ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
লেখকের পিএইচডি এডভাইজর প্রফেসর ওয়াং

কিছু মানুষ আছেন যারা কেবল শেয়ার বাজারের একধরনের খুচরা শ্রোতা, তারপর সেই শ্রোতাদের মাঝে থেকে কেউ কেউ ভক্তে পরিণত হয় এবং একটা সময় পর আরও আপগ্রেড হয়ে শেয়ার বাজারে অন্তভুক্ত হয় । আসলে গল্প শোনার শ্রোতারা ভুল করে সেখানেই যে তারা শুনে শুনেই ভক্তে পরিণত হয়ে যায়, তখন তারা অনেকটা অন্ধের মত কাজ করে থাকে কোন ধরনের বিচার-বিশ্লেষণ না করে গুজব শুনে বিনিয়োগ করে থাকে । অন্যদিকে যদি এমনভাবে চিন্তা করেন যে, একটা কোম্পানিকে আমি ছাগল হিসাবে ধরলাম, এখন সেই ছাগলটা যদি তরতাজা এবং স্বাস্থ্যবান না হয় তাহলে কি সবাই ভাগ বেশী মানুষ মাংস পাবে ? আবার তার মাঝে যদি যে ভাগ করে দেওয়ার কাজ পেয়েছে সে নিজের ভাগে একটু বেশী রাখার জন্য মাপে চুরি করে বেশী মাংস নিজে নিয়ে নেয় এবং সাথে তার পরিচিত অন্য অংশীদারকে মাপে বেশী দেয় তাহলে অন্যদের সাথে কি প্রতারণা করা হবে না ? আমি আজ সেইসব খুচরা শ্রোতাদের উদ্দেশে লিখতে বসেছি, যারা শেয়ার বাজার সম্পর্কে ভালো করে না যেনে শুনে গুজবে কান দিয়ে বিনিয়োগ করে থাকেন ।

আমি যেহেতু চীনের শেয়ার বাজার নিয়ে লেখাপড়া করতেছি তাই সেইটা দিয়ে লেখাটা শুরু করলামঃ চীন এর শেয়ার বাজার প্রায়ই হাস্যকর একটা জিনিষ, চীনের অনেক মানুষের কাছে এখনো অনুরূপ প্রাচীন চীনা উপকথার মতো, অনেক কারণ দেখা যায় সহজ কিন্তু সহজ জিনিস প্রায়ই খুব জটিল এবং কিছু কিছু মানুষের চোখ আছে এটি হল আলাদীনের রূপ-কথার চেরাগের মতো । তাই যদি না হতো কি করে চীনের অর্থনীতির মত করে চীনের শেয়ার বাজার এত দ্রুত বিশ্বের প্রথম সারির শেয়ার বাজারে পরিণত হল ? আমার পিএইচডি এডভাইজর প্রফেসর ওয়াং — অসাধারণ গুণী একজন অধ্যাপক, বলা হয়ে থাকে চীনের শেয়ার বাজারের জন্ম এবং উন্নয়ন যে কয়েক জনের হাত ধরে তাদের মধ্যে প্রফেসর ওয়াং একজন, শুধুমাত্র শেয়ার বাজার নয় চীন সরকারের অর্থনীতি উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করছেন সেই প্রায় একযুগ থেকে । প্রফেসর ওয়াং কাছে একদিন গল্প করার ফাঁকে জানতে চাইলাম চীনের শেয়ার বাজার এতো অল্প সময়ে সফল হওয়ার কারণটা কি ? প্রফেসর ওয়াং এককথায় বললেন, চীনের শেয়ার বাজার হল ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার,’ বাজার ।

১৯ই ডিসেম্বর, ১৯৯০ চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী নামে পরিচিত সাংহাই তখন সকাল ৯:৩০ মিনিট আগের ইষ্ট ফাইনান্স সেন্টার চল্লিশ বছরের মধ্যে প্রথম এমন শব্দহীন ভাবে নীরবতা পালন করেছিল কারণ সেইটা ছিল বর্তমান চীনের প্রথম শেয়ার বাজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রথম স্টক এক্সচেঞ্জ পেয়েছিল চীন । জন্মগ্রহণ করে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ । তার ঠিক কয়েক মাস পর ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে সেনজিয়ান স্টক এক্সচেঞ্জ এর জন্ম হল । চীনের শেয়ার বাজার ২৪ বছর শেষ করে ২৫ বছরে প্রদার্পন করেছে যেমন করে একটা মানুষ ২৫ বছর সময়ে পরিপক্ব হয় ঠিক তেমনি করে আজ চীনের অর্থনীতি শুধু পরিপক্ব নয় এই যেন ২৫ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পেয়ে যাওয়ার মত ।

