ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

যদি মৃত ব্যক্তিকে চড় মারলে কিংবা লাথি মারলে ব্যথা অনুভব করত তাহলে শাস্তি কামনা অবশ্যই করতাম।  অপরাধির শাস্তি কে না চায় ?  তার জন্য অবশ্যই শাস্তি কামনা করেছি, এমন কি এখনও যারা আছেন তাদের সবার শাস্তি কামনা করি। যারা দেশদ্রোহী রাষ্ট্রদ্রোহী জনগণের শত্রু তাদের শাস্তির জন্য প্রার্থনা করি। শুধু একজন কেনো আনাচে কানাচে এখনও যারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় সবার শাস্তি কামনা করি। হাতে গোনা পাচঁ জন কি যুদ্ধাপরাধী বাংলাদেশের………?

যদি ধর্মের কথা বিশ্বাস করি, ধর্মকে ভয় করি তাহলে মৃত ব্যক্তিকে জুতা মারা এই কাজটি আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি ঠিক হয়নি……মূর্তিকে কিল ঘুষি মারলে কি প্রতিবাদ করতে পারে…? পারে না কিন্তু তাই বলে কি যারা একে ভক্তি করে শ্রদ্ধা করে তাদের নির্মূল করে জোর পূর্বক ধর্মে দীক্ষা করাটা ঠিক। যাই হোক ধর্ম বিষয়ে কথা নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও যে সকল সরকারি কর্মচারি সুবিধা ভোগ করে গেছেন তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করুন. তাদের কারনেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ভিক্ষা করে জীবন যাপন করেছে….টেনে হেচড়ে ঘরের বাহিরে বের করে জুতা মারুন… শরীর কেটে লবন লাগান …. দেখি কতটা শক্তি আপনাদের…

আমার জানা মতে একজন চোরের শাস্তি –তার চুরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর- হচ্ছে তার আঙ্গুল কেটে নেয়া, তবে শর্ত হচ্ছে যে, এ বিষয়টি দেখতে হবে যে, ঐ চোর পেটের দায়ে চুরী করেছে নাকি অভ্যাসের বসে এবং তার প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও সে ঐ কর্মটি করেছে। যদি তার অভাব প্রমাণিত হয় তবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

মৃত ব্যক্তির প্রতি ঘৃণা দেখনো কোনো ধর্মে আছে কিনা সেটাই চিন্তা করতেছি, এমন কথা উচ্চারণের সাথে সাথে মৃত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে জুতা ছুঁড়াতে যারা খুব আনন্দিত তাদের কথা হলোঃ কোনো ব্যক্তি ভালো কাজ করে মরলে ফুল দিয়ে যদি শ্রদ্ধা জানানো যায় খারাপ কাজ করলে ঘৃণা দেখানো যাবেনা কেনো?? কিন্তু ইসলাম কি সেটাই বুঝিয়েছে বা শিখিয়েছে, তাহলে একটু ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে পড়ুন……

হযরত আবু আসওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মদীনা শরীফে আসলাম তখন সেখানে এক প্রকার্ মহামারী দেখা দিল। আমি হযরত ওমর (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় আমাদের নিকট দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল উক্ত জানাযার প্রশংসা করা হলো । হযরত ওমর (রাঃ) বললেন ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। আবার দ্বিতীয় বার আর এক জানাযা যেতে লাগল এবারও উক্ত মৃত ব্যক্তির জন্য প্রশংসা করা হলো। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। আবার তৃতীয় বার আর একটি জানাযা যাচ্ছিল ।এ জানাযা লোকেরা মৃত ব্যক্তির প্রতি খারাপ মন্তব্য করল। হযরত ওমর (রাঃ) এবারও বললেন, ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম , হে আমীরুল মু’মিনীন, কি ওয়াজিব হয়েছে। হযরত ওমর (রাঃ)বললেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সম্মুখে দিয়ে জানাযা গেলে লোকদেরকে মন্তব্যের কারণে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যা বলেছেন আমিও তাই বললাম। হুযুর (সাঃ) এরশাদ করেছেন,

কোন মুসলমান ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার পক্ষে চারজন ব্যক্তি যদি নেককার হওয়ার সাক্ষী দেয় আল্লাহ পাক তাকে বেহেশত দান করবেন। আমরা জিগেস করলাম, যদি তিনজন ব্যক্তি সাক্ষী দেয় । হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উত্তরে বললেন, তিনজন ব্যক্তি সাক্ষী দিলেও হবে। আমরা আবার জিজ্ঞেস করলোম যদি দুজন ব্যক্তি সাক্ষী দেয় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন যদি দুজন ব্যক্তি ও সাক্ষী দিলে সে বেহেশতী হবে।অত’পর আমরা একজন ব্যক্তির সাক্ষীর কথা জিজ্ঞেস করলাম না ।

