ক্যাটেগরিঃ বিবিধ

 

অনেক স্বপ্ন ছিল তোমার। কিন্তু একটা স্বপ্নও তোমার পূরণ হয়নি। বিধাতার ডাকে নিষ্ঠুরভাবে সাড়া দিয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে আমাদের মাঝ থেকে। আর মাত্র কয়েকটা মাস পরেই তুমি তোমার আন্ডার গ্রাজুয়েশন শেষ করতে। তোমার সাথে যেদিন শেষ কথা হয়েছিল সেদিন তুমি বলেছিলে অনার্স শেষ করে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে দেশের বাইরে থেকে এমবিএ করার কথা। কিন্তু বিধাতা তোমাকে সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। তুমি আমার ১ বছরের সিনিয়র হলেও বন্ধুর মত ছিলে। তোমাকে নিয়ে তোমার বাবা-মা’র অনেক স্বপ্ন ছিল। কারণ তুমি ছিলে তোমার বাবা-মা’র একমাত্র ছেলে। এলাকায়ও তোমার যথেষ্ট সুনাম ছিল। কিন্তু আজ তুমি নেই আমাদের মাঝে। চলে গেছ বহু দূরে, যেখান থেকে কোনদিনই আর ফিরে আসবেনা। আমাদের সাথে সেদিন কথা বলার সময় তুমি বলেছিলে ঢাকাতে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতদের কথা। বিধাতার কি নির্মম পরিহাস! আজ তুমিও তাদের কাতারে সামিল হলে। একজন পিতার জন্য সবচেয়ে বড় কষ্ট হল- সন্তানের লাশ কাঁধে বহন করা। তোমার বাবা সেই কষ্ট বুকে নিয়ে তোমাকে চির নিদ্রায় শায়িত করেছে।

কথাগুলো আমাদেরই এক বন্ধুকে নিয়ে। তার নাম তৈয়ব নূর চৌধুরী বাপ্পি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালযের মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র সে। ১০ এপ্রিল, রবিবার সকাল ৭টায় ঢাকাতে সে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। বাড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকায় ফেরার পথে কাঁচপুরে ট্রাক চাপায় সে মৃত্যুবরণ করে। সকাল ৭টার দিকে কাঁচপুর এলাকায় বাস থেকে নেমে রিকশা নেয়। এ সময় একটি ট্রাক তার রিকশাকে পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাপ্পি মারা যায়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তার লাশ বাড়িতে (চট্টগ্রামে) এসে পৌঁছায়। এরপর রাত ১০টায় তার জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুক (আমীন)।