ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

সেদিন আমার ছুটি ছিল। খুব বেশিদিন আগের কথা বলছি না। দিন সাতেক আগের কথা। একটা ফোন কল এসেছে, ফোনটা ধরতেই ঋষিজার মা’কে চাইলো। ঋষিজা হচ্ছে আমার ছোট মেয়ে মিথীলার পোষাকী নাম। ‘ইয়েস বলছি’ বলতেই জানালো যে ঋষিজার স্কুল থেকে ওর টিচার কথা বলতে চায়। স্কুল থেকে ফোন আসলেই আমার কেনো যে সবার আগেই খারাপ কথাটিই মনে আসে বুঝিনা। কেবলই মনে হয়, এইরে! আমার মেয়েটার বোধ হয় কোন বিরাট সর্বনাশ হয়ে গেছে। এমনটি ভাবতে থাকি বলেই ফোনের অপর প্রান্তের কথা আমি প্রায়ই ভালো করে বুঝতে পারিনা। হ্যাঁ হুঁ করতে থাকি। পরে ধাতস্থ হয়ে কথা বলি। সেদিন ঋষিজার টিচার বললো, ” নেক্সট ফ্রাইডেতে আমাদের স্কুলের এন্যুয়াল এওয়ার্ড সেরিমনিতে ঋষিজা টপ সিক্রেট এওয়ার্ড পাবে। আমরা চাই ঋষিজার বাবা মা যেনো এওয়ার্ড সেরিমনিতে উপস্থিত থেকে বাচ্চার এই এচিভমেন্টকে উপভোগ করতে পারে। কাজেই তোমরা আমন্ত্রিত এবং একটি অনুরোধ, ঋষিজাকে জানাবেনা এই সিক্রেট এওয়ার্ডের কথা”।

ফোনটি পাওয়ার পরে আমার কি করা উচিত ছিল! আনন্দে ঘরময় লাফানো না-কি একে তাকে সাথে সাথে ফোন করে করে জানানো! আমেরিকান বাবা মায়েদের মত হতে পারলে আমি দুটোই করতাম। হ্যাঁ, এখানে ছেলেমেয়েদের বাবা মায়েরা বাচ্চাদের যে কোন সাফল্যে খুবই উচ্ছসিত হয়। বাচ্চাদেরকে তাঁরা নানাভাবে পুরস্কৃত করার চেষ্টা করে। এখানের স্কুলগুলোতে একেবারে প্লে স্কুল থেকে শুরু হয় ‘গ্র্যাজুয়েশান’ সেরিমনি। বিশেষ করে প্রাইভেট স্কুলগুলোতে সেই ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়েদের জন্য ‘গাউন’, ‘গ্র্যাজুয়েশান ক্যাপ’, ‘ স্টোল'( গলায় ঝুলানোর জন্য), ‘ডিপ্লোমা'( হাতে ধরা থাকে) সহ আনুষঙ্গিক প্রতিটি জিনিস কিনতে হয়। এবং এখানের বাবা মায়েরা এতটুকু কার্পণ্য করেনা ছেলেমেয়েদের জন্য টাকা খরচ করতে। ছেলেমেয়েদের গ্র্যাজুয়েশানের দিন আগে থাকতেই বাবা মায়েরা কাজের জায়গা থেকে ছুটি নিয়ে রাখে। যদি কারো কাজের জায়গাতে ডিউটি পড়ে যায়, ‘সিক কল’ করতে তারা এতটুকু দ্বিধাবোধ করেনা। যেদিন স্কুলে এওয়ার্ড সেরিমনি হয়, বাবা মায়েরা তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব নিয়ে স্কুলে উপস্থিত হয়। সাথে থাকে ডিজিট্যাল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা। স্কুলের বিরাট হলরুম আগত অতিথি দিয়ে কানায় কানায় ভর্তি থাকে।

এওয়ার্ড সেরিমনি শুরু হয় স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের স্বাগত বক্তব্য দিয়ে। এরপরেই শুরু হয় একেক গ্রেড (ক্লাস) এর ছাত্র ছাত্রীদের নাম ধরে ডাকা। ওভারঅল যারা ‘এ’ গ্রেড পায়, তাদের বাবা মায়েদের কথা বাদই দিলাম, যাদের ছেলেমেয়েরা সারা বছরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘বি’ অথবা মিশ্রভাবে ‘এ’ এন্ড ‘বি’ গ্রেড পায়, সেই বাবা মায়েদের উল্লাসধ্বনিতে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বিরতিহীণভাবে জ্বলতেই থাকে। সবার শেষে ‘এ’ গ্রেডারদের নাম ডাকা হয়। ‘এ’ গ্রেডারদেরকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে থেকে মা বাবাকে ভিডিও করার সুযোগ দিতে হয়। বাবা মায়ের সাথে আর যারা ওখানে যায়, তারাও তখন পরিবারের কৃতি সন্তানটির সাথে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেন মহা সমারোহে। এরপরেই সবাই মিলে বাইরে রেস্টুরেন্টে গিয়ে একপ্রস্থ খাওয়া দাওয়া করে থাকে। বেশী উৎসাহী বাবা মায়েরা প্রতি বছর ছেলেমেয়েদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়াশান পার্টি’র আয়োজন করে থাকে। পার্টি উপলক্ষ্যে বেশ আগে থেকেই ‘গাউন’ পরা বাচ্চার ছবিসহ ইনভাইটেশান কার্ড ছাপানো হয়, কেউ কেউ হল বুক করে থাকে আবার কেউ কেউ নিজেদের বাড়ীর লনেই পার্টির আয়োজন করে থাকে।

