ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

 

ইন্টারন্যাশন্যাল শব্দটার মধ্যেই কেমন একটা বৈদেশিক ডলারের গন্ধ পাওয়া যায়। আর তা যদি হয় সুদূর যুক্তরাজ্য থেকে আগত তাহলে তো কথাই নেই। বিপদগ্রস্থ মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে এমন কিছু এনজিও রাজধানির বুকে চমৎকার ব্যবসা সাজিয়ে বসেছে। এ যেন অনেকটা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতোন। অর্থাৎ যাদেরকে নিয়েই এই ব্যবসা তাদের মধ্যেই কিছু কিছু মানুষকে অল্প বিস্তর পয়সার বিনিময়ে প্রতিনিধি করে দেওয়া যারা ভিক্টিমদের তথ্য সংগ্রহ করে দেয়। বলছিলাম ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত একটি ইন্টারন্যাশনাল এনজিও’র কথা।

নারী সাংবাদিকদের উপর বৈরী আচরন এ দেশে নতুন কিছু না। কেবল নারী নয়, সরকারী দল এবং জঙ্গীদের হামলার শিকার হয়েছেন এমন অনেক পুরুষ সাংবাদিক এখনো বিভিন্ন রকম মামলার মারপ্যাঁচে আটকে আছেন। এই এনজিওটির কাজ হচ্ছে নারী সাংবাদিকদের অসহায়তার কথা লিপিবদ্ধ করা এবং তাদের জন্য বিনে পয়সায় মামলা চালিয়ে যাওয়া, কাজটি তারা করছে ২০০৮ সাল থেকেই। তাদের নিজস্ব রেকর্ড অনুযায়ী নারী সাংবাদিকদের ২৯টি মামলা চলমান। এর মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে ঠাকুরগাঁও জেলার নার্গিস চৌধুরী এবং আঞ্জুমানা আরা বন্যার কথা। ২০১৪ সালের আগস্টে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব তাদেরকে অনৈতিক ভাবে বের করে দিলে তারা চাকরিচ্যূত হন এবং  হাইকোর্টে মামলা করেন। পরবর্তীতে এই এনজিও তাদেরকে আর্থিক সহায়তার কথা বলে মামলার কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখে দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেয় যে একটি প্রেস কাউন্সিল করে তারা মামলাটি বিনে পয়সায় পরিচালনা করবে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে গত পাঁচ মাসেও ফাইলটি কোর্টের মুখ দেখেনি, তাহলে তাদের নিযুক্ত উকিল কি করে মামলার নিষ্পত্তি ঘটাবে?

এদিকে নার্গিস এবং বন্যা একদিকে যেমন পুরুষ প্রধান নির্বাচনের যাতাকলে একবার নিষ্পেষিত হলো, অন্য দিকে নারী প্রধান তথাকথিত বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কর্পোরেট এনজিও’র কাছে প্রতিনিয়ত হেনস্থা হচ্ছে। প্রতিদিন যাচ্ছে তাদের গাড়ি ভাড়া, কিন্তু ফাইল নড়ছে না এক চুলো। এমন আরো অনেক মামলা ঝুলে আছে কোর্টে না গিয়েই।

এদের আরো একটি চমৎকার প্রোজেক্ট আছে, নাম- ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট প্রোজেক্ট। এর আসল কার্যকারিতা কি তা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা দেওয়া সত্যি কঠিন। যেখানে একের পর এক ব্লগারদেরকে নাস্তিক খেতাব দিয়ে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হচ্ছে সেখানে এই এনজিও কতিপয় পরিচিত ব্লগারদের কাছ থেকে  রেজিস্টার্ড ব্লগারদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং ই-মেইল সংগ্রহ করে তাদের ফোরামে ডাটাভুক্ত করে। অনেক ব্লগারদের ধারনাও নেই যে নিজের অজান্তে তাদের তথ্য তৃতীয় ব্যক্তির হাতে চলে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে কিছু ব্লগ মডারেটররা আসল ভূমিকা পালন করছে,কারন তাদের কাছেই সমস্ত তথ্য থাকে।এ পর্যন্ত বেশ অনেকজন ব্লগার বিভিন্ন রকম হুমকীর স্বীকার হয়েছেন, তারা ফোরামের মাধ্যমে এবং স্বশরীরে এই এনজিও’তে হাজির হয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এনজিও কেবল তাদের তথ্যটি সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট আকারে বানিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। কোথায় পাঠানো হয়েছে সে সম্পর্ক নির্দিষ্ট কোন তথ্য কারো জানা নেই, অপরদিকে ব্লগারদের উৎকন্ঠার মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এমন কয়েকজন ব্লগার এখন দেশের বাইরে আছেন যারা ইতিমধ্যেই তাদের কাছে সাহায্য চেয়ে নিরাশ হয়েছেন। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে এই ডাটা সাজিয়ে লাভ কী? হুম লাভ আছে ,লিস্ট যতো লম্বা ডলার ততো লম্বা। আর এই ডলার দেশিয় টাকায় কনভার্ট করলে একটা বিরাট অংক দাঁড়ায় যা দিয়ে দেশের অডিটকে খুশি রাখা সম্ভব।

সাংবাদিক বা ব্লগার যেই নির্যাতিত হোক না কেন আমরা এক তরফা রাষ্ট্রতন্ত্রকে দায়ি করে নিজেদের সচেতন নাগরিক হিসেবে জাহির করি। কিন্তু আমাদের পিঠের পিছে দাঁড়িয়ে মানবতার স্লোগান দিয়ে যারা এইসব সাংবাদিকদের ব্যবহার করছে তাকে রুখবে কে?