ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আমি ইদানিং দুই একটা দৈনিক পত্রিকায় মাঝে মাঝে ফিচার লিখে থাকি। একটি দৈনিক পত্রিকা থেকে প্রবাসে নববর্ষ উপলক্ষে একটি লেখা চেয়ে পাঠিয়েছিলো। লেখা একটি তৈরী করে পাঠিয়েছি, জানিনা ছাপার যোগ্য হয়েছে কিনা! কেননা, প্রবাসে কি আর নববর্ষ উদযাপনের কোন সুযোগ আছে! আমরা এখানে যা করি, তা নিছক সান্ত্বণা ছাড়া আর কিছুই না। এখানে শনি রবি ছাড়া কিছুই করা যায়না। সব উৎসব শনি রবি ধরে আসেওনা। ফলে দেশে যখন সব আনন্দ উল্লাস শেষ হয়ে যায়, আমরা তখন কোন একটা শনিবারে বাসি উৎসব পালন করে থাকি। এ যে কি কষ্টের, কি কষ্টের তা বলে বা লিখে বুঝানো যাবেনা। তারপরেও নিউইয়র্ক, হিউস্টন, ডালাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্ণিয়া হলেও একটা কথা ছিল, আমি থাকি একেবারে বাংলার ছোঁয়ার বাইরে। মিসিসিপিতে বাঙ্গালী নেই বললেই চলে, হাতে গোনা চল্লিশ পঞ্চাশ জন নিয়ে কি কিছু করা যায়? তবুও চেষ্টা করছি কিছু একটা করতে। পহেলা বৈশাখের আয়োজন করতে গিয়ে দেখি চোখের সামনে হুড়মুড় করে এসে ভীড় করছে নানা বয়সের স্মৃতি। কি মধুময় সেসব দিন, অর্থের প্রাচুর্য্য ছিলোনা, কিনতু প্রাণের প্রাচুর্য্যে ভরা ছিল সমস্ত শৈশব, কৈশোর, যৌবন।

শিশুকালের স্মৃতিতে শুধু দিদিমার হাত ধরে বৈশাখী মেলাতে যাওয়া, মাটির হাঁড়ি পাতিল আর প্লাস্টিকের রঙিন চুড়ি নিয়ে বাড়ী ফেরা। আমি ছিলাম দিদিমার একটা মাত্র নাতনী। দাদু নারায়নগঞ্জ শহরেই সারা জীবন মোক্তারী করেছেন, ফলে নারায়নগঞ্জের সকলেই আমার দাদুকে নামে চিনতো। আমার সুন্দরী দিদিমাকে মেলার দোকানীরা ডাকতো, ‘ঠাইরেন’ বলে। ঠাইরেনের মতোই সুন্দরী আর ব্যক্তিত্বময়ী ছিল আমার দিদিমা। দিদিমার সাথে যাওয়ার আরেকটি মজা ছিল, তেলেভাজার দোকানে নিমকী ফুলুরী কিনতে গেলেই দোকানী আমার হাতে কিছু না কিছু দিতই। আহামরী কিছুনা, কিনতু আমার মনে হতো আমি বুঝি দুনিয়া জয় করে বাসায় ফিরছি। হাতের মুঠির মধ্যে রেখে দিতাম ঐ কয়েয়কটা নিমকী। বাসায় এনে আমার মেজদাকে দেখাতাম সবার আগে।, ভাবটা ছিল ‘দেখো আমাকে সবাই কত ভালোবাসে’ বলে বাহাদুরী নেয়া। আমার কাছে এখনও আমার পাঁচ বছর বয়সে তোলা একটি ছবি আছে। ছবিটি তোলা হয়েছিল নারায়ঙ্গঞ্জের ‘প্রিন্স’ স্টুডিও তে গিয়ে। পায়ে ছিলো সাদা রঙের টেডী জুতা আর হাতে ছিল মেলা থেকে কিনে আনা নীল প্লাস্টিকের চুড়ি।

স্বাধীনতার পরে আস্তে আস্তে চৈত্র সংক্রান্তি, পহেলা বৈশাখসহ নানা দেশীয় উৎসবের পার্থক্যগুলো বুঝতে শুরু করলাম। চৈত্র সংক্রান্তিতে গ্রামে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকলেই একভাবেই পালন করতো কিনা তা আমার জানা হয়নি কোনদিন। তবে শহরে থেকে দেখতাম, চৈত্র সংক্রান্তি আর পয়লা বৈশাখে মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুদের ভুমিকাই যেনো বেশী ছিল। চৈত্র সংক্রান্তির দিন প্রতিটি হিন্দু বাড়ীতে ‘তেতো’ খাওয়ার হিড়িক পড়ে যেতো। বাজার ঘুরে যত রকম তিতা জিনিস কিনতে পাওয়া যায়, সব কিনে আনা হতো। ‘পাঁচন’ নামে বিশ্রী স্বাদের কিছু একটা রান্না করা হতো প্রায় সব বাড়ীতে। আমার মা অবশ্য একটু ভালো ছিলো, এমনিতে সারাক্ষন শাসনের উপরে রাখলে কি হবে, আমরা অত তিতা জিনিস খেতে পারতামনা বলে পাট শাকের বড়া করতো, করলা ভাজা করতো, কাঁচা আমের ডাল করতো। আমার বয়সী বাচ্চারা যখন আমার কাছে এসে বাহাদুরী নিত ‘পাঁচন’ এর মত এমন কঠিন তিতা খেয়েছে বলে, আমার মনে এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া হতো। ওদের মত তিতা খেতে পারিনি বলে নিজেকে পরাজিত মনে হতো আবার ওদের মত অমন বিশ্রী তিতা খেতে হয়নি বলে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হতো। তারপর কারো কারো বাড়ীতে দৈ চিড়া, খৈ, ক্ষীর, আম, কলা, বাতাসা দিয়ে অপূর্ব স্বাদের ‘ফলার’ খাওয়া হতো। সবই অবশ্য হিন্দু বাড়ীগুলোতে হতো। আমাদের বাড়ীওয়ালা অথবা পাশের বাড়ীর ডাক্তার চাচার বাড়ীতে এর কোনটাই হতোনা। আমার বন্ধু মুন্নী বলতো, ‘হিন্দু হইলে অনেক কষ্ট। কি সব তিতা, লতা পাতা খাইতে হয়’।

পরের দিন পয়লা বৈশাখে সকাল থেকেই সব বাড়ীতে সাজ সাজ রব পড়ে যেতো। বাজারে গিয়ে কে কত বড় মাছ কিনে আনলো, কার বাড়ীতে কত সের মাংস আসলো, দৈ মিষ্টি আনার ধুম লেগে যেতো। আর আমাদের ঘরেও অন্য রকম এক ফুরফুরে হাওয়া বইতো। আমরা জানতাম বছরের প্রথম দিন যেমন যায়, সারা বছর তেমনই কাটে। সারা বছর যেনো ভালো কাটে ঐ আশায় বছরের প্রথম দিন চেষ্টা করতাম ভালো হয়ে চলতে। তবে জানতাম কথাটা ঠিক না। আমরা শুধুমাত্র পয়লা বৈশাখ আর দূর্গাপূজাতেই আমাদের ঘরে খাসীর মাংস আসতে দেখতাম। আমার বাবার মত এমন সৎ ও পরোপকারী মানুষ, আমার জীবনে এখনও আমি দেখিনি। তবে সৎ ও পরোপকারের ধকল আমাদের উপর দিয়েই গেছে। আশেপাশে সব বড়লোক প্রতিবেশীর মাঝখানে আমরা ছিলাম অতি সাধারণ মধ্যবিত্ত যাদের বাড়ীতে বছরে তিন চারবারের বেশী মাংস আসতোনা। পয়লা বৈশাখের দুপুরে আমাদের খাবারের তালিকায় থাকতো, রুই মাছের কালিয়া, মাছের মাথার মুড়িঘন্ট, মুগ ডাল, খাসীর মাংস, আমের চাটনী, আর দই। তোফা খানা। বছরের প্রথম দিন খেতাম, আবার ঠিক দূর্গা পূজার সময় খেতাম। বছরের বাকী দিনগুলিতে ডাল, একটা তরকারী আর একটা মাছের ঝোল। তবে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগেনি, পয়লা বৈশাখে যা খেয়েছি, বছরের বাকী দিন কেনো তা পাচ্ছিনা!

আমরা থাকতাম আমলাপাড়া নামের এলাকাতে। সেখানে জুয়েলারী দোকান আগেও ছিল, এখনও আছে। আরও নানা রকম দোকান আছে। আমার মামীর বাবার একটি মিষ্টির দোকান ছিল। পয়লা বৈশাখের দিন ঐ দোকান গুলোতে ‘হালখাতা’ নামে একটা পর্ব ছিল। সেদিন কোন ব্যবসা চলতোনা। সকালে দোকানগুলো খোলা হতো, পূজা হতো, তারপরেই পাড়ার গন্যমান্যদের ডেকে বসিয়ে মিষ্টি খাওয়ানো হতো। আমার মেজদা ছিল ওস্তাদ। সে মিষ্টি খেতে ভালোবাসত, আর আমার দাদুর নাতি সে, সব দোকানে তাকে বসিয়ে মিষ্টি খাইয়ে দিত। বাসায় এসে মিষ্টি খাওয়ার গল্প রসিয়ে রসিয়ে করতো, আর আমি ‘মেয়ে’ হয়ে জন্মানোর দুঃখে মনের ভেতর জ্বলতাম। আর কিছু না পেয়ে মামীর বাবার দোকানেই চলে যেতাম। দাদু ডেকে মিষ্টি খাওয়ায়ে দিত, সেটাই ছিল আমার সান্ত্বণা।

দুই তিনদিন পরেই মায়ের সাথে বা দিদিমার সাথে মেলায় যেতাম। এক বয়সে কিনেছি চুড়ি, টিনের বা মাটির রান্না হাঁড়ি কুড়ি, এরপর কিনেছি রঙীন ফিতা, কাঁচের চুড়ি, নাহলে খেলনা টেলিভিশন (চাবি ঘুরালে একটা একটা সস্তা রঙের কাগজের ছবির রীল ঘুরতো, যেখানে নায়িকাদের ছবি থাকতো), বাঁশী কিনতাম, ঢোল কিনতো আমার ছোট ভাই। এরপরই তেলেভাজার দোকানে চলে যেতাম। মুরলী ভাজা, পিঠি ভাজা, নানা ছাঁচে তৈরী চিনির খেলনা, তিলা, কদমা, গুড়ের তক্তি, সাদা বাতাসা, গুড়ের বাতাসা দিয়ে পসরা সাজিয়ে দোকানী বসে থাকতো। মানুষের ভীর উপচে পড়তো। বড় বড় মাছি ভন ভন করে উড়তো, আর দোকানীরা কাঁধের থেকে নোংরা গামছা নামিয়ে, সেটা দিয়ে বাতাস করে মাছি তাড়াতো আর দাঁড়ি পাল্লাতে মাপামাপি করতো নিমকী, মুড়ুলী, পিঠি, বাতাসা। কেনাকাটির এই পর্ব শেষ হলেই সবচেয়ে বিরক্তিকর পর্ব শুরু হতো। মা দিদিমাদের দা, বটি, পাটা-পুতা, হাতা, চামচ, সিলভারের ঘটি, মাটির কলস, বেলন-পিঁড়ি, বেতের মোড়া সহ অন্যান্য যাবতীয় জিনিস কেনাকাটা শুরু হতো। আর আমি খাবারের পোটঁলা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতাম। তর সইতোনা, কখন বাসায় যাব, তবে কুড়ুমুড় কুড়কুড় করে সব খেতে পারবো। মেলায় কাঠের নাগরদোলা ছিল, ওটাতে আমার সমবয়সী সবাই চড়তো, আমি ছাড়া। আমাদের মনে হয় অনেক বেশী মাপা পয়সা ছিল তাই ফালতু খরচ করতে চাইতোনা মা অথবা আমার মা ভয় পেত যদি নাগরদোলা থেকে পড়ে যাই, একটা মাত্র মেয়ে আমি, হাত পা ভাঙ্গলে বিয়ে দিতে পারবেনা, এই ভয় নিশ্চয়ই ছিল।