কবরে ও কফিনে ফুল দেয়া বা পুষ্পস্তবক অর্পণঃ

 বহু মানুষকে দেখা যায়, নিজের প্রিয়জন বা শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের কবরে ও কফিনে ফুল দেন। কবরে অর্পণ করেন পুষ্পস্তবক। এমনকি, তাদের প্রতিকৃতিতেও ফুল দিয়ে থাকেন। তবে, তারা সকলে মৃত ব্যক্তির কল্যাণের উদ্দেশ্যে বা সওয়াব পাঠানোর নিয়তে করেন কি-না, অথবা মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসর অর্ঘ্য অর্পণের উদ্দেশে করে থাকেন, তা অবশ্য জিজ্ঞাস্য। তবে আমার ধারণা, তাদের অধিকাংশই পাশ্চাত্যের ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী শক্তির অনুকরণে মৃত ব্যীক্তর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অর্ঘ্য অর্পণের উদ্দেশে এমনটি করেন। যদি এটা মৃত ব্যক্তির আত্মার কাছে সওয়াব পাঠানোর জন্য করা হয়, তবে এক কথা, আর যদি সওয়াব পাঠানোর নিয়ত না করে শুধু প্রথা-পালনের উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে ভিন্ন কথা। প্রথমটি বিদআত আর দ্বিতীয়টি কুফুরি। কর্তা কাফের হয়ে যাবে কিনা তাতে সন্দেহ থাকলেও তার কাজটা যে কুফুরি, তাতে সন্দেহ মাত্র নেই। আমি শুনেছি, এক আলেমকে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল : এটা ইসলামী শরীয়তে জায়েয কি না? তিনি উত্তরে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরে খেজুরের ডাল স্থাপন করেছেন। তার কাছে তখন যদি ফুল থাকত তাহলে তিনি কি ফুল দিতেন না? তখন খেজুর ডাল পাওয়া সহজ ছিল। অন্য কিছু হাতের কাছে সচরাচর পাওয়া যায়নি, তাই তিনি খেজুরের ডাল দিয়েছেন। অতএব, শুধু খেজুরের ডাল নয়, যে কোন পুষ্প কবরে অর্পণ করা সুন্নত হবে। আসলে এটা একটা বিভ্রান্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে দুটো কবরে খেজুর ডাল স্থাপন করেছেন সে সম্পর্কে তাকে আল্লাহর পক্ষ হতে জ্ঞাত করা হয়েছিল যে, কবর দুটোর বাসিন্দাদের শাস্তি হচ্ছে।

হাদীসটি নিম্নরূপ:

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: مر النبي صلى الله عليه وسلم بقبرين، فقال : إنهما ليعذبان، وما يعذبان في كبير، أما أحدهما فكان لا يستبرئ من البول، وأما الآخر فكان يمشي بالنميمة، ثم أخذ جريدة رطبة فشقها نصفين، فغرز في كل قبر واحدة. قالوا يا رسول الله! لم فعلت هذا؟ قال: لعله يخفف عنهما ما لم ييبسا. رواه البخاري ২১৬ ومسلم ২৯২

ইবনে আব্বাস রা. কর্তৃক বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বলেন : ‘এ কবরবাসী দুজনকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এদেরকে কোন বড় অপরাধের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না, বরং এদের একজন চোগলখুরী করে বেড়াত, আর অপরজন প্রসাবের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করত না। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর গাছের একখানা কাঁচা ডাল আনিয়ে তা দু টুকরা করে প্রত্যেক কবরের উপর একটি করে গেড়ে দিলেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি এরূপ করেছেন কেন? তিনি বলেন, খুব সম্ভব ডাল দু’টি না শুকানো পর্যন্ত তাদের আযাব হাল্কা করে দেয়া হবে।’[১০]

অর্থাৎ, তিনি শাস্তি লাঘবের জন্য খেজুর ডাল স্থাপন করেছেন। তাঁকে আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে এ দু লোকের শাস্তি হচ্ছে। তাই তিনি এ দুটো কবর ব্যতীত অন্য কোন কবরে কিছু স্থাপন করেছেন—এমন প্রমাণ নেই। জীবনে বহু প্রিয়জনের কবর যিয়ারত করেছেন তিনি, কোথাও খেজুরের ডাল বা পুষ্প অর্পণ করেননি। অতএব, এ বিষয়টি শুধু এ দু কবরের জন্যই করার নির্দেশ ছিল। এটা যদি সাধারণ নির্দেশ হত, তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য কোন কবরেও খেজুরের ডাল বা এ জাতীয় কোন কিছু স্থাপন করতেন। তারপর সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীন এবং ইমামগণ অতিবাহিত হয়েছেন কেহই এটা করেননি। সকল ইমামগণ একমত যে, এ বিষয়টি শুধু রাসূলুল্লাহর একান্ত বৈশিষ্ট্য ছিল। অন্য কারো জন্য নয়।[১১]

