ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ আমাদের সাথে যে অন্যায় আচরণ করছে তাতে কি মনে হয় ভারত আমাদের বন্ধু? তাদের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কিছু বলা বা লিখা হলে আমাদের বলা হয় ভারত বিরোধী, কিন্তু আমরা মোটেও ভারত বিরোধী নই, আমরা ভারতের অন্যায় আচরনবিরোধী। মুখ থেকে বন্ধুত্বের ফুলঝুড়ি কথা বললেই বন্ধুত্ব হয় না। মন থেকে বন্ধুর প্রতি বন্ধুর ভালবাসা আসতে হয়, তার কল্যানের জন্য কাজ করতে হয়। মুখে এক আর অন্তরে হ-রে-ক থাকলে কখনই বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্বের দাবিদার ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ দ্বারা বাংলাদেশী হত্যার এক করুন চিত্র রেরিয়ে আসল এক অনুসন্ধানে, দেখা যায়,

২০১১ সালে ৪০ জন
২০১০ সালে ৭৪ জন
২০০৯ সালে ৯৮ জন
২০০৮ সালে ৬২ জন
২০০৭ সালে ১২০ জন
২০০৬ সালে ১৪৬ জন
২০০৫ সালে ১০৪ জন
২০০৪ সালে ৭৬ জন
২০০৩ সালে ৪৩ জন
২০০২ সালে ১০৫ জন

২০০১ সালে ৯৪ জন বাংলাদেশী নাগরকি সীমান্তে খুন হয়ছেনে বিএসএফের হাতে। এতে কি মনে হয় ভারত আমাদের বন্ধু? কাটাতারে ঝুলে থাকা বোন ফেলানীর সেই লাশ। উলঙ্গ করে পেটানো ভাই হাবিরের সেই হৃদয় বিদারক ভিডিও। বাংলাদেশী হাবিলদারকে ধরে নিয়ে অত্যাচার করার ব্যাপারে এখনো ক্ষমা চাওয়া হয়নি। সীমান্তে কাটা তারের বেড়া। আরো রয়েছে নির্যাতনের করুন শত শত ছবি। তাইতো সালাম সালহে উদদীন বলেছেন, ভারত মুক্তিযুদ্বের সময় আমাদের এক কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এ জন্য ভারতের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এর মানে এই নয় যে মুক্তিযুদ্বের সহযোগিতার প্রতিদান আমরা দশকের পর দশক দিতে থাকব হত্যা, নির্যাতন, সহ্য করে।

ভারতবান্ধব হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতত্বাধীন মহাজোট সরকার সীমান্ত হত্যা নিয়ে জোড় কোনো প্রতিবাদও করেনি। বরং তাদের মূখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল সাহবেরে কথা সীমান্তে মানুষ হত্যা হয়েছে, হচ্ছে, হবে রাষ্ট্রের করার কিছু নেই। তিনি আরো বলেছেন, সীমান্তে যা কিছু ঘটছে, তা নিয়ে রাষ্ট্র খুব বেশি চিন্তিত নয়। সব কাজ ফেলে রেখে শুধু এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে সরকার মনে করে না। তার এই কথায় গভীর উদ্বেগ উৎকন্ঠা প্রকাশ করেছেন এদেশের সুশীল সমাজ । রাষ্ট্রের দায়িত্ব সর্ম্পকে তারা ওয়াকিবহাল নন : ড. মোজাফফর আহমদ; দেশের নাগরিকদের জীবন তাদের কাছে তুচ্ছ ব্যাপার : ব্যারিষ্টার রফিক-উল-হক; এ বক্তব্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও নিন্দনীয় : ড. এমাজউদ্দীন আহমদ; তিনি আমাদের নয় ভারতের মন্ত্রী হয়েই কথা বলছেনে : আসাফউদদৌলাহ ; সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়ে তার এ বক্তব্য দায়ত্বিজ্ঞানহীন : ফরহাদ মজহার, তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে চরম দায়ত্বিহীন ও নিষ্ঠুর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিপ্লবী পার্টি, আনু মুহাম্মদ বলেন, ভারতের প্রভাবশালী পত্রিকায় ভারতের সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকের নির্যাতন বাংলাদশের কাছে ভারতকে নিঃর্শত ক্ষমা চাইতে বলছে। অথচ বাংলাদশের একজন দায়িত্ববান মন্ত্রী হয়েও সৈয়দ আশরাফ বলছেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকার চিন্তিত নয়।(গনরোষে এখন স্বরাষ্টমন্ত্রী বললেন আমরা প্রতিবাদ করব।) বিজিবি ও বললেন। কিন্তু প্রতিবাদ করে কি হবে হত্যাতো থামছে না। আসলে ভারত আমাদের কি মনে করে?

