ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

স্বাধীনতার ৪০ বছরে আমাদের দেশ আজ একটি সম্বাবনাময় দেশে রুপ লাভ করেছে নিরহংকার নির্লোভ আর সাধারন মুক্তিযোদ্বাদের কারনে। কিন্তু ভাগ্যোর নির্মম নিষ্ঠুর পরিহাসে হারিয়ে গেছে সেই সব সত্যিকারের বীর মুক্তিযোদ্ধারা, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভিড়ে। কিন্তু কেউ কি এই সাধারন অর্থাৎ সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভেবেছেন ? স্বাধীন দেশে কতজনের কতকি হয়েছে সেটা সকলের জানা কিন্তু— কি হয়েছে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারের। তাদের নিয়ে রাজনীতির শেষ নেই। আজ মুক্তিযোদ্ধাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সুবিধাবাদিরা। যেন স্বার্থ উদ্ধারই তাদের কাজ। আর স্বার্থ শেষ হয়ে গেলে কেউ খবর রাখে না এসব লাঞ্চিত, বঞ্চিত, অসহায়, অবহেলিত মুক্তিযোদ্বাদের যারা অর্ধাহারে, অনাহারে বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। অনেকে আবার আবেগ করে এই সব গরীব অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে গিয়ে বলে চাচা বা দাদা নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। আর চাচা আমি কি আপনার সাথে একবার বুক মিলাতে পারি ? কেহ এ ই রকম আবেগ দিয়া আসেন কিন্তু চা খাইতে কিছু টাকা দিয়া আসেন না কিংবা তাদের পুর্নবাসনের, চিকিৎসার জন্য, ডাল ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার ব্যাবস্থা করেন না। শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নেতা/নেত্রীদের বাগাড়ম্বরতা।

অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় বিছানার কোনে শুয়ে ধুকে ধুকে মারা যায় বীর মুক্তিযোদ্বারা আর ভূয়াসার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধারা বীরদর্পে ভোগ করে চলছে মুক্তিযুদ্ধের সকল সুবিধাগুলো। হায়রে আমার বাংলাদেশ। তাদের নিয়ে চলছে রাজনীতি। কথায় কথায়, কারনে অকারনে এবং তর্কে টেবিলে মুক্তিযুদ্ধকে সামনে নিয়ে আসে অনেকে কিন্তু নিজ জেলায় উপেক্ষিত বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন তার এলাকায় রয়েছে ডজন খানেক র্শীষস্থানীয় শিল্পপতি ,আমলা এবং রাজনৈতিক নেতার বাড়ি কিন্তু রুহুল আমীনের পরিবারের দুরবস্থা নিয়ে কেউ কখনো মাথা ঘামাননি। মুক্তিযুদ্ধে লাখ টাকা অনুদানকারী দিল মোহাম্মাদ আজো অবহেলিত, আজও স্বাধীনতার ৪০ বছরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদ হোসেনের স্ত্রী, কন্যা ও নাতনিকে থাকতে হচ্ছে যৌন পল্লীতে। স্বাধীনতার ৪০ বছরেও বাংলাদেশে গেজেটভুক্ত হয়নি মুক্তিযোদ্ধা এস কে দাশ। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসলেম শেখের পরিবারটিকে উচ্ছেদের জন্য একটি সংঘবদ্ধচক্র র্দীঘদিন ধরে উঠেপড়ে লেগেছে হামলাও চালানো হয়েছে তাদের বাড়িতে। স্বাধীনতা অর্জনরে প্রায় ৪০ বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোন্নাফ। এই কি ছিল তাদের আশা, এই কি ছিল তাদের প্রাপ্প, এই কি ছিল তাদের রক্তের মূল্য, এ কি ছিল তাদের ভাগ্যে। দারিদ্রতার কষাঘাতে শহর কিংবা গ্রামে আজও ভিক্ষা করে, ভ্যানগাড়ি চালিয়ে, রিকসা চালিয়ে, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কৃষি কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছে সেই ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আজ তারা নানা ভাবে বঞ্চিত তাদের পাওনা থেকে। কোথায়, কোথায় সেই মুক্তিযোদ্ধোদের নিয়ে গাল ফুলিয়ে বলা মানুষ গুলো যারা বলে মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা কি দেখতে পাচ্ছে না, শুনতে পাচ্ছে তাদের করুন সুর।

আজ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাজনীতিও হচ্ছে বেশ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে মুক্তিযোদ্ধাদের লিস্ট নিয়ে দেশে ইদানিং বেশ তুলকালাম হচ্ছে। কারন মুক্তিযোদ্বা পরিবারের সন্তান পরিচয় দিতে পারলে চাকুরিটা নিশ্চিত । যার ফলে ইদানিং হাজার-হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্বা সার্টিফিকেটধারী বের হচ্ছে । আর বাদ পড়ছে সত্যিকারে সেই সোনার মানুষগুলোর মেধাবী ছেলে/মেয়েরা যারা শুধু দেশকে দিতে চায় । আমরা মুক্তিযুদ্ব ও মুক্তিযোদ্বাদের নিয়ে গর্ব করে থাকি। কিন্তু এগুলো কি। রাজনীতির কারনে অনেকে আবার মুক্তিযোদ্ধা এমনকি খেতাব প্রাপ্ত মু্িক্তযোদ্ধাদের অপমান অপদস্থ করতে দ্বিধাবোধ করছে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে তাই বলে কি অপমান অপদস্ত করতে হবে। যেন সন্মানিত মুক্তিযোদ্বাদের সাথে ইঁদুর বিড়াল খেলা। আমরা দেখেছি অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজপথে রক্তাক্ত হতে। পাঠকবৃন্দ, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে কিন্তু এ কোন মানষিকতা! এখন আবার দেশ ও জনগনের উন্নয়ন উন্নতির রাজনীতি না করে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। যা শুধুই খেলা।

মুক্তিযুদ্ধ কোনো পৈত্রিক ব্যবসা না। ইহা কাহারো পৈত্রিক সম্পত্তিও না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়া যা চলছে তা নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। দেশে উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিসহ চাকুরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা’ বলিয়া একটি প্রথা চালু আছে ইহা একটি ফায়দা হাসিল করার উপায় বলে আমি মনে করি। যেমনটি করে থাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা। নেতা/নেত্রীদের নামে কবিতা লিখে গান গেয়ে সুবিধা আদায়কারীরা। যোগ্য প্রার্থী/প্রার্থীনীগনকে পিছনে ফেলিয়া দিয়া অনেক অযোগ্য প্রার্থী এই মুক্তিযোদ্ধার কোটারির সুবিধা নিয়া চাকুরি বাগাইয়া নিচ্ছে। এইটার নাম ন্যায়বচিার না। কারন এই বাংলাদেশ সবার, কাহারো পৈত্রিক সম্পদ নয় যে ইহা তারা ওয়ারিশ সূত্রে পেয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্বা কোটায় তাদের নাতি পোতিরা চাকুরি পাচ্ছে, এটা কতটুকু ঠিক? অনেক মেধাবী ছাত্র চাকুরী পাচ্ছে না, আবার অনেকে ভূয়া সার্টিফিকেট দেখাইয়া চাকুরী বাগিয়ে নিচ্ছে এইটাই বা কতটুকু ঠিক। তাহারা যদি নিজেরা নিজের যোগ্যতার বলে কিছু পেরে থাকেন তাতে আপত্তি নাই। তাহাদিগকে সালাম। কিন্তু পিতার অর্জন দিয়া নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করিবার সুযোগ যারা নিয়া থাকে আর সেই সুযোগ যারা দিয়া থাকে তাদের প্রতি অশ্রদ্ধা জানাই। দু:খের বিষয় বাংলাদেশে এমনও আছে আতœত্যাগী মুক্তিযোাদ্বাদের দলে শামিল ছিল না। কিন্তু এখন তারা বড় মুক্তিযোদ্ধা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অহংকার করার মত বিষয় । কিন্তু আজ মুক্তিযোদ্বার সংখ্যা নিয়েও চলছে চরম বিভ্রান্তি, রাজনীতি, দলবাজি। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখন সে দল তাদের সুবিধা মত মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা করে থাকে। কখনও আমরা জানি মুক্তিযোদ্বার সংখ্যা ১ লাখ ৫৪ হাজার আবার কখনও শুনি ২ লাখ ১০ হাজার ৫৮১ জন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক ভাবে বিভাজিত রাজনীতিবিদরা নানা ভাবে ইতিহাস রচনা করেছেন, যা খুবই দু:খজনক । আজ ৪০ বছর পরও সন্দহে রয়েছে । ভিন্ন সময় ভিন্ন মতাদর্শের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইচছা অনুযায়ী ভুয়া মুক্তিযোদ্বার তালিকা তৈরী করে ফায়দা লুটছে।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৪০ বছর পর করছে। ইতিহাসের বিচারে বাংলাদেশে আজ একটি স্বপ্লিল দেশ, বাংলাদেশের আজ জয়জয়কার । বাঙ্গালী জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে তার নিজস্ব ভাষা ছিল,কৃষ্টি ছিল,সংস্কৃতি ছিল , ঐতিহ্য ছিল । সেই কৃষ্টি সেই,সংস্কৃতি সেই ঐতিহ্য এখন কি আছে? শুধু ছিলো না একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ,বীরের জাতি হিসাবে বিশ্ব দরবারে ছিল নিজস্ব পরিচিতি । সেই স্বাধীনতার ৪০ বছর পর অতিক্রম করে বাংলাদশে আজ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি খুজছে । কিন্তু পেয়েছে কি?

অনেকে গালবড়ে বলেন, আমার নেতা/নত্রেী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভাবেন৷ তাই তাদের সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে চলেছেন। কেউ সুফলতা পেয়েছে কি?

আজ ৪০ বছর পরও আমরা বরই কৃপন , যারা দেশটি উপহার দিল জীবন বাজি রেখে তাদের জন্য কি আমরা কিছু করতে পারি না । আজ এমন আবেগীয় কথা অনেকে বলে থাকেন কিন্তু তাদের জন্য কিছু করেছেন কি?

তাইতো বলতে ইচ্ছে হয়
কানে কানে মোর বলে যায় আজো
না বলা মনের কথা,
হৃদয় মাঝে লুকিয়ে রাখা হাজারো
বিরহ ব্যথা।