বুখারীর এক বর্ণনায় এসেছে যে সাহাবী বুরাইদা ইবনুল হাসীব আল-আসলামী অসীয়ত করেছিলেন যে, তার ইন্তেকালের পর তার কবরের উপর যেন দু’টি খেজুর ডাল স্থাপন করা হয়। তিনি এটা করেছেন রাসুলের আমল দ্বারা বরকত লাভের উদ্দেশ্যে। এ কাজ দ্বারা সকলের জন্য কবরে পুস্প দেয়া সুন্নাত প্রমাণিত হয় না। এটা ছিল ব্যক্তিগত ব্যাপার।[১২]

পাপ কি?

কোন এক লোক ভগবান লোকনাথ ব্রহ্মচারিকে প্রশ্ন করলেন, পাপ কি? তিনি উত্তরে বললেন, যাহা মানুষের অন্তরে তাপ সৃষ্টি করে তাহাই পাপ। তাহলে গুরু তাপ কি? তিনি বললেন, সুখ এবং দুঃখের সময় অন্তরে যে অনুভুতি হয় তাহাই তাপ।

পাপ কি? এই প্রশ্নের জবাবে সূফী বলেন, পাপ হচ্ছে নিজের উপর জুলুম করা। কারণ পাপ ক্রিয়ার প্রতিটি ফল পাপি বেক্তির নিজের উপর এসে পরে এবং তাঁকে অবশ্যই তা ভোগ করতে হয়। পাপ হচ্ছে নফসের কলুষতা। পাপ হচ্ছে ষড়রিপু। যাহার মধ্যে ষড়রিপুর আধিক্য যত বেশি তাঁহার পাপ ও ততবেশি। পাপের আছে জাহের ও বাতেন রূপ।

মনের মধ্যে ষড়রিপুর আধিক্যকে পাপের বাতেন রূপ বলে আর তা কর্মে রুপান্তর হওয়াকে তাঁহার জাহের রূপ বলে। তাই কোরআনের নির্দেশ, “পরিত্যাগ করো পাপের জাহের ও বাতেন অংশ” পাপ যদি কোন গৃহ হয় তবে সেই গৃহে প্রবেশ করার আছে ৬ টি দরজা, ১। কাম ২। ক্রোধ ৩। মোহ ৪। লোভ ৫। অহংকার এবং ৬। হিংসা । অর্থাৎ ষড়রিপু বেতিত কোন পাপ নেই এবং তা থাকতে ও পারে না ।

কেউ হয়তো আমার এই কথার প্রতিবাদ করে বলতে পারেন, কেন? কেহ যদি মিথ্যা কথা বলে সেটা তো পাপ, কেউ যদি গীবত করে তাও তো পাপ, কারো মধ্যে যদি রিয়া বা প্রদর্শনী ভাব থাকে সেটাও তো পাপ, আর শিরক হচ্ছে সবচে বড় পাপ। তবে কেন বলা হল কাম, ক্রোধ , মোহ , লোভ , অহংকার, হিংসা ব্যতিত কোন পাপ নেই?

এই প্রশ্নের জবাবে বলা যায় যে, মিথ্যা হয়তো বলে মানুষ ক্রোধান্বিত হয়ে, বা লোভের কারনে। মিথ্যা বলে মানুষ অহংকার ও করে থাকে। গীবত হয়তো করে মানুষ হিংসার বশবর্তী হয়ে। মানুষ প্রদর্শনী মনোভাব দেখায় অহংকার করার জন্য। এটি প্রশংসা পাবার একটি লোভ ও বটে। আর নেহায়েত প্রচণ্ড লোভী না হলে মানুষ চুরি করে না। শুধুমাত্র পেটের তাড়নায় মানুষ চুরি করে এমন কথা আমি মানতে নারাজ। শিরক হচ্ছে সবচে বড় পাপ , আর শিরকের মধ্যে রয়েছে মোহ। অহংকার তথা আমিত্ব ভাবের মধ্যেই অংশিত্ত বা শিরক। অর্থাৎ সর্ব রকম পাপ ই এই ষড়রিপুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়।পাপ= কাম , ক্রোধ , মোহ , লোভ , অহংকার , এবং হিংসা ।

