ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

বাংলা আমার প্রাণের ভাষা। ভাইয়ের রক্তে প্লাবিত, মায়ের অশ্রুস্নাত আমার প্রিয় বর্ণমালা। যে বর্ণমালায় গ্রথিত স্বাধিকার আদায়ের দৃঢ় শপথ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার সাহস, মুক্তির সংগ্রাম, স্বাধীনতার স্বপ্ন। যার প্রতিটি পাপড়িতে অঙ্কিত বিপ্লবের জাগ্রত বেদী, বীর শহীদের দৃপ্ত পদচিহ্ন। প্রতিটি বর্ণ যেন একুশে ফেব্রুয়ারির লড়াকু সৈনিক, বাঙালির গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সংগ্রামী চেতনা, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি আর ঐক্যের প্রতীক।

জন্মের পর মায়ের কণ্ঠে সুর মিলিয়ে যে ভাষা বলতে শিখেছি, যে ভাষায় আপন ইচ্ছা-অনিচ্ছা, আশা-আকাক্সক্ষা, চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, ব্যথা-বেদনা প্রকাশ করতে শিখেছি_ সেই প্রিয় বাংলা ভাষার জন্য বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। শহীদ সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউর-সহ আরও কত নাম না জানা ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজকের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যাদের রক্তে অঙ্কুরিত হয়েছিল বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম, যারা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা করেছে আমাদের প্রিয় মাতৃভাষার মর্যাদা। তাদের আত্মত্যাগের চেতনা বাস্তবায়ন করার প্রত্যয়ই হোক বর্তমানের শপথ।

১৯৭১ সালের ২০-২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে ছাত্র-জনসমাবেশে স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন_ “শহীদের আত্মা আজ বাংলার ঘরে ঘরে ফরিয়াদ করে ফিরছে, বাঙালি তুমি কাপুরুষ হয়ো না, স্বাধিকার আদায় করো। আমিও আজ এই শহীদ বেদী থেকে বাংলার জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি, প্রস্তুত হও, দরকার হয় রক্ত দিব। নির্বাচনে আমরা বিপুল সাফল্য অর্জনের পরও বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আজো চলছে। যে ষড়যন্ত্রের পরিণতি এই ২১ ফেব্রুয়ারি, যে ষড়যন্ত্রের পরিণামে বাঙালিকে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে, সে ষড়যন্ত্র আজো শেষ হয়নি।”
বঙ্গবন্ধু তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছেন, শুধেছেন শহীদের রক্তের ঋণ। তার যোগ্য নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রণিত সংবিধানে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের চেতনা।

কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি, স্বাধীনতার শত্রু, তাদের দোসর ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির কবলে স্বাধীনতার ঊষালগ্নে চরম সঙ্কটের সম্মুখীন হলো বাংলাদেশ। অন্যদিকে স্বাধীনতা-উত্তর সমস্যার সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি, মুনাফাখোর, মুজতদার, অসাধু ব্যবসায়ী প্রভৃতি সমাজের দুষ্ট কীট চাঙা হয়ে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তকারীরাও, শুরু হলো কাপুরুষোচিত গুপ্তহত্যাসহ ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। গুপ্তঘাতকের মারণাঘাতে জীবনদান করলেন বহু নিঃস্বার্থ ত্যাগী দেশকর্মীসহ স্বাধীনতা-সংগ্রামীরা। ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৩ নভেম্বর কারাগারে নৃশংস হত্যার শিকার হলেন জাতীয় চার নেতা।