বিয়ের পরেতো অন্যরকম পহেলা বৈশাখ। নিজের সংসারে নিজেই রানী। আমি যা চাই তাই হবে, এমন একটা ভাব চলে এসেছে। কিনতু অবাক ব্যাপার, যে তেতো ব্যাপারকে খুবই তেতো একটি বিষয় মনে হতো, সেই আমিই চৈত্র সংক্রান্তিতে তেতো রান্না করতে শুরু করেছি যা এই বিদেশ বিভুঁইয়েও চালিয়ে যাচ্ছি। এভাবেই বংশ পরম্পরায় মানুষের কৃষ্টি, ঐতিস্য বেঁচে থাকে, বাঁচিয়ে রাখতে হয়। বিয়ের পরে প্রথমেই চলে যেতাম রমনা বটমূলে, তারপর ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় হেঁটেছি, চারিপাশে মানুষের ভীড় দেখতে কি যে ভালো লাগতো। মানুষের ভীড়তো সহজে শেষ হওয়ার নয়, তাই দুপুরের আগেই নারায়নগঞ্জ চলে যেতাম বাবার বাড়ীতে। জামাই যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ী, ঝুড়ি ভর্তি আম, মিষ্টি নিয়ে যেতাম। আহা! সে আরেক মহামিলনমেলা। এরপর মেয়েরা জন্মালো, কিছুটা বড় হতেই টের পেলাম, মেয়েগুলোও আমার মতই বাউন্ডুলে স্বভাবের হয়েছে। পয়লা বৈশাখ এলেই তাদেরও রমনা বটমূলে যেতেই হবে। যেতাম, আমিতো একপায়ে দাঁড়িয়েই থাকতাম, কাজেই গাড়ী থেকে ফুলার রোডে নেমেই হাঁটা দিতাম, মানুষের মিছিল চলতো রমনা বটমূলের দিকে। একবার রমনা বটমূল থেকে বের হবার মুখে আমি আমার দ্বিতীয় মেয়েটাকে নিয়ে মানুষের ভীড়ে আটকে গেছিলাম। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিলো, নড়তেও পারছিলামনা, মেয়েটা মনে হয় কেউ টুপ করে তুলে সামনে এগিয়ে দিয়েছে, আমি মানুষের চাপে মৃত্যু কিভাবে হয়, তার একটা মহড়া দিয়ে ফেলেছি।

যে বছর রমনার মূলে বোমা ফেটেছিলো, সেখানে আমার থাকার কথা ছিলো। কিনতু পরের দিন আমার বি এড পরীক্ষা ছিলো বলে উত্তরা থেকে অত সকালে আর যাওয়া হয়নি। তবে টিভিতে বোমার ঘটনা দেখে আর থাকতে পারিনি, বিকেলের দিকে গিয়েছি খুব কাছাকাছি। এরপর চলে এসেছি। পরদিন পরিক্ষা দিয়েছি, সব পরীক্ষা শেষে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা চলে এসেছি। মনটা খারাপ লাগে, দেশের শেষ পয়লা বৈশাখটা আমার করে আসা হলোনা। মেয়েদেরকে নিয়ে এতোকাল ঘরেই পয়লা বৈশাখ করেছি, কিনতু এবার তাও হবেনা। আমেরিকাতেতো আর আমাদের নববর্ষের হিসেব অনুযায়ী স্কুল কলেজ চলেনা। তাই দুই মেয়েরই সোমবারে পরীক্ষা আছে, তাই রবিবারে ওরা আসতে পারবেনা, ওদের খুব মন খারাপ। ওরা হয়তো ভাবছে, বছরের প্রথম দিন মন খারাপ করে থাকলে সারা বছর মন খারাপ যাবে। কারন আমিই আমার মেয়েদেরকেও শিখিয়েছি, বছরের প্রথম দিন যা করবে, সারা বছর তাই করবে। ভাল করলে ভাল খারাপ করলে খারাপ। শিখিয়েছিতো অনেক কিছুই, কে জানে ওরা কতখানি ধরে রাখতে পারবে! একবার মনে হয় মেয়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের এগুলো শেখাবেনা, পরক্ষনেই মনে হয়, অবশ্যই শেখাবে, প্রতিটি মানুষ তার শেকড় ধরে রাখতে চায়। আমি থাকবোনা, আমাকে পেতে গেলেতো ওভাবেই খুঁজতে হবে, শেকড়ের মাঝেই খুঁজতে হবে।

