ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

এই প্রবাসে সকাল থেকে সন্ধ্যা, উদয়াস্ত পরিশ্রম, জীবনের অনুভূতিগুলোকে ভোঁতা করে দিচ্ছে। স্বপ্ন দেখতেও ভুলে যাচ্ছি। কারন স্বপ্ন দেখার সময় পাইনা। মানুষ যখন গভীর ঘুমে থাকে, তখন নাকি স্বপ্ন দেখেনা। আমি যখনই ঘুমাই, গভীর ঘুমে ডুবে যাই। কেননা সারাদিন অনেক পরিশ্রম করি, যখন কর্মস্থলে থাকি, সেখানেও সারাদিন বকবক করতে হয়, ফোন সার্ভিসের চাকুরীটাই যে এমন। কাজ শেষে বাড়ী ফিরে আসি, পরিবারের সদস্যদের দিকে একটু নজর দেই, তারপরেই বসে যাই কম্পিউটারে। অনলাইনে পত্রিকা পড়ি, পত্রিকাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী নেত্রীর ছবি দেখি, তাদের গরম গরম বক্তব্য পড়ি। সাহিত্য পাতা পড়ি, কলাম লেখকদের কলাম পড়ি, বিনোদন বিচিত্রাও পড়ি, রান্নাঘরের সংবাদগুলোও পড়ি। সব পড়া শেষ করে মাঝরাতে বিছানায় ঢলে পড়ি। নিদ্রাদেবী অনেক আগেই দু’চোখ জুড়ে বসে থাকে, বিছানায় শরীর এলিয়ে দেয়ার সাথে সাথেই আমাকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করে দিয়ে নিদ্রাদেবী বসে পাহারা দিতে থাকেন, যেনো স্বপ্ন দেবী কোনভাবেই আমাকে নানা স্বপ্ন দেখিয়ে বিভ্রান্ত না করতে পারে। এই জন্যই আমি ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখিনা।

আমার চাকুরীতে শনি বা রবি ছুটি থাকেনা। সপ্তাহের অন্য দুই দিন ছুটি থাকে। শনি রবি উইকএন্ড হওয়াতে ফোন সার্ভিস নিতে গ্রাহকের ভীড় থাকে বলেই আমাদেরকে মাসে দুই একটি শনি রবি ছুটি দেয়া হয়, তাও সেটা আবার পালা করে। তাই কেউ কোন প্রোগ্রাম করতে চাইলে, তিন সপ্তাহ আগেই আমাকে জানিয়ে দেয়, আমি এডভান্স ছুটি নিয়ে রাখি। গত সপ্তাহের শনিবার আমার ছুটি ছিল, বন্ধুবান্ধবের সাথে মাঝরাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়েছি, ভুলেই গিয়েছিলাম পরদিন রবিবার সকাল দশটাতেই আমাকে কাজে যেতে হবে। ঘড়ির এলার্ম বেজেছে, কিনতু আমি টের পাইনি। আমাকে জাগিয়ে দিতেই আমি হঠাৎ করে বাচ্চা মেয়েদের মত কান্না শুরু করলাম, কাজে যাবোনা বলে। তারপরেও চাকুরী বলে কথা, কেঁদেও লাভ নেই। কত আর সিক কল দেয়া যায়, তাই তাড়াতাড়ি রেডী হয়েই অভ্যাসমত একটু অনলাইনে ঢুঁ মারলাম। অনলাইনে ব্লগে ঢুকেই এক ব্লগারের লেখাতে শফিক রেহমানের নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের খবর ছবিসহ পড়লাম। তাড়াহুড়ো ছিল, তাই ছবিটি ভালো করে দেখা হয়নি।

