ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

এই বছর ১লা জানুয়ারি খুব ঘটা করে পালন করা হলো বই উৎসব। সারা দেশে চার কোটি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ি, দাখিল ভোকেশনাল, এসএসসি ভোকেশনাল, ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠী এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি পাঠ্যবই বিতরণ করা হলো। এই শিক্ষাবর্ষে ১০ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৬ জন শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ার ফলে অতিরিক্ত ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৯টি পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ’ সরকারের ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া কমেছে এবং বিদ্যালয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বই উৎসব শব্দটি আমার কাছে খুব অচেনা ঠেকছিল, কারণ আমি সরকারি স্কুল থেকেই এসএসসি করেছি, প্রতিবছর বোর্ডের বই পেতাম বছরের শুরুতে। কিন্তু কখোনই বই উৎসবের নাম শুনিনি, এটা এমন হতে পারে- শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কিছু নামী দামী কবি সাহিত্যিকদের বই বিনে পয়সায় শিক্ষার্থীদের পড়তে দেওয়া হচ্ছে। অনেকটা ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির মতো; কেউ হয়তো হাতে নিয়ে সুকান্ত পড়ছে কেউবা নজরুল। এই সব পড়তে পড়তে কোমলমতি শিশুরা কখনো হারিয়ে যাচ্ছে গহীন অরণ্যে, আবার কখনোবা ছুটে বেড়াচ্ছে ইতিহাসের খোলা প্রান্তর। কিন্তু বছর শুরু হতে না হতেই দেখা গেল ইংরেজি বইয়ের ভেতর বাংলা কবিতা অথবা ধর্ম বইতে অংক। বই উৎসব বুঝি একেই বলে- একের ভেতর দুই রূপ?

 

 

 

প্রকাশিত এক সংবাদ অনুসারে, “সরকারিভাবে বিতরণকৃত মাধ্যমিক শ্রেণির ধর্মের পাঠ্যবইয়ে অংক আর ইংরেজি পাঠ্য বইয়ে ছাপা রয়েছে বাংলা কবিতার পাঠ্য। ভুলেভরা পুরো পাঠ্য বই। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জেলার মহেশপুর উপজেলায় বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণির ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ে অংকের পাঠ্য ছাপা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে বাংলা কবিতার পাঠ্য ছাপা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহানুর আলম জানান, শুধু এক পৃষ্ঠা দুই পৃষ্ঠা নয়। ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠা থেকে ৫৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত বাংলা কবিতা ছাপা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির অংকের একাধিক বইয়ে ৪/৫ পৃষ্ঠায় কোন পাঠ্য বিষয় ছাপা হয়নি।”

 

 

বই উৎসবের তাণ্ডব দেখতে দেখতে ধরেই নিলাম এবার বুঝি গোল্ডেন জিপিএ-র বাজার দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দিয়ে ভরে যাবে। আমি কিন্তু খুব ভুল ভাবিনি, এবার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট তাই বলে দেবে। ফাইনাল পরীক্ষার আগেই উত্তরপত্র চলে আসছে হাতের মুঠোফোনে! এমন চমক কে দেখেছে কবে! সুধীজনরা বলেছেন, পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস কেবল এই দেশে নয়, সুদূর চীনেও ঘটে। কিন্তু এমন নজিরবিহীন বেফাঁস আর কোথাও কবে ঘটেছে তা ইতিহাসে উল্লেখ আছে বলে মনে হয় না। এসএসসি থেকে বিসিএস যেন রেলগাড়ির প্রথম কামরা থেকে শেষ কামরা, একজন প্যাসেঞ্জার দিব্যি হেঁটে বেড়াচ্ছেন। যে লোক জীবনের শুরুতেই চুরি বিদ্যা রপ্ত করে থাকে, তার এই অভ্যাস সে মৃত্যূর আগ অব্দি বজায় রাখে।

“ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপ ও পেইজে একাধিক আইডি থেকে বাংলা প্রথমপত্র প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ দিয়ে বলা হচ্ছে দ্বিতীয়পত্রের চার সেট প্রশ্নই তারা নিশ্চিতভাবে ফাঁস করবে। প্রশ্ন পেতে ইনবক্সে যোগাযোগ করতেও বলা হচ্ছে। কেউ কেউ খুবই অল্প টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলছে, কেউ বলছে বিনামূল্যেই দেবে। নিশ্চিতভাবে প্রশ্ন ফাঁস করতে পারে তা প্রমাণ করার জন্য একটি গ্রুপে এমনও বলা হয়েছে, গ্রুপের পেইজেই পরীক্ষার আগে উন্মুক্তভাবে উত্তরসহ প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া হবে; মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংযুক্ত হওয়ারই দরকার নেই।” সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 

 

এমন বিজ্ঞাপন সম্বলিত প্রশ্ন ফাঁস অবশ্য মাইলফলকের দাবীদার। এর জন্য অবশ্যই শিক্ষামন্ত্রী পুরস্কার পাবার দাবি রাখেন; অবশ্য গত বছর শিক্ষাখাতে অনাবিল গু্রুত্ব রাখার জন্য তিনি ইতিমধ্যে তা পেয়েও গেছেন।

“শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ভারতের মুম্বাইয়ে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের তাজ হোটেলে দু’দিনব্যাপী ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস চলাকালে তাকে এ অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান, অন্যদের জীবনের জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ এবং সামাজিক পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। দেশে ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তার বিভিন্ন অর্জনও মূল্যায়ন করা হয়।” সূত্র: বাংলানিউজ২৪.কম

 

 

যারা শিক্ষামন্ত্রীকে এমন অমূল্য পুরস্কারে ভূষিত করলেন তাদের সাথে তার আসলে কি কানেকশান রয়েছে তা আমাদের মতোন আমজনতার জানার কথা নয়। আমরা শুধু দেখেই যাচ্ছি গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা না দিয়েও পাশ করিয়ে দেবার যে মহা উৎসব রচনা হয়েছে তাতে করে এক দংগল অশিক্ষিত মূর্খ জাতি আমাদের পরবর্তি প্রজন্মকে লিড করবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের দেশের কয়জন মন্ত্রীর ছেলে মেয়ে বা নাতি নাতনি বাংলা মিডিয়ামে পড়ে বা বাংলাদেশে পড়ে তা খুব জানতে ইচ্ছে করছে।আপনি নিজে যদি কাঁচা লংকা দিয়ে ভাত মেখে খেতে না পারেন, তবে কাঁচা লংকার ঝালের তীব্রতা অন্যকে বোঝাবেন কী করে!

প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যর্থতার জন্য ছাত্র ফেডারেশন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবি দিয়েছে। দাবিসমূহ- ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও দায়ী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, দলীয় স্লোগান ব্যতীত ভুল সংশোধন করে দ্রুত সময়ে পাঠ্যপুস্তক বিদ্যালয়সমূহে পৌঁছে দেয়া, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের পূর্বে শিক্ষাবিদদের নিয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও তা জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা ও দেশের বই দেশে ছাপাতে হবে। সংগঠনের সভাপতি সৈকত মল্লিক বলেন, পাঠ্যবইয়ে ভুল, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতিসহ প্রশ্ন ফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রী ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন না, তিনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পুরো ব্যর্থ। আঠা দিয়ে ভুল ঢাকার হাস্যকর পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। সূত্র: জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 

 

প্রশ্নফাঁস ঠেকানোর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, কমিটি পর্যন্ত গঠন করা হয়েছে, প্রতিদিন অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীদের ‘উঠিয়ে’ নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু পরের দিন আবার প্রশ্ন আউট হচ্ছে ফেইসবুকে। বিষয়টা এমন- ফেইসবুক নিজে গিয়ে হলের ভেতর প্রশ্ন আউট করে দিচ্ছে, তাই ইন্টারনেটের গতি স্লো করা হলো। কিন্তু মাঁচার ওপর যে চোর সে আর নামলো না। সারা বিশ্বে একই সাথে আইইএলটিএস এবং ও-লেভেল, এ-লেভেলের মতোন অনেক বড় বড় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, তাদের প্রশ্ন ফেইসবুকে পাওয়া যায় না। তাহলে কি গোড়াতেই গলদ?

