ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

দেওয়ান হাছন রাজার নাম শুনলে মনের মন্দিরায় বেজে ওঠে ‘লোকে বলে বলে রে, ঘর বাড়ি ভালা না আমার’।

সুনামগঞ্জের এক জমিদার পরিবারে জন্ম নিয়েও পরে বেছে নিয়েছিলেন বাউল জীবন। মরমী কবি হাছন রাজা আমাদের বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন।

মৃত্যুর কয়েক যুগ পেরিয়ে যাওয়ার পর হাছন রাজার স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারের জল্লারপাড় রোডে গড়ে তোলা হয় একটি জাদুঘর – মিউজিয়াম অব রাজাস।

এখানে  কর্মরত জাহাঙ্গীর আলম বলেন,  “প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা হাছন রাজার ব্যবহৃত নানা জিনিষ ও পরিবার সম্পর্কে নানা তথ্য জানতে প্রতিদিন ভিড় করছেন এখানে।”

জাদুঘরে রয়েছে হাছন রাজার ব্যবহার করা জিনিসপত্র ও তার গানের পাণ্ডুলিপিও।

জাদুঘরের প্রবেশদ্বারে রয়েছে হাছন রাজার বাড়ির ধ্বংসাবশেষের একটি পিলার।   হাছন রাজার পিতৃক বাড়ির দালানের ইট, তার ব্যবহৃত সিন্দুক,  হারিকেন, ঘোড়ার লাগাম, ঘোড়ার পায়ের নাল, হাছন রাজার পায়ের খড়ম, ওই সময়ের বৃটিশ মুদ্রা সংরক্ষিত আছে জাদুঘরে।

আরো রয়েছে হাছন রাজার ছবি সংবলিত বাংলাদেশ ডাক বিভাগের  ডাক টিকেটও।  ডিআর কঙ্গো, আফ্রিকান একটি গিটার ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাদ্যযন্ত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে এখানে। রয়েছে দেওয়ান হাছন রাজার বৈমাত্রেয় বোন সিলেটের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি সহিদা খাতুনের কাব্যগ্রন্থ।

সিলেট বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন খালেদ হাসান। জাদুঘরে ঘুরতে এসে তিনি বলেন,  “আমরা এখানে চারজন মিউজিয়াম দেখতে এসেছি। ছোটবেলায় বইপত্রে হাছন রাজার কথা শুনেছি। মিউজিয়ামে এসে খুবই ভাল লাগছে। এখানে হাছন রাজার ব্যবহারের অনেক জিনিশ দেখেছি। হাসন রাজা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।”

শিক্ষার্থী তামান্না জাহান হাজেরা বলেন,   “আমি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় রুস্তমপুরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। আমি আমার বড় ভাইয়ের সাথে ঘুরতে এসেছি।এই প্রথম হাছন রাজার ব্যবহত অনেক জিনিস দেখছি।”

দশ টাকার টিকেট কেটে জাদুঘরে প্রবেশ করতে হয়।