ক্যাটেগরিঃ জনজীবন, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

শীত মানেই খেজুর রসের গুড়, পায়েস আর নানারকম পিঠা।

কিন্তু শুকনো খেজুর গাছ থেকে এই সুস্বাদু রস বের করার কাজটি কোনো সহজ শিল্প নয়। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলায় এই কাজে যারা দক্ষ তাদের ‘হিয়ালি’ বলা হয়।

শীতের শুরুতেই গাছের উপরের দিকে, পাতার নীচের অংশে ছাল তুলে রাখতে হয়। শীত জেঁকে বসলে ওই অংশে খাঁজ কেটে, খাঁজের শেষ মাথায় বাঁশের কঞ্চি গেঁথে তার নীচে মাটির হাঁড়ি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ওই খাঁজ থেকে বাঁশের কঞ্চি বেয়ে রস এসে হাঁড়িতে জমতে থাকে। শেষ রাতে বা খুব সকালে রসে ভরা হাড়ি গাছ থেকে নামানো হয়। এই রস দিয়ে সকালে আতপ চালের পায়েস বা ‘সিন্নি’ করে গ্রামে।  মজার মজার পিঠা ও খেজুরের গুড় বানাতে লেগে পড়েন বাড়ির মেয়েরা। তাজা খেজুরের রস দিয়ে নিজের হাতে পিঠা, পায়েস এবং ঝোলা গুড় তৈরি করার আনন্দ একেবারেই অন্যরকম।

 

 

আগে গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে খেজুর গাছ দেখা যেত। যাদের বেশি খেজুর গাছ ছিলো – তারা খেজুর রস ও গুড় বিক্রিও করতেন। খেজুর গাছ অনেকের জন্যই  আয়ের উৎস ছিল।

এখন বেশি লাভের আশায় সুপারি, আমড়া ও নারকেল গাছ লাগানো হচ্ছে। মানুষের অনাগ্রহ ও অবহেলায় বর্তমানে এ অঞ্চলে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। আমাদের গ্রামের বাড়িতেও টিকে আছে একটি  মাত্র খেজুর গাছ। শীতকালে ওই গাছ থেকে অল্পস্বল্প খেজুরের রসও  পাই আমরা।

তবে আগের মত লাভজনক না হওয়ায় আজকাল কেউ রসের জন্য খেজুর গাছ কাটতে আগ্রহী হন না। আর যাদের এখনো কিছু গাছ অবশিষ্ট আছে তারাও গাছ কেটে রস বের করার জন্য ‘হিয়ালি’ খুঁজে পান না।