ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

আমি জানি না গণতন্ত্রের সজ্ঞায় কোথাও বলা আছে যে “কোন দেশের নির্দিষ্ট আঞ্চলের বা ধর্মের জনসাধারণের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া যায়”। আমি এটাও জানি না যে শান্তিতে নোবেলজয়ী কোন নেতা/নেত্রী তার দেশের ২২৫৫৮ জন নাগরিক গৃহহীন এবং ৬৭ জন মৃত্যুবরণ করেছে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়, তারপরও চুপ আছেন। উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে মায়ানমারে আট লক্ষ রোহিঙ্গা বসবাস করে। বর্তমান বাংলাদেশে বসবাস করছে প্রায় ৪ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থি। যাদেরকে বিভিন্ন সময় বিতাড়িত করা হয়েছে। অনেককে হত্যা করা হয়েছে, ঘরবাড়ি লুট করা হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বসতবাড়ি, ফসল। সারা বিশ্বের বিবেকমান মানুষ যখন যে যেমন করে পারে প্রতিবাদ করছে, সেখানে আজো নোবেলবিজয়ী একজন বিশ্ববিখ্যাত গণতন্তপন্থী নেত্রী চুপ রয়েছেন। এটা কি উনার রাজনৈতিক ফায়েদা লাভের উদ্দেশ্য? সেটা অসম্বভ নয় কারণ, মায়ানমারের মোট জনসংখ্যা ৬০.২৮ মিলিয়ন, আর বর্তমানে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের সংখ্যা ৮ লক্ষ। জাতিগত গোষ্ঠীর শতকরা হিসাবে ৬৮% বামার, ৯% শান, ৭% কারেন, ৪% রাখাইন, ৩% চাইনিজ, ২% ইন্ডিয়ান, ২% মন, আর ৫% অন্যন্য সব গোষ্ঠী মিলে। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে ‘সু কি’ র দৃষ্টি ভোটের হিসাবের দিকেই। কারন সংখ্যাগরিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মলম্বীরা রোহিঙ্গাদের দমন করতে চায়, বিতাড়িত করতে চায়। “সু কি” র দলের অনেক নেতা মুসলিম বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন ইতিমধ্যে যার অর্থ আগুনে ঘি ঢালা। হায়রে নোবেল বিজয়ী গণতন্তী পন্থী নেত্রী! আপনি আসলে কোন পন্থী?