ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

সিলেটের দক্ষিন সুরমার সিলাম ইউনিয়নের রুস্তমপুর এলাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ থাকায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।

ছোটবড় অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হয়ে এখানকার সড়ক পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায় রাস্তায়। এতে করে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। এসব সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাচ্ছেন চালকরা।

এলাকার সড়কের এমন করুণ দশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে  হচ্ছে এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও রোগীদের।

রুস্তমপুরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের  নবম শ্রেণির ছাত্র মিনহাজুর রাহমান জানান, প্রতিদিন এ ভাঙা রাস্তা দিয়ে অনেক কষ্টে  স্কুল যেতে হয় তাদের।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মীম আক্তার জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি ও কাদা জমে যায়। এতে অর্ধেকের বেশি  শিক্ষার্থী স্কুলে আসে না। পানি বেশি হলে রাস্তায় হাঁটতে গেলে কাপড় ভিজে যায়।

এই এলাকার আস্তার মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে  বলেন, বর্ষার পানি জমে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি  হয়েছে; পুরো সড়ক হাঁটু কাদা।  দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছে এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরোও  জানান, বহু শিক্ষার্থী এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এ সড়কের আর কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি চাষ দেওয়া ধান ক্ষেতে জমিতে পরিণত হয়। এলাকাবাসীর দুর্ভোগে পরিণত হওয়া রাস্তাটি সংস্কারে  কোনও উদ্যেগ নেই।

রুস্তমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জলি ভট্টাচার্য বলেন, “এই রাস্তা অনেকদিন যাবত এতোটাই খারাপ যে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমা হয়। স্কুলের শিক্ষার্থীদের জামা ভিজে যায়। এজন্য অনেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি হলে স্কুলে আসতে চায় না।”

আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেনও জানালেন সড়কের বেহাল দশার কারণে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাওয়া কথা।

“এই রাস্তার যে অবস্থা আমারা নিজেরও আসতে কষ্ট হয়। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে  আসার সময় গর্তের মধ্যে পড়ে যায়। তারমধ্যে রাস্তার পাশে ড্রেন না থাকায় পানি অনেকদিন জমে থাকে। অভিভাবকরা  আমাদেরকে অভিযোগ করেন। বৃষ্টি  হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একবারে কমে যায়।”

সংস্কারহীন এই সড়কের কারণে সৃষ্ট নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে  রুস্তমপুর এলাকার মেম্বার কয়েছ আহমদ জানান, রাস্তার মেরামতের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার এ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু  হবে। তবে আরোও কিছুদিন কষ্ট  করতে হবে।