ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

বাসা পরিবর্তন করে ধানমন্ডিটা বড্ড দূর হয়ে গেল। আগে পুরান ঢাকায় থাকতাম, হুটহাট রিকশা করে যাওয়া যেত। এখন নানান ঝক্কি পোহাতে হয়। রাস্তার দূর্দশা চিন্তা করে ধানমন্ডি না গিয়ে বরং বাসায় চি কুতকুত খেলা উত্তম। অন্তত আয়নায় নিজের চেহারা দেখে আত্কে উঠার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। তার উপর মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে সায়ে সাতটা পর্যন্ত শুক্রবারের ছুটি মাটি করা ক্লাশ। কিন্তু সহকর্মী জুয়েল তার ছেলের মুখে ভাত দিবেন আমরা গিয়ে উদ্ধার করতে হবে। বাসায় চি কুতকুতের চিন্তা বাদ দিয়ে শর্মা কিং এ হাজির হতে হল। রাস্তার ঝক্কি থেকে রেহাই দিলেন ঘোষ দাদা। মটর বাইক জিনিসটা খারাপ না, হুটহাট করে চিপাচাপা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া যায়। নিজে চালাতে গেলে অবশ্য আলাদা কথা; এম্নিতে কোন সমস্যা নাই শুধু হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসে! এই আর কি। তো আড়ং পাড়ং ঘুরাঘুরি করে গিয়ে উঠলাম ধানমন্ডির শর্মা কিং এ। রাইস ইটিং বয় দেখলাম খাওয়ার চেয়ে নানান জনের সাথে সেলফি কুলফি তুলে চ্যাড়াব্যাড়া অবস্থা। অনেকটা সেলিব্রেটি টাইপ – হাসি মুখে পোজ দিচ্ছে।

শুধু মুখে ভাতকে কেন্দ্র করে জনক তার সন্তানের হেয়ার স্টাইল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। মুখে ভাত বয় নাকি নানান ইশারা ঈঙ্গিতে তার মন বাসনা প্রকাশ করিয়াছে। তারপরও নাকি তার মন মত হয়নি। চুলে স্পাইক করা তার আজন্ম সাধ। কিন্তু চুলের কারনেই স্পাইকটা মাইর খায়া গেল। এত পাতলা যে জেলটেল মেখেও ঘনত্বটা বাড়াতে পারেনি। মাঝে মধ্যে ছন্দপতন হচ্ছে। অনাহূত কেউ ছবি তুলতে চাইলে কিংবা কোলে নিয়ে লটরপটর করতে চাইলে তো হবে না। একটা সিস্টেমের মধ্যে আসতে হবে। তার বয়স ছয় মাস বলে তুমি দুম করে ছবি তুলে ফেলবা কিংবা গালে পুতুপুতু টাইপ আদর করবা তাইলে তো হবে না। ব্যত্যয় ঘটলে ব্যা করে কেঁদে কেটে একাকার কিংবা শুশু করা নিশ্চিত। আমাদের ক্ষেত্রেও কাছাকাছি কিছু একটা হয়েছিল। কারন অনেকগুলো পারিবারিক লোকের মাঝে আমরা অনাহূতই বলা চলে। যে কারনে ভাত মুখে দেওয়া বয়ের সাথে ছবি তোলার আশা বাদ দিয়ে বরং খাওয়া দাওয়ায় মন দিতে হল।

দুধের সাধ ঘোলে মিটানোর মত আমরা পিচ্চি সেলিব্রেটির সাথে ছবি তোলার আশা জলাঞ্জলি দিয়ে নিজেদেরটা কোন মতে তুলে নিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখলাম অন্য পিচ্চিগুলা হম্বিতম্বি করতেছে তাদেরকে গেমস্ খেলতে না দিলে তারা অনুষ্ঠান বয়কট করবে এমনকি অন্য কর্মও সম্পাদন করতে দ্বিধাবোধ করবে না। এক পিচ্চি তো সুমন ভাইর মোবাইল নিয়ে নেয়েছেয়ে দেখে কনফিগারেশন জেনে নিল। একে ধর ওকে মার অবস্থার মধ্যে দেখলাম মুখে ভাত দেওয়া বয় খালি গায়ে হেসে হেসে ছবি তোলার জন্য তার জননীর অাঁচল ধরিয়া সগর্বে হাত তালি দেবার মতলব আঁটছে। এর আগে অবশ্য অন্য কর্মটি সারিয়া আসছে। এটা জেনে কিছুটা নিশ্চিত হওয়া গেল। সুদূর চাঁদপুর থেকে কোন মতে লঞ্চের গন্ডি পার হয়ে সদরঘাট, গুলিস্তানের জ্যাম পেরিয়ে সু্মন ভাই মুখে ভাত উদ্ধার করলেন। দেবাশিষ দা আর ঘোষ দা একা বাসায় বউদিকে ফেলে এসে বিশাল হ্যাপায় পড়ল। মন আকুপাকু অবস্থা। অবশ্য মাঝেমধ্যে দার্শনিক কথা বার্তা ছাড়ে- ‘ বুঝলেন মুন্নাফ ভাই বিয়ে তো করেননি, করলি পরে টের পাবেন বাসায় বউ ফেলে আসা বিশাল দিগদারি। দু’পক্ষই টেনশনে থাকে। যাক অবশেষে মুখে ভাত আমাদেরও উদ্ধার করল। হাসি মুখে কথা বলতে হচ্ছে, টিভি দেখছি কিন্তু মুখে বলতে পারছি না ক্লাস শেষ করার পর পেটে আর দানাপানি পড়েনি। পেটে ঢাকঢোল নিয়ে পিটাপিটি অবস্থা। এর মাঝেই এক সময় খাওয়ার ডাক পড়ল।

বাঙালি ভাত বলতে যেটা বোঝায় এটা আসলে সেই ধরনের মুখে ভাত না। ইহা হইল ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড চিকেন আরো নানান হাবিজাবি আইটেম তবে কোন ভাবেই বাঙালির ভাত না। এটা অবশ্য মুখে ভাতের নতুন মেনু হতে পারে আমি নিশ্চিত না!

রুবু মুন্নাফ
০৬-০৫-২০১৭
দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা।