ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

দেখতে দেখতে পর্দা নামল ১০ম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের। দীর্ঘ ২৮ বছর বছর ভারত চ্যাম্পিয়ন হল। ভারত ২য় বারের মত চ্যাম্পিয়ন হয়ে কপিল দেবের পর বিশ্বকাপের ট্রফি উঠল মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে। শ্রীলঙ্কা বনাম ভারতের মধ্যকার এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি ছিল ৩১৪৮তম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। টসে জিতে শ্রীলঙ্কা প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ভারত ৪ উইকেট হারিয়ে ১০ বল বাকী থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এবার সর্বমোট ৪৩ দিন ধরে চলতে থাকা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১১-এর রেকর্ড সমূহ দেখে নেয়া যাক।

ক. দলীয় রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরঃ ভারত- ৩৭০রান/৪উইকেট, বিপক্ষ দল- বাংলাদেশ।

২. সর্বনিম্ন দলীয় স্কোরঃ বাংলাদেশ- ৫৮ রান/অলআউট, বিপক্ষ দল- ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।

৩. এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানঃ ৯৯.৫ ওভারে ৬৭৬রান- ভারত ও ইংল্যান্ড।

৪. সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ঃ ২৩১ রানের ব্যবধানে বিজয়ী দল- দক্ষিণ আফ্রিকা, বিপক্ষ দল- নেদারল্যান্ডস। ঐ ম্যাচে নেদারল্যান্ডের টার্গেট ছিল ৩৫২ রান।

৫. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ অতিরিক্ত রানঃ পাকিস্তান বনাম কেনিয়া ম্যাচে- কেনিয়া আগে ব্যাট করা পাকিস্তানকে ৪৬ রান অতিরিক্ত দেয়।

খ. ব্যাটিং রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বাধিক রানঃ ৫০০ রান (চারঃ ৬১টি, ছক্কাঃ ৪টি); ব্যাটসম্যান-তিলকারাত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ম্যাচে মোট ৫৫১টি বল খেলে ৬২.৫০ গড়ে এই রান সংগ্রহ করেন। ষ্ট্রাইক রেইটঃ ৯০.৭৪, সেরা ইনিংসঃ ১৪৪ রান, অর্ধশতকঃ ২টি, শতকঃ ২টি।

২. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানঃ ১৭৫ রান (চারঃ ১৪টি, ছক্কাঃ ৫টি); ব্যাটসম্যান-বীরেন্দ্র শেবাগ (ভারত)। বিপক্ষ দল- বাংলাদেশ।

৩. সর্বোচ্চ গড়ঃ ৯৩.০০; ব্যাটসম্যান-কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)।

৪. সর্বোচ্চ ষ্ট্রাইক রেইটঃ ২৩৩.৩৩, ব্যাটসম্যান- কে.ডি মিলস (নিউজিল্যান্ড)।

৫. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ষ্ট্রাইক রেইটঃ ৩৮৭.৫০; ব্যাটসম্যান- ফ্রাঙ্কলিন (নিউজিল্যান্ড)। কানাডার বিপক্ষে তিনি এই ষ্ট্রাইক রেইটে ৮ বলে ৩১ রান করেন।

৬. সর্বোচ্চ শতকঃ ২টি করে শতক হাঁকান- এবি ডি ভিলিয়ার্স (দঃ আফ্রিকা), আরএন টেন ডয়েসচেট (নেদারল্যান্ডস), মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রীলঙ্কা), তিলকারাত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা), শচীন টেন্ডুলকার (ভারত) ও উপুল থারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)।

৭. সর্বোচ্চ অর্ধশতকঃ ৫টি করে অর্ধশতক হাঁকান- ট্রট (ইংল্যান্ড) ও যুবরাজ সিং (ভারত)।

৮. সর্বোচ্চ ডাকঃ ৩ ম্যাচে ৩ ইনিংসে ৩ বার ডাক মারেন কেনিয়ার- এসও এনগোছে।

৯. সর্বোচ্চ ছক্কাঃ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান টেইলর ৮ ম্যাচে ৬ ইনিংসে ১৪টি ছক্কা হাঁকান।

১০. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কাঃ নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান টেইলর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭টি ছক্কা হাঁকান।

১১. সর্বোচ্চ দূরত্বে ছক্কাঃ ১০৪ মিটার; ব্যাটসম্যান- শেন ওয়াটসন।

১২. এক ইনিংসে চার/ছয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ রানঃ আয়ারল্যান্ডের ব্যাটসম্যান কেজে ও’ব্রেইন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার/ছয়ের মাধ্যমে মোট ৮৮ রান করেন। চারঃ১৩টি+ছক্কাঃ৬টি। (সেই ম্যাচে তিনি ৫০ বলে সেঞ্চুরী পূর্ণ করে বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে রেকর্ডবুকে নাম লিখান এবং শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ১১৩ রান করেন)।

প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর ট্রফি হাতে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলঃ

গ. বোলিং রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বোচ্চ উইকেটঃ ২১ উইকেট; বোলার- শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)। তিনি ৮ম্যাচে মোট ৭৪.৩ ওভার বল করে ৪ মেডেন নিয়ে ও ২৭০ রানের বিনিময়ে ২১ উইকেট শিকার করেন। সেরা বোলিংঃ ৫উইকেট/১৬রান, গড়ঃ ১২.৮৫, ইকোনমি রেইটঃ ৩.৬২। (ভারতে জহির খানও ২১ উইকেট নেন কিন্তু তার গড় (১৮.৭৬) ও ইকোনমি রেইট (৪.৮৩) শহীদ আফ্রিদির চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে তাকে ২য় স্থানে থাকতে হয়)।

