ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিনিয়ার অসুস্থতা নিয়ে এই মানবিক আবেদনটি পড়ে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছি। প্রিয় সৌমিত জয়দ্বীপ তাঁকে নিয়ে এই লেখাটি লিখেছেন। সবার কাছেই অনুরোধ, যদি কিছু করার থাকে তবে হাতটি বাড়ান…

 

সৌমিত জয়দ্বীপ

জিনিয়া
দুই ব্যাচ জুনিয়র হলেও, ওর সঙ্গে আমার কখনই দেখা হয়নি। তবে নাম শুনেছি। প্রচুর। ওরই নিকটতম বন্ধুদের মুখে। স্নাতক পর্যায়ে ব্যাচ এবং বিভাগের প্রথম স্থান অধিকারী। গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগরের পঞ্চম সমাবর্তনে নিশ্চয়ই ও মহাসমারোহে এবং গর্বিত মুখে সনদ গ্রহণ করেছে।

স্নাতকোত্তরের লিখিত পরীক্ষা শেষ। থিসিস জমা দিলেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী হিসেবে ছুটি। সম্ভবত ওর সহপাঠীরা স্নাতকোত্তরেও ওর জন্য প্রথম স্থানটা বরাদ্দ রেখেই পরের স্থানগুলোতে নিজেদের নাম বরাদ্দ করে ফেলেছে! এ ব্যাপারে আমি মোটামুটি ১০০০% নিশ্চিত!

৩৯তম ব্যাচ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) প্রথম ব্যাচ। মানে, স্নাতকোত্তরের ফলাফল বের হতেই যা দেরি হবে, ওর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করতে দেরি হবে না!

হয়তো পরবর্তী কোন সময়ে, জাহাঙ্গীরনগর থেকে শিক্ষাছুটি নিয়ে, উচ্চতর গবেষণার জন্য দেশের বাইরেও পড়ালেখা করতে যাবে।

এই পর্যন্ত সবই ঠিক আছে…

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওর নামটা আবার শুনলাম। সরাসরি নয়। ফোনে। বিদেশ থেকে ওরই এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর করা ফোনে। বলল, আমি যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চাই। জিনিয়ার ব্লাড ক্যান্সার (Leukemia) ধরা পড়েছে দুই দিন হল!!!

ওপাশে জিনিয়ার বন্ধুটির গলায় ক্রন্দনের মৃদু স্বর! গলা কাঁপছে! আমাকে বলছে, যদি একটা কিডনি নষ্ট হত, তাহলে আমার একটা কিডনি ওকে দিয়ে দিতাম। আমার তখন মনে হল, সত্যই জিনিয়ার এই বন্ধুটি একটুও বাড়িয়ে বলছে না। হয়তো দিয়েই দিত…

পুরো ঘটনাটা শুনে আমি বেশ অবাক হলাম! বিস্মিত হলাম! বিমর্ষ হলাম!

ভাবছিলাম, মানুষ কত বড় বড় স্বপ্ন দেখে… ওর-ও নিশ্চয়ই স্বপ্ন আছে। শিক্ষা জীবন শেষেই মানুষের স্বপ্নগুলো ডানা মেলে। একটা পূরণ হওয়া স্বপ্ন নতুন স্বপ্নের সিঁড়ি হয়ে ওঠে। এই মেয়েটারও তো শিক্ষা জীবন প্রায় শেষই… এই মেয়েটা হয়তো এ বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা পেশায় হয়তো যুক্ত হয়ে যেত। যেত!

কী নির্মম বলুন তো, এখনই ‘অতীত কাল’ ব্যবহার করতে হচ্ছে!

নুসরাত জেরিন জিনিয়া – এখন পিজি হাসপাতালে ভর্তি। ও সব জানে! ও জানে, ওর স্বপ্নগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে! ও জানে, শুধু জাহাঙ্গীরনগর থেকেই না, ওর আসলে জীবন থেকেই ছুটি নেওয়ার সময় হয়ে আসছে!