২৪ বছর পরে আজ চীন এর স্টক মার্কেট দাঁড়িয়েছে প্রাইমেরি শেয়ারের মূল আস্তানা হিসাবে, মোট বাজার মূলধন অনুসারে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থান অর্জন করে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে করে বিনিয়োগকারীদের আস্তা অর্জনের দিক দিয়ে এখন প্রথম সারিতে চলে গেছে ।

অন্যদিকে আমাদের দেশের শেয়ার বাজার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৫২ সালের প্রথম দিকে যখন কোলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জে পাকিস্তানের সকল শেয়ার এবং সিকিউরিটিজ লেনদেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তৎকালীন প্রাদেশিক শিল্প উপদেষ্টা পরিষদের তত্বাবধায়নে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্টক মার্কেট প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। ১৯৫৩ সালের ১৩ই মার্চ শেয়ার মার্কেট বিষয়ক এই কমিটির দ্বিতীয় মিটিংয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের কারনে দেশ ভাগের পর শেয়ার ট্রেডিং ৫ বছর বন্ধ ছিল যা ১৯৭৬ সালে আবার পুনরায় শুরু হয়। দেশের দ্বিতীয় শেয়ার বাজার প্রতিষ্ঠিত হয় তার অনেক পরে, ১৯৯৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নামকরণ করা হয় বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নামে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ । ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অটোমেটেড ট্রেডিং সূচনা করা হয় ১০ আগস্ট ১৯৯৮ সাল এবং শুরু করা হয় ১ জানুয়ারি ২০০১ সাল।

এই সবকিছু বিবেচনা করলে দেখা যায় বাংলাদেশের শেয়ার বাজার চীনের শেয়ার বাজারের তুলনায় অনেক বেশী পুরাতন সেই তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে আমাদের দেশের শেয়ার বাজার এমনকি অর্থনীতি । অনেকে হয়তো চিন্তা করছেন আমি হয়তো পাগল কারণ তাই যদি না হতাম তাহলে আমি কেন আয়তনে যেখানে চীন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ সেখানে বাংলাদেশ অতি ক্ষুদ্র একটা দেশ এমনকি চীনের কিছু কিছু শহর আছে যেগুলো আয়তনে আমাদের দেশের তুলনায় বড় । এখন আমার প্রশ্ন হল সিঙ্গাপুর কি বাংলাদেশ থেকে বড় না ছোট ? আর অন্য দিকে বিবেচনা করতে হবে বাংলাদেশ হল সদ্য স্বাধীন হওয়া একটা দেশ যার জন্ম ১৯৭১ সালে ।

শেয়ার বাজার নিয়ে অনেকের একটা ‘মূর্খ ভাবনা’ আছে যে শুধু মাত্র বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের হঠাৎ করে আকাশ চুম্বি হয়ে যায় আবার সেই বাজার হঠাৎ করে মাটিতে নেমে যায় ; কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারনা । অ্যামেরিকা, জাপান, ভারত সহ বড় বড় স্টক এক্সচেঞ্জ আমরা দেখতে পাই স্টক মার্কেট বাবল (stock market bubble economy) হয়েছিল , চীনেও এর বেতিক্রম হয় নি । ২০০৫ সালে ইয়েন (RMB) / মুদ্রা বিনিময় হার সংস্কার করা হয় যাতে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায় এবং বাজার দর বাড়িয়ে দেওয়ায় শেয়ার বাজার আকাশ চুম্বি হয়ে যায় ৯৯৮ পয়েন্ট থেকে সরাসরি ৬১২৪ পয়েন্ট গিয়ে দাঁড়ায় । ২০০৭ সালে চীন সরকার একটা সংকুচিত মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে কোটা ব্যবস্থা পরিচালনার বাস্তবায়ন করে ঠিক সেই কারনে স্টক মার্কেট ৬১২৪ পয়েন্ট থেকে ১৬৬০ পয়েন্ট এসে পতিত হয়েছিল যাকে বলা হয় চীনের অর্থনীতি ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় ।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দুই বার আঘাত করা হয়ে গেলো, ১৯৯৬ সালে যখন প্রথম শেয়ার বাজার পতন হয়েছিল সেই সময়টা কে বলা হয়ে থাকে আমাদের দেশের শেয়ার বাজারের উঠতি সময় ছিল । তখনো আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ শেয়ার বাজার নিয়ে এতো মাথা ঘামাত না অথবা বলা যায় বুজত না কিন্তু সর্বশেষ ২০১০ সালের শেষের দিকে যে পতন হয়েছিল সেইটা ছিল অকল্পনীয়, ২০১০ সালের শেষের দিকে ৮৯০০ পয়েন্ট থেকে অক্টোবর ২০১১ সালে ৫৫০০ পয়েন্টে চলে আসে; যার জন্য অনেকে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট কে ক্যাসিনো অথবা অর্থনীতির জুয়ার বাজার বলেও ডেকেছেন ।

