ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

নিজের মাথায় অন্যের বসবাস।

বাংলা বর্ষবরণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের জন্য চুরি আর শাড়ি কাপড় নিয়ে আন্দোলন করছে। পুলিশকে চুড়ি আর শাড়ি কাপড় পড়ার জন্য পরামর্শ দেবে। যাক তাহলে শাড়ি কাপড় নারীদের জন্য চিরতরে উঠে যাচ্ছে। নারীরা কি করবে ? টু পিস, থ্রী পিস পড়ে ঘুড়ে বেড়াবে। সুন্দর আন্দোলন। প্রতিবাদ সবার করা উচিত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবার সোচ্চার হতে হবে। ঘুরে দাড়াতে হবে। প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র নিতে হবে। হাতে অস্ত্র নিলেই কি সমাধান হবে নাকি অপরাধ আরও বেড়ে যাবে ? ১৬ কোটি মানুষের জন্য কয়কোটি পুলিশ প্রয়োজন ? কতজনে সাধারন মানুষের জন্য একজন পুলিশ বরাদ্ধ আছে আমাদের দেশে ?

আমাদের জনগণ মুখে অনেক কথাই বলতে পারে পরিসংখ্যানটা দেখুন। আমাদের দেশে প্রায় ১২ শ মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ। তাহলে এই দেশে কি হতে পারে। তারপর যদি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রভাব প্রশাসনে এসে পড়ে তবে কি হতে পারে? পৃথিবীর মাঝে অন্য এক কেয়ামত। ঠিক এমনটই তো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের হিসেব গুলো অনেকটাই সহনীয়। এবং তাদের রাজনৈতিক কোন প্রভাব নেই আইনে। ভারতে ১৭৫ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন, পাকিস্তানে ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন, নেপালে ২১৭ জনের বিপরীতে একজন, ভুটানে ১১৩ জনের বিপরীতে একজন, মালয়েশিয়ায় ২৪৯ জনের বিপরীতে একজন, জাপানে ১৪৩ জনের বিপরীতে একজন, যুক্তরাষ্ট্রে ২১৫ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।

” শাড়ি কাপড় পড়লে নাকি, বাঙলি হওয়া যায় না, প্যান্ট আর ম্যাক্সি পড়লেই বাঙলি হওয়া যায় ” আমাদের সংস্কৃতি। এটাই আমাদের সংস্কৃতি। বললেই আমি মেনে নেবো। আপনিও কি মেনে নেবেন ?

এখানে আমি বলতে চাই পুলিশ নয় রাজনৈতিক দলের প্রতিটি মানুষের জন্য এমনটি করা প্রয়োজন। তাদেরকেই চুড়ি আর কাপড় পড়ানো উচিত। পুলিশ হচ্ছে হুকুমের গোলাম, এদের জন্য এসব করে কি লাভ? যাদের জন্য করা প্রয়োজন তাদের জন্য করা উচিত। পুলিশ দেখেও দেখে না, কারন সোনার বাংলার রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা বল। সরকার গঠণ যে দল করুক না কেন, অপরাজনীতিতে আইন অন্ধ। প্রতিবন্ধীরর মতো।

আমরা আমাদের দোষ কখনোই আমাদের কাঁধে নেব না, এটাই সত্যি। বাঙলি জাতি হিসেবে আমাদের কলঙ্ক। নববর্ষ, ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহর আমরা কত কি – ই না করি। কথায় বলে না,

“গরীবের মেয়ে যদি বাড়ি থেকে অন্যের হাত ধরে চলে যায়, সেটাকে সবাই বলে নষ্ট মেয়ে বাইরিয়া গেছে। আর ধনবানের যদি এমনটি ঘটে তবে সেটা বলে বন্ধুর সাথে ঘুরতে গেছে। ” এই দেশে এমন ঘটনা ঘটবে এটাই স্বাভাবিক। আমাদের মিডিয়া কর্মীদের কার্যকলাপ দেখে মনে হয় তাদের কাজ শুধুই ছবি তোলা আর লাইভ ভিডিও করা। গণমাধ্যম কর্মীদের সংখ্যা তো পুলিশের চেয়ে বেশি ছিল তারা কি করেছে?

ও গু খায় সকল মাছে আর নাম পড়ে ঘাইরা মাছের। ওপর দিকে ঘুষ খায় সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কিন্তু নাম শুধুই পুলিশের। এখন গণমাধ্যমকর্মীরা যদি বলেন তাদের সংখ্যা কম ছিল তাই তারা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি আমার কথা পুলিশ সদস্য কতজন ছিলেন? পুলিশ বলে কি তারা মানুষ নয়, তাদের বাঁচার অধিকার নেই। চুড়ি আর শাড়ি কাপড় যদি পড়তেই হয় দেশের সকল পুরুষদের পড়তে হবে।