কাজে গিয়ে মন খারাপ করে ছিলাম। আমার সহকর্মী রয় শেফার্ড আমাকে প্রায়ই মন খারাপ করতে দেখে অভ্যস্ত। তাই রয় অন্যদিনের মতই প্রশ্ন করলো, দেশের জন্য মন কাঁদছে কিনা। আমি এবার একেবারে নতুন কথা বললাম, বললাম যে দেশের জন্য নয়, এই ফালতু একটা জীবনের জন্য মন খারাপ। বললাম, উইকএন্ডে প্রেসিডেন্ট এর বউ নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে, আর আমি কিনা এখানে বসে আছি! রয় বললো, ” এই জীবনটা যদি কোন জাদুকর এসে পালটে দিতে চায়, তুমি কেমন জীবন চাইবে?” দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, ” আমিতো আর রাজকন্যা নই, তাই কোন জাদুকর আসবেনা আমার কাছে। তবে আমাদের ধর্মে পরজন্ম বলে একটা বিশ্বাস আছে। আমি নিজে পরজন্মে খুব একটা আস্থা রাখতে পারছিনা, তারপরেও যদি সত্যি সত্যি পরজন্ম বলে কিছু থাকে, ঈশ্বর যদি আমাকে সুযোগ দেন, আমি তাহলে বলবো, পরজন্মে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (অবশ্যই মহিলা) হতে চাই।”

স্বাভাবিকভাবেই রয় জানতে চাইলো, ” বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কেনো, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট কেনো নয়, অথবা আমেরিকার ফার্স্ট লেডী হলেই বা ক্ষতি কি?”
আমার উত্তর, ” আমেরিকাতে থেকেইতো আমার এই অবস্থা, তাই পরজন্মে আর আমেরিকা নয়। তাছাড়া আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে গেলে আমাকে পুরুষ হয়ে জন্মাতে হবে। এখানে কোন মহিলাকে প্রেসিডেন্ট বানানো হয়না। কিনতু পরজন্মেও আমি মেয়ে হয়েই জন্মাতে চাই, তবে আমেরিকার ফার্স্ট লেডী হতে চাইনা, বর্তমান ফার্স্ট লেডী স্মার্ট হলেও দেখতে সুন্দর না, আগের ফার্স্ট লেডী ছিল বয়স্ক ও কেমন যেনো সরল সোজা, তাছাড়া তার প্রেসিডেন্ট বর ছিল দুনিয়ার সবচেয়ে বোকা আর যুদ্ধবাজ, এমন স্বামীর বউ হতে চাইনা। হ্যাঁ হিলারী ক্লিনটনের মত হতে চাইতাম, যদি শেষ মুহূর্তে ক্লিনটন মনিকার সাথে লটর পটর না করতো। হিলারী যতই স্মার্ট, সুন্দরী হোক না কেনো, একটা জায়গাতে গিয়ে আমাদের বাঙ্গালী মেয়েদের মতই অসহায়। মান সম্মান রাখতে গিয়ে মনিকার সাথে স্বামীর এমন অনৈতিক কাজের পরেও মুখ বুজে থাকতে হয়েছে তাকে। কাজেই মেয়ে হয়েই যখন জন্মাতে চাই, তাহলে বাংলাদেশেই জন্মাতে চাই এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই।”

এরপর রয়কে একটু বিশদভাবে বুঝিয়ে বললাম কেনো আমার এই চাওয়া, ” রয় তুমিতো জানো আমাদের দেশে দুইজন মাত্র মহিলা পালা করে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। কেউই কিনতু গায়ের জোরে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না! মানুষ ভোট দিয়ে তাদেরকে প্রধান মন্ত্রী বানাচ্ছে। যদিও আমেরিকার মত বাংলাদেশেও এখনও কোন মহিলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হননি, তারপরেও বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদটি একেবারেই নাম-কা-ওয়াস্তে একটি চেয়ার। তেমন প্রেসিডেন্টের বউ হলেও লাভ নেই। হ্যাঁ, ছিলো একসময় লাভ, এরশাদ যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখনকার ফার্স্ট লেডীর বেশ রমরমা সময় ছিল। তিনিও দেখতে সুন্দরী ছিলেননা, মানুষজন তাকে পছন্দ করতোনা, তারপরেও স্বামীর বলে বলীয়ান হয়ে উনি অনেক দাপট দেখিয়েছেন। কিনতু একটা জায়গাতে গিয়ে তাঁকেও হিলারীর মতই মাশুল গুনতে হয়েছে। তবে হিলারী যেহেতু নিজেই অনেক বেশী স্মার্ট আর উচ্চ শিক্ষিতা, তাই ফার্স্ট লেডী পদটি ছেড়েও উনি নিজের গুনেই পাদপ্রদীপের নীচেই আছেন। প্রেসিডেন্ট হলে হতেও পারতেন। কিনতু আমাদের সেই ফার্স্ট লেডী স্বামীর ক্ষমতা চলে যাওয়ার সাথে সাথেই লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন, হিলারীর মত সুন্দরী, স্মার্ট হলে হয়তবা এখনও দাপটের জায়গাটি ধরে রাখতে পারতেন। যেমনটি পেরেছেন আমাদের আরেক ফার্স্ট লেডী। এই ফার্স্ট লেডী অবশ্য ফার্স্ট লেডী থাকাকালীন সময়ে লোক চক্ষুর অন্তরালেই থাকতেন। মানুষজন বলে যে তার প্রেসিডেন্ট স্বামী তাকে বেশী বাইরে আনতোনা। স্বামীর মৃত্যুর পরে তার দলের লোকেরা তাঁকেই দলের নেত্রী বানিয়েছে। পরবর্তীতে জনগনের ভোটে উনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