ষড়ন্ত্রকারীদের চক্রান্তে বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যা, প্রগতিশীল গণতন্ত্রকামী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সংগ্রামী বুদ্ধিজীবী মহলের ওপর সেনাশাসকদের অমানবিক অত্যাচার-নির্যাতন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় সামরিক বাহিনীর একটি ক্ষুদ্রাংশের অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালের কথিত বিচারে সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দুই মাসে ১১০০ থেকে ১৪০০ সৈনিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা এবং ঢাকায় ১২১ জন আর কুমিল্লায় ৭২ জনের ফাঁসি, কর্নেল তাহের হত্যা, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা, স্বাধীনতার শত্রু যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা, সামরিক শাসনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিনষ্ট ও সেনাবাহিনীকে জনবিচ্ছিন্ন করা, মানুষের ভোটের অধিকার লুণ্ঠন করে গণতন্ত্রকে বুটের তলায় পিষ্ট করে জনজীবনে অত্যাচারের যে লেলিহান শিখা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল; তাতে শহীদের আত্মা আবার বাংলার ঘরে ঘরে ফরিয়াদ করে ফিরতে থাকে আর বাংলার জনগণকে আহ্বান জানাতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের পর এদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
আজ সেসব ষড়যন্ত্রকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ শুরু হয়েছে, জাতির সামনে শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার সুযোগ এসেছে। শহীদের আত্মা আজ বাংলার ঘরে ঘরে ফরিয়াদ করে ফিরছে, একুশের চেতনা আর মুক্তিযুদ্ধের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠায় বাঙালি তুমি ঐক্যবদ্ধ হও, মানবতাবিরোধী, স্বাধীনতার শত্রুদের বিচার করে জাতিকে কর কলঙ্কমুক্ত।

১৯৭১ সালে মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম মানবতাবিরোধী বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। বোমা ও রকেট সজ্জিত বিমান বাহিনীর যুদ্ধ বিমান, নৌ বাহিনী, সাজোয়া বাহিনী, গোলন্দাজ বাহিনীসহ সব মারণাস্ত্র তারা ব্যবহার করেছিল বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে; ব্যবহার করা হয়েছিল সেনা ট্যাঙ্ক, গোলন্দাজ অস্ত্র, ভারী মেশিনগান, রিকয়েলেস রাইফেল, হালকা মেশিনগানসহ অন্য সব আধুনিক সমরাস্ত্র। স্ব স্ব বাসভবন থেকে ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের। যাদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, লেখক, শিল্পীসহ অনেক মেধাবী ব্যক্তিবর্গ। তারা হত্যা করেছিল ত্রিশ লক্ষ নিরীহ মানুষ আর পাশবিক অত্যাচার করে সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিল দুই লক্ষ মা-বোনের। পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল শত সহ¯্র বাড়িঘর। এক কোটি মানুষকে বাধ্য করেছিল বাড়িঘর ত্যাগ করে ভারতে শরণার্থী হতে। বাকি প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষের ওপর চলেছে অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিমরোলার।

পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর এসব জঘন্য অপরাধের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তাদের সঙ্গে কাজ করেছে স্থানীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর কিছু কুলাঙ্গার। মানুষ হত্যার জন্য গঠন করেছিল রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটি। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিনে মন্তব্য করা হয়েছিল : “রক্তই যদি স্বাধীনতার দাম হয় তবে বাংলাদেশ তা অনেক বেশিই দিয়েছে।” পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষ ২৫শে মার্চের সেই রাতে, ঘুমন্ত বাঙালির ওপর অমানবিক অপারেশন চালানোর সময় তাদের সৈন্যদের নির্দেশ দিয়ে বলেছিল যে, “মানুষ চাই না-মাটি চাই।”

এখন প্রশ্ন উঠেছে যারা গণহত্যাসহ মানবতা-বিরোধী অপরাধ করেছে তাদের আমরা কি বিনা বিচারে ছেড়ে দেব? যারা পতাকা পুড়িয়ে আমার মায়ের গায়ে আগুন দিয়েছে, আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো পবিত্র বেদী শহীদ মিনারে ভাংচুর করেছে তাদের এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন কী নিরবে সহ্য করব?

বর্তমানে কলম্বিয়া, বসনিয়া, রুয়ান্ডা, সিয়ারা লিয়ন, লাইবেরিয়া, সুদান, মোজাম্বিকসহ আরও অনেক দেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ সংগঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি সংগঠিত ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘর্ষ, সুদান ও শ্রীলংকার অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষেও সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি তোলা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আজ বিশ্ব দাবিতে পরিণত হয়েছে।

