ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

মসনদের মোহ বড় কঠিন জিনিস। ভাই ভাইকে, পিতা পুত্রকে, পুত্র পিতাকে কিংবা বোন ভাইকে খুন করতেও পিছপা হয় না। তখন কাটাপ্পাকে দিয়ে বাহুবলিকে খুন করানো এক প্রকার অবধারিত। তো মহান ইসলামের ঝান্ডাধারী মোড়ল তার রাজতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য মূসা নবী আর ঈসা নবীর কতিপয় মহান অনুসারীকে নিয়ে কাতার নামক ক্ষুদ্র এক দেশকে শায়েস্তা করতে চাইল। কাতারের গুরতর অপরাধ সে কি এক আজব চ্যানেল আল জাজিরা নামধারী যে কিনা আরব মূলুকের জনগনের মাঝে সচেতনতার বীজ বুনতে চায়। রাজতন্ত্রী ক্ষমতার মসনদ ঘুরিয়ে দিয়ে জনগনের ক্ষমতা মজবুত করতে চায়। এক ইসরাইল ছাড়া হামাস নামক এক সশস্র গোষ্ঠীকে কেউ আজ অবধি জঙ্গী সংগঠন বলে নি। মহান ইসলামের ঝাঁটাধারী সেই অপূর্ণতা পূরন করল; হামাসকে জঙ্গী ঘোষনা করে। যদি ও আমার জানা নেই কেউ যদি তার নিজের ভূমি ফিলিস্তিনকে রক্ষার জন্য লড়াই করে সেটা জঙ্গীর সজ্ঞার মধ্যে পড়ে কিনা। কিন্তু সেই তেলেসমাতিও তুড়ি দিয়ে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলে বসলেন জঙ্গী অর্থায়নের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা রিয়াদ, দোহা নয়।

আবার এই দিকে মহান বৈশ্বিক মোড়ল জনাব ট্রাম্পকার্ড ঘোষনা দিয়ে বসলেন ‘ এইটা আমার ইশারায় হয়েছে’। আর তার পেন্টাগন ঘোষনা করে বসল এটা সৌদি গংদের অযাচিত হস্তক্ষেপ। নিজের চ্যাপ নিজের মুখে ফিরিয়ে নিয়ে জনাব ট্রাম্পকার্ড থানি সাহেবের কাছে ফোন করে বসলেন নিজের নিরপেক্ষতা প্রমানের জন্য। আসলে মি. ট্রাম্প বোধ হয় ভুলেই গ্যাছেন মধ্যপ্রাচ্যের তার সবচেয়ে বড় ঘাঁটিখানা ছোট্র দেশ কাতারেই অবস্থিত। চপেটাঘাতের উপর চপেটাঘাত হিসেবে আসল ট্রাম্পকার্ডখানা ছাড়লেন মি. এরদোগান। বিচক্ষণ নেতা হিসেবে তিনি বুঝে গেলেন সৌদি গংরা সম্ভবত কাতার আক্রমন করতে যাচ্ছেন। আর তাই মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র মিত্র কাতারের পাশে দাঁড়াতে তড়িঘড়ি করে আইন পাস করে ৫০০০ সৈন্য সমাবেশের ঘোষনা দিলেন। যদিও তিনি জানেন কাতার আক্রমন করা অত সহজ সমীকরন না। মি. এরদোগান আরো ভাল করে জানেন সৌদি গত তিন বছর যাবত ইয়েমেনের একটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী হুতিদের সাথেই যুদ্ধের মজা বুঝতেছে। তো সৌদি গংদের অন্যতম আমিরাত আরো এক কাঠি সরেস। তিনারা ঘোষনা দিয়ে বসলেন তার দেশের কেউ কাতারের প্রতি সহানুভূতি দেখালে পনের বছরের জন্য ভিত্রে ঢুকাই দিবো। কাতার দেশ ছোট তবে সাময়িক অসুবিধা তাদের হবে কিন্তু সৌদি গংরা সফল হবে না। মহান স্বঘোষিত ইসলামিক মোড়ল হয়ত হিসেবে ভুল করেছে। তাহার চারশ পঞ্চাশ বিলিয়ন যে ট্রাম্পকার্ডের পিছনে খরচ করেছে তিনি যে নিজ দেশেই নড়বড়ে অবস্থায় আছেন। পেন্টাগন, এফবিআই, সিআইএ, কংগ্রেস, আদালত সবখানেই তিনি যে দৌড়ের উপর আছেন তা হয়ত ভুলে গেছেন। যে নিজেই দৌড়ের উপ্রে আছে সে আরেকজনকে টেনে তুলবে কি! হায়! সেলুকাস বিচিত্র এই জগত। সব কিছুর মাঝে আরেক মোড়ল এখনো ঠিক আড়মোড়া ভাঙ্গেনি। তিনি মি. পুতিন। যদিও তার হয়ে জনাব এরদোগান ইতিমধ্যে একখান কার্ড খেলেছেন। দেখা যাক, আজকালের মধ্যে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. পুতিনের সাথে বসবেন। তবে একটা বিষয় পরিস্কার সৌদি গংদের কাতার অবরোধ যে ভুমেরাং হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

রুবু মুন্নাফ

০৯-০৬-২০১৭