ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

গত ১৭ মে আমার চাচার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। বাসা থেকে বের হয়েছি চাচার বাসায় যেতে। আনুমানিক ৫টার দিকে রওনা হলাম। মোমিনখলা যাবো বলে বাবনা পয়েন্টে দাঁড়িয়ে আছি।  যেতে লাগতে পারে ৩০ মিনিট।

ইফতারের সময় হওয়ায় গাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক অটোরিকশা চালককে ডাকাডাকি করলেও কেউ যেতে চাইলো না। কোনো উপায় না পাওয়ায় একটা রিকশাকে হাতের ইশারায় ডাক দিলাম।

চালক  রিকশা আমার পাশে এনে দাঁড় করাতেই আমি রিকশাচালকের দিকে না তাকিয়ে চড়ে পড়লাম। বললাম, মোমিনখলা যাবো।  রিকশা চালক কোনো কিছুই বললেন না। আমার দিকে থাকিয়ে আছেন। ভাবলাম, ভাড়ার বিষয়টা স্পষ্ট করতে চাইছেন।  ‘বাড়িয়ে দেব’ বলতেই রিকশা চলতে শুরু করলো।

পাঁচ মিনিট যেতেই সিলেট বাস টার্মিনাল। সেখান থেকে দেশের সব জায়গার বাস পাওয়া যায় বলে  বাসের ভিড় লেগেই থাকে। আমি রিকশায় বসে মোবাইলের দিকে থাকিয়ে আছি। রিকশার চলতি পথেই পেছন থেকে একটি বাস ধাক্কা দিল। ঝাঁকি খেয়ে আমিও রিকশা থেকে মাটিতে পড়ে যাই।

খুব একটা চোট পাইনি; মাটি থেকে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে দেখি রিকশাচালকের সাথে ঝগড়া শুরু হয়ে গিয়েছে বাসের হেল্পারের। লোক জমায়েত হয়ে গিয়েছে। সবাই আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, কিছু হয়েছে কি না।

আমার কিছু হয়নি জানিয়ে বললাম, রিকশাওয়ালার কোনো দোষ নেই।

এরপর সবাই  মিটমাট করে নিলেন।

আমিও আবার রিকশায় উঠে পড়লাম। নিজের মোবাইল উল্টেপাল্টে দেখছিলাম কিছু হয়েছে কি না। কিছুক্ষণ পর  গোঙ্গানির আওয়াজ শুনতে পেলাম। রিকশা চালক কাঁদছেন। রিকশা ততক্ষণ চাচার বাসার সামনে এসে হাজির।

কী হয়েছে জানতে চাইলে রিকশা চালক নিজের হাত দেখালেন; আঘাত পেয়েছেন। ইশারায় কিছু বলার চেষ্টা করতে এবার বুঝলাম, উনি কথা বলতে পারেন না। আমাকে হাতের ইশারায় বোঝাতে চাচ্ছেন বাসের হেল্পার উনার হাতে আঘাত করেছে। বার বার বোঝাতে চাচ্ছেন উনার কোনো দোষ নেই।

রিকশাওয়ালাকে এভাবে কান্না করতে দেখে আমারো খারাপ লাগছিল। উনাকে কী বলবো বুঝতে পারছিলাম না।

উনাকে কত টাকা ভাড়া দেব তাও বুঝতে পারছিলাম না। শেষে ৪০ টাকা ভাড়ার বদলে ১০০ টাকা দিলাম। রিকশাওয়ালা চলে গেল। কিন্তু আমার মনে তখনও উনার কান্না চলছে। আমি মনে মনে বারবার বললাম, যেখানেই থাকবেন ভাল থাকবেন।

মন্তব্য ২ পঠিত