এই যে আমাদের মা, বোন খ্যাত নারীরা তাদের কি কোন দোষ নেই। আমাদের এই অপসংস্কৃতির মূলে তারাই জড়িত। নারীদের সম্মান করে না এমন পুরুষ সোনার বাঙলায় জন্ম গ্রহণ করে না। অতি আদরে যেমন সন্তান নষ্ট হয়, তেমনি সেই পিতামাতকে ব্লাকমেইল করে পিতামাতকে বিপদে ফেলে।

ঠিক নারীরাও তেমন হয়ে গেছে বর্তমান সভ্যতায়। সৃষ্টির শুরু থেকেই তারা লোভী। লোভের কারনেই পৃথিবীটা আজ অন্ধকারময়। শুধু নারীদের দোষারোপ করছি কেন আমি ? নারী ঘরের শোভা, দেশের সম্মান, ঘরের সম্মান। নারীর গুণেই পুরুষ গুণান্বিত। তবে কেন নারীর পাশে পুরুষ দাড়াবে না ? নষ্ট সমাজ বলতে বা সমাজকে নষ্ট করার জন্য পুরুষ অনেকটাই দায়ি। নারীর সম্মান রক্ষা করার প্রতিটি পুরুষের নৈতিক দায়িত্ব। পুরুষ আর পশু অনেকটা মিল। আচার-আচরণেও ঠিক তাই হয়ে গেছে। নারীদের বস্ত্রহীন করা, ধর্ষণ করা। আরে এই নারীর গর্ভে তোর জন্ম। এই আলো বাতাস, সুন্দর পৃথিবী এই নারীর জনেই।

প্রতারিত জীবনের গল্প
———————-
তুমি বলেছো আর আমি শুনব না
তা কি হতে পারে?
কখনোই হতে পারে না,
বলো, কি বলতে চাও তুমি?
ও একটি কথা!
মনে করেছিলাম অন্য রকম কিছু
ঝর্ণার মতো ঝরবে দুটো ঠোট
তোমার দৃষ্টিতে দেখব সাগরের উত্তাল ঢেউ,
ছুৃঁতে চাইবে চাঁদ, এনে দিতে বলবে পূর্ণিমা রাত,
আরও কত কি?
কিন্তু তুমি চাইলে না,
শুধু বললে আমাকে তোমার প্রয়োজন?
তুমি কি জানো না?
হৃদ স্পন্দনের কথা, বুঝো না এ চোখের ভাষা
আমি তো তোমার, শুধুই তোমার!!!

 

ঠিক দু ‘বছর পর ——-
মেয়েটি ছেলেটি থেকে অনেক দূরে
নিজের হাত দুটি সপে দিয়েছে অন্যের হাতে
আজ সেই রবির নিজস্ব আলো নেই,
একদিন যার আলোতে আলো দেখতো
সমাজ, সংসার, দেশ এবং জাতি
আর আজ, সে জাতির কলঙ্ক, দেশের শত্রু
অন্ধকার রবির খুব প্রিয়,
একদিন নেশার মাঝে সোনালীকে আঁধারে ফেলে দিলো,
ঝলসানো মুখ, ধর্ষণের সুখে আজ
সোনালী কবরের বাসিন্দা, অন্যদিকে
রবির আলো নিভে গেছে পাটের প্যাঁচে;
প্রতারণার সুখ সত্যি কত মধুর।

 এমন ঘটনা আমাদের দেশে অহরহ শোনা যায় এবং প্রত্যক্ষ দেখাও যায়। নষ্ট পুরুষ বা বিপথগামী পুরুষকে একজন নারী অনায়াসে সুপথে ফেরত আনতে পারে কিন্তু বিপথগামী নারীদের নিজ পিতামাতা ও সুপথে নিয়ে আসতে পারে না। নারীদের বেশি দোষ দিচ্ছি বলে হয়তো অনেকেই আমাকে নষ্ট কথা বলবেন সেটা জানি। বলতে পারেন কোন সমস্যা নেই। পুরুষ তো নারীদের কথা শোনার জন্য জন্ম গ্রহণ করেছে। আর নারীর অপকর্মে পুরুষের শাস্তি। পুরুষের অপকর্মে নারীর শাস্তি খুব কম। আমাদের দেশের কথা বাদ দিলাম পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কথা একবার চিন্তা করুন। তাদের খোলামেলা চলাফেরা প্রতিটি নারীর জন্য কতটা ভয়বহ কারন হয়ে দাড়িয়েছে আজ।

যে জাতি তাদের ধর্মকে বুকে চেঁপে রাখতে পারবে না কিংবা ধর্মের প্রতি বিশ্বাস থাকবে না। ভয় থাকবে না তাদের ধবংস অবধারিত । আমরা সবাই ধর্মকে দূরে ঢেলে দিয়ে সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস হারিয়ে নষ্ট পথে হাটছি। এজন্য আমাদের উপর এমন অত্যাচার চলছে। প্রতিটি পরিবারে বর্তমানে নারী কর্তা। নারীদের সমঅধিকার আদায় নিয়ে খুব ব্যস্ত। সমঅধিকারের দিকগুলোই আজ আমার জানা হলো না। কি কি বিষয়ে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় নারীরা। সংসার জীবনেও কি নারীরা সমঅধিকারের প্রয়োগ করতে চায় ? নাকি কর্ম ক্ষেত্রে শিক্ষা ক্ষেত্রে ?

