ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

দেহ ব্যবসায়ী চক্রদল এখন বেশ তৎপর। একবার এদের খপ্পরে পড়লে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া উপায় নাই। মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে প্রথমে প্রেম, তারপর বিয়ে নামের দেহব্যবসার মাধ্যমে এরা প্রেমিক পুরুষের সহায়-সম্পত্তি সব হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের কবলে পড়ে সহায়-সম্পত্তি-চাকরী হারিয়ে সহজ-সরল অনেক যুবক আজ নিঃস্ব। এদের একজন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার খাগরিয়ার যুবক ওসমান গণি। জানা যায়, ওসমান প্রায় বছর সাতেক আগে জীবন সুন্দর করার মানসে চাকরী নেয় দেশের বৃহৎশিল্প প্রতিষ্টান বেক্সিমকোতে। বেতন ও অন্যান্য ভাতাদিসহ প্রায় ১২ হাজার টাকা আয় নিয়ে সুন্দরভাবে কাটছিল তার জীবন। হয়ত আশা ছিল ভাঙ্গা ঘরটি ঠিকটাক করে বিবাহের মাধ্যমে নবজীবন শুরু করবে। প্রস্তুতিও ছিল ভাল। এ লক্ষ্যে ব্যাংকে প্রায় সাত লক্ষ টাকা জমাও করেছিল সে। কিন্তু বিধি বাম, দেহব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় তার।

ওসমানের সঙ্গে গতকাল আলাপকালে জানা যায়, ২০১০ সনের মাঝামাঝি সময়ে বেক্্িরমকোর নারায়নগঞ্জ শাখায় চাকরী চলাকালীন সময়ে বেক্্িরমকোর মেইন গেটে ডিউটি চলাকালে কক্্রবাজার সিটি কলেজ সংলগ্ন সাহিত্যিকা পল্লী থেকে চাকরির সন্ধানে আসা সেতারা বেগম (৩৭) ও তার দুই মেয়ে মুক্তা (১৮) ও মণি (১৬) এবং সেতারার বোন ভাগনী (৪০) ও তার মেয়ে রুনা (১৯) নামের এসব মহিলাদেরকে দেখতে পায়। এখানে আসার কারণ জানতে চাওয়ায় তারা ওসমানকে কাঁদতে কাঁদতে বলে তাদের স্বামী নেশাগ্রস্ত ও বদ প্রকৃতির লোক। তিনি আরো উল্লেখ করেন, তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তাই অভাবের তাড়নায় তারা এখানে চাকরি খুঁজতে এসেছে। এরপর শুরু হয় কথাবলাবলি। এরপর আস্তে আস্তে তাদের ফাঁদে আটকে ওসমান সেতারার মেয়ে মুক্তাকে ২০১০ সনের ৩০ ডিসেম্বর বিয়ে করে। বিষয়টি জানতে পেরে বেক্্িরমকোর এক শীর্ষ কর্মকর্তা ওসমানকে চাকরীচ্যুত করে। তিনি ওসমানকে শর্ত প্রদান করেন যে, বিয়ে করা মুক্তা নামের মেয়েটিকে নিজ গ্রামের বাড়িতে রাখতে পারলে তবে তার চাকরি ফিরিয়ে দেয়া হবে, না হলে চাকরিচ্যুত করা হবে। আর অর্থলোভী সেতারা ও তার মেয়ে মুক্তা স্বামীর নিজ বাড়িতে না গিয়ে ওসমানকে লুটেপুটে খেতে থাকে। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি চলে যাওয়ায় ওসমান যখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে তখন সেতারা তার মেয়ে মুক্তাকে নিয়ে চলে যায় কক্্রবাজারের পৌর সদরের সিটি কলেজ সংলগ্ন সাহিত্যিকা পল্লীতে। সেখানে গিয়ে সে তার মেয়ে মুক্তাকে আবার এক মাছ ব্যবসায়ীর সঙ্গে সর্ম্পক গড়ায়। তাদের প্রেমের সর্ম্পকে নতুন মাত্রা আনতে গর্ভবতী মুক্তা ও তার মা সেতারা তখন ওসমানের ঔরষজাত চার মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলে। ইতিমধ্যে ওসমান তার স্ত্রী মুক্তাকে কয়েকবার আনতে গেলে তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ওসমানের নিজ বাড়িতে না ফেরার এবং বাচ্চা নষ্টের কথা জানায় এবং ওসমানকে ডির্ভোস দেওয়ার হুমকি দেয়।

ওসমান কক্সবাজার সদর থানায় এ সম্পর্কিত দুইটি পৃথক সাধারণ ডায়েরী করে। এ অবস্থায় তারা ওসমানকে মেয়ে ফেরত দেবে আশ্বস্ত করে আবার কক্্রবাজার যেতে বলে। ওসমানও মেয়েটির পাল্লায় পড়ে আত্মীয়স্বজন-পাড়া প্রতিবেশী সবার বিরাগভাজন হয়ে সিন্ধান্ত নেয় যে বসতবাড়ির জমি বিক্রি করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে সুখের জীবন চালাবে। তাই সে টাকাগুলো নিয়ে কক্সবাজার যায় তার স্ত্রী মুক্তাকে আনার জন্য। কিন্তু কিছুর কিছু হল না। এক লক্ষ টাকা নিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পর তারা তাও ছিনতাই করে নিয়ে ফেলে এবং মেয়েকেও ফিরিয়ে না দিয়ে মামলা করার হুমকি দেয়। এখনও সে হুমকি অব্যাহত আছে। ওসমান জানায় কখনো সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে হত্যার হুমকি আবার কখনো মামলার হুমকি দিয়ে আসছে সেতারা বেগম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ পরিস্থিতিতে ওসমান প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন।

***
লেখাটি www.coxsbazarnews.com এ প্রকাশিত। প্রকাশের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১