এই প্রধানমন্ত্রী খুবই সুন্দরী ছিলেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অনেকে অনেক প্রশ্ন তুলেছে, কিনতু সে সকল প্রশ্ন তাঁর রূপের তাপে ভস্ম হয়ে গেছে। উনি যে বছর প্রধানমন্ত্রী হলেন, সে বছরই বাংলাদেশের বিখ্যাত বুদ্ধিজীবি ফরহাদ মাজহার ‘গরীব গ্রহের সবচেয়ে সুন্দরী প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে সাপ্তাহিক বিচিত্রাতেই মনে হয় একটি লেখা লিখেছিলেন। বিখ্যাত ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যেহেতু সুন্দরী নারীদের প্রতি উনার একটু দূর্বলতা আছে,তাই সুন্দরী নারী হিসেবে খালেদা জিয়াকেই ভোটটি দিতে চান।’ এতো গেলো একদিক, প্রধানমন্ত্রী হয়েই কি উনাদের অনেক কাজ করতে হয়! না, কাজ যাঁরা করেন, তারা কখনও বেলা সাড়ে এগারোটায় ঘুম থেকে উঠতে পারেননা! বেলা এগারোটায় দিনের প্রধান অংশটি চলে যায়। তাহলে কিভাবে দেশ চলছে! অন্য কেউ চালাচ্ছে, অথবা আদৌ দেশ চলছে নিজের মত করে। প্রধানমন্ত্রী হয়েও ইনাদের কোন কাজই করতে হয়না। কথিত আছে, প্রাক্তন সুন্দরী প্রধানমন্ত্রী নাকি বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ঘুমান, তারপরে উনাকে সাজানোর জন্য মেকাপম্যান বা মেকাপ উয়োম্যান রেডি থাকে, উনার শাড়ী আসে ফ্রান্স থেকে, উনি এমনিতেই সুন্দর, এর উপর আরও চড়া মেকাপ দিয়ে বাড়তি সৌন্দর্য্য যোগ করা হয়। সেজেগুজে উনি যখন জনসভার মঞ্চে উঠেন, উনার পায়ের নীচেই টপাটপ করে বসে পড়েন এককালের সব তুখোর রাজনৈতিক নেতা, আমলা, বুদ্ধিজীবির দল।

