ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

20 (1)

এখন চারপাশ তাকালেই দেখি রাজনীতির জয় কীত্তন আসলে রাজনীতি মানে অনেকেই জানি না কিংবা রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য কি সেটাও জানি না ? আসল কথা আমিও তো বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে এতোটুই মনে হয়……. বাংলা ভাষায় রাজনীতি আর ইংরেজি হলো Politics. ইংরেজি শব্দটার ভেতরে কেমন জানি একটা টিস্ক টিস্ক রয়েছে গেছে। চতুরতা, পিচ্ছিল অনেক কিছুই এর ভেতর এবং বাহির আবৃত।

আর রাজনীতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। যদিও রাজনীতি বলতে সাধারণত নাগরিক সরকারের রাজনীতিকেই বোঝানো হয়, তবে অন্যান্য অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেমন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখান মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান, সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। রাজনীতি কতৃত্ব ও ক্ষমতার ভিত্তিতে গঠিত সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে গঠিত। রাষ্ট্রবিজ্ঞান হচ্ছে শিক্ষার এমন একটি শাখা যা রাজনৈতিক আচরণ শেখায় এবং ক্ষমতা গ্রহণ ও ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে।

আজ সেই রাজনীতির প্রভাবে কতজনই কত কি করছে আড়ালে কিংবা সম্মুখে। দেখেও দেখি না আমরা কারন একটাই চাচা আপনা প্রাণ বাঁচা। আর এসব কিছু হয় রাজনীতির অপব্যবহারে। আইন থেকে শুরু করে অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমন কি সংসারেও এর প্রভাব ফেলেছে। এর প্রভাব এতোটাই প্রকট হয়েছে যে দেশের, দশের এবং সমাজের কথা মনে রাখি না। শুধুই মনে রাখি আপনার কথা গুলো। স্বার্থে পড়লেই রাজনীতিবিদরা ছোট হয় তাছাড়া তারাই সব। জনগণ কিছুই নয়।

বাংলাদেশের রাজনীতি ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস, বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং মানুষের রাজনীতিমনস্কতা কেন্দ্র করে আবর্তিত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন সময়ে সেনা শাসন এবং সেনা প্রভাব বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করেছে। ইসলামী শক্তি এবং জঙ্গীবাদী শক্তীর উত্থানো কখনো কখনো বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবান্বিত করেছে। রাজনীতির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং জনকল্যাণ। সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার রাজনীতিতে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত রাজনীতি সচেতন। বাঙালীরা সকল রূপ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। আর সবাই এক একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ হয়ে যায়। আর এই সুযোগেই রাজনীতিবিদরা যেমন খুশী তেমন খায়। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিপরায়ণ হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ আজ হতাশ।

কিছুদিন পূর্বে জানলাম সরকারি ৩৫ কর্মকর্তার ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট। এই সার্টিফিকেট দিয়ে নিজেদের বিলাসীতা..স্বচ্ছভাবে কিভাবে চলবে সেই পথটাই হাতিয়ে নিয়েছে। ধবংস করেছে দেশের কোটিকোটি টাকা। সবচেয়ে বড় কথা হলো যে সকল মুক্তিযোদ্ধার নাম সরিয়ে তাদের নামটি বসিয়েছে……সেই সকল হতভাগ্য মুক্তিযোদ্ধা আজ কোথায়…..যারা পরপারে চলে গিয়েছে তারা বেঁচেই গেছে কিন্তু যারা জীবিত তারা হয়তো দেখা যাবে ঐ ৩৫ জন সরকারি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার জুতা কালি করছে না হয় কেউ রিকসা করে তাদের নিয়ে যাচ্ছে কিংবা কেউ দু’হাত পেতে ভিক্ষা করছে…….তিন বেলা পেটপুরে খেতে পারছে না। তাদের কথা কি সরকার চিন্তা করছে এখন, মনে হয় না। যদিও করে তাহলে কি তাদের পেছনের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে ? কোনদিন সম্ভব নয়……. এই ৩৫ জনকে আমার মনে দেশের যুদ্ধাপরাধী চিহ্নিত করে তাদের ফাঁসি দেয়া উচিত।

৭৫ কিংবা ৮০,৮৫ বছরের বৃদ্ধ রাজাকারদের ধরে আনছে যারা চোখেই কিছুই দেখে না। চলতে গেলে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয় তাদের বিচার করা আজ খুব প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। যার চলে যাবার সময় এসেছে তাকে নিয়ে টানাটানি করে কি ভাল ? তবে প্রয়োজন আছে আইনের প্রয়োগ সেটাও মানি কিন্তু যা আমাদের চোখের সামনে ঘটছে সেটাই যদি দেখে না দেখার ভান করে বসে থাকি তবে ৪৩ বছর পূর্বের মতো এখন যা ঘটবে সেটাও ৪৩ নয় ১৫ বছর পরেই তার পূনরাবৃত্তি হবে। বর্তমানকে সঠিক পথে না চালাতে পারলে ভবিষ্যৎ সঠিক হবে না। অতীতকে নিয়ে টানা হেছড়া করে দেশের উন্নতি করা সম্ভব নয়। এতে উপকারের চেয়ে অপকারটাই বেশি হয়।

বর্তমানের সকল অপরাধকে দমন করুন শক্তহাতে তবেই ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে। যদি বর্তমানের সত্য মিথ্যের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারেন তবে পেছনের কথা না ভাবাই ভাল। বর্তমানকে সঠিক ভাবে দমন করলেই অতীত সংশোধন হবে এবং ভবিষ্যৎ সুন্দর আদর্শে পথ চলবে। আগামীদিন গুলোতে কেউ প্রশ্ন তুলবে না বাঙালী বেঈমান জাতি, বাঙালী প্রতারক, বাঙালী ভিক্ষুক, বাঙালীদের একতা নেই, বাঙালী দেশপ্রেমিক নয়। বাঙালী স্বার্থপর। এর কোনটিই কারও সাহজ হবে না মুখে মনের ভেতর কল্পনায় আনতে।

সুন্দর জাতির জন্য সুন্দর একটি পরিবার, সুন্দর পরিবেশ, সুন্দর সমাজ এবং সুন্দর দেশ প্রয়োজন আর এটি করতে হলে অবশ্যই অতীতকে ভুলে বর্তমানের পাপগুলোর সঠিক বিচার করতে হবে। শক্তহাতে দমন করতে হবে রাজনীতির প্রভাবনীতি। মুখে নয় কাজে প্রমান দেখাতে হবে…… মুখে মুখে সবাই বলতে পারে……. ।

পরিশেষে বলতে চাই আসুন দেশকে ভালবাসি, দেশের মানুষের জন্য একটু হলেও চিন্তা করি। কর, যাকাত সঠিকভাবে ব্যবহার করি। আইনকে সম্মান করি..তবেই সোনার বাংলা সোনার দেশের পরিনত হবে।