ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

সেদিন রাতে বার্সেলোনার খেলা দেখলাম। এমনিতে আর্জেন্টিনার খাস বিরোধী। সবসময় বলে এসেছি আগামী দশ-বিশ বছরের মধ্যে আর্জেন্টিনার কেবল সম্ভবনাই আছে, কিছু করে দেখানোর সক্ষমতা নাই। পুরো আর্জেন্টিনার মধ্যে মেসির প্রতিই আমার দৃষ্টিটা কিছুমাত্র নমনীয়। কেবল একমাত্র মেসিকেই কিছুটা ভালো লাগে, তবুও খুব ভালো কিছু না সেটা। মেসি অসাধারন ট্যালেন্ট, এটা অস্বীকার করার মতো কিছুই না। লক্ষ্য করে দেখলাম আমার মেসিকে ভালো লাগা অনেকটা দেবানুগ্রহজীবি ভন্ডদের মতো। মেসির খেলা দেখে মেসিকে ভালো লাগতে শুরু করে নি। মেসির সম্পর্কে ভালোলাগার কথা, মেসির অর্জন, ম্যারাডোনার সাথে তুলনা, তার অসাধারনত্ব ইত্যাদি দীর্ঘদিন শুনতে শুনতে মেসির প্রতি এই ভালো লাগা এসেছে। বাসার কোন বাচ্চা ছেলে যখন ফুটবল বা ক্রিকেট খেলার কোন কিছুই বোঝে না, কেবল মাত্র আগ্রহ বশত অন্যদের দেখাদেখি খেলাধূলা সময় টিভির সামনে এসে বসছে- তখন তার পরিবারের গার্জিয়ানরা তাদের ভালো লাগা বা খারাপ লাগা, পছন্দ-অপছন্দ শিশুদের দিয়ে আয়ত্ত করিয়ে নেন। কোন দল তারা সাপোর্ট করেন তা শিশুটিকে জানিয়ে দেন বারবার করে। ধর্ম পালনের কথাও ঠিক একই রকম। তবে সেটাতে গুরুত্ব অনেক বেশী দেওয়া হয়। আমার পরিবার থেকে এই উদাহরণটা খুব ভালো মতো পেয়েছি। আরও আশে পাশের পরিবারগুলো থেকে যা দেখছি এই উদাহরণগুলো খুব সহজলভ্য।

ইউটিউব থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অনেকগুলো ভিডিও ডাউনলোড করেছিলাম এর আগে। তার ড্রিবলিং-পাস-শট সবকিছুই দেখার মতো একটা জিনিস। মেসির ড্রিবলিং ট্রিকস পাওয়া যায় নাকি- তাই ইউটিউবে সার্চ করছিলাম। হঠাৎই পেয়ে গেলাম মাদিম মোহাম্মদকে। মেসিকে যদি ম্যারাডোনার যোগ্য উত্তরসূরি বলা যায়, তাহলে মাদিম মোহাম্মদই সম্ভবত মেসির যোগ্য উত্তরসূরি। অবশ্য যে ভিডিওটা আপলোড করেছে সে একে নেক্সট ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বলছে। নিচেই ইউটিউব ভিডিওটা দিয়ে দিলাম, সময় করে দেখবেন। বাচ্চা ছেলে একটা। বয়স ছয় বছর মাত্র ছিলো যখন ২০০৮ এ তখন এই ভিডিওটা আপলোড করা হয়। এখন ২০১১- তিন বছর সময় অতিক্রম হয়ে গিয়েছে।

আবার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায়, যেখানে মাদিম মোহাম্মদের প্রথম খবরটি ছাপা হয়েছিলো তারা এই মাদিম মোহাম্মদ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বলেছিলো নিউ জিদান। মাদিম মোহাম্মদের জন্ম আলজেরিয়ায় আর তারপর সে ফ্রান্সে চলে আসে। সে কারনেই ফরাসী গ্রেট জিদানের সাথে তার তুলনা দেওয়া।

He’s only six years old, no one is really “the new” anyone, he might not even make it, Sonny Pike, let’s hope his parents don’t push him too hard, etcetera, etcetera

দ্যা সান পত্রিকায় একটা অস্পষ্ট ছবি আর নিউ জিদান বলে সর্বপ্রথম খবর আসে, সেটা দ্য টেলিগ্রাফ এরও আগে। সম্ভবত সেটা ২০০৮ সালেরই কথা। খবরটা তখন পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার।

মাত্র তিন বয়সে যখন মাদিম আলজেরিয়া ছেড়ে ফ্রান্সে চলে এলো তার কিছুদিন পরেই ফ্রান্স ফুটবল এসোসিয়েশন ক্লাব তাকে স্কলারশিপ দিয়ে সাইন আপ করিয়ে ফেলে। প্রতিভার অপচয় হোক তা চায়নি সম্ভবত। বেশ কয়েকটা পত্রপত্রিকায় এবং ফ্রান্স ন্যাশনাল টেলিভিশনে যখন তার খেলার স্কিল দেখানো হয় তখন একজন মন্তব্য কারী বলেছিলো, Amazingly, he is only six years old but he has a complete arsenal of skills.

এদিকে আবার আরেক মন্তব্যকারী তার ইউটিউবে আপলোড করা ভিডিওতে কমেন্ট করে এসেছে, মাদিম মোহাম্মদ নিঃসন্দেহে চমৎকার। অসাধারণত্ব তার পায়ের মাথায়। কিন্তু ছেলেটা সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী যেটা করলে ভুল হবে না সেটা হলো, পনের বছর বয়সেই সে ইংল্যান্ডে চলে আসবে ফুটবল হান্টে ভালো অর্থ উপার্জন করার জন্য।

সার্চ করতে গিয়ে তাকে ফেসবুকে খুজে পেলাম। ওখানে তার সব আপডেট, সর্বশেষ ভিডিও সব দেখা যাবে।

[ফেসবুক লিংক]