ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

এনবিএর ঘোষণা করেছে, অতিরিক্ত ৭.৫% হারে ভ্যাট শিক্ষার্থীদের দিতে হবেনা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই এই ভ্যাট দেবে । প্রধানমন্ত্রীও এর সমর্থনে কথা বলেছেন, বেসরকারি কর্তৃপক্ষও নাকি সব মেনে নিয়েছে ।
এটা এক প্রকার ছলচাতুরী ছাড়া কিছুই না! কারণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নামক শিক্ষা ব্যবসায়ীরা এ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই সুদে-আসলে অাদায় করে নেবে । অামার বোধগম্য হয়না, ৭.৫% হারে ভ্যাট দিতে হবে বলে শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে গণঅান্দোলন শুরু করলো (মোট টাকা ৪০,০০০), অথচ যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চার বছরে অাট থেকে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়; তাদের বিরুদ্ধে তো কোন উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায় না!

টাকাটা যদি সরকার নিতোই, নিশ্চয়ই দেশের উন্নয়নমূলক কাজেই ব্যবহার করতো । বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে টাকাটা নেয়, তা তো মালিকেরা নিজেদের ভোগবিলাসের জন্যই ব্যবহার করে! এরা কি দেশের তথা জাতির কথা ভাবে?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে দিয়েছে নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য! শিক্ষারীরা কি এদের ছলনা বোঝেনি? না বুঝেই লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে? শিক্ষা যে ক্রমাগত বানিজ্যিকীকরন করা হচ্ছে, এটা গত কয়েক দশক ধরেই দেখা যাচ্ছে । প্রতি সরকারের সময়ই দলীয় বিবেচনায় অনুমোদন পায় অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় । ব্যাঙেরছাতার মত গড়ে উঠছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় । এদের নেই কোন নিজস্ব ক্যাম্পাস, নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো । প্রতিষ্ঠান দ্বার করিয়েই দায় সারা! অভিযোগ পাওয়া যায়, এরা নাকি পয়সার বিনিময়ে সার্টিফিকেট বিক্রি করে । শিক্ষা মন্ত্রনালয় তথা সরকারের উচিত হবে এসব শিক্ষা ব্যবসায়ীদের টুঁটি চেপে ধরা, এদের ধান্ধা বন্ধ করে করে দেয়া! শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য ইতিমধ্যে কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন । অারো কঠোর হতে হবে । কোচিং বাণিজ্যও বন্ধ করতে হবে, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা স্কুল-কলেজগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে । শিক্ষা কোন সুযোগ নয়; এটা মানুষের মৌলিক অধিকার- এ ব্যাপারটা সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে! জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে । কারণ, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড ।