ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
Rudra-Amin.29

গণমাধ্যম আজ বড় পুঁজির বড় শিল্প । কর্পোরেট দালালরা এই সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের বিবেক নিঙরে নিয়েছে। ধিক্কার দিতে ইচ্ছে এই সকল গণমাধ্যম এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের। অর্থ কতটাই মানুষকে পশু করে তোলে। কিন্তু এই সকল গণমাধ্যমের ভূমিকা কি হওয়া উচিত ছিল। কি ছিল তাদের কাজ ? একজন নারীকে বিবস্ত্র করা হচ্ছে আর সেটাই ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে, কি সুন্দর কর্তব্য পালন করা। এই সকল সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমের কারনেই আজ দেশ রসাতলে। কিন্তু গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতায় জড়িত সকলের দায়িত্ব কি এবং কতটুকু হওয়ার প্রয়োজন ছিল?

কিন্তু বর্তমানে আমরা গণমাধ্যম গুলোকে তো আলোর দিশারী হিসেবেই তো জানি। জানি বর্তমান  যুগে সাংবাদিকতার ব্যাপ্তি ও প্রভাব বিস্ময়করভাবে বিস্তৃত । মিডিয়া বা সংবাদপত্র আজ কেবলই ইনডাষ্ট্রি বা শিল্প নয়। মিডিয়া আজ অসীমান্তিক, আন্তর্জাতিক। যা সকল  জাতি, সমাজ ও বিশ্বপরিমন্ডলকে প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রে  নিয়ন্ত্রন করে , এবং  প্রভাবিত করে। কথাগুলো শুনতেই আজ ভাল লাগে কিন্তু কর্মে নয়। আজও  নিগৃহীত  হচ্ছেন  বাংলাদেশের বহু সাহসী সম্পাদক ও সংবাদকর্মি যা এক  বেদনাদায়ক  অধ্যায়।

কিন্তু তারা কি করছে ? এসবই একমাত্র নয়, মুক্ত ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার  আরও একটি  প্রতিপক্ষ আছে  যা  পাঠককে সত্য  জানা থেকে বঞ্ছিত করা। সংবাদমাধ্যমের সাথে জড়িতদের গোষ্ঠীস্বার্থ,  ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক  দৃষ্টিভঙ্গি ও বিভেদ  আমাদের দেশীয়  প্রেক্ষাপটে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতার খুব ছোট প্রতিপক্ষ বিবেচনা করা সঠিক হবে না। তবুও করতে হয় তাদের কৃতকলাপের জন্য।

অপরাধ বলতে আমরা কি বুঝি ? আসলে অপরাধ কেমন, সেটা হয় কীভাবে আর কীভাবে তার প্রমাণ করা যায় ? অপরাধ ছোট আর বড় বলে কি কোন কথা থাকতে পারে ? নাকি ছোট বড় অনেক হিসেব আছে আইনের অন্ধ চোখে। যাই হোক আগে দেখে নেই অপরাধ কেমন এবং অপরাধ বলতে কি বোঝানো হয়েছে নানান বইয়ের নানান পাতায়।

অপরাধের ইংরেজি প্রতিশব্দ ক্রাইম যা ল্যাটিন ভাষায় উদ্ভূত সার্নো থেকে এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি দণ্ডাজ্ঞা দিব”। কিছু ধর্মে পাপ কার্য্যে অংশগ্রহণকে অপরাধরূপে দেখা হয়। আদম এবং ঈভের শয়তানের প্ররোচনায় গন্ধর্বজাতীয় নিষিদ্ধ ফল গ্রহণকে প্রকৃত পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। দল বা রাষ্ট্রীয় অপরাধ হিসেবে যুদ্ধ অথবা সংঘর্ষ হয়ে থাকে। আধুনিক সভ্যতার ঊষালগ্নে আইনের কতকগুলো ধারা প্রণীত হয়েছে। বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী রিচার্ড কুইনী সমাজ এবং অপরাধের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অপরাধ হচ্ছে সামাজিকতার দৃশ্যমান প্রতিফলন’। এ কথার মাধ্যমে তিনি মূলতঃ ব্যক্তির অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক আদর্শ, ন্যায়-নিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের উপলদ্ধিবোধ জাগ্রতকরণ – উভয় দিকই বিবেচনা করতে বলেছেন।

অপরাধ মূলতঃ দু’টি ধারায় বিভক্ত।

(ক) লঘু অপরাধ, যাতে জরিমানা কিংবা অনধিক এক বছরের জন্যে কারাগারে প্রেরণ করা হয়ে থাকে।

(খ) গুরুতর অপরাধ সাধারণতঃ এক বছরের ঊর্ধ্বে থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

অপরাধ হচ্ছে কোন ব্যক্তি কর্তৃক আইনবিরুদ্ধ কাজ। দেশ বা অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রণীত আইনের পরিপন্থী কার্যকলাপই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। অপরাধ গুরুতর কিংবা লঘু – উভয় ধরনেরই হতে পারে। অপরাধের ফলে ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড, হাজতবাস বা কারাগারে প্রেরণসহ উভয় দণ্ড কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণদণ্ডও প্রদান করা হয়ে থাকে। যে বা যিনি অপরাধ করেন বা অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকেন, তিনি অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে থানাসহ পুলিশ, গোয়েন্দা রয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী আদালতের মহামান্য বিচারক অপরাধীকে প্রয়োজনীয় ও যথোপযুক্ত শাস্তি দিয়ে থাকেন।

সাধারণতঃ অসৎ কর্মে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অপরাধের সাথে যুক্ত থাকেন। কিন্তু সাধারণ জনগণও অপরাধের সাথে নিজেকে সংযুক্তি ঘটাতে পারেন। বিপরীতক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, মানব নয় এমন ধরনের প্রাণী অপরাধের সাথে যুক্ত হতে পারে না।

সাধারণ ধারনা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তি বা সমাজের সমস্যা সৃষ্টিকল্পে যে সকল কাজ করেন তাই অপরাধ। অপরাধ হিসেবে কোন ব্যক্তিকে খুন, জখম, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্ষণ, জালিয়াতি, অর্থপাচার ইত্যাদি রয়েছে যা পৃথিবীর সকল সভ্য দেশেই স্বীকৃত থাকায় দণ্ডনীয়। এছাড়াও, মদ্যপান, কোকেন, হেরোইন, গাজা সেবন, নিষিদ্ধ প্রাণীর মাংস খাওয়াসহ সমাজের বিরুদ্ধ কার্যাবলী সম্পাদন করা অপরাধের আওতাভূক্ত।

অপরাধ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানলাম কিন্তু একটু কথা মনে পড়ে গেল। কোন ব্যক্তি চুরি করে যে অপরাধ করে অবশ্যই সে ব্যক্তি অপরাধী কিন্তু যদি সেই ব্যক্তির চালচুলো কিছুই না থাকে তবে তার বিচার আর অর্থবিত্তের অধিকারী তার বিচার কি একই হবে নাকি অর্থের মান হিসেবে করে কম বেশি হতে পারে ? আমার দৃষ্টিতে তো চোর তো চোরই, সে দেশের প্রধানমন্ত্রীই হউক না কেন ? হোক না সে চালচুলোহীন। তেমনি আইনের প্রয়োগ। কিন্তু আমাদের, দেশে বা সোনার বাংলায় কি সেভাবে আইনের ব্যবহার করা হয় ? সোনার বাংলায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আইনে কোন অপরাধ নেই যতদিন ক্ষমতায় আছেন, আর বিশাল প্রতিপত্তির অধিকারী বা বড় ব্যবসায়ী তাদের ক্ষেত্রেও আলাদা।

নারী নির্যাতন আইন নিয়েও কিছুটা সংশয় আমার। নারীর সাথে কেন পুরুষ নির্যাতন হবে না ? আমাদের তো গোড়া থেকেই সমস্যা। একজনকে উপরে তুলে রাখি আরেকজনকে নিচে নামানোর জন্য ফন্দি আটতে থাকি। সবল আর দূর্বল বলে কোন কথা নেই আইন তো আইন। আইনের পথ সমান। দূর্বলরা কি সবলকে আঘাত করতে পারে না। এখনো নারীদের পুরুষ সমাজ সম্মানের চোখের দেখে। কারন হিসেবে বলতে হয়, রাস্তায় অপরিচিত কোন মেয়ে যদি একটি ছেলেকে ধরে চিৎকার চেচামেচি করে তবে পাশে থাকা অন্যান্য পুরুষরা কিন্তু ঐ ছেলে টিকেই অপরাধী ভেবে যা করার তাই করবে, মেয়েটিকে আর কোন প্রশ্নই করবে না। হারয়ে বেচারা পাপ না করেও পাপী। এর মানে কি পুরুষরা এখনও নারীদের সম্মান করে। কিন্তু নারীরাই পুরুষদের অসম্মানের চোখে দেখে।

আমার ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয় ঐ সকল পুরুষদের যারা নারীদের ছোট করার জন্য বস্ত্রহীন করে। তাদের জন্মের প্রশ্ন তুললে অবশ্যই আবার সেই নারীদের সম্মান নষ্ট করা হবে। তাই জন্মের কথা বলবো না। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করি। ভয় শুধু ঐ এক জায়গায় আমাদের আইনের প্রতিবন্ধীতা। আমাদের আইন যে পরগাছা হবে ভাবতেই পারি না। যতদিন এই আইন স্বচ্ছ না হবে ততদনি আমাদের জাতিকে এই সকল গ্লাণি বয়ে বেড়াতে হবে।