু সার সংক্ষেপ বলতে গেলেও এর ইতিহাস শেষ হবেনা। এতগুলো কথা লিখলাম শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিচার করে। কিছুদিন আগে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ডঃ মিজানুর রহমান ডাক্তারদের সম্পর্কে দুই চারটি মন্তব্য করেছেন, যা ডাক্তার সম্প্রদায়কে আহত করেছে। ডঃ মিজান অবশ্য কয়েকদিন পরেই আবার পত্রিকাতে বিবৃতি দিয়ে উনার মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমি ডঃ রহমানের এমন আধুনিক মানসিকতার জন্য সাধুবাদ জানাই। সাধুবাদ জানাই কারন, সাধারনতঃ আমাদের বাঙ্গালীদের মধ্যে ভুল করলে তার জন্য ‘দুঃখ প্রকাশের’ মত সততা দেখা যায়না। মানুষ মাত্রেই ভুল করতে পারে, কিনতু ভুল করাটা বড় কথা নয়, ভুল স্বীকার না করার মত একগুঁয়েমী অথবা ভুল স্বীকার করার মত উদারতা, সেটাই হচ্ছে বড় কথা। ডঃ মিজানুর রহমান সাহেব বাংলাদেশের ডাক্তার সম্প্রদায়কে ‘গরীবের রক্তচোষা’ বলেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ডাক্তার সমাজের জন্য এটা মোটেও সুখকর কিছু নয়। তবে এটা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। বাংলাদেশে অনেকেরই ডাক্তারদের সম্পর্কে যেমন ভালো অভিজ্ঞতা আছে, তেমনি অধিকাংশেরই তিক্ততম অভিজ্ঞতাও আছে এবং প্রতিদিনই প্রায় প্রত্যেকেরই তিক্ত অভিজ্ঞতা হচ্ছে।

ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের ডাক্তার সম্পর্কে আমার ধারনায় ভালোর পাল্লাটাই ভারী, কিন্তু খারাপের পাল্লাটাও একেবারে হালকা নয়। আমার পরিবারে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় কারো কারো চরম ক্ষতি হয়ে গেছে, আবার কেউ কেউ নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। এমতাবস্থায় ডঃ রহমানের ‘গরীবের রক্তচোষা’ উপমা শুনে আমার একদিকে যেমন খারাপ লেগেছে, আবার শব্দ দুটির মধ্যে এক বিরাট বেদনাদায়ক সত্যি লুকিয়ে আছে। তবে এই ধরনের শব্দ আমরা সাধারণ মানুষেরা ব্যবহার করলে কোন ক্ষতি বৃদ্ধি হতোনা, তাছাড়া আমরা ভুক্তভোগীরা এর চেয়েও অনেক বেশী আপত্তিকর শব্দ নিত্যদিন ব্যবহার করে চলেছি। কিনতু মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের পদে থেকে এমন মন্তব্য কখনও কাম্য নয়, যেখানে ডাক্তাররাও মানুষ এবং তাদেরও মানবাধিকার চাওয়ার অধিকার আছে।

বাংলাদেশের বাস্তবতার সাথে আমেরিকার বাস্তবতার তুলনা করা ঠিক না। আমাদের দেশে মেধা আছে আমেরিকার তুলনায় অনেক বেশী, কিনতু এত জনসংখ্যার চাপে কোন কিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলেনা, নিয়ম থাকলেও নিয়ম মানা হয়না। আমেরিকার সামাজিক কাঠামোতে সরকার থেকে শুরু করে জনগন, সকলেই নিয়মের ভেতর দিয়ে চলে। এই আমরাই যারা দেশে থাকতে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করিনা, তারাও আমেরিকা এসে দিব্বি নিয়ম মেনে চলি। আমাদের দেশেও মেধাবী ছেলেমেয়েরাই ডাক্তারী পড়তে যায়। তবে আমাদের সামাজিক কাঠামোটাই এমন যে শুধু ডাক্তাররাই নয়, শিক্ষকদের মধ্যেও অনেকেরই নীতির বালাই নেই, উকিল, ব্যারিস্টার থেকে শুরু করে নানা শ্রেণীর দালাল, দূর্নীতিবাজ, রাজনীতিবিদসহ অনেকের মধ্যেই নীতির বালাই থাকেনা বা নেই। তবে সকলেইতো আর একরকম নয়। কত মহৎ হৃদয় ডাক্তার, শিক্ষক, উকিল, ব্যারিস্টার রয়ে গেছেন, আমাদের দেশটিতে, যাঁরা নীরবেই তাঁদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সবাইকে। সেই সকল মহতপ্রাণ ব্যক্তিদের জন্য ‘রক্তচোষা’ ‘অমানুষ’ জাতীয় শব্দ খুবই আপত্তিকর। আর তাই মানবাধিকার কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান সাহেব উনার ভুল বুঝতে পেরে ডাক্তারদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আর এতে করে উনি আরও একধাপ উঁচুতেই উঠেছেন, সকলের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপণ করেছেন, যেনো কেউ ভুল করেও যদি ভুল করে ফেলে, সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলে পরে ভুলটি তখন আর তেতো থাকেনা, মিষ্টি হয়ে যায়।