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহীনি-বিএসএফের নির্যাতনের ঘটনা ফুলিয়ে ফাপিয়ে কোন লাভ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুর্খাজি। মাঝে মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে বলে তার অভিমত। অনেক ভারতীয় নেতা বিএসএফ দ্বারা আর সীমান্তে হত্যা হবে না বলে কথা দিলেও সেই কথা রাখা হয়নি। প্রতিদিনই বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী হত্যা বা নির্যাতনের খবর আসছে পত্রিকায়। এ কেমন বন্ধুত্ব ভারতের। বিএনপির অনেক নেতা এই প্রেক্ষিতে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশকে তাদের রাজ্য বানাতে মাষ্টারপ্লান হাতে নিয়েছে। দেশের মানুষ বুঝতে পারছে না বাংলাদশেকে নিয়ে ভারত কী করতে চায়? আওয়ামী লীগও দেশকে কোন পথে নিয়ে যেতে চায়? সীমান্তে বাংলাদেশী (আওয়ামী লীগরে জন্য বাঙালী) হত্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

শুনেছি মুজিবনগর সরকারের সাথে ভারতের যে গোপন চুক্তি হয়েছিল, তাতে ভারত চেয়েছিল বাংলাদশের নিজস্ব কোনো সেনাবাহিনী থাকবে না। বাংলাদেশের বিদেশ নীতিও ভারত দেখাশুনা করবে। বিডিআর হত্যাকান্ড নিয়েও চলছে অনেক কথা। তাই আমরা আজ চিন্তিত বন্ধুর দাবিদার ভারতের আচরনে।

ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা দিয়েছে। পুত্রবধূ ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী তা গ্রহণ করেছেন। প্রতিবেশী দেশের সাথে আমাদের মধুর সর্ম্পকের কথা জেনে অনেকেই আনন্দিত হলেন। কিন্তু পত্রিকার একই পৃষ্ঠায় যখন দেখা গেল আদিম নৃশংসতায় হত্যা করছে বিএসএফ তখন বলতে হয় এ কেমন বন্ধু ভারত? এক হাতে আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ সম্মাননা গ্রহণ করছে, আর অন্য হাতে আমাদের দেশের নিরীহ মানুষকে পাথর ছুড়ে,কুপিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিচ্ছে। এ কেমন বন্ধু? ভারত নি:সন্দেহে বাংলাদেশের প্রতিবেশী। কিন্তু প্রকৃত বন্ধু দেশ হলো কিভাবে? এই যদি হয় বাস্তবতা, তবে আমাদেরও উচিত ভারতকে ত্যাগ করা। মুখে বন্ধুত্বের কথা বলে যে বৈষম্যর প্রাচীর তুলে নীরব শোষণ চালিয়ে যাবে সে বন্ধু হতে পারে না। আসুন আমরা দেশপ্রেমিক নাগরিক ভারতীয় পণ্য ব্যবহার বন্ধ করি, ভারতীয় চ্যানেল দেখা বন্ধ করি, ভারতীয় চলচিত্র দেখাও বন্ধ করি। আসুন আমরা সবাই মিলে ভারতকে না বলি।