ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

যারা প্রতিদিন আগারগাঁও থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এর সামনের রাস্তা (বাইপাস) ব্যবহার করে মিরপুর হতে মহাখালী, মহাখালী হতে ফার্মগেট যাতায়াত করেন; তারা অবশ্যই আমার সাথে একমত হবেন যে প্রতিদিন সকালে সবচেয়ে বড় আতংকের নাম এখন এই বাইপাস সড়ক। যা আগে ছিল সকালে সময়মত গাড়ি পাবো কি না? আর এখন আরো একটা যোগ হলো সময় মত অফিসে পৌঁছাতে পারবো কি না? কেন এমন হয়? আমরা সবাই কি এর উত্তরটা জানি?

মূল ঘটনাটার সময় গত ২৪ জুলাই সকাল আনুমানিক ৯.২১ মিনিট। প্রতিদিনের মত আজও বাসা (মিরপুর) হতে বের হয়েছি সকাল ৭.৪০ মিনিটে। আমার বাসা মিরপুর-১ নং পাইকপাড়া সরকারী স্টাফ কোয়ার্টার (কিয়াংসি চাইনিজ এর দক্ষিণপাশে)। বাসা হতে বের হলে সরাসরি মহাখালীর লেগুনা পেয়ে যাই। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমার অফিস মহাখালী অফিস টাইম সকাল ৯.০০ টা এবং সর্বশেষ লেট টাইম ৯.৩০ মিনিট। মিরপুর-১ নং হতে মহাখালী দূরত্ব সর্বোচ্চ ১২ কিঃ মিঃ। যানজট ছাড়া এই দূরত্ব পৌছাতে সময় লাগে ৩০-৪০ মিনিট। তবুও অফিস ডে এবং সকালে অফিস টাইম হিসেবে যানজট আমাদের নিত্যদিনের সাথী। তাছাড়া বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ হিসেবে রাস্তাঘাট মেরামত তো আছেই।

sdjajkf

.

সকাল ৮.২৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্র এর সামনে পৌঁছায় আমাদের বহনকারী লেগুনা গাড়ীটি। এরপর সামনে যানজট, যা আমাদের নিয়তি। অফিসের তখনও ঢের সময় বাকি। গাড়ীতে বসে আছি অফিসে গমনকারী সকল ব্যক্তি। অপেক্ষা কখন গাড়ী সামনে বাড়বে। আমাদের গাড়ীর মত তখন আরও অনেক গাড়ী (সঠিক সংখ্যা জানা নাই) আমাদের আগে ও পরে এসে জড়ো হতে লাগল। অপেক্ষার প্রহর বাড়তেই থাকল। গাড়ীতো আর সামনে বাড়ছে না। অবশেষে গাড়ী এগুলো। হয়ত ৩-৪ টি গাড়ী দূরত্ব পার হল। আবারও থমকে গেল গাড়ী। কি হল? পুনরায় সিগনাল!

এভাবে প্রতিটি সিগনাল পার হচ্ছি আমরা ৫-৭ মিনিট পরপর। কতটুকু দূরত্ব (!) বলতে পারবেন? সর্বোচ্চ ৫০০-৭০০ মিটার। আর এই দূরত্ব পার হলাম যখন তখন ঘড়িতে বাজে ৯.২১ মিনিট! সময় লাগলো ১ ঘন্টা থেকে ৩ মিনিট কম; পাক্কা ৫৭ মিনিট! মারহাবা! মারহাবা!

কতক্ষণ মেজাজ ঠিক থাকবে? যদি আপনি দেখেন যে, বাইপাসটির সামনের মূল সড়কে একটা একটা করে গাড়ী পাড় হচ্ছে আর আপনার সামনে দন্ডায়মান ট্রাফিক কনস্টেবল (সার্জন নয়) সিগনাল দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে; কিন্তু আপনার লাইনের কোন গাড়ী পার হতে দিচ্ছে না ইচ্ছাকৃতভাবে। যখন সিগনাল ছাড়ছে সর্বোচ্চ ৫-৭ টা গাড়ী পার হতে দিচ্ছে। পুনরায় সিগনাল দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকছে। যদিও বা আপনার মূল সড়কে যানজট থাকত তবুও কথা থাকত। মাথাটা তো খারাপ হতেই পারে। অফিসে লেট এর টেনশন। শুধু যে আমার অফিসের লেট হচ্ছে এমন নয়। আমার মত এমন ভুক্তভুগির সংখ্যা হয়তো হাজারো মানুষের।

এছাড়া এই বাইপাস ব্যবহারকারী রোগীর এ্যাম্বুলেন্স, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, জন সাধারণ সকলেই এই অবস্থার শিকার। নিত্যদিন ঘটছে এই ঘটনা। যদি আমার কথা অবিশ্বাস হয় তাহলে আপনাদের সকলকেই দাওয়াত রইল এই বাইপাস ব্যবহারের।

আজ আর পারলাম না নিজেকে সংযত রাখতে। রেগে গিয়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক কনস্টেবল সাহেব (!) কে জিজ্ঞাস করলাম, এর মানে কি? সামনের রাস্তা খালি কিন্তু গাড়ী আটকিয়ে রাখছে কেন? জানেন উত্তরটা কি পেলাম? সে তেড়ে এস আমাকে হাতের লাঠি দিয়ে মারতে এল। আমাদের গাড়ী সেই মূহুর্তে চলমান হওয়ায় এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। লাঠির বাড়িটা লাগল না। সাবাশ! লাঠির বাড়িটা সে আমাকে তো দেয় নাই; দিয়েছে প্রতিবাদী ভাষাকে।

এই আমাদের দেশ! এই আমাদের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। যে দেশের জন্য লাখো-কোটি মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা সংগ্রাম করে যুদ্ধ করে স্বাধীন করেছে। সেই স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কারো কাছে কিছু জানতে চাওয়া কি অন্যায় না অপরাধ? কি অপরাধ করেছি আমি? জানতে চেয়েছি কেন এই সিগনাল? ঢাকা শহরে বড় হয়েছি। অলি-গলিতে বড় হয়েছি আমি। আমার জানামতে, কোন মূল সড়কের বাইপাস রোডের বামপাশের লেন কখনও কোন সিগনাল নাই বা পড়ে না। কেবলমাত্র কোন ভিভিআইপি চলাচলে কিংবা প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি চলাচলের ক্ষেত্রে কিংবা কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই লেন সিগনালের আওতাভুক্ত হয়। অন্যথায় বামপাশের লেনের সকল গাড়ী ধীরগতিতে মূল সড়কে চলাচল করবে। তাহলে কেন এই সিগনাল? কিসের জন্য, কার জন্য? কেন মানুষকে এই কষ্ট দেওয়া? এটা জানতে চাওয়াটা কি অন্যায়?

এই দেশে বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীকে কি এতটাই ক্ষমতা দিয়েছেন যে, তারা ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করবে? এই জন্যই কি স্বাধীনতা যুদ্ধ? এটাই কি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল? এটাই কি দেশরত্ন শেখ হাসিনার শাসন? পুলিশ বাহিনী কি এখন পোশাকধারী সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে না? স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ঘটা প্রতিদিনের এই ঘটনা কি সরকারের কোন মহল অবগত নয়?

ধিক্কার নিজেকে। এই দেশে জন্ম নিয়েছি বলে। আজ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে দন্ডায়মান ট্রাফিক কনস্টেবল আসলে আমাকে লাঠি দিয়ে মারেন নাই। রূপক অর্থে এই দেশে জন্ম নেওয়া সকল প্রতিবাদী জনসাধারণ এমনকি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিবাদী মানুষ এবং পরবর্তী প্রজন্মকে (যারাই প্রতিবাদী হবে) সকলকেই লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। বর্তমান সরকারের এমন অবস্থা যে, মানুষ দোষ-গুণ আলোচনা করলেও বিপদ। লেখাপড়া করেছি; দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ শেষে চাকুরীতে এসেছি। সারা জীবন জেনেছি, সমালোচনা করা সবচেয়ে ভাল দিক। সমালোচনা করলে প্রত্যেকে তার ভাল-মন্দ জানতে পারে, বুঝতে পারে এমনকি নিজের কৃত ভুল সংশোধনের সুযোগ পায়। কিন্তু আমি ভয়ে আছি। না জানি আমার এই লেখা আবার কি থেকে কি হয়ে যায়।

আজ আমি আমার সাথে ঘটা একটি ঘটনাকে আপনাদের জানালাম। হয়ত আমার মত ঘটনার শিকার এদেশে অনেক মানুষ রয়েছেন। আমরা শুধু বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্নকে এভাবে কলঙ্ক দিয়ে ঢেকে দিয়েন না। বর্তমান সরকারের সকল অর্জন এভাবে গুটিকয়েক ভুল মানুষের ভুল পদক্ষেপে নষ্ট হয়ে যেতে পারে না।

আমি পুলিশ বাহিনীর প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখে বলছি, আপনারা আইনের রক্ষক। আইনের রক্ষক হয়ে দয়া করে ভক্ষক হবেন না। আমরা দেশের আপামর সাধারণ নাগরিক। আমাদের জান-মালের নিরাপত্তায় আমরা আপনাদের পাশে পাই সব সময়। আপনাদের মাঝেই কিছু দুষ্ট প্রকৃতির ব্যক্তিবর্গের জন্য সমস্ত দেশের জনগণ আপনাদেরকে ভুল বুঝতেছে। আপনারা এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। দেশ ও মানুষের সেবায় সকলে এগিয়ে আসুন।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ আমার এই লেখা কোন বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক নয়। কেবল মাত্র ব্যক্তিগত অভিমত মাত্র। কেউ আমার বক্তব্যে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত হলে আন্তরিকভাবে দুখিঃত ও ক্ষমাপ্রার্থী।