ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

নারী অধিকার বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ আলোচিত বিষয়। নারী তার অধিকার এবং অবস্থানের ক্ষেত্রে ছিল অনেক পিছিয়ে। বর্তমান সময়ে বহু সমাজে নারীরা বহু রকম সমস্যার শিকার এমনকি নির্যাতনের শিকার। কম বেশি সবার দোষ আছে নারী এবং পুরুষের জীবন ব্যবস্থায়।

 

বৈষম্য তখনি অর্থবহ হয় যখন দেখা যায় দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একই রকম বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, অথচ তাদের সুযোগ-সুবিধাগুলো একরকম নয়। ইসলাম মানুষ হিসেবে নারী-পুরুষকে এক সমান বলে মনে করে এবং নারী-পুরুষের মাঝে কোনোরকম বৈষম্যকে গ্রহণ করে না। কিন্তু নারী-পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য থাকার কারণে তাদের কাজকর্ম এবং দায়িত্বের মাঝেও পার্থক্য থাকবে-এটাই তো স্বাভাবিক। কেউই এমনকি চরম নারীবাদীরাও নারী-পুরুষের মনস্তাত্ত্বিক এবং শারীরবৃত্তীয় এই পার্থক্য থাকার কথাটি অস্বীকার করতে পারবে না। ফরাশি দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট নারী-পুরুষের শারীরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস এই পার্থক্যের ভিত্তিতে সমাজ এবং পরিবারে সবারই সৃষ্টিশীল ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

আসলে অধিকার নিয়ে চেচিয়ে কোন লাভ নেই আগে আইনের প্রয়োগকে ঠিক করুন। ঢোল দেয়ার আগে যে কাজটি প্রয়োজন সেটি করুন তখন সকল কিছুই সমাধান হবে। আইনে স্বচ্ছতা না থাকায় নারী অধিকার আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যতদিন আইনের অপব্যবহার হবে ততদিন নারী আন্দোলন করে লাভ নেই। এখানে একটি কথা না বললেই হচ্ছে না সেটা হচ্ছে নারীর অধিকার নাকি নারীর সম-অধিকার আদায়ের নারী উদ্দোক্তরা ব্যস্ত।

পুরুষের সাথে পাল্লাপাল্লির কোন খেলা নয় তো?  যদি শুধু নারীর অধিকার হয় তবে সেটাকে আমি সাদরে গ্রহণ করবো কিন্তু সম-অধিকারে আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করবো। সম-অধিকার নিয়েই আজ প্রতিটি সংসারে কলহের সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছে না। তোমার অধিকার আমার অধিকার সমান তাই তুমি যদি ঘুরে বেড়াতে পারো আমিও পারব। সংসার তোমার আমার তাই আমি একা কষ্ট করবো কেন ? এমনটি যদি হয় তাহলে কি সেই সংসার টিকে থাকবে আদৈও ?

নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য নারীর মৌলিক অধিকারসমূহ নিশ্চিতকরণ, সাংবিধানিক গ্যারান্টিসহ রাষ্ট্রীয় শাসনযন্ত্রের সকল স্তরে যেমন পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নারীর অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানে পুরুষের সাথে নারীর অধিকারকে সমান স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। নারী-পুরুষভেদে সেখানে কোনো পার্থক্য করা হয়নি বরং নারীদের এগিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনে বিশেষ আইন প্রণয়নের কথাও বাংলাদেশের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর অধিকার রক্ষায় পৃথক পৃথক ধর্মাবলম্বীদের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক পারিবারিক আইন, যাতে মূলত বিয়ে, দেনমোহর, তালাক, ভরণপোষণ ও সন্তানের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত অধিকারগুলো সন্নিবেশিত রয়েছে। পারিবারিকভাবে সংগঠিত এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিটি জেলায় স্থাপিত হয়েছে একটি পারিবারিক আদালত। কিন্তু আমাদের দেশের  বেশীরভাগ নারীরা জানে না, আইনগতভাবে তাদের কি কি অধিকার আছে বা এ অধিকারগুলো না পেলে তারা প্রতিকারের জন্য কোথায় যাবে। উপরোন্তু আমাদের চিন্তাকে আছন্ন করে ফেলছে পাচার, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, এসিড সন্ত্রাস, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও ফতোয়াবাজির শিকার অসংখ্য নারীমুখ। এসব  অপরাধ দমনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কঠোর আইন-কানুন প্রণয়ন করেছে, যেমন – নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, এসিড সন্ত্রাস দমন আইন ২০০২ ও যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন ১ঌ৮০।