আমার দেখা অনেকে হঠাৎ কোটিপতি থেকে রাস্তায় বসে গেছেন, অনেক মানুষ আত্মহত্যার মতো অপমৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছিলেন সেই সময় । সেইসব দিন গুলো কল্পনা করলে এখনো চোখে জল এসে যায়, যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলার বাজিতে দ্রৌপদীসহ সর্বস্ব হারাতে হয়েছিল। একেতো তা ছিল ভাগ্যনির্ভর খেলা। তার ওপর, দুর্যোধনের মন্ত্রণাদাতার ভূমিকায় ছিল তার দুষ্ট ‘শকুনী মামা’। কিন্তু আমি কোন ভাবেই শেয়ার বাজারকে জুয়ার বাজার বলতে পারবো না আমার মতে আমাদের জীবনের প্রতিটা সময় আমরা ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে থাকি তেমনি শেয়ার বাজারে ঝুঁকি আছে কিন্তু সেইটা কক্ষনো ক্যাসিনো অথবা জুয়ার মত ঝুঁকি না, আমি এই ঝুঁকি কে বলতে চাই বিনিয়োগের ঝুঁকি ।

বিনিয়োগকারীদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো হুজুগ আর গুজবে কান না দিয়ে কোম্পানির প্রোফাইল ভালো ভাবে বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করেন, তাহলেই দেখবেন অর্ধেক সমস্যার আপনা-আপনি সমাধান হয়ে যাবে । শেয়ার বাজারে বড় পুজির বিনিয়োগকারীরা খেলা খেলেছিল আগেও এমনকি আগামীতে তারা তাদের খেলা খেলে যাবে । বিশ্বের সব দেশেই এমনটি হয়ে থাকে, কিন্তু সবখানে বিনিয়োগকারীরা সর্তক থাকেন; এর মাজে যারা অন্ধকারে ডিল মেরে পার পেতে আসেন তারা খুব বেশী দুর যেতে পারে না । তবে আমাদের দেশের আরেকটি সমস্যা হল আমাদের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্টানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই অসৎ সেই জন্য দেখা যায় আমাদের সমস্যা টা খুঁজে পেলেও সমাধান করতে অনেক কষ্ট হয় ।

শেয়ার কেনার আগে অবশ্যই ইনভেস্টরকে কিছু জিনিস দেখে বিবেচনা করে শেয়ার কেনা উচিত। অন্য কারোর কথা শুনে হুট করে না বুঝে শেয়ার কেনার কোন মানেই হয় না । অন্য কারোর কথা শুনে অথবা গুজবে কান দিয়ে বিনিয়োগ করলে তাতে দেখা যায় মাঝে মধ্যে মুনাফা হতে পারে কিন্তু ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ।

বিনিয়োগের প্রথমেই আপনাকে দেখতে হবে শেয়ারটি কোন শ্রেণীর । চেস্টা করবেন এ (A) অথবা ভাল কোম্পানি হলে এন (N) শ্রেণীর শেয়ার কিনতে । কিন্তু সেইটা মনে রাখতে হবে এ (A) শ্রেণীর শেয়ার সবসময় ভাল নাও হতে পারে, আপনি যে বছর কিনবেন ঐ বছর তাদের ব্যাবসা খারাপও যেতে পারে ।