উনাকে বক্তৃতা দিতেও কোন পড়াশুনা করতে হয়না। অন্যের লিখে দেয়া বক্তব্য উনি মাঝে মাঝেই শুধু আঙ্গুল উঁচিয়ে উঁচিয়ে পড়ে যান। উনি এখন বিরোধী দলে আছেন, তারপরেও উনার স্তাবকের সংখ্যা কমেনি। অনেক সময় অযথা প্রশংসা করা হয় উনার সম্পর্কে। উনাকে মিতভাষীনি বলা হয়, একবারও বলা হয়না যে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে বিরোধী দলের এক সাংসদকে ‘চুপ বেয়াদব’ বলে বকা দিয়েছিলেন। দেশের প্রয়োজনেও উনি মুখ খোলেননা, এমনই মিতভাষী উনি, তবে নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যখন গরম গরম বক্তৃতা দেন, সেটা নিয়ে কেউ সমালোচনা করেনা, সৌন্দর্য্যের এমনই মহিমা। এককালের ডাকসাইটে বুদ্ধিজীবি উনার উপর দুই তিনটি বই লিখে ফেলেছেন। গত রবিবার উনাকে দিয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করিয়েছেন, হাতে লাল গোলাপ তুলে দিয়েছেন। পত্রিকার ছবিতে দেখে মনে হয়েছে বই লেখকের মুখ থেকে আহ্লাদে গদগদ হাসি ঠিকরে বের হচ্ছে। সে ভালো করেই জানে, তার লেখা এই বই তাকেই পড়ে শোনাতে হবে। নাহলে বইটি যেমন দিয়েছেন, তেমনিই থেকে যাবে। কারন যাকে বইটি দেয়া হলো, তার যদি পড়ালেখার প্রতি বিশেষ উৎসাহ থাকতো, তাহলে যেমন করেই হোক স্কুল ফাইন্যাল পরীক্ষাটা পাশ করতে পারতো। আবার ভাবি স্কুল ফাইন্যাল পাশ করেনি বলেতো কিছু আটকে থাকেনি, আমি নিজেতো ডিগ্রীর পর ডিগ্রী অর্জন করেছি, লাভটা কি হয়েছে, রবিবারের সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে যাবোনা বলে কান্নাকাটি করছি।

বাংলাদেশের আরেক মহিলা নেত্রী, যাঁকে তাঁর পিতার মৃত্যুর পরে দলের লোকেরা নেত্রীর মর্য্যাদা দিয়েছে, সেই নেত্রীও পালা করেই ভোটে জিতে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী হয়েছেন। উনি অবশ্য সকালেই উঠেন ঘুম থেকে। উনার শিক্ষাগত যোগ্যতাও যথেষ্ট ভাল। বিএ পাশ করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে এমএ ক্লাসে ভর্তিও হয়েছিলেন। বিজ্ঞানী স্বামীর সাথে বিদেশ চলে যাওয়াতে এমএ ডিগ্রী শেষ করা হয়নি। উনার স্তাবকের সংখ্যা কম, কারন উনি সাধারন বাঙ্গালী নারীদের মতই আটপৌরে চেহারার সুন্দরী। তাকে ডাকসাইটে সুন্দরী বলা চলেনা। তার উপর কথা একটু বেশী বলেন বলে উনার বদনাম আছে। অকপটে সব কথা বলে ফেলেন বলে যেমন উনার সুনাম আছে, আবার এত কথার ফাঁক গলে অপ্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক অনেক কথা বেরিয়ে যায় বলে উনার দূর্নামও হয়। উনাকে একবার আদালত থেকেও কথা কম বলতে বলা হয়েছিল। মাঝে কয়েক বছর বেশ মাপা কথা বলতেন। কিনতু হঠাৎ করেই আবার পুরানো অভ্যাসে ফিরে যাচ্ছেন। উলটা পাল্টা মন্তব্য করে বসেন প্রায়ই। তবে মানুষকে কাছে টানার এক অনবদ্য গুনের অধিকারী তিনি।

উনার বেশভুষা এমনই আন্তরিক যা মানুষকে আপন করে কাছে টানে। উনি অবশ্য দেশী শাড়ী পড়েন। দেশের দামী তাঁত বা জামদানীতেই উনাকে দেখা যায়। অবসরে পড়াশুনা করেন, তা তাঁর বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকার থেকেও বুঝা যায়। প্রায়ই রবীন্দ্রনাথ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে থাকেন। এই নেত্রীকে অবশ্য অন্য নেত্রীর মত অতটা আয়েসী মনে হয়না। এককালে হয়ত আমার মতই কাজকর্ম করতে হয়েছে, তাই সাজগোজে আটপৌরে ভাবটাই বেশী চলে আসে। রসবোধ আছে। তবে দেখতে সাধারন হলেও উনারও চোটপাট আছে কম না। উনিও যখন বক্তৃতা দিতে সভামঞ্চে উঠেন, অন্যান্য ডাকসাঁইটে নেতারা তখন চুপসে থাকেন। তিনি কাউকেই পাত্তা দেন বলে মনে হয়না। কারো পরামর্শ শোনেন বলেও মনে হয়না। তাঁদের দুজনেরই অনেক ক্ষমতা। দুই নেত্রীই ক্ষমতাবলে যার যার দলের বড় বড় নেতাদেরকে বোবা ও অকর্মণ্য করে রেখেছেন। নেতাদের সকলেই সচেষ্ট থাকেন নেত্রীদের মনোরঞ্জন করার জন্য। দুই নেত্রীই দেশের মানুষের কাছে খুবই পপুলার। দুই দল থেকেই অনেক চেষ্টা করা হয়েছে নেত্রীদেরকে হটিয়ে দেয়ার জন্য। কিনতু কোন অপচেষ্টাই কাজে আসেনি। দুজনকেই জেলে ঢুকানো হয়েছিল, যাঁরা তাঁদেরকে জেলে ঢুকিয়েছিল, তারাই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এমনই গ্রহনযোগ্যতা ও দাপট এই দুই নেত্রীর।”