দালাল আইন-১৯৭২ এর মাধ্যমে স্থানীয় দোসরদের যুদ্ধের পরপরই দ্রুত বিচার শুরু হয়েছিল। এ আইনের অধীনে ৩৭ হাজার ৪৭১ জন সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়েছিল ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত। ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের আগে বড় অপরাধীরা বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং দেশের বাইরেই নিজেদের লুকিয়ে রাখে। ১৯৭৩-এ একটা কমিশন গঠন করা হয়েছিল : কতজন যুদ্ধাপরাধ করেছে আর কতজন পাকিস্তানিদের শুধু সমর্থনে ছিল, তা চিহ্নিত করার জন্য। যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায় ১১ হাজার মানুষরূপী নরপশুর বিরুদ্ধে, তাদের কারাগারেই রাখা হয়। এ সময় সাধারণ ক্ষমার আওতাধীনদের জন্য শর্ত ছিল : ক্ষমাপ্রাপ্তদের মধ্যে যদি কারও বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগ ভবিষ্যতে উপস্থাপিত হয় তারাও এই বিচারের আওতাধীন।

১৯৭২-৭৫ পর্যন্ত ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ওই সব দালালদের বিচারকাজ পরিচালনা করেছিল। ওই ৭৩টি ট্রাইব্যুনালে ২ হাজার ৮১৮টি মামলার নিষ্পত্তি হয়, যার মধ্যে ৭৫২ জনের মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পর, ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তে থেমে যায় কলঙ্কমুক্তির প্রক্রিয়া যুদ্ধাপরাধের বিচার। মৌলবাদীদের আনুগত্য ও সমর্থন অর্জনের জন্য সেনা শাসকরা সামরিক আইন জারি করে। ‘দালাল আইন প্রত্যাহার অধ্যাদেশ’-এর মাধ্যমে সবগুলো বিচারকার্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। যারা তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল তাদের তদন্ত প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যায় এবং সব অপরাধীদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এমনকি আদালত এর মাধ্যমে যাদের মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদের শাস্তি হয়েছিল সেই ৭৫২ জনকেও ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপরই পরাজিত শক্তির পুনর্বাসন শুরু করে তারা। সংবিধানের ‘পঞ্চম সংশোধনীর’ মাধ্যমে সেনা আইনের সব কাজ বিধিবদ্ধ করা হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সেনা আইনের শাসন থাকায় বিচারকার্য সংগঠিত করা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণেরই সেসব পরাজিত শক্তি, বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধীরা সমাজে পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, এমনকি তারা জাতীয় ক্ষমতার অংশীদার হয়েছে।

১৯৯১ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। সে আন্দোলন গণমানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়। কিন্তু তখনকার সরকার এ বিষয়টি ভালো চোখে দেখেনি; বরং আন্দোলনকারী নেতাদের গ্রেফতার করে সরকার এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে তাদের জেলে পাঠায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধনের পদক্ষেপ নেয়। ১৯৯৮ সালে সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়। অব্যাহত থাকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের আন্দোলন কার্যক্রম। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনের সাথে একাত্ম জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়।
নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সরকার এ বিচারকার্য বাস্তবায়ন করতে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে। থেমে নেই ষড়যন্ত্রকারীরা, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে দেশে-বিদেশে চলছে নানা চক্রান্ত। সাথে রয়েছে স্বার্থান্বেষী সুবিধাবাদী মহল। যুদ্ধাপরাধীরা পাচ্ছে রাজনৈতিক সহায়তা, তাদের পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজির ঘটনাও ঘটছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশেষত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনসভায় যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে বিচার বিরোধী বক্তব্য। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ, রাজপথে সাধারণ মানুষের ওপর অতর্কিতে হামলা করে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে স্বাধীনতা-বিরোধী চক্র। যুদ্ধাপপরাধীদের বাঁচাতে ওরা অন্ধকারের পথ বেঁছে নিয়েছে; শুরু করেছে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মালে অবশ্যই যুদ্ধে যেতাম_ তরুণ প্রজন্মের অনেককে এমন বলতে শুনি। তারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করে। বিপ্লব আর সংগ্রাম কখনো শেষ হয়ে যায় না; শুধু প্রেক্ষাপট পাল্টাই। পাল্টাই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ জন্ম দেয় সংগ্রামের, শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। জাতির শত্রু ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের দায়মুক্তির নবতর সংগ্রামই হলো বর্তমানের মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধের একটিই লক্ষ্য_ ’৭১-এর ঘাতক নরপশুদের বিচার করে শহীদের রক্তের ঋণ শোধের চেষ্টা করা।