দ্বিতীয়ত দেখতে হবে কোম্পানির ইপিএস (EPS, Earning Per Share) এর কি অবস্তা ? ইপিএস যদি কম হয় তবে সেই কোম্পানির শেয়ার কেনা কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে ? যে কোম্পানির শেয়ারের নিজস্ব কোন আয় নেই সেই শেয়ারের দাম কিভাবে বাড়বে ? আর যদিও ঐ শেয়ারের দাম বাড়তি থাকে তবে ধরে নিবেন নিশ্চয়ই কোথাও কোন সমস্যা আছে ।

তৃতীয়ত দেখতে হবে শেয়ারের পি.ই (PE, Profit Earning Ratio) কত? যে শেয়ারের পি.ই যত বেশি সেই শেয়ার তত অতি মূল্যায়িত । সাধারণত শেয়ার বাজারের ২৫ এর চেয়ে বেশি পি.ই কে ঝূকিপূর্ণ বলে ধরা হয় ।

শেয়ার কেনার সময় এক কোম্পানীর শেয়ার একেবারে বেশি করে না কিনে , ৪-৫ টা কোম্পানীর শেয়ার মিলিয়ে কেনা উচিত । তাতে একটা দাম কমে গেলে যদি আরেকটা দাম বাড়ে তাহলে গড় এ লাভ থাকবেন । কারণ একটা কথা আছে এক ঝুড়িতে সব দিম রাখতে নেই, যদি ঝুড়িটা পড়ে যায় তাহলে সব ডিম ভেঙ্গে যাবে । আমি শুধু একটু ধারনা দিলাম, কি ভাবে কিনবেন বা বিক্রয় করবেন পুরু বিষয়টি আপনার নিজের উপর ।

আমাদের বাজারে দুই শ্রেনীর শেয়ার ক্রেতা রয়েছে – এক দল শেয়ার বিনিয়োগকারী আর আরেক দল শেয়ার ব্যবসায়ি । বিনিয়োগ আর ব্যবসার মধ্যে যে বিস্তর ফারাক আছে তা অনেকেই বুঝতে অক্ষম ।

বিনিয়োগকারী: বিনিয়োগকারী তারাই যারা কোম্পানির আয়-ব্যায় অর্থাৎ লাভ-লোকসানের উপর ভিত্তি করে শেয়ার কেনে এবং বিক্রির জন্য আদর্শ সময়ের জন্য অপেক্ষা করে । তাই পড়তি বাজার তাদের জন্য কেনার সময় আর উর্ধমূখী বাজার হল বিক্রির সময় । আর আমাদের শেয়ার বাজারের বেশির ভাগ কোম্পানির বৎসর সমাপনী মাস হল ডিসেম্বর তাই মার্চ-মে হল বিক্রির সময় । আবার অক্টবর-নভেম্বর মাসের মধ্যে যেহেতু কোম্পানি তাদের অর্ধবার্ষিক আয়ের হিসাব দিয়ে দেয় তাই এই সময়টা হল কেনার সময় ।

ব্যবসায়ি: এরা মূলত বাজারে বিভিন্ন গুজব সৃষ্টি করে বিশেষ কোন শেয়ারের ভার্চুয়াল প্রাইস গেইন ঘটায় এবং এটা নিয়ে ব্যবসা করে। যেহেতু এই দাম বৃদ্ধির সাথে মূল কোম্পানির আয়-ব্যয়ের কোন সম্পর্ক নেই তাই এটা অনেকটা গ্যাস ভরা বেলুনের মত ফুলতেই থাকে কারন অজ্ঞ এবং শ্রোতা শ্রেনীর বিনিয়োগকারীরা তখন এই কাতারে সামিল হয়ে দাম বারায় । আর পরিনতি স্বরুপ লাইনের শেষ প্রান্তে দাড়ান মানুষগুলোর পকেট খালি হয়ে রাস্তায় বসে পরতে হয় ।

আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে আপনি কি হবেন ব্যবসায়ি নাকি বিনিয়োগকারী, বিনিয়োগকারী হলে দীর্ঘকালীন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন অনেক সময় কম মুনাফা হতে পারে কিন্তু ব্যবসায়ি হতে চাইলে হয়তো ভাগ্য ভালো হলে অল্প কিছুদিনে পকেট ফুলে যেতে পারে আবার বিপরীত দিকে সবকিছু হারিয়ে আত্মহত্যা পথও বেছে নিতে হতে পারে ।

