ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

Rudra.20

দু’বেলা দু’মুঠো ভাত
কতটা প্রয়োজন এ ধরায়
চোখ মেলে দেখো, হৃদয়ে অনুভব করো
কাঁধে পলি ব্যাগ,সুগন্ধি চারিধার,
যদি পেতাম শুকতে নিকট থেকে
ভাজি করা ইলিশের ঘ্রাণ;

কোথাও কেউ নেই
গ্রীষ্মের তাপদাহে কয়লার দেহ
ডাস্টবিন কিংবা নর্দমার এপাশ ওপাশ,
চেটেচাটা বিষ্ঠা পড়ে আছে
কতোটা তৃপ্তি নিয়ে পুরছে পেট
চোখ মেলে দেখো, হৃদয়ে অনুভব করো
প্রতিটি দিবস কতটা বেদনার।

আগে থেকেই আমি একটু ভিন্ন রকম। ছোট বেলা থেকেই আদিম যুগের মতো আমার চলাফেরা। যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই যখন আমার জন্য আমার বাবা-মার ঈদের কেনাকাটা করতো, অনেক বন্ধুদের দেখতাম যার যার পোষাক লুকিয়ে রাখতো ঈদের পড়বে বলে। চমক দেখাবে সবাইকে এই কারনেই হয়তো। কিন্তু আমি, কেনার পর দিন থেকেই পড়তে শুরু করে দিতাম। আমার বাবা-মা যখন আমার বন্ধুদের কথা বলতো তখন আমি বলতাম, যদি বেঁচে না থাকি। তাহলে তো তোমরা এই কাপড় বুকে নিয়ে কাঁদবে। তাই আমি পড়ি। এজন্য বাবা-মা আমাকে আর কোনদিন এ ব্যাপারে বারণ করেননি। আজও না।

আমরা সবাই আমাদের নিজের কথাই চিন্তা করি, এমন করেই চিন্তা করি যে, বাড়ির পাশে কেউ না খেয়ে থাকলেও আজ আমরা সেটা ভাবি না। কেন ভাববো এটাই এখন উত্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা নববর্ষ, ইংরেজী বর্ষ, ৩১ শে ডিসেম্বর, ভালবাসা দিবস, পিঠা দিবস, পিতা-মাতা দিবস আরও কত দিবস পালন করি আর স্লোগান গেয়ে যাই, অতীতের ভুলগুলো ভুলে নব আনন্দে পরিশোধিত হবো। কিন্তু কোথায়?

আজ চায়ের দোকানে চা পান করতে গিয়ে দেখলাম সোয়ান গার্মেন্টস্‌ এর শ্রমিক গুলো বেতন টাকার জন্য স্বজন হারা মানুষের মতো বসে আছে। কিন্তু কোথায় আমরা ঠিক হলাম? মালিকরা বেতন দিচ্ছে না। ন্যায্য পাওনা থেকে তারা বঞ্চিত। আমরা আমরা বৈশাখ বৈশাখ বলে দেশটাকে মাথায় তুলে ফেলেছি। তাদের কি বৈশাখ পালন করতে ইচ্ছে করে না? তাদের বৈশাখে কি হবে? মন গলানো সুশীলরা কি বুঝবে তাদের জীবনের বেদনার কথা?

পুঁজিবাদী আর কর্পোরেট দালালে দেশের বাজারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। জনগণের কথা তাদের মাথায় নেই। বৈষম্য বলে কথা। সবাই যদি পান্তা ইলিশ খায় পহেলা বৈশাখে তবে তাদের মূল্যায়ন কোথায় থাকে। এই সকল পুঁজিবাদী, ধনবান ব্যক্তি ব্যবসায়ী আর কর্পোরেট দালাল শুধু দেশ নয় পুরো দেশের জনগণকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে। মুষ্ঠিমেয় মানুষের কারনে কোটি মানুষ সেই দুর্ভিক্ষের অভাবে পড়ে থাকে একটি দিন।

বাঙালির বাঙলা বর্ষের প্রথমদিনে কতজনার কত পরিকল্পনা থাকে। কে কোথায় যাবে? কী করবে? অনেকের সব ঠিকঠাক হয়ে থাকে একমাস আগেই, কারো আবার সপ্তাহ খানেক। আবার কেউ ভুলেই বসে আছে। আমি কী করব, কোথায় যাবো বলতে পারছি না। এ কেমন দিন রে ভাই? সব দিন কেন জানি একই মনে হয়। আগে স্বপ্ন দেখতাম অনেক, কিন্তু এখন স্বপ্নও আড়ি পেতে বসে আছে, কি করি? যাই হোক, যেহেতু নিশ্বাসের বিশ্বাস নেই তাই সময় থাকতেই কিছু একটা করতে হবে। এখনি সুযোগ সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো। শুভ নববর্ষ – ১৪২২। ইলিশ পান্তা নয় সবার জীবনে পান্তা যেন জোটে সেই কামনা এবং প্রার্থনা করি।

” এক সেকেন্ডের নাই ভরসা “

slide