ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে ভালই চলছিল মঞ্জুরুলের সংসার। উপজেলার লতিবপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের দিনমজুর তিনি। হঠাৎই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি মারফত জানতে পাইকান উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ হচ্ছে নৈশ্যপ্রহরী পদে। এই পদের প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন। নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। এর বিপরীতে বিদ্যালয়ে অনুদান হিসেবে প্রদান করতে হয় ৬৫ হাজার টাকা। পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া ৩০ শতক জমি বিক্রি করে টাকা তুলে দেন প্রধান শিক্ষকের হাতে। তাকে বিদ্যালয় থেকে দেওয়া হয় একটি নিয়োগপত্র। যথারীতি নৈশ্যপ্রহরী হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। শিক্ষা মন্ত্রনালয় হতে বিল বেতন পাশ করার নামে আরও টাকা দাবি করা হয়। বাড়িভিটা বিক্রি করে আরও ৮৫ হাজার টাকা দেন মঞ্জুরুল ইসলাম। তবে, দীর্ঘদিনেও বিল বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেন তিনি। এভাবে চলে যায় ৭ বছর। অবসর নেন ওই প্রধান শিক্ষক। এরপরেও দায়িত্ব পালন করতে থাকেন তিনি। পরের প্রধান শিক্ষক বদিউজ্জামান তাকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন। বের করে দেওয়া হয় বিদ্যালয় থেকে।”- এই ঘটনাটি প্রায় ১৯ বছর আগের।

 

মঞ্জুরুল ইসলাম ওই সময় নৈশ্য প্রহরীর দায়িত্ব পালন করলেও এখন তিনি জীবিকা নির্বাহ করে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে। ভ্যানের প্যাডেলই তার একমাত্র সঙ্গী। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন অন্যের বাড়িতে। এভাবে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন মঞ্জুরুল। অপরদিকে, প্রধান শিক্ষক ওই পদে নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এ খবর পাওয়া মাত্রই মঞ্জুরুল ভেঙ্গে পড়েন। ছুটে যান স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটির কাছে। কর্তৃপক্ষ মঞ্জুরুলের দাবির কর্ণপাত করেননি। সাংবাদিকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। নিয়োগপত্র পাওয়া মঞ্জুরুল এখনও ওই বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী বলে দাবিও করেন মঞ্জুরুলের। কিন্ত আবারও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রধান শিড়্গক বদিউজ্জামান বলেন, আমি তাকে বের করে দেয়নি। তিনিই ওই প্রতিষ্ঠানের নৈশ্য প্রহরী পদে দায়িত্ব পালন করতেন। ওই পদে নিয়োগ বাবদ কোন প্রার্থীর কাছে টাকা গ্রহন করা হয়নি। তবে, অনেক প্রার্থীই যোগাযোগ করছেন।