এখানে আমার একটি কথা সেটা হলো শুধু পুরুষ কি নারীদের ছেড়ে মানে তালাক দেয় নাকি নারীরাও এই কাজটি করে থাকে। অনেক সময় তো দেখা যায় অহেতুক সমস্যার কথা বলে একটি সংসারে কাল মেঘ ডেকে আনে একজন নারী। পরকিয়ায় পরে সুখের সংসার ছেড়ে সংসারটিকে মাঝ দরিয়ায় ভাসিয়ে দেয়। তখন কি হবে? যদি পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের মর্যাদা নাই করতো তাহলে রাস্তার মাঝে যে অনেক সময় নীরিহ ছেলেদের সর্বশান্ত করে একজন নারী তখন দেখা যায় সেখানে উপস্থিত নারীর বক্তব্যই সবাই অগ্রাধিকার দেয় কেউ তো সেই ছেলেটির কথা শুনে না। বরং গণধোলাইয়ের স্বীকার হতে হয় সেই ছেলেটিকে। এক সময় হয়তো পুলিশ কাস্টরিতে।

আইনের দিকে খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন এখানে সম-অধিকার বলছে নাকি নারীর অধিকার আদায়ের আন্দোলন… যেসব আইনী বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:

–  এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২

–  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন ২০০৩)

– যৌতুক নিরোধ আইন, ১৯৮০

– মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) আইন, ১৯৭৪

–  মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রীকরণ) বিধিমালা, ১৯৭৫

– মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১

– মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯

– বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন. ১৯২৯

– পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন, ২০১০

কোথায় নারীদের সম-অধিকার নিয়ে আইন ? যাই হোক এসব কিন্তু সবই নারীদের স্বপক্ষেই বলা হয়েছে। এই আইনের ভেতর কি কোন পুরুষ নির্যাতন আইনের কথা উল্লেখ আছে ? শুধুই কি নারীরা নির্যাতিত হয়, পুরুষরা কি নির্যাতনের স্বীকার হয় না ? আমার মনে হয় নারীরাও এটিকে স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। তবে সকল নারীই যে এক সেকথা নয় আবার সকল পুরুষ একই সেটাও ঠিক নয়। ভাল-মন্দ মিলিয়েই দেশ সমাজ সংসার। এজন্য অবশ্যই আইনের স্বচ্ছতা প্রয়োজন। আইন প্রয়োগটা কঠোর হাতে নিতে হবে। যে দেশে আইন কঠোর হস্তে ব্যবহার করে থাকে সে দেশে কি আমাদের মতো এতো অমানবিক কাজ হয়। বিচারের জন্য সুষ্ঠ পরিচালক প্রয়োজন। আমাদের সেটা নেই। এক হাতে তালি বাজে না এটা সবার খেয়াল করা উচিত।

বেশির ভাগ কথাতেই নারীর অধিকার নিয়ে কথা হয়, পরিবারে, কলকারখানায়, কৃষিতে, ব্যবসায়, প্রশাসনে, শিক্ষা-সংস্কৃতিতে ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহন চাইছে নারীরা। এতো ভাল কিন্তু এমন কিছু উসকানী মূলক কথা বলে নারীদের সংসার জীবনেও ধবংস ডেকে আনছে।

আজ আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে নারী উদ্দোক্তাদের নিকট যারা নারী আন্দোলন করে, নারীর সম-মর্যাদা নিয়ে দেশ কাপিয়ে তোলো আসলে তাদের পরিবারে কি কোন সুখ কিংবা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে ? আমি এক কথায় বলতে পারি তারাই সব চেয়ে অসুখী। তারা নিজেরা যেমন সমাজের বিষ্ঠা হয়েছে তেমনি তাদের সন্তান ঠিক তাই। মানুষের ম তাদের ভেতর আছে কি না সেটাই আমায় ভাবায়। লোভী কুকুরের চেয়েও তারা বেশি খারাপ। গলা চেচিয়ে মুখে মুখে মিডিয়ার সামনে অনেক কিছুই বলা যায় আসলে ভেতরটা নিরালায় ধুকে ধুকে কাদিয়ে নেশায় মত্ত থাকে।