দিন যত যাচ্ছে অবস্থা তত খারাপ হচ্ছে। প্রতিদিন ৩-৪ ব্যাগ O+ রক্ত লাগছে…

একবার ভাবুন, প্রতিদিন এই পরিমাণ রক্ত জোগাড় করা কত কঠিন! প্রাথমিকভাবে রক্তের জন্য আর দেশে কেমোথেরাপির জন্য খরচ হবে হয়তো ১০-১২ লক্ষ টাকা। নিয়মিত এই কাজ দুটা করতে না পারলে, সম্ভাবনাময় এই মেয়েটার প্রাণ ধীরে ধীরে হাতে নিয়ে নিবে যমদূত!
বিদেশে নিয়ে গিয়ে ‘বোন ম্যারো ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট’ করতে লাগবে ৬০-৬৫ লক্ষ টাকা। মানে, পুরো চিকিৎসাটা প্রায় ৭৫-৮০ লক্ষ টাকার মামলা…

… অনেক… অ…নে…কককক টাকা…

মা আর ভাই-বোনের সংসার। স্বামীহীন-পিতৃহীন সংসার… যে কোন পরিবারেরই জন্যই এই অর্থ সংস্থান করা কঠিন…

জিনিয়া এসব জানে! জানে বলেই, বেদনার বালুচরে নিজের আশার সমাধি দেখছে! একবার ভাবুন ওর অবস্থাটা…

ইশ, মাত্র ২৪ বছর বয়সে একজন আগামীর শিক্ষক, একজন আগামীর মা এমন করে ভাবছে! আশা ছেড়ে দিয়েছে!

টাকা! টাকা! টাকা!

কী করা যায়?

হতে পারে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই এক নির্বাহী আদেশে জিনিয়াকে বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে দিলেন… প্রধানমন্ত্রী শুনলে এটা করবেনই… আমার বিশ্বাস… মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর যে কোন তহবিল থেকে সামান্য কিছু টাকা সাহায্য করলেই অন্তত অর্থ-সমস্যার প্রাথমিক সমাধান হয়ে যায়।

হতে পারে, অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য জাহাঙ্গীরনগরের সকল শিক্ষক তাঁদের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ দিনের মধ্যে দুই দিনের বেতন ওর চিকিৎসার জন্য নিবেন না… প্রায় দশ লক্ষ টাকা অনায়াসে উঠে…

হতে পারে, জাবির মাননীয় উপাচার্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চিঠি পাঠিয়ে শিক্ষকদের এক দিনের বেতন প্রদানের অনুরোধ জানালেন… তিন হাজার শিক্ষক থাকলে গড়ে ১০০০ টাকা করে হলেও ত্রিশ লক্ষ টাকা উঠে…

ক্যান্সার-বিজয়ী ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের ফাউন্ডেশন #YouWeCan-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে… অন্তত ২০,০০০ হাজার ডলার তারা দিলেও অনেক এগিয়ে যায়… ২০০০০ ডলার মানে ষোল লক্ষ টাকা…

আইটি ফার্মগুলোর সঙ্গে অবশ্যই যোগাযোগ করার বিকল্প নেই। তাদের বাইরে যোগাযোগ ভালো…

জাহাঙ্গীরনগরের প্রাক্তনরা আছেন… অন্তত পাঁচ লক্ষ টাকা তো তারা তুলে দিতেই পারেন বিভিন্ন ফোরাম থেকে… হয়তোবা বেশিও দিতে পারেন…