২. এক ইনিংসে সেরা বোলিং ফিগারঃ ২৭ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট; বোলার- রোচ (ওয়েষ্ট ইন্ডিজ)। বিপক্ষ দল- নেদারল্যান্ডস।

৩. সেরা গড়ঃ ২.০০; বোলার- সামারিবিরা (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ ম্যাচে ২ওভার বল করে ৪ রান দেন।

৪. সেরা ইকোনমি রেইটঃ ১.০০; বোলার- ডব্লিউডি পার্নেল (দক্ষিণ আফ্রিকা)। তিনি ১ম্যাচে ৪ওভার বল করে ৪ রান ব্যয় করেন।

৫. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট শিকারীঃ শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান); তিনি ৮ম্যাচে মোট ৪বার ৪উইকেট শিকার করেন।

৬. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫ উইকেট শিকারীঃ শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান); তিনি ৮ম্যাচে মোট ২বার ৫উইকেট/৪+ উইকেট শিকার করেন।

৭. এক ইনিংসে সেরা ইকোনমি রেইটঃ ১.৬০; বোলার- মোহাম্মদ হাফিজ (পাকিস্তান)। ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৩ মেডেন নিয়ে ১৬ রান দেন।

৮. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ব্যয়ঃ ৯১ রান; বোলার- জেমস আন্ডারসন (ইংল্যান্ড)। তিনি ভারতের বিপক্ষে ৯.৫ ওভার বল করে ১উইকেট নিয়ে ৯১রান ব্যয় করেন।

ঘ. উইকেট কিপিং রেকর্ড সমূহঃ

১. সর্বোচ্চ ডিসমিসালঃ ১৪টি; কিপার- কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ম্যাচে ১০টি ক্যাচ ও ৪টি ষ্ট্যাম্পিং করেন।

২. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ডিসমিসালঃ ৪টি; কিপার- কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)। কানাডার বিপক্ষে ৩টি ক্যাচ ও ১টি ষ্ট্যাম্পিং করেন।

ঙ. ফিল্ডিং রেকর্ড সমুহঃ

১. সর্বোচ্চ ক্যাচঃ ৮টি; ফিল্ডার- মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রীলঙ্কা)। তিনি ৯ম্যাচে মোট ৮টি ক্যাচ ধরেন।

২. এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ক্যাচঃ ৩টি; ফিল্ডার- এএন কারভেজী (নেদারল্যান্ডস)। বিপক্ষ দল- ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।

চ. পার্টনারশিপ রেকর্ড সমূহঃ

১ম উইকেট জুটিঃ ২৮২ রান; ব্যাটসম্যান- উপুল থারাঙ্গা, তিলকারাত্নে দিলশান (শ্রীলঙ্কা)। বিপক্ষ দল- জিম্বাবুয়ে।

২য় উইকেট জুটিঃ ১৩৪ রান; ব্যাটসম্যান- শচীন টেন্ডুলকার, গৌতম গাম্ভীর (ভারত)। বিপক্ষ দল- ইংল্যান্ড।

৩য় উইকেট জুটিঃ ২২১ রান; ব্যাটসম্যান- হাশিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স (দঃ আফ্রিকা)। বিপক্ষ দল- নেদারল্যান্ডস।

৪র্থ উইকেট জুটিঃ ১৩২ রান; ব্যাটসম্যান- আশিস বাগাই, এএস হান্স্রা (কানাডা)। বিপক্ষ দল- কেনিয়া।

৫ম উইকেট জুটিঃ ১২১ রান; ব্যাটসম্যান- আরএন টেন ডয়েসচেট, বরেন (নেদারল্যান্ডস)। বিপক্ষ দল- আয়ারল্যান্ড।

৬ষ্ঠ উইকেট জুটিঃ ১৬২ রান; ব্যাটসম্যান- কেজে ও’ব্রেইন, এআর কিউসাক (আয়ারল্যান্ড)। বিপক্ষ দল- ইংল্যান্ড।

৭ম উইকেট জুটিঃ ৮৫ রান; ব্যাটসম্যান- টেইলর, জেকব ওরাম (নিউজিল্যান্ড)। বিপক্ষ দল- পাকিস্তান।

৮ম উইকেট জুটিঃ ৫৪ রান; ব্যাটসম্যান- ম্যাককুলাম, ভেট্টরি (নিউজিল্যান্ড)। বিপক্ষ দল- অস্ট্রেলিয়া।

৯ম উইকেট জুটিঃ ৬৬ রান; ব্যাটসম্যান- আব্দুল রাজ্জাক, উমর গুল (পাকিস্তান)। বিপক্ষ দল- নিউজিল্যান্ড।

১০ম উইকেট জুটিঃ ২৩ রান; ব্যাটসম্যান- ওধিয়াম্বু, এনগোছে (কেনিয়া)। বিপক্ষ দল- জিম্বাবুয়ে।

১০ম উইকেট জুটিঃ ২৩ রান; ব্যাটসম্যান- মিসবাউল হক, সাঈদ আজমল (পাকিস্তান)। বিপক্ষ দল- ভারত।

ম্যান অব দি ফাইনালঃ মাহেন্দ্র সিং ধোনি (ভারত) [৭৯ বলে ৯১ রান]

ম্যান অব দি সিরিজঃ যুবরাজ সিং (ভারত) [৯০.৫০ গড়ে ৩৬২ রান ও ১৫ উইকেট এবং ৪ ম্যাচে ম্যান অব দি ম্যাচ]

পরবর্তী (১১তম) বিশ্বকাপ ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে।

(পূর্বে বিভিন্ন ব্লগে প্রকাশিত)