নারী অধিকার পরিভাষাটি বলতে বোঝায় এক ধরনের স্বাধীনতা, যা সকল বয়সের মেয়ে ও নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এই অধিকার হতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনানুগ, আঞ্চলিক সংস্কৃতি দ্বারা সিদ্ধ, বা কোনো সমাজের আচরণের বহিঃপ্রকাশ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই অধিকারকে অস্বীকার করতেও দেখা যায়। সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন দেশে এই অধিকারের বিভিন্ন রকম সংজ্ঞা ও পার্থক্য দেখা যায়, কারণ এটি পুরুষ ও ছেলেদের অধিকারের থেকে ভিন্ন। এবং এই অধিকারের সপক্ষে আন্দোলনকারীদের দাবী যে, নারী ও মেয়েদের অধিকারের প্রচলনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দুর্বলতা রয়েছে।

সম-অধিকার করতে করতে এতোটাই নারীদের অধিকার বাস্তবায়ন করেছে যে এখন পুরুষ নির্যাতনের জন্য আইন তৈরী করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নারী আন্দোলন বলতে তারা কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটাই তো ভাল করে বলতে পারবে না। কি তাদের চাওয়ার আছে কিংবা চাহিদা কী কী ? শুধুই কি চলাফেরার স্বাধীনতা, বিয়ে আপন মনের ইচ্ছে। নাকি অন্য কিছু আছে। আমি হয়তো বলতে পারছি না নারীর সম-অধিকার বলতে কি বোঝাতে চাইছে।

আমি যদি ডিগ্রী পাশ হয়ে থাকি তাহলে আমার স্বামীকেও তাই হতে হবে। আমি যদি কোটিপতির মেয়ে হয়ে থাকি তবে তাকেও তাই হতে হবে নাকি অন্য কিছু? নাকি আমি যদি রান্না করি একদিন তাকেও একদিন রান্না করতে হবে? হ্যাঁ এটা আমি বলতে পারি অপরাধ যারা করেন তাদের সবার জন্য শাস্তি ব্যবস্থা নিধারণ করুন। বাস্তবায়ন করুন আইনের ব্যবহার।

যেসব বিষয়ের ক্ষেত্রে নারী অধিকার প্রযোজ্য হয়, তা সুনির্দিষ্ট না হলেও এগুলো মূলত সমতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা কেন্দ্রিক। যেমন: ভোটদানের অধিকার, অফিস-আদালতে একসাথে কাজকর্ম করার অধিকার, কাজের বিনিময়ে ন্যায্য ও সমান প্রতিদান (বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি) পাবার অধিকার, সম্পত্তি লাভের অধিকার, শিক্ষার্জনের অধিকার, সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অধিকার, আইনগত চুক্তিতে অংশগ্রহণের অধিকার, এবং বিবাহ, অভিভাবক, ও ধর্মীয়গত অধিকার। নারী ও তাদের সহযোগীরা কিছু স্থানে পুরুষের সমান অধিকার আদায়ের স্বপক্ষে বিভিন্ন প্রকার ক্যাম্পেইন ও কর্মশালা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের দেশে নারীদের অধিকার সচেতনতার অভাব এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োগগত সীমাবদ্ধতার কারণে নারীরা একদিকে যেমন তাদের ন্যয্য অধিকার ভোগ এবং আইনী সহায়তা প্রাপ্তির সুফল থেকে বঞ্চিত,  অন্যদিকে বৈষম্যমূলক আইনের উপস্থিতি তাদের অবস্থাকে আরো বেশি নাজুক করে তুলছে। এই বাস্তবতায় নারীদের মধ্যে অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ যৌতুক, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ, উত্যক্তকরণসহ নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে নারী নেত্রীদের নারীর অধিকার ও আইন বিষয়ক শিক্ষা দিয়ে থাকে।

যারা নেত্রী হন তারা কি সঠিক প্রয়োগ করেন ? আমাদের স্বার্থটা এতো বেশি যে মুখে মুখে আমাদের অধিকার বিলীন হয়ে যায়। চোর পালানোর পর পুলিশ আসে ঠিক তেমন ভাবেই নারী আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করে। তাতে কোন ভিত্তি থাকে না।