বিয়ের আগে পর্যন্ত আমাদের বাসায় পহেলা বৈশাখে আমরা ভাই-বোন, মা বাবা সব সময় একসাথে কাটিয়েছি। এখন মনে হয়, কি ভুল বিশ্বাস মনে আঁকড়ে ছিলাম যে বছরের প্রথম দিন যা করা হবে সারা বছর সেভাবেই দিন যাবে। তা-ই যদি হতো, তাহলে আমরা চার ভাইবোন চার জায়গায় ছিটকে পড়তামনা। আবার ভাবি, একসাথে থাকতে পারিনা ঠিকই, কিনতু প্রতিটা দিন আমরা একের সাথে অন্যের রক্তের বন্ধন টের পাই, খুব বেশীই টের পাই। আমরা ভাইবোনেরা বুঝতেই পারিনা, আমরা পরস্পর থেকে সাত সমুদ্দুরসম দূরত্বে আছি।

আমাদের এখানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করছি ছাত্র ছাত্রী, পরিবার মিলিয়ে যে কজন বাংগালী আছি, সে কজনে মিলে যেমন পারি তেমন। নিমকী, পিঠি আমিই ভাজবো, বকফুল বানাবো, পান্তা করবো, আলু ভর্তা করবো, দই বানাবো। আহাদ-তাসমিন করবে দই, আর ভর্তা। শাহীন -নিশো করবে ভর্তা, রনি করবে পান্তা, ফারহান করবে ডাল ভর্তা, সোমা করবে মালপোয়া, তন্ময়-তুষার-সৌম্য-শুভঙ্কর মিলে বানাবে সরষে বাটা দিয়ে বরবটি, শিমু ভাজবে মাছ, পিঙ্কী আনবে গ্রীষ্মের ফল আর বেগুন পোড়া ভর্তা, করবী মনে হয় কোন একটা ভর্তা আনবে। ডঃ হক করবেন সাদা ভাত, মুরগীর ঝোল, আমের ডাল, আর গুড়ের পায়েস, বাকী যারা থাকলো, তারাও সবাই কিছু না কিছু আনবেই।

বাচ্চাদের জন্য প্যাঁপোঁ বাঁশী কিনবো, মেয়েদের জন্য চুলের রঙীন ক্লিপ, চুলের ফিতা, ঘর সাজাবো ফুল পাতা দিয়ে, ধূপের মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে দেবো। দেবীশ্রী সাহায্য করবে আসর সাজাতে। আমি যোগান দেবো যত তাঁতের শাড়ী, ডালা-কুলা, হাঁড়ি কুড়ি, বাঁশী, হারমোনিয়াম, একতারা সহ এমনি আরও টুকিটাকী । নববর্ষের খেতাব দেবো, রুমাল চোর খেলবো, কিত কিত খেলবো, আর কি করবো জানিনা। গান, কবিতা, মলম বিক্রী, সেগুলোতো পহেলা বৈশাখ ছাড়াও করে থাকি। ওটা নিয়ে চিন্তা নেই। এই দুই দিন অস্থিরতায় কাটবে। কি করে রমনা বটমূলকে আমাদের ম্যাগনোলিয়া গাছের নীচে আনা যায়, তা ভাবতে ভাবতে হিমশিম খাচ্ছি। একবার শুরু করে দিতে পারলেই পরের বছর থেকে আরও সহজ হয়ে যাবে ব্যাপারগুলো। কারো মাথায় নেই, কততমবর্ষ উদযাপন করতে যাচ্ছি আমরা। এটা একটা ধাঁধা দিয়ে দেবো আসরের মাঝে। ডঃ হকতো ভুল করবেনই, দেখি কে শুদ্ধ করে বলতে পারে ‘শুভ নববর্ষ ১৪১৯’। যে প্রথম ঠিক করে বলতে পারবে তাকে একটা মিষ্টি বেশী খেতে দেবো, মিষ্টি দিয়েই বছর শুরু করবো যেনো বছরের বাকী দিনগুলো মধুময় হয়ে উঠে সকলের জন্য।