দুই নেত্রীর মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়, দুজনেই আরামেই আছেন। নিজেরা প্রধানমন্ত্রী পদ অলংকৃত করে আছেন, কিনতু কাজ করে দেয় অন্যেরা। দুজনেই জনগনের প্রধানমন্ত্রী, অথচ জনগনের থেকে অনেক দূরে থাকেন। তাই জনগনের ক্যাঁও ম্যাঁও শুনে মাথা নষ্ট হয়না। দুজনেরই স্তাবক আছে, যারা সারাক্ষন নেত্রীদের গুনবন্দনা করে যায়। সুন্দরী নেত্রী এদিক দিয়ে এক কাঠি উপরেই আছেন, গুনের সাথে সাথে চলে উনার রূপবন্দনা। সুন্দরী নেত্রীর দোষঘাট সব ম্লান হয়ে যায় উনার রূপবন্দনার কাছে। আটপৌরে যিনি, উনার একটু রূপবন্দনাতে ঘাটতি আছে। উনার রূপের প্রশংসা কেউ করেনা, তাই উনার দোষঘাট মাফ হয়না। নিন্দুকেরা অহরহ উনার সমালোচনা করতেই থাকেন।

এতোসব জেনেবুঝেও আমার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শখ হয়েছে। এই জনমে না হলেও পরজন্মে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে যে সমস্ত গুন থাকা দরকার আমার সেগুলো আছে। এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতা উনাদের চেয়ে বেশী আছে। দেখতে শুনতেও অতটা খারাপ নই, আমার সেবায় নিয়োজিত মেকাপওয়ালীরা একটু ঘষামাজা করলেই কালো মুখে আলো ফুটবে। আমি খুব সকালেও ঘুম থেকে উঠিনা, আবার বেলা বারোটা পর্যন্ত ঘুমাইনা। সকাল সাতটায় ঘুম ভাঙ্গে আমার। আমি গালে আঙ্গুল ঠেকিয়ে চুপ করেও থাকিনা আবার লাগামছাড়া কথাও বলিনা। আমি কাউকেই আঘাত করে কথা বলিনা বা বেয়াদব বলে গালিও দেইনা। আমি প্রতিদিন পড়াশুনা করি। পত্রিকা পড়ি, গল্প-উপন্যাস পড়ি, টিভির নিউজ দেখি, গানবাজনা করি, রান্নাবান্নাও ভালো জানি। আমি গরীব দুঃখীদের সাহায্য করার চেষ্টা করি। তোষামোদী আর সত্যিকারের প্রশংসার পার্থক্য বুঝতে পারি। তাই আমার অন্ধ বা বধীর হয়ে থাকার কোন সুযোগ নেই। আমার শুধু দিনরাত পরিশ্রম করতে ভালো লাগেনা। এত কাজ করতে করতে বিতশ্রদ্ধ হয়ে গেছি। এইজন্যই এমন আকাশ কুসুম কল্পনা করছি। উনাদেরকে হিংসে করছিনা, শুধু উনাদের মত জীবন চাইছি। এ জীবনে যখন সম্ভব হলোনা, পরজন্মে যেনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, এটা আশা করতেতো দোষ নেই। সেজন্যই আমি পরজন্মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই।”
[রয় শেফার্ড কাল্পনিক]