ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

Rudra.01

আমাদের আবেগ যেন স্পন্স মিষ্টি মুখে পুরে দিলেই উধাও। আজ ঐশীর বিচার হয়ছে আর সেই বিচারে ঐশীর সাঁজাও হয়েছে। এই বিচারে আবেগের তারনায় আমরা অনেকে মিষ্টি মুখ করেছি মনে হচ্ছে যেন ছেলে বা মেয়ে ক্লাশ ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

এখন আর গাছ কাটবো না, হোক সে চুলকানী গাছ। ডালপালা কেটে দিলেই হবে। আমাদের কার্যক্রম ঠিক এমনি। উচ্চবিত্তরা আমাদের সংস্কৃতি তথা দেশকে নরক বানিয়ে ফেলেছে। আমরা এতোটাই ব্যস্ত যে সন্তানের জন্য আমাদের এতোটুকুও সময় নেই। যদি এতোটাই ব্যস্ত থাকতে হবে তবে কেন বিয়ের প্রয়োজন ছিলো বা কেন সন্তানকে পৃথিবীর আলো বাতাস দেখানো হলো। সন্তান এসেই গেছে যেহেতু তবে সেই সন্তানকে মাতৃস্নেহ বা পিতৃস্নেহ থেকে কেন বঞ্চিত করা হবে ?

আমাদের দেশের এমন কিছু দৃশ্য দেখা যায় সন্তানের চেয়ে পোষা কুকুর বিড়াল বেশি স্নেহ ভালবাসা পায় যতটা পায় না সন্তান। এই প্রথম ঐশীর চোখে জল দেখা গেলো। একটা পাষাণ্ড মানুষের চোখে জল কখন আসে ? বাস্তবতায় যখন সে ফিরে আসে, কোথায় ছিলো কোথায় এলো যদি এই বোধটুকু জাগ্রত হয় ঠিক তখনি চোখের জল নিজের অজান্তেই গড়িয়ে পড়ে। একজন নেশাগ্রস্থ মানুষের পক্ষে অপরাধ করাটা তেমন কোন বিষয় নয়। ঐশীর ক্ষেত্রেও হয়তো এমনটি ঘটেছে।

রাজধানীতে নিত্যদিনের ডিজে পার্টি

অপরাধীর শাস্তি হবে এটা আমি নিজেও কামনা করি। তাই বলে চোরকে হত্যা করে ডাকাতকে আড়ালে যেতে দেয়া হবে সেটা মানা যায় না। অর্থ-বিত্ত আর গুলশান বনাণীর কিছু আভিজাত্য পরিবার উলঙ্গ বাংলা প্রদর্শন করতে যাচ্ছে। ডি-জে পার্টি, নাইট ক্লাবে দিনের পর দিন রাতের পর রাত মাতাল হয়ে পড়ে থাকে আমাদের মা বোনেরা। নারীদের এই উচ্চবিলাসিতাকে আপনারা কিভাবে দেখবেন ? মাতাল হয়ে কে কার দেহে লেপ্টে রয়েছে সেটা কি সেই সকল ব্যক্তিরা বুঝেন তখন ? মাতলামি করতে করতেই বাসায় ফিরবে, স্বামীকে ধমকের উপর রাখবে…আর পুরুষ হলে স্ত্রীকে ধোলাই দিবে। মাতালের যা কাজ।

বদলে যাওয়া সময়ের এক নতুন সংস্কৃতি ডিজে পার্টি

মনের মধ্যে অনেক প্রশ্ন দোলা দিচ্ছে তো দিচ্ছেই। ঐশী জন্মের সময় তার মায়ের কোল আলোকিত করেই জন্মেছিল হয়তো, তবে নিশ্চয়ই খুনি হয়ে নয়। ধীরে ধীরে অন্য আর দশটি ছেলেমেয়ের মত মা-বাবার আদরে সে’ও বেড়ে ওঠে, স্কুলে যায়। এরপর থেকেই একটু একটু করে বখে যাওয়া শুরু। প্রশ্ন জাগে ঐশী কি একদিনেই এতটা ডেসপারেট হয়েছে? আমরা আবেগী, একজন সন্তান তার পিতা-মাতাকে হত্যা করেছে এমন কথা কর্ণপাত মানে আকাশ ভেঙে পড়া।

প্রতিটি দেশে বেশির ভাগ সময় সন্তান তার সংসার থেকেই অপরাধীর হয়ে বেড়ে ওঠে। আজকের ঐশী অপরাধী ঐশী হওয়ার জন্য দায়ি কে বা কারা ? আজ ঐশীর চাচা বাদী হয়ে মামলা লড়ছে, সেই দিনগুলোতে কোথায় ছিলেন তিনি ? তিনি যদি ঐশীর শাসনে যদি ভাইয়ের কোন বাঁধা থেকে থাকতো তাহলে আজকের ঐশীর প্রধান অপরাধী তার পিতা-মাতাই ছিলেন।

আজ শুধুই যে ভাইয়ের অপরাধীর শাস্তি কামনাতে এই মামলা সেও নয় ভাইয়ের অবর্তমানে তিনি ভাইয়ের সকল অর্থ সম্পত্তির মালিক। সিনেমা নির্মাতা হয়তো এমন তথ্য খুঁজেই সিনেমা তৈরী করেন। ঐশীর ভাইও যে একদিন অপরাধী হবে না সেটা কি করে ভাবলেন। স্বার্থপর এই পৃথিবীতে অর্থ হাতের মুঠোয় থাকে মানুষ অমানুষ হতে এতোটুকুও সময় ব্যয় করে না। যতটুকু সময়ে একজন মানুষ মৃত্যুর কোলে ঘুমিয়ে পড়ে।

তার বাবার অনেক টাকার জন্যই কি সে খারাপ পথে পা বাড়িয়েছে? তাহলে তো সমাজের সব কোটিপতির সন্তানের অবস্থা একই রকম হওয়ার কথা। কিন্তু তা কি হচ্ছে? তবে কতজন ভাল হচ্ছে সেই অনুপাতও খুব নজরকারা নয়। এমন অপরাধের জন্য প্রশাসন অনেকটাই দায়ি। গরীবের সন্তান দাড়ি গোফ না কাটলেই জেএমবি বলে চালান হয়ে যায় আর টাকা পয়সার মালিকদের সন্তান পাগল হয়ে থাকলেও তার শরীর দিয়ে টাকার ঘ্রাণ ছড়িয়ে যায়। অপরাধী তৈরীতে আমরা সবাই হাত বাড়িয়ে দিয়েছি।

সর্বপরি বলতে হয় যতটুকু জেনেছি তাতে আমি মনে করি, ঐশীর আজকের করুণ পরিণতির জন্য প্রত্যক্ষভাবে তার পরিবার দায়ী। তবে সামাজিকভাবে ঐশীদের তৈরির দায়ভার আমাদেরও কম নয়। ফাঁসি কখনোই মানুষকে আলোর পথ দেখায় না। যদি তাই দেখাতো তাহলে আত্মহত্যা নামক ভুল পথে কেউ খুঁজে নিতো না।