ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

এই শীতে নবান্ন, রসের পিঠা ও বিজয় দিবসসহ নানা উৎসবের মধ্যে অন্য আমেজ নিয়ে আসে ‘বই উৎসব’। নতুন বছরে নতুন বই পেয়ে স্কুলের শিশুরা আনন্দে মেতে ওঠে।

পিরোজপুর জেলায় স্বরূপকাঠি উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নে রাজাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাও বছরের প্রথম দিন মেতেছিল নতুন বইয়ের ঘ্রাণে।

 

পড়াশোনার মান ও শিক্ষার্থীদের ফলাফলের হিসেবে খুব ভালো অবস্থানে থাকা এ বিদ্যালয়টি ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। একটি একতলা ভবন আর একটি ভগ্নপ্রায় টিনশেড নিয়ে এ বিদ্যালয়টি চলছে বহুবছর ধরে। এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা বেশ খারাপ। কোমল মতি ছাত্রছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে পথ চলাচল করে।

এতোসব প্রতিকূলতাও বই উৎসবের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বছরের প্রথম দিনেই ছাত্রছাত্রীদের হাতে পৌঁছে যায় নতুন বছরের নতুন বই।

এই অনন্য কৃতিত্ব বর্তমান সরকারের। এর আগে শিশুদের জন্য নতুন ক্লাসের বইয়ের ব্যবস্থা করতে অনেক অভিভাবককে হিমসিম খেতে হতো। কখনো কখনো বাজারে পর্যাপ্ত পাঠ্যবই পাওয়া যেত না। টাকা থাকলেও অনেকে যথাসময়ে সন্তানের হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারতেন না।

গ্রামঞ্চলে স্বল্প আয়ের অনেক অভিভাবক সন্তানদের জন্য ব্যবহৃত পুরোনো বই কম দামে সংগ্রহের চেষ্টা করতেন। অনেক শিক্ষার্থী বছর শুরু হওয়ার দুই তিন মাস পরে বই হাতে পেতো। নতুন ক্লাসে উত্তরণ যেমন ছিলো আনন্দের – তেমনি নতুন বই সংগ্রহ কখনো বেদনার কারণ হয়ে উঠতো।

এসব গল্প এখন অতীত। বর্তমান সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে শিশুদের পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করছে। এসব বই বছর শুরুর আগেই বিদ্যালয়ে পৌঁছে যায়। নতুন বছরে নতুন বই নিয়ে এখন শুধুই আনন্দ – আনন্দের উৎসব।

মন্তব্য ৩ পঠিত