ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা পেয়েছি আমরা। তারপর বাকশাল ও ১৯৭৫ এ উনার হত্যা, আবার ১৯৯০ এ গণতন্ত্র। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আমাদের দেশকে গড়ায় রাজনীতিবিদদের অবদান কতটুকু স্বাধীনতার পর? আজ যদি বৈধ ও অবৈধ ভাবে বিদেশে অবস্থান করে, কাজ করে, আমাদের ১কোটি ১০ লক্ষ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত টাকা না পাঠাতেন তাহলে আমাদের কি হত? বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব মতে আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আজ যদি গার্মেন্টস সেক্টরে ৩.৬ মিলিয়ন শ্রমিক(বিজিএমই ওয়েবসাইটের তথ্যানুসারে), যার বেশিরভাগই নারী শ্রমিক, তাদের সস্তা শ্রম না দিতেন , তাহলে আমরা কি ১৭৯১৪.৯৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার (১০-১১ অর্থবছর) সমমূল্যের পোশাক রপ্তানি করতে পারতাম? আমাদের দেশের অর্থনীতি এখন দাঁড়িয়ে আছে এই দুই ভিত্তির উপর। আমাদের রাজনীতিবিদরা আজ পর্যন্ত সঠিক নির্বাচন পদ্ধতি ঠিক করতে পারেন নি। রোধ করতে পারেননি দূর্নিতি। ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে শুরু করে সকল ভূমি অফিসে আজ উন্মুক্তভাবে ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। সরকার যদি প্রত্যেক ভূমি অফিসের ভেতরে ও বাইরে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানোর ব্যবস্থা করত, এবং সেগুলো দুদক এবং অন্য কোন এজেন্সীর অফিসে বসে মনিটর করার ব্যবস্থা করত তাহলে ভূমি বিষয়ক দূর্নিতি বন্ধ হয়ে যেত। শুধু তাই নয় যদি প্রত্যেক থানা ও এর চারপাশে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো যেত তাহলে থানায় বসে ঘুষ বানিজ্য হত না। যদি জনসাধারণকে বলা হত কেউ তার কাছে ঘুষ দাবি করে, বা তার প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করে, তার অডিও প্রমান দিতে পারলে সেই সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীকে শাস্তি দেওয়া হবে তাহলে জনগণ উদবুদ্ধ হবে। দেশের সকল ব্যাঙ্গকের এজিএম থেকে সকল উদ্ধতন কর্মকর্তার ফোন হ্যাক করা প্রয়োজন এবং তাদের অফিস কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন। আমাদের দেশের আজ যে অবস্থা তাতে সাধারণ জনগণ (১কোটি ১০ লক্ষ প্রবাসী+৩.৬ মিলিয়ন গার্মেন্টস কর্মি ও অন্যন্য ক্ষুদ্র পেশাজীবি) দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আর বেশিরভাগ রাজনীতিবিদ(সবাই নন) ও বেশিরভাগ বড় সরকর্মকর্তাগণ (সবাই নন) সবকিছু হরিলুট করতে চেয়েছেন । কিন্তু উনারা যদি নিজেদের বদলান তাহলে আমাদের দেশটা বদলে যাবে।