এই ছবিগুলো তুলেছে কেন ? অবশ্যই গণমাধ্যমকর্মীরা ?

গণমাধ্যম গুলোকে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয়। গণমাধ্যম কর্মীদের হতে হয় সাহসী, কিন্তু বাঙলায় কোথাও তাদের সাহসী ভূমিকা পালন করতে দেখি না। বিশ্বজিতকে মারছে আর আমাদের সাংবাদিক মিডিয়ার মানুষগুলো ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। কি মহৎ কাজটিই যেন তারা করে ফেলছে। এজন্য মনে হয় তাদের জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করা উচিত। এর দোষ ওর দোষ বের করা নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু নিজের দোষের কথা মাথায় নেই। আসলে আমাদের মাঝে মুনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মানুষ বলে পরিচয় দেয়া যায়। আমরা সবাই কাঠামোতে মানুষ কিন্তু বাস্তবে নয়।  একটি ঘটনা বারবার ঘটছে তবুও আমরা সচেতন হচ্ছে না। আমাদের মাঝে একতা গুলো হারিয়ে গেছে সেই ৭১ পার করে আসার পরপরই।

হাজার হাজার মানুষের ভেতর ছয়জন মানুষ মিলে বস্ত্রহীন করে ফেলছে আমাদের মা, বোন জাতিকে। আর আমরা সবাই মিলে তামাশা দেখছি। সর্বপরি বলতে চাই মানুষ রূপে যতদিন আমরা চলতে না পারবো ততদিন ঐ সকল পশুরা অত্যাচার করেই যাবে। একে অপরের দোষ দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিরোধ একজন শুরু করলে দেখবেন পাশে হাজারও হাজারও মানুষ এসে দাড়িয়েছে। কিন্তু সবাই যদি কারও অপেক্ষায় বসে থাকি তাহলে এদেশে কিছুই হবে না। চোখের সামনে ধবংস হয়ে যাবে সকল। প্রভাবশালীদের ক্ষমতার অপব্যবহারে আইন অন্ধ সে অন্ধ হয়েই থাকবে।

নারীরা পুরুষের দোষারোপে ব্যস্ত না থেকে আসুন নারীপুরুষ মিলেমিশে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। যখন পুরুষ জাতিকে কলঙ্ক দিবেন তখন কিন্তু আপনার পাশে কোন পুরুষ থাকবে না। তখন পুরুষগুলোই আপনার প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়াবে। তখন আপনি কি করবেন ? যখন নারীরা নারীদের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, হ্যা এগিয়ে যেতে পারবেন তবে খুব বেশিদূর নয়। নারীরা যদি পুরুষকে সম্মান করে অবশ্যই পুরুষ নারীদের সম্মান করবেন। পুরুষরা এখনও নারীদের বেশি সম্মান করে। অনেক ঘটনাই ঘটে যেখানে পুরুষ নির্দোষ কিন্তু পুরুষরাই নারীর পক্ষ নিয়ে কথা বলে। এখনও যে নারীদের পুরুষ সমাজ ফেলে দিয়েছে সেটা ভাবার কোন কারন নেই। নিজ নিজ কর্ম দোষে আমরা সবই দোষী আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। আমাদের ভুলগুলোই আমাদের অমর্যাদা করছে আর কিছুই নয়।

ধর্মকে ভয় করতে হবে। সত্য-মিথ্যের পার্থক্য বুঝতে হবে। কোনটা ভুল কোনটা সঠিক বুঝতে হবে। অধিকার আদায় নয় অধিকার অর্জন করতে হবে। কিছু মানুষ সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য অনেক ঘটনা ঘটায়। সাবধান থাকেবে ঐ সকল মানুষের দিক থেকে। নাটকের অভাব নেই সোনার বাংলাদেশে। ভালবাসার জন্য ঝোপঝার নয়, বাসায় বসেই প্রেম করুন। ভাল লাগা ভালবাসার কথাটি সকলকে জানান। আর তখনি প্রেমে প্রস্তাবে সম্মতি জানাবেন যখন আপনি আপনার বুঝ বুঝতে পারেন। তবে সংসারের সম্মতিক্রমে এগিয়ে যান। পুরুষ আর পশু অনেকটা মিল আগেই বলেছি। মিষ্টিমিষ্টি কথায় না ভুলে কঠোর হউন।

দেখুন আজ মানবধিকার কমিশন কোথায় ? কোথায় বড় বড় কথা বলা নারী সংগঠণ ? আসলে স্বার্থের পৃথিবীতে আপনা স্বার্থটই সবার বড়।