যে অশিক্ষার বীজ আমরা আরো কয়েক বছর আগেই রোপণ করেছিলাম তারই ফল পেকেছে। আর আমাদের শিশুরা অবুঝের মতোন তাই পেড়ে খাচ্ছে। তারা একদিন এমন গাছ লাগাবে, তাই খাবে তাদের পরের প্রজন্ম। সে বীজ খুঁজে বের করার দায়িত্ব নিশ্চয়ই তাদের যারা তা বপণ করেছিল নিজের সাধ্য হাসিলের জন্য।

এই প্রশ্ন ফাঁসের দৌরাত্ম্য দেখে শিক্ষা সচিব মনে হচ্ছে নিজেই ভড়কে গেছেন, অসহায় হয়ে পড়েছেন, যা তার কথাতেই প্রকাশ পায়-

“৩০ হাজার মানুষের সম্পৃক্ততায় প্রশ্নপত্র তৈরি ও বিতরণ করা হয়। এরমধ্য থেকে যদি একজন অসৎ হন তাহলে পুরো ৩০ হাজার মানুষের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রশ্ন ছড়িয়ে যাচ্ছে, প্রশ্নফাঁসকারীরা সহজেই কাজটা করছে। নতুন কোনো প্রক্রিয়ায় যেতে হবে, তা না হলে এই প্রযুক্তির যুগে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো যাবে না।”

তাই আগামী বছর থেকে পরীক্ষা পদ্ধতিই পাল্টে দেবার ভাবনা করছেন তিনি!

“পরীক্ষার বর্তমান পদ্ধতি পরিবর্তনে আমি নিজে কাজ করছি। একটি উপায় আমরা অবশ্যই বের করবো এবং বিশেষজ্ঞদের এ কাজে সম্পৃক্ত করবো। নতুন পদ্ধতিতে আগামী বছর থেকে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যে পদ্ধতি নিয়ে জনমনে আর কোনও প্রশ্ন থাকবে না। আর এমসিকিউ অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তা কতটুকু ভালো উদ্যোগ সে বিষয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে। এই পদ্ধতিটি খুবই ঝামেলা করছে। এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমি মনে করি, প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে এমসিকিউ অনেকাংশে দায়ী।”

তবে জাতিকে কিছুটা আশাবাদী করতে চাইলেন এভাবে বলে- “প্রশ্নফাঁস কোথা থেকে হয় তার মূলে আমরা এখনও পৌঁছাতে পারিনি। তদন্ত সংস্থার সদস্যরা সমস্যার ‍মূলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা নিশ্চয়ই এর একটা সুরাহা বের করে ফেলবেন।” সূত্র: বাংলাট্রিবিউন

পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারও।

তিনি মনে করেন, “প্রচলিত পদ্ধতিতে আমরা যে পরীক্ষা গ্রহণ করি, প্রশ্ন যেভাবে প্রস্তুত করি এবং যেভাবে প্রশ্ন করা থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থী পর্যন্ত পৌঁছায়- এই প্রক্রিয়াটি এই রকম এবং দীর্ঘ দিন যাবৎ এমনভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে যে এত সব মানুষ এত স্তরে যুক্ত আছে, এটি যে কারও জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ যে পুরো প্রক্রিয়াটার মধ্যে একেবারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বিধান করা। কারণ, একজন, দুজন, চারজন, পাঁচজন মানুষ থাকলে সেটি পাহারা দেওয়া সহজ, কিন্তু এত মানুষের সংশ্লিষ্টতায় নিরাপত্তা বিধান করা তত সহজ না।”