আমরা দেখছি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ গত কয়েক বছরে বাজার উন্নয়নের যে গতিধারা সৃষ্টি করেছে তা ধরে রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সব ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে যাচ্ছে । ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে । এর পর নতুন আংগিকে নতুন অগ্রযাএায় শুরু হয় ডিএসই’র পথচলা । পুঁজিবাজারের লেনদেন তদারকি জোরদার করতে এ বছর দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ নতুন সার্ভেইলেন্স সফটওয়্যার ইনস্ট্যান্ট ওয়াচের কার্যক্রম শুরু করে ।

মিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ডিমিউচ্যুয়ালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জে পরিণত হওয়ায় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ডিএসই কাজ করে যাচ্ছে । ডেরিভেটিবস, কমোডিটিজ, ফিউচার এবং অপশন মার্কেট চালু করার প্ল্যাটফর্ম তৈরির সর্বাধুনিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম চালুর জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিঃ নাসডাক ওএমএক্স ও ফ্লেক্সট্রেড সিস্টেম এই দুই কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে । চুক্তি স্বাক্ষরের পর রেকর্ডকৃত স্বল্প সময়ের মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় অত্যাধুনিক ট্রেডিং সফটওয়্যার ডিএসই এক্সস্ট্রিম আইনেট ম্যাচিং ইঞ্জিন এবং ডিএসই ফ্লেক্স-টিপি এর যাএা শুরু হয় ১১ ডিসেমবর ২০১৪ তারিখে । নাসডাক ওএমএক্স, ফ্লেক্সট্রেড ও বিশ্বের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরবর্তী প্রজন্মের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম তৈরীর ফলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উন্নত বিশ্বের স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সক্ষমতা অর্জন করেছে । ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেনের উপর হাওলা চার্জ প্রত্যাহার : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখ থেকে লেনদেনের ক্ষেএে চার্জের পরিবর্তন করা হয় । ইকূইটি মার্কেটের জন্য (ইকূইটি/মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইসট্রুমেনটের ক্ষেএে) ট্রানজেকশন ফি বা লেনদেন ফি ট্রেড মুল্যের ০.০৩ শতাংশ করা হয় । বন্ড মার্কেটের ক্ষেএে ট্রানজেকশন ফি বা লেনদেন ফি ট্রেড প্রতি ৫০ টাকা ধার্য করা হয় । পূর্বে সকল ক্ষেএে (১ এপ্রিল ২০১০ থেকে ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪ ) হাওলা চার্জ ট্রেড প্রতি ২ টাকা এবং লাগা চার্জ ট্রেড মুল্যের ০.০২ শতাংশ ছিল ।

আবার অনেক সময় দেখা যায় বড় কোন কোম্পানি টেকনিক্যালি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে কি এখন বিনিয়োগ করা ঠিক হবে ? এইসব কারসাজী এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি ? কারসাজি যারা করেছে তারা সাধারণত দেখা যায় ব্যবসায়ী সমাজে অতি প্রভাবশালী লোক । তাদের গ্রেফতারের পরিনাম ভয়াবহ হতে পারে । দৈনন্দিনের বাজারে আগুন লাগতে পারে, মুদা বাজার চরম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে । বেশ কিছু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে । অসংখ্য শ্রমিক বেকার হয়ে যেতে পারে । তখন দেশে ওরা একটা চরম নৈরাজ্যশীল পরিস্থিতি এদের আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তৈরী করতে পারে । কিন্তু তারপরও এদের বিরুদ্ধে চরম একটা ব্যবস্থা এখনই নেয়া দরকার । আরও একটা কথা আছে, রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে যায় তখন আর কোন কিছু করার থাকে না, যেসব রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হয়ে যায় তাদেরকে ছাঁটাই করতে হবে এই সম্ভাবনাময় বাজারকে ধরে রাখতে হলে ।

আমি অনেক ইতিবাচক মানসিকতা সম্পূর্ণ মানুষ, তাই আমার ছোট জ্ঞানের পরিধি থেকে মনে হচ্ছে শুরু হইয়েছে নতুন দিন, নতুন এক সম্ভাবনা, এই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দেশের পুঁজিবাজার । অপেক্ষায় আছি সেইদিনটার জন্য যে দিন চীন এর শেয়ার বাজারের মত করে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কে বলা হবে ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার,’ বাজার ।

রনি ভৌমিক
ইউনিভার্সিটি অব চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্স
বেইজিং, চীন