ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

দুর্গাপূজার সেই দিনগুলো

ভাদ্রমাসের তালপাকা গরমের শেষে আসে আশ্বিন ,সাদা সাদা মেঘ যখন আকাশে ভেসে বেড়ায় ,বনে বনে কাশফুল বাতাসের তালে তালে ঢেউ তুলে ,শিউলিগাছের তলায় ঝরে যাওয়া শিউলির আলপনা। বাতাসে শিউলির ফুলের গন্ধে জানান দেয়মা আসছে আমাদের মাঝে ।ছোটবেলার পূজার দিন গুলোর কথা মনে হলেই মনটা কেমন আনন্দে ভরে উঠে !বেড়ে উঠেছি গ্রামে , যেখানে আমার বয়সী অনেক ভাইবোনের ছিল সবাই সন্ধ্যায় একসাথে পড়ার টেবিলে পড়ার মাঝে মাঝে আলাপ করতাম কবে আসবে দুর্গাপূজা কিংবা পূজার আর কত দিন বাকি? কোনপাড়ায় দুর্গাপূজায় যাত্রা হবে,কোনপাড়ায় নাটক হবে ,আরো কতকি ?পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসতো ,নতুন জামাকাপড়ের জন্য মার কাছে বায়না করতাম,আমার বাবা আমাদের সবাই কে বাজারে নিয়ে নতুন জামাকাপড় কিনে দিত,নতুন জামাকাপড় পড়ে সবাই আনন্দে আত্তহারা হয়ে যেতাম !অষ্টমী ও নবমী এই দুইদিন প্রতিমা দেখার পালা,পূজার সময় সবাই মিলে প্রতিমা দেখতে বের হতাম,কোনপাড়ায় ক’টি প্রতিমা উঠেছে তা আগে থেকে খবর পেয়ে যেতাম,একটি পুজামণ্ডপ ও বাদ পড়লে চলবে না। কোন কোন পাড়ায় বাতাসা কিংবা জিলাপী প্রসাদ দিত,আমরা পেয়ে খুবই খুশী হতাম এ এক অসাধারণ আনন্দ অনুভুতি।

তবে পূজা আসলে কয়েকটি ঘটনা এখনো মনে পড়ে ,আমাদের বাড়িতে পূজামন্ডপের পাশে বিরাট অনেক দিনের পুরানো একটি আমগাছ আছে,বাড়ীর অনেকেই বিশ্বাস করতো এ গাছে মা থাকে,বাড়ীর চারদিকে আলোকসজ্জা করার জন্য একটি ডাল কাঠার প্রয়োজন হয়ে পড়লো,আমার জ্যাঠাতো ভাই গাছের ডাল কাটার সময় হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে গেল,চারদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল,ধরাধরি করে সবাই মেঝদাকে বিছানায় শুয়ে দিল জ্ঞান ফিরার পর তার কাছে জানতে চাওয়া হলে উনি বললেন আমাকে কে চড় মেড়ে ফেলে দিয়েছে এইদিন থেকে মেঝদার ভীষণ জ্বর,পূজা শেষ না হওয়া পযন্ত সেই জ্বর রয়ে গেল

আরেকবার পূজায় আমরা সবাই মিলে সন্ধ্যা আরতি উপভোগ করছিলাম ঢাকঢোল কাসাঁর তালে নৃ্ত্য করছিল অনেকে,এমন সময় দেখি আমার আরেক জ্যাঠাতো ভাই খুব চিৎকার চেচাঁমেচিঁ করছিল সাথে মাথা দুলছিল এবং হাত দিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ইশারা করছিল ,বয়স্কদের কেউ কেউ বলছে ওর বান উঠেছে ,পূজার কোন জায়গায় হয়তো ভূল হচ্ছে । কেউ একজন বললো পূজার প্রসাদ চুরি করে খেয়ে ফেলেছে !আমাদের চারদিকে কত ঘটনা ঘটে ,অনেকেই আমরা তার ব্যাখ্যা দাড় করাই কিন্তু সবকিছুর কি ব্যাখ্যা দিতে পারি ?

দশমীর দিন সকাল থেকে মনটা খারাপ হয়ে যেত ,বাড়ীর পরিবেশটা কেমন যান ভারী হয়ে যেত , কিছুক্ষণ পরেই বিসর্জন, এতোদিনের সুন্দর আলোকসজ্জ্বা , অনেক আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা আজ শেষ ! অনেক বয়স্ক লোকেরা কান্নাকাটি করতো মায়ের জন্য,এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য ! মেয়েদের সিদুঁরখেলা আর কত কি ! কাল থেকে আবার বাধাধরা স্কুল, পড়া আর স্যারদের শাসন। শৈশবের স্মৃতি কি দারুণ !এ দিনগুলো কখনো ফিরে আসবে না ,ফিরে আসার কথাও নই ! মায়ের পূজা করে আমরা কি আবার সেই সাধামাঠা বাঙ্গালী হয়ে যেতে পারি না ! সবাইকে শারদীয়া শুভেচ্ছা ।