তাই পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের মধ্যে এর সমাধানের পথ খুঁজতে চান তিনি। তার মত, “বস্তুতপক্ষে আমি যেটি বিশ্বাস করি সেটি হচ্ছে, যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হয়, যে পদ্ধতিতে প্রশ্ন তৈরি হয় এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি, আমার মনে হয় এটা নতুন করে ভাবার সময় হয়েছে। নতুন করে যদি না ভাবি তাহলে এই প্রচলিত পদ্ধতি, আমাদের আসলে শত শত বছরের প্রাচীন পদ্ধতি ডিজিটাল যুগে অচল হতে পারে।” সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

 

 

এবার একটি অন্যভাবে এবারের প্রসঙ্গটা শেষ করতে চাই। পাঠ্যবই বাদেও যে জগতে পড়বার জন্য আরো কোন বই থাকতে পারে তা এই সময়কার ছেলেমেয়েরা বলতে গেলে জানেই না (একমাত্র মুখবই ছাড়া)। ওই একটি বই পড়তেই তাদের বড়ই আগ্রহ। ইদানিং বইমেলায় গেলে দেখা যায় ছেলে-মেয়েরা একে অন্যের হাত ধরে হাঁটতে আর সেলফি তুলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বইপত্র তেমন দেখা যায় না। কিছু আধুনিক বাবা-মা আছেন যারা আয়োজন করে ছেলে-মেয়েদের হাতে গল্পের বই তুলে দেন, কিন্তু সেই বইতে তারা কতোটুকু মুখ রাখে সেটা দেখবার বিষয়। বই পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা আসলেও খুব কম, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীতে একবার ঘুরে আসলেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

আমাদের সময় ইন্টারনেট ছিল না, কিন্তু পাঠ্যবইয়ের মাঝখানে গল্পের বই রেখে চুরি করে পড়ার অভ্যেস ছিল প্রচুর। এখন বইয়ের মাঝখানে রেখে মুখবই পড়ার প্রচলন এসেছে, সেজন্য নিশ্চয়ই নেটের লাইন ছিন্ন করে দেওয়া সমাধান হতে পারে না। এখন বই পড়াতো অনেক সহজ, কারো কাছে ইতিহাস খুব খটমটে মনে হতে পারে, সে ইচ্ছে করলেই কিন্তু ইউটিউবে সার্চ দিয়ে মোঘল সাম্রাজ্য ঘুরে দেখতে পারে। এইভাবে ধীরে ধীরে তার জানার আগ্রহ বাড়বে আর তখনি সে পড়তে চাইবে।

এই দেশের অভিভাবকরাই এখন কোচিং সেন্টার থেকে পয়সা দিয়ে প্রশ্ন উত্তর কিনে নেয়, জানালা দিয়ে সন্তানদের নকল সাপ্লাই দেয়।কারো মধ্যে নিজ সন্তানকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করার তাগিদ নেই, কেবল গোল্ডেন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। শর্টকাট উপায়ে কিভাবে ভালো রেজাল্ট করা যায় তারই অন্ধ প্রতিযোগিতা চলছে সবার মধ্যে। আর এই প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে গেছে এখনকার বাচ্চারা, তারা না বুঝেই নেট থেকে উত্তর কিনে নিচ্ছে, কেউবা পাচ্ছে বিনে পয়সায়। সবার একটাই টার্গেট– ভালো রেজাল্ট করতে হবে। কারণ, আমাদের শিক্ষক বা অভিভাবক কেউ বলেন না– ভালো একজন মানুষ হতে হবে।

ছোটবেলায় একটা প্রচলিত প্রবাদ খুব মনে পড়ছে– আগের হাল যেখানে যায়, পিছনের হালও সেখানেই যায়। এই পিছনের হালকে উদ্ধার করবে এমন মানুষ কই?