ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 
Rudra-Amin.27

আমরা কাকে দোষী বলবো? এদেশের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা থেকে শুরু করে পশু-পাখি সকল কিছুই যেন ভিন্ন মতামতে বিশ্বাসী। ভাল আর মন্দের কোন পার্থক্য নেই। শুধুই দোষারোপ আর ক্ষমতার খেলা। ক্ষমতার অপব্যবহার। আসলে আমরা জাতি হিসেবেই দোষী জাতি। বলতে কষ্ট হয় না। প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা নারীর বস্ত্র হনন করে। বিশ্বজিতের মতো অনেককেই প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। কোথায় কোন হিসেব খুঁজে পাই না। কেন এমন হয়।

যারা বা যে সকল পশু নারীদের ধর্ষণ করে বেড়ায়, বিচার কার্য সম্পূর্ণ হওয়ার পর সাজা ভোগ করেও তাদের কোন সমাধান হতে দেখি না। এট আসলে জ্বীনগত সমস্যা। ঠিক এমনি আমরা জাতি হিসেবে কলঙ্কময় জাতি। আমাদের কর্মে, ব্যবহারে, কথা-বার্তায় প্রতিটি মুহুর্তই তা প্রকাশ পায়। আমরা বলতে পারি অনেক কিছুই। স্বর্গের কথা বলে যে কাউকে স্বর্গে নিয়ে যেতে পারি আবার নরকের কথা বলে নরকেও নিয়ে যেতে পারি। কিন্তু কাজে কথা নয়।

সাধারন হিসেবে যদি বলি বাসের কথা, তবে কে ভাল আর কে মন্দ বুঝা বড় দায়। আমরা সবাই সরকারকে দোষারোপ করি। সরকার যে দেশে বসবাস করে আমরাও সেই একই দেশে বসবাস করি। সরকার বাঙালি জাতি আমরাও বাঙালি জাতি। তবে কিভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্নতা আসবে। আমাদের ভিন্নতা তৈরী করতে হলে আমাদের আগে জাতিগত বৈশিষ্ট তৈরি করতে হবে। ঘুচাতে হবে জাতিগত সকল অপবাদ। সরকারকে অবশ্যই এজন্য অনেকটা আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে হবে। কঠোর হতে হবে দেশের ভালোর জন্য। আগামীর প্রজন্মের জন্য।

আমরা সবাই দোষী বলেই একজনের দোষ অন্যজনের কাধে তুলে দিয়ে সাময়িক আমরা সাধু সেজে বসি। গাড়ির দুর্ঘটনায় সকল দোষ ড্রাইভারের দিয়ে থাকি, না হয় রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কথা বলে সরকারের উপর সকল দোষের মালিকানা দিয়ে দেই। যাত্রা পথে যখন গাড়ি ভর্তি যাত্রী দেখি তখন তো  আমরা কেউ ভাবি না, গাড়ির ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী হয়ে যাচ্ছে। এই বাড়তি যাত্রী বহনের জন্যেই যে কোন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা একটু দেরি করে অন্য গাড়িতেও যেতে পারি কিন্তু করি না।

সমাধানের কথা মনে হলে বলতে হয় যারা একটি পরিবারের কুকুর বেড়ালের জন্যেও এক একটি গাড়ি কিনছে তাদের কি আসলেই এতোগুলো গাড়ির প্রয়োজন আছে ? একটি পরিবারে চারজন সদস্য আর সেই পরিবারে দেখা যায় সাতটি গাড়ি। এতো গাড়ি তাদের কেন কি কারনে প্রয়োজন ? এটা সরকারের হেয়ালীপনা আমি মনে করব। আমাদের দেশের আইন এতোটাই হাস্যকর যে, অর্থ-বিত্তের কারনে আইন উল্টো পথে চলাচল করে।

আইনের অপব্যবহার পুরোটাই সরকারের দোষ। সরকারের গাফেলতীর কারনেই ঘটে। যাত্রী পরিবহনের গাড়ি সংখ্যা এই দেশে শতকরা কতটি আছে ? আমার মনে হয় ১৫% আছে কি না সন্দেহ। কিন্তু প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা ৭৫%। যানজট হবে না কি হবে ? আমাদের দেশের বিত্তবান, কর্পোরেট দালাল, সুশীল, ব্যবসায়ী এদের কোনকালেই অর্থের হিসেবে নেয়া হয় না। দেশের অর্থনৈতিক করুণ দশার জন্য এই সকল ব্যক্তি এবং প্রতিটি সরকার দায়ী। বাহিরের দেশে একজন ব্যক্তি কয়টি গাড়ি কিনতে পারবে যারা গাড়ী বিক্রেতা তারাই বলে দিতে পারে, কে গাড়ী কিনতে পারবে আর কে গাড়ী কিনতে পারবে না সেটাও তারা বলে দেয়। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো যেখাতে ঋণ দেবে সেই খাতে না দিয়ে অন্য খাতে দিয়ে বেড়াচ্ছে। শুধুই আছে গাড়ি বাড়ি নিয়ে ব্যস্ত।

সর্বশেষ বলতে হবে আমরাই সর্বদোষে দোষী। আমাদের নৈতিকতার অবক্ষয়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা, নিজেদের নিজেরা চিনতে না পারা। দেশ প্রেম অন্তরে নেই শুধুই মুখেমুখে। যতদিন আমরা ঠিক হতে না পারবো ততদিন যে সরকারই তার আসনে বসুন না কেন আমরা হাতের পুতুল হবো। পিতা-মাতার চেয়ে আমরা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বেশি ভালবাসি। কারনে অকারনে পশু পাখির মতো মানব হত্যা করি। সকল দিক দিয়েই আমরাই অপরাধী আগে। দেশ প্রেম অন্তরে সীল করে কে কি করছে সেটার দিকে নজর না দিয়ে আমাদের প্রত্যককে এগিয়ে আসতে হবে। একদিন ঠিক সোনার বাংলা সোনার চেয়েও খাঁটি হবে।