আমি একেতো বাঙ্গালী মা, তার উপর সব সময় ছুটি পাইনা, তার চেয়েও বড় কথা ছেলে মেয়ে নিয়ে ‘আদিখ্যেতা’ দেখানোতে বিশ্বাসী নই ( আমাদের বাবা মায়েরাও তাই করতেন, আমাদেরকে নিয়ে ‘আদিখ্যেতা’ করতে দেখিনি)। ফলে আমার মেয়েটি প্রতি বছর ‘সব সেরা’ র পুরস্কারটি হাতে নেয় শুধুমাত্র বাবার উপস্থিতিতে। বাবা সব অনুষ্ঠানে না যেতে পারলেও কিছু কিছু অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন ঠিকই, কিনতু হাতে করে ভিডিও ক্যামেরা বা ডিজিট্যাল ক্যামেরার কোনটাই নিয়ে যাননা। ফলে ঋষিজাও আমাদের কাছে কোনরকম উচ্ছ্বাস প্রত্যাশা করেনা। স্টেজে উঠে ঋষিজা কখনওই ‘গর্বিত’ ভঙ্গীতে দাঁড়াতে পারেনা। একজন ছাত্রের একাই আটটি নয়টি পুরস্কার পাওয়া সোজা কথা নয়, ক্লাসের প্রতিটি সাবজেক্টে ‘বেস্ট’ পারফর্ম্যান্সতো আছেই, তার উপর আছে সায়েন্স ফেয়ার ( রিজিওন্যাল, স্টেট এ ফার্স্ট), এডভান্স রিডিং, কম্পিউটার, মিউজিক, বিহেভিয়ার এর উপর আলাদা পুরস্কার এবং সবশেষে ‘বেস্ট অফ দ্য বেস্ট’ পুরস্কার। পুরস্কার নিয়ে স্টেজ থেকে নেমে আসলে পরে কেউ দৌড়ে যায়না ওর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে। এখানে ঋষিজার বাবা মা ছাড়া আরতো কেউ নেই। দুই দিদি থাকে আরও দূরে ওদের কলেজে। তবু দিদিরা ফোন করে উইশ করে। ঋষিজা নির্লিপ্তভাবেই ধন্যবাদ জানায়। কাজ থেকে আমি বাড়ী ফিরে আসলে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ” মা, বলতো আমি কয়টা সার্টিফিকেট পেয়েছি”। বাঙ্গালী মা মুখে ছদ্ম গাম্ভীর্য এনে হয়তো বলি, ” হুম! তুমিতো সবগুলোই পাওয়ার কথা। তবে এত উচ্ছ্বসিত হওয়ার কিছু নেই। রেজাল্ট ধরে রাখতে হবে। তোমার দিদিরা দেখো, কত ভাল রেজাল্ট করছে, তোমাকেও তা করতে হবে। এই দেশে রেজাল্ট ভালো না করতে পারলে কোন লাভ নেই”।

১২ বছরের মিথীলা স্কুলে অন্য বাবা মায়েদের উচ্ছ্বাস দেখে অভ্যস্ত। মরীয়া হয়েই হয়তো জানতে চায়, ” আমার ভালো রেজাল্টে তুমি খুশী হও নাই? আমাকে কি কিছু দিবে? আমরা কি বাইরে কোথাও খেতে যেতে পারি”? আমি এবার মুখ খুলি, ” হ্যাঁ অনেক খুশী হয়েছি। মাগো, আমি হচ্ছি একটা পচা মা, আমি তোমার স্কুলে যেতে পারিনা, আমি আমেরিকান বাবা মায়েদের মত হই হই করতে পারিনা। আমি তোমার কাছে আমার মনের আনন্দ প্রকাশ করতে পারিনা। কারন আমরা যখন খুব ভালো রেজাল্ট করতাম তোমার দাদু দিদা কোন রকম উচ্ছ্বাস দেখাতনা। ওভাবেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিনতু তাঁরাও খুশী হতো, আমিও খুশী হয়েছি। বাইরে যে কোন সময় খাওয়া যায়, কিনতু এই উপলক্ষ্যে বাইরে খাবোনা, আমি নিজে তোমার পছন্দের খাবার বানাবো”। আমেরিকায় বড় হওয়া ঋষিজা আমার এই কথার সারমর্ম আদৌ বুঝতে পারে কিনা জানিনা। ও পরিষ্কার বাংলায় কথা বললেও এত ভাবের বাংলা বুঝার মত বোধ ওর নেই। তাই ওর মুখটা একটু নিরাশ দেখা যায়।