ইসলামে নারীর অধিকার ও পরিবার

নারীর অধিকার এবং পরিবার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আধুনিক বিশ্বে এ বিষয় দু’টি বেশ আলোচিত। ইতিহাসের কাল পরিক্রমায় বিভিন্ন সমাজে মানবাধিকার বিশেষ করে নারী অধিকার এবং পরিবার বিচিত্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এই অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘসাধারণ পরিষদে মানবাধিকার ঘোষণা প্রদান করা হয়। বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের মানবাধিকারনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সনদ ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু এ ঘোষণার অনেক দিক ও নীতি বিশ্বের বহু জাতির সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। বিশেষ করে ইসলামী আদর্শ ও সংস্কৃতির সাথে। এ কারণেই ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ‘ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণা’ প্রবর্তন করে।

ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণায় নারী এবং পরিবার এই দুটি দিকের ওপর বিভিন্ন ভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। মানবীয় মর্যাদার দিক থেকে নারী এবং পুরুষ সমান। একইভাবে একজন পুরুষের যতটুকু দায়দায়িত্ব রয়েছে ঠিক ততটুকু দায়িত্ব রয়েছে একজন নারীরও। নারীর অধিকার রয়েছে নিজের নাম এবং সম্পর্কের স্বাধীন সত্ত্বা সংরক্ষণ করা। ইসলামী মানবাধিকার ঘোষণায় এই যে সমানাধিকারের বিষয়টি ঘোষিত হয়েছে তা ইসলামী শিক্ষার আলোকেই হয়েছে। ইসলাম সকল মানুষকেই সমান বলে মনে করে। লিঙ্গভেদে ভাষা, বর্ণ, গোত্র, জাতিভেদে কিংবা বিশেষ কোনো এলাকাভেদে কারো কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই ইসলামে। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে সমতার মানদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে।

একইভাবে আধ্যাত্মিক মহিমা অর্জনের ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের মাঝে কোনো তফাৎ নেই। কুরআনে এসেছে: ‘একথা সুনিশ্চিত যে, যে পুরুষ ও নারী মুসলিম মুমিন, হুকুমের অনুগত, সত্যবাদী, সবরকারী, আল্লাহর সামনে বিনত, সাদকা দানকারী, রোযা পালনকারী, নিজেদের লজ্জা স্থানের হেফাজতকারী এবং আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ কারী আল্লাহ তাদের জন্য মাগফিরাত এবং প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন’। ইসলামে নারীকে সম্মানিত করা হয়েছে। রাসূলের একটি হাদিসে এসেছে, নারীকে সম্মান করার পরিমাপের ওপর ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টি নির্ভর করে। তার মানে হলো একজন পুরুষ নারীকে কতোটা সম্মান দিল তার ওপর নিজের সম্মান নির্ভরশীল।

জোর করে যেমন কারও নিকট থেকে সম্মান পাওয়া যায় তেমনি জোর করে অধিকার আদায় করা যায় না। অধিকার একাকি পাওয়া যায় না বা গ্রহণ করা যায় না যদি অধিকার না দেয়া হয়। অধিকার দেয়া হলেই অধিকার গ্রহণ করা যায়। হাজার আন্দোলন করে কোন লাভ নেই। সোনার বাংলাদেশে যে অধিকার আদায়ের আন্দোলন হয় তা শুধুই এক ঘেয়েমি। সেখানে শুধুই নারীর কথা বলা হয় পুরুষ সেখানে উল্লেখ নেই। পুরুষরা তাদের নিকট কুকুরের চেয়েও খারাপ। যদি তাই হয় তবে কার নিকট থেকে তারা অধিকার আদায় করতে চাইছে ?

কুকুরের নিকট থেকে কি অধিকার আদায় করা যাবে কিংবা পাওয়া যাবে? অধিকার আদায় ব্যবহার ভালবাসা দিয়েই অর্জন করতে হবে। প্রতিটি মানুষের নিজস্ব ধর্মকে স্মরণ করেই চলতে হবে। আগে বোরকা পরিহিত মেয়ে বা নারীদের ভাল হিসেবেই গ্রহণ করা হতো কিন্তু এখন বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস হারায় কখন, যখন অবিশ্বাসের কাজ করে মানে বিশ্বাস ঘাতকতা করে তখনি। এখন ব্যাংক গুলোতেও টাকা তুলতে গেলে মুখ দেখাতে হয়।

যাই হোক অধিকার অর্জন করুন আদায় নয়।