পাপকে ঘৃণা কর পাপীকে নয়

 মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা পরস্পর কাউকে মন্দ নামে ডেক না। ইমানের পর মন্দ নামে ডাকা গর্হিত কাজ। (সূরা হুজরাত-১১)। অপর আয়াতে ঘোষণা করেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা কোনো কোনো ধারণা পাপ। (সূরা হুজুরাত-১২)।

সামাজিক জীবনে যদি কেউ পাপকর্ম করেই ফেলে তাহলে ওই পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। হতে পারে পাপী ব্যক্তির কোনো আমল আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার কারণে সে খাঁটি মমিন বান্দায় পারিণত হয়ে যাবে। এ জাতীয় অসংখ্য দৃষ্টান্ত পবিত্র কোরআন-হাদিসে বিদ্যমান আছে। বনি ইসরায়েলের জনৈক ব্যক্তি ১০০ খুন করার পরও মহান আল্লাহ তার তওবা কবুল করেছেন।

বুখারি শরিফে এসেছে এক পাপী মহিলা পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে নাজাত পেয়েছিল। বিখ্যাত ওলিয়ে কামেল ও বুজুর্গানে দীনের ব্যাপারেও শোনা যায় যে, তাদের অতীত জীবন ছিল খুবই পঙ্কিল। মহান আল্লাহ পাপাচারের অাঁস্তাকুড় থেকে তাদের তুলে এনে বসিয়েছেন মর্যাদার সিংহাসনে।

হজরত উমরে ফারুক (রা.) যিনি গিয়েছিলেন পেয়ারা নবীজী (সা.)-এর মস্তক মোবারক আনতে, পরিণামে হয়েছেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তার ব্যাপারে হজরত রাসূলে করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমার পর কেউ নবী হলে সে-ই উমর (রা.)। আইয়ামে জাহেলিয়াতের লোকেরা ছিল চরম পাপাচারে লিপ্ত। খুন-খারাবি, লুটতরাজ, ধর্ষণ, মদ পান ছিল তাদের নিত্যকার অভ্যাস। আপন কন্যাকে জীবন্ত কবর দিয়েছিলেন যিনি, সেই দেহয়া কালবী (রা.) এমন হয়েছিলেন যে, হজরত জিবরাইল (আ.) অধিকাংশ সময়ই তার আকৃতিতে হজরত রাসূল (সা.)-এর দরবারে আগমন করতেন। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই পাপীকে ঘৃণা করা যাবে না। বরং ঘৃণা করতে হবে পাপকে।

হযরত আবু আসওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার মদীনা শরীফে আসলাম তখন সেখানে এক প্রকার্ মহামারী দেখা দিল। আমি হযরত ওমর (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় আমাদের নিকট দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল উক্ত জানাযার প্রশংসা করা হলো । হযরত ওমর (রাঃ) বললেন ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। আবার দ্বিতীয় বার আর এক জানাযা যেতে লাগল এবারও উক্ত মৃত ব্যক্তির জন্য প্রশংসা করা হলো। হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। আবার তৃতীয় বার আর একটি জানাযা যাচ্ছিল ।এ জানাযা লোকেরা মৃত ব্যক্তির প্রতি খারাপ মন্তব্য করল। হযরত ওমর (রাঃ) এবারও বললেন, ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম , হে আমীরুল মু’মিনীন, কি ওয়াজিব হয়েছে। হযরত ওমর (রাঃ)বললেন, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সম্মুখে দিয়ে জানাযা গেলে লোকদেরকে মন্তব্যের কারণে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যা বলেছেন আমিও তাই বললাম। হুযুর (সাঃ) এরশাদ করেছেন,

কোন মুসলমান ব্যক্তির মৃত্যু হলে তার পক্ষে চারজন ব্যক্তি যদি নেককার হওয়ার সাক্ষী দেয় আল্লাহ পাক তাকে বেহেশত দান করবেন। আমরা জিগেস করলাম, যদি তিনজন ব্যক্তি সাক্ষী দেয় । হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) উত্তরে বললেন, তিনজন ব্যক্তি সাক্ষী দিলেও হবে। আমরা আবার জিজ্ঞেস করলোম যদি দুজন ব্যক্তি সাক্ষী দেয় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বললেন যদি দুজন ব্যক্তি ও সাক্ষী দিলে সে বেহেশতী হবে।অত’পর আমরা একজন ব্যক্তির সাক্ষীর কথা জিজ্ঞেস করলাম না ।