আর আমরা, একরাশ রঙিন স্বপ্ন ও আশার চাষাবাদ করা মানুষরা তো আছিই…

আমার একটা বই বেরিয়েছে এবার – “বিনয় ঘোষের বয়ানে ‘বাংলার রেনেসাঁস’’ – জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনীর ১৩১ নম্বর স্টলে পাওয়া যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে – রকমারিডটকমেও যোগাযোগ করতে পারেন আগ্রহীরা – বই বিক্রি করে প্রকাশক যে টাকাটা দেবেন তার পুরোটাই জিনিয়ার চিকিৎসার খরচে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি… শেষ পর্যন্ত কত দিতে পারব জানি না… তবে যত পাব তার ১০০%-ই দিব… I promise…

জিনিয়ার বন্ধুরা… জাহাঙ্গীরনগেরর অনেক সুহৃদ জিনিয়াকে যুগ যুগ বাঁচিয়ে রাখার পণ করেছে… ওরা বলেছে, স্বপ্নাটা হেরে গেল… জিনিয়া যেন না হারে!

জীবন-মৃত্যুর হিসেব তো চিকিৎসার ওপর নির্ভর করবে। আর চিকিৎসাটা নির্ভর করবে অর্থের ওপর…

তাই… আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েয়য়য়য়য়য়য়য়য়য়…

হাত বাড়ালেই…

প্রতিটি প্রাণেরই জীবন মূল্যবান। আপাতত এটা মনে করার দরকার নেই যে, আমরা একজন আগামীর শিক্ষকের জন্য লড়ছি। তাতে অন্য যেসব মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যান বা যাদেরকে আমরা তথ্য না-জানার অভাবে সাহায্য করতে পারি না, তাদের ছোট করা হয়…

আমরা লড়ছি একজন মানুষের জন্য, দেশকে ভবিষ্যতে যার অনেক কিছু দেওয়ার আছে…
জিনিয়াকে এই রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্রের জনগণ পাঁচটা বছর পড়ালেখার টাকা দিয়েছে এই জন্য যে, ও পড়ালেখা শেষ করে দেশের জন্য, জনগণের জন্য অবদান রাখবে…

অথচ, পড়ালেখা প্রায় শেষের দিকে, আর তখনই এতো বড় একটা ধাক্কা!

আসুন না, ও যেন অবদান রাখতে পারে শিক্ষাক্ষেত্রে, বাংলাদেশের জনগণের পাঁচ বছরের সাহায্যের প্রতিদান যেন ও দিতে পারে, সেজন্য ওর দুরারোগ্য ব্যাধিটাকে একটা ধাক্কা মারি সবাই মিলে…

সেজন্যই ফেসবুকের সকল ব্যবহারকারীকে, অনেক অনেক ফ্রেন্ড-ফলােয়ার বিশিষ্ট ব্যবহারকারীকে জিনিয়ার সাহায্যার্থে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান-অনুরোধ জানাই…

আমরা অনেক তো রাজনীতি-সমাজনীতি-ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে কথা বলছি… একটু না হয় জিনিয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ি… ফেসবুকে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা একটা স্ট্যাটাস দিলে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উঠে আসা সম্ভব ওই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে…

পৃথিবীর উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু, বাংলাদেশের যে যেখানেই থাকুন না কেন সবাই এগিয়ে আসি প্লিজ… আসুন না সবাই মিলে বলি– জিনিয়া জিতবেই…
__________________________________________

***[জিনিয়াকে আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য ওর বড় ভাই মো: জসিম উদ্দীন-এর
বিকাশ নং – 01738275127
এছাড়া, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে একটা অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। টাকা, ডলার অথবা যেকোন বৈদেশিক অর্থ পাঠানো যাবে
Account Name: Md Jashim Uddin (Zenia’s Brother)
Account No-18117105901
Standard Chartered Bank
Gulshan North Branch
Branch Routing No- 215261900
SWIFT Codes for Bangladesh: SCBLBDDX
জিনিয়ার বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন এই নম্বরে- জ়সিম- 01714361789]***
____________________

*** পিজি হাসপাতালে O+ রক্ত দেয়ার জন্য
hematology unit (floor-14)
ward room number -1511
bed number – FP(Green 3)