গতবার আমার ছুটি ছিল বলে গতবার গিয়েছিলাম ওর ‘এওয়ার্ড’ সেরিমনিতে। এবার আমার ছুটি ছিলনা, ওর বাবা গেছিল ক্যামেরা নিয়ে। ঋষিজা এবার আরও অনেক বেশী ভালো রেজাল্ট করেছে। গ্রেড সেভেন থেকে গ্রেড এইটে উত্তীর্ণ হয়েছে। আমাকে দেখানোর জন্য সার্টিফিকেটগুলো সাথে করে আমার কাজের জায়গাতে চলে গেছে। আমি কাজের শেষে এত বেশী ক্লান্ত ছিলাম যে ভাল করে সার্টিফিকেটগুলোর দিকে তাকাতেও পারিনি। ‘পরে দেখবো’ বলে গাড়ীতে উঠেই দুই চোখ বন্ধ করে মনের ভেতর এক টানাপোড়েন টের পাচ্ছিলাম। আমি কেন আর সব বাবা মায়েদের মত উচ্ছ্বাস দেখাতে পারিনা! গাড়ীতে বসেই ঋষিজা আমতা আমতা করে একটা অনুরোধ করেছে, ” মা, আমি কিন্তু অনেক ভালো রেজাল্ট করেছি। আমার টিচাররা আমাকে অনেকবার এই কথা বলেছে। তুমি যদি আজকে ছুটি পেতে, তাহলে তুমি ওখানে গেলে অনেক খুশী হতে। টিচাররা সবাই আমাকে ‘হাগ’ করেছে।” আমি বলতে পারলাম, ” হুম! পাপা ছবি তুলেছেতো! আমি ঘরে গিয়ে ছবি দেখবো”। এরপরেই মিথীলার আবদার, ” আমি কি একটা জিনিস পেতে পারি?” আমি বললাম ” কি এক ডলার? ( কারন এতদিন মিথীলা কিছু উছিলা পেলেই একটা কোয়ার্টার (পঁচিশ পয়সা) চাইতো”। মিথীলা বড় হয়ে যাচ্ছে। বুঝতে পারলাম সে যখন বললো, ” না কোন টাকা পয়সা চাইনা। কাল বন্ধুরা একটা মুভী দেখবে, আমি কি যেতে পারি ওদের সাথে? তোমাকে পয়সা দিতে লাগবেনা, আমার কাছে ‘মুভী কুপন’ আছে। লাস্ট ইয়ার বীনু আন্টি দিয়েছিল, তা সেইভ করে রেখেছি”।

আমি না করতে গিয়েও ‘না’ করলামনা। আমি মেয়েদের সাফল্যে ভেতরে ভেতরে খুবই গর্ব অনুভব করি। কিনতু বাইরে প্রকাশ করতে পারিনা। এই প্রসঙ্গে আরেকটি ঘটনা মনে পড়ে গেলো। আমার মেজো মেয়ে এ বছর চার বছরের কলেজ গ্রায়জুয়েশান করবে। আমার এই মেয়ের রেজাল্ট নিয়ে আমি গর্ব করার সুযোগ পাইনা, ওর কলেজের প্রফেসার থেকে শুরু করে বন্ধু বান্ধবীরাই ফেসবুক মাতিয়ে রাখে ওর প্রশংসা করে। সেদিন মেয়ে আমাদের ফোন করে জানিয়েছে যে ও ‘হল অব ফেম’ এওয়ার্ডটি পেয়েছে। জানতে চাইলাম পুরস্কারের গুরুত্ব। মেয়ে হাসতে হাসতে বললো, ‘বেস্ট এওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার’ , চার বছরের কলেজ জীবনের অর্জন, ও চলে আসবে কলেজ ছেড়ে কিনতু ওর ছবি কলেজের দেয়ালে টাঙানো থাকবে আজীবন। এরপরেই মেয়ে জিজ্ঞেস করলো, ” মা, আমার কলেজ থেকে ফোন করেছিল। এটা ছিল সিক্রেট এওয়ার্ড। শুধু প্যারেন্টস জানবে। প্যারেন্টসরা সবাই এসেছিল আমার প্যারেন্টস ছাড়া। আমি এওয়ার্ড পেয়ে থ’ বনে গেছি। আমি টিচারকে জিজ্ঞেস করতেই প্রফেসর বলল, উনি নাকি আমাদের বাসায় ফোন করেছিল। যে ফোন ধরেছে তার গলার আওয়াজ নাকি গ্র্যান্ডমা দের মত, ভারী একসেন্টে কথা বলেছে, প্রফেসর নাকি কিছুই বুঝতে পারেনি। তাই প্রফেসর আর কথা না বাড়িয়ে ফোন রেখে দিয়েছে। আমি তখন বলেছি তুমি ভুল জায়গায় ফোন করোনি তো? কারন আমার মা গত ছয় বছর ধরে ফোন সার্ভিসে আছে, তার কথায় একসেন্ট আছে তবে আমার মায়ের গলার আওয়াজ শুনলে অনেকেই আমাদেরকে ভেবে ভুল করে। আমার মায়ের গলার আওয়াজ গ্র্যান্ড’মা দের মত না, গ্র্যান্ড’ডটারের মত”।

আমি বিভ্রান্ত হয়েছি এমন কথা শুনে। বিশ্বাসও করতে পারছিলামনা আবার অবিশ্বাসও করতে পারছিলামনা। আমি আগেই বলেছি মেয়েদের স্কুল থেকে ফোন আসলেই আমি ভয় পাই, তাই বলে এওয়ার্ড শব্দ বুঝবোনা? নাকি ঋজয়া নাম শুনেই ভয় পেয়েছিলাম কে জানে (আমার এই মেয়েটা গত বছর গাড়ী একসিডেন্ট করেছিল, প্রাণে বেঁচেছে তবে গাড়ী রাস্তার সাথে মিশে গেছিল। এটাও একটা ভয়ের কারন আমার। ওদের নাম শুনলেই আমি কেমন হয়ে যাই)। তবে আমার গলার স্বর মোটেও গ্র্যান্ড’মাদের মত নয়। আবার ভাবি নাকি ইংলিশ ফোন পেয়ে ভয়ের চোটে গলা কেঁপে গ্র্যান্ড’মাদের মত শোনা গেছে। কে জানে কি হয়েছিল। আমি যেতে পারিনি মেয়ের এমন সাফল্যের স্বীকৃতি অনুষ্ঠানে সেটাই বড় কথা। ওর এক বান্ধবীর বাবা সিক্রেট কল পেয়ে সুদূর কেন্টাকী থেকে ফ্লাই করে চলে এসেছিল। এগুলি দেখে অবশ্য আমার বড় দুই মেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তবে এই মেয়ের ‘গ্র্যান্ড গ্র্যাজুয়েশানের’ দিন আমি ছুটি নিয়ে রেখেছি যাব বলে।

আমেরিকাতে থেকে ছোট্ট ঋষিজাকে আমেরিকানদের সাথেই বড় করছি, অথচ আমেরিকান বাবা মায়েদের মত করে মেয়ের সাথে তেমন আহ্লাদ দেখাতে পারছিনা, এতো আমারই ব্যর্থতা! মেয়েরা তো আমার চাওয়াগুলো উপলব্ধি করতে পারছে এবং সেভাবেই নিজেদেরকে তৈরী করছে। বিনিময়ে আমি নিজের খোলস ভেঙ্গে বের হতে পারছিনা, এটা আমারই ব্যর্থতা। এখনও দেশী সেন্টিমেন্ট ধরে রেখেছি। ধরেই নিয়েছি কোন কিছু নিয়েই বেশী আহ্লাদীপণা করতে নেই। তাই আহ্লাদী করতে মন চাইলেও ওদের নিয়ে আহ্লাদ করতে পারিনা। তবে আমি একটা জিনিস পারি, মেয়েদের কাছে নিজের এই অক্ষমতার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলতে পারি। নকল কান্না নয়, একেবারে ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা ব্যর্থতার গ্লানি, কান্না হয়ে ঝরে। আমার মেয়ে তিনটি তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাকে নিয়ে। ওরা বুঝতে পারে, ওদের মা খুব বেশী খুশী হয় মেয়েদের সাফল্যে কিনতু প্রকাশ করার অভ্যাস নেই বলেই তা মনের ভেতর চাপিয়ে রাখে আর কঠিন অপরাধবোধে ভোগে। ওরা তখন আমেরিকান ভঙ্গীতে আমাকে সান্ত্বনা দেয়, ” ঠিক আছে মা, ইটস ওকে! আমরা জানি, তুমি অনেক খুশী। থাক তুমি যেমন তেমনি থাকো, অন